Print Sermon

এই ওয়েবসাইটের উদ্দেশ্য হল ধর্ম্মোপদেশের পান্ডুলিপি এবং ধর্ম্মোপদেশের ভিডিওগুলি বিশ্বব্যাপী পালক ও মিশনারিদের বিনামূল্যে সরবরাহ করা, বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বে, যেখানে ধর্ম্মতত্ত্বমূলক সেমিনারী বা বাইবেল স্কুল থাকলেও খুব কম রয়েছে|

এই সমস্ত প্রচারের পান্ডুলিপি এবং ভিডিওগুলি এখন www.sermonsfortheworld.com ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতি মাসে 221টিরও বেশি দেশের প্রায় 1,500,000 কম্প্যুটারে যায়| শত শত লোক ইউটিউবের ভিডিওর মাধ্যমে এগুলি দেখেন, কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই তারা ইউটিউব ছেড়ে বেরিয়ে যান এবং আমাদের ওয়েবসাইটে চলে আসেন| ইউটিউব আমাদের ওয়েবসাইটে লোক এনে দেয়| প্রচারের এই পান্ডুলিপিগুলি প্রতি মাসে 40টি ভাষায় প্রায় 120,000 কম্প্যুটারে প্রচারিত হয়| প্রচারের পান্ডুলিপিগুলি গ্রন্থসত্ত্ব দ্বারা সংরক্ষিত নয়, কাজেই প্রচারকগণ আমাদের অনুমতি ছাড়াই এইগুলি ব্যবহার করতে পারেন| মুসলিম এবং হিন্দু রাষ্ট্রসমেত, সমগ্র পৃথিবীতে সুসমাচার ছড়িয়ে দেওয়ার এই মহান কাজে সাহায্য করার জন্য কিভাবে আপনি একটি মাসিক অনুদান প্রদান করতে পারেন তা জানতে অনুগ্রহ করে এখানে ক্লিক করুন|

যখনই আপনি ডঃ হেইমার্‍সকে লিখবেন সর্বদা তাকে জানাবেন যে আপনি কোন দেশে বাস করেন, অথবা তিনি আপনাকে উত্তর দিতে পারবেন না| ডঃ হেইমার্‌সের ই-মেল ঠিকানা হল rlhymersjr@sbcglobal.net |




ইতালির প্রায়শ্চিত্ত

ANTINOMIANISM IN ITALY
(Bengali)

লেখকঃ ডাঃ আর.এস.হাইমার্স,জুনি.
by Dr. R. L. Hymers, Jr.

২০১৩ সালের ৮-ই সেপ্টেম্বর, লস এঞ্জেলেসের ব্যাপটিস্ট ট্যাবারনেকেলে সদাপ্রভুর দিনে
“এক সান্ধ্যকালীন মুহুর্তে এক সংবাদ প্রচারিত হয়েছিল

A sermon preached at the Baptist Tabernacle of Los Angeles
Lord’s Day Evening, September 8, 2013

“ফলতঃ যদি কেহ খ্রীষ্টে থাকে, তবে নুতন সৃষ্টি হইলঃ পুরাতন বিষয় গুলি অতীত হইয়াছে; দেখ, সেগুলি নুতন হইয়া উঠিয়াছে” (২-য় করিনথিয়ানস ৫:১৭).

“যেহেতু এমন কয়েকজন গোপনে প্রবিষ্ট হইয়াছে, যাহারা এই দণ্ডাজ্ঞার পাত্ররুপে পূর্বে লিখিত হইয়াছিল,তাহারা ভক্তিহীন, আমাদের ঈশ্বরের অনুগ্রহ লম্পটতায় পরিণত করে, এবং আমাদের একমাত্র অধিপতি ও প্রভু, যীশুখ্রীষ্টকে অস্বীকার করে”(যিহুদা ৪).


অন্য একদিন আমি এক প্রিয় মহিলার কাছ থেকে একটি ই-মেইল পেলাম যিনি আমার সংবাদ ইতালিয় ভাষাতে অনুবাদ করেন। তিনি আমাকে বললেন যে তিনি আমার একটা সংবাদ ইতালির “বিশ্বাসীদের” পড়িয়েছিলেন। কিন্তু আমি দেখতে পেলাম যে এই জগতে বাইবেল ভিত্তিক দিক দিয়ে তারা “বিশ্বাসী” ছিল না! আমার চিন্তাধারা অনুযায়ী, “বিশ্বাসীর” পরিভাষা, তা অত্যধিকভাবে ব্যাবহৃত হয়েছে এবং কোন কোন সময়ে তা বিভ্রান্তিকর। ইহা সত্য কথা “বিশ্বাসী” কথাটা নতুন নিয়মে দুবার বলা হয়েছে (প্রেরিত ৫:১৪, ১-ম টিমোথিয় ৪:১২), কিন্তু সেই শব্দটি আজকে ভুল ভাবে ব্যাবহৃত হইতেছে। ইহা প্রায় সময়েই তাদের প্রতি প্রয়োগ করা হয় যারা কেবল বাইবেলের “বিশ্বাসকে” ধারণা করে থাকে, যার মধ্যে খ্রীষ্টের সাথে রুপান্তরকরণের কোন একতা থাকে না। এই লোকেদের বর্ণনা করা হয়েছে “ভক্তির অবয়বধারী,কিন্তু তাহারা শক্তি অস্বীকারকারী হইবে”(২-য় টিমোথি ৩:৫)। তারা “সব সময়ে শিক্ষা করে, আর সত্যের তত্ত্বজ্ঞান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না”(২-য় টিমোথি ৩:৭)। আর “এই লোকেরা সত্যের প্রতিরোধ করেঃ এই লোকেদের বিবেক নষ্টামিতে ভরপুর, তারা বিশ্বাস সম্বন্ধে অপ্রামাণিক”(২-য় টিমোথি ৩:৮)। সেই সমস্ত পদগুলি এই-রুপ “বিশ্বাসীদের” বিষয় বর্ণনা করে যারা অস্বীকার করে যে একজন রুপান্তরকারীর জীবনে এই রুপান্তরের নির্দেশ পরিবর্তিত হয়। তারা বলে থাকে লোকেরা চিরস্থায়ী বা পূর্বতন পাপের মধ্যে থেকেও খ্রীষ্টিয়ান হতে পারে, কেননা তারা বাইবেলের কিছু পদকে বিশ্বাস করে। তাদের কাছে,বাইবেলের কিছু পদের বিশ্বাস করার অর্থ হল, তাদের পরিত্রাণ লাভ যার দ্বারা প্রভু যীশু খ্রীষ্টের সংগে যোগাযোগ বা একাত্ব নাহলেও চলে। প্রথম পাঠ্যাংশ বলে, “ফলতঃ কেহ যদি খ্রীষ্টে,থাকে তবে নুতন সৃষ্টি হইল”(২-য় করিনথিয়ানস ৫:১৭)। কিন্তু তার যে প্রকৃত অর্থ সেটাকে তারা মোচড় দিয়ে ফেলে, “যদি কোন ব্যাক্তি বাইবেলের কিছু পদে বিশ্বাস করে সে পরিত্রাণ পাবে।” এটা একটা বিরাট ভুল শিক্ষা যাকে বলা হয় “স্যান্ডেমানিয়ানিজম।

উপরন্তু,এই-প্রকার“বিশ্বাসীরা”মনে করে খ্রীষ্টিয়ানদের কাছে সেটাই স্বাভাবিক যেন সেই ভাবে পাপ অনুযায়ী জীবন যাপন করে। এই ভাবে তারা “ভক্তিহীন ভাবে আমাদের ঈশ্বরের অনুগ্রহ লম্পটতায় পরিণত করে, এবং আমাদের একমাত্র অধিপতি ও প্রভু, যীশু খ্রীষ্টকে অস্বীকার করে”(যিহুদা ৪)। সেটাই হল ধর্মতত্ত্বের দ্বিতীয় ভুল যাকে বলা হয় “এ্যান্টিনমিয়ানিজম” সাম্প্রতিক সময়ে অপব্যায়ি পুত্রের সংবাদে আমি বলেছি,

বেশ কিছু বৎসর আগে একজন মহিলা যিনি লস এঞ্জেলেসে একটি পতিতালয় চালাচ্ছিল যিনি বলতেন যে তিনি না’কি “নুতন জন্মপ্রাপ্তা খ্রীষ্টিয়ান।” এক সুসমাচার প্রচারকারী নেতা আমাকে বলেছিলেন, “ওর বিচার করবেন না।” কি পাগলামী! বিভ্রান্তকারী এই সুসমাচার প্রচারকারী দলকে বলা হয় “এ্যান্টিমনিয়ানিজম,” এবং ইহা সেই বিশ্বাস থেকেই নির্গত হয় যাহারা বলে একজন পাপপূর্ণ শূয়োরের খোঁয়াড়ে বসবাস করেও সেই একই সময়ে নিজেকে ঈশ্বরের সন্তান বলে জাহির করতে পারে। (R. L. Hymers, Jr., Th.D., অপব্যায়ী পুত্রের অপব্যাখ্যা “Misinterpreting the Prodigal Son,” August 25, 2013).

তাই,সেই এ্যান্টিমনিয়ানিজম “ঈশ্বরের অনুগ্রহকে কামনাতুর লম্পটতায়” রুপান্তরিত করেছে (উদাহরণ স্বরুপ “কামুকভাব, অশোভনভাব, লজ্জাহীন আচরণ”–W.E.Vine)। “কামাতুর” শব্দকে গ্রীকে অনুবাদ করা হয়েছে যা আবার অন্যান্যদের সঙ্গে গালিতিয় ৫:১৯ পদেও দৃশ্য হয়, আরও অন্যান্য “মাংসের ভাবের” সাথে-আর তাই আমাদের বলা হয়েছে, “যারা এই প্রকার আচরণ করে তারা ঈশ্বরের রাজ্যে অধিকার পাবে না”(গালিতিয় ৫:২১)। সম্পুর্ণ অনুচ্ছেদটি বলে,

“আবার মাংসের কার্যে সকল প্রকাশ আছে, যে গুলি হল এই; বেশ্যাগণ, অশুচিতা, স্বৈরীতা, প্রতিমা পূজা, তুকতাক, ঘৃণা, রাগ, প্রতিযোগীতা, বিচ্ছিন্নতা, ঈর্ষা, দলভেদ, মাৎসর্য্য, খুনজখম, মত্ততা, রঙ্গরস ও তৎসদৃশ অন্য অন্য দোষঃ এই সকলের বিষয়ে আমি তোমাদিগকে অগ্রে বলিতেছি, যেমন পূর্বে বলিয়াছিলাম, যাহারা এই প্রকার আচরণ করে তাহারা ঈশ্বরের রাজ্যে অধিকার পাইবে না” (গালিতিয় ৫:১৯-২১).

কোনটা বেশী পরিষ্কার তা আমি জানি না! “যারা এই প্রকার আচরণ করে তারা ঈশ্বরের রাজ্যে অধিকার পাইবে না।” তথাপি ধর্মবিরোধিরা বলে থাকে যে তারা ঈশ্বরের রাজ্যের অধিকার লাভ করবে! কি রকম পাগলামী! এফেসিয়ানস ৪:১৭-১৯ পদে, গ্রীকের এই শব্দকে অনুবাদ করেছে “কামাতুরভাব” যা অপরিত্রাণপ্রাপ্ত ব্যাক্তিকে বর্ণণা করার জন্য প্রদান করা হয়েছে। কোন বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে উঠতে পারে ? তথাপি আধুনিক সময়ে ধর্মবিরুপক সুসমাচার প্রচারকারীরা ক্রমাণ্বয়ে “ঈশ্বরের অনুগ্রহকে লম্পটতায় পরিণত করছে”(যিহুদা ৪)। এই কথা কেবল ইতালির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নহে। কোনমতেই নহে! আমেরিকাতে এটা এতোটাই উচ্ছ্বাসিত যেন যে কোন সময়ে আপনি যতজন হারানো ব্যাক্তিদের সংগে সাক্ষাৎ করেন তারা মনে করে যে তারা উদ্ধারপ্রাপ্ত, আর এমন কি তারা ব্যবহারিক ভাবে পাপের মধ্যে বসবাস করা সত্ত্বেও। প্রকৃত পক্ষে এ্যান্টনমিয়ানিজম আমেরিকায় খ্রীষ্ট ধর্মকে ধ্বংস করে ফেলছে!

যিহুদা বলেন তারা “আমাদের ঈশ্বরের অনুগ্রহ লম্পটতায় পরিণত করে, এবং আমাদের একমাত্র অধিপতি, প্রভু যীশুখ্রীষ্টকে অস্বীকার করে।” তারা পিতার প্রভুত্বকে অস্বীকার করে, এবং তারা খ্রীষ্টের প্রভুত্বকেও অস্বীকার করে। তারা প্রায় সময়ে খ্রীষ্টকে প্রভু বলা থেকে খ্রীষ্টকে পরিত্রাতা রুপে বলার দ্বারাই এটা করে থাকে। আমাদের ইতালিয় অনুবাদক বলেন, “ইতালিতে বহু সুসমাচার প্রচারকারী ব্যাক্তি বলে যে যীশু আপনার পরিত্রাতা হলেও, কিন্তু আবশ্যিকভাবে আপনার প্রভু নয়।” এই প্রকার ভ্রান্ত শিক্ষার বিরুদ্ধে ডাঃ এ.ডাব্লুউ.টোজার এক ভাষণ বিবৃতি প্রদান করেন। তিনি চমৎকার ভাবেই বলেন,

     আমাদের খ্রীষ্টিয়ান বৃত্তের সব জায়গাতেই এক লক্ষণীয় ভ্রান্ত শিক্ষার আগমণ হয়েছে-তারা বৃহত্তরভাবেই এই ধারণাকে গ্রহণ করেন যে আমরা মানুষেরা খ্রীষ্টকে গ্রহণ করার জন্য মনোনয়ন দিতে পারি এইজন্য কেননা পরিত্রাতা রুপে তাঁকে আমাদের প্রয়োজন আরা সেই সঙ্গে যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা চাই ততক্ষণ পর্যন্ত প্রভু হিসাবে তাঁর মধ্যে আমাদের বাধ্যতাকে মুলতুবিও রাখতে পারি!...
     কি ভীষণ মর্মান্তিক ঘটনা কেননা আমাদের সময়ে সুসমাচারের আবেদন এই ভাবধারাতেও আমাদের কাছে রাখার বিষয়ে শুণতে পাইঃ “যীশুর কাছে আসুন! আপনাকে অন্য কাউকে মানতে হবে না। আপনাকে কোন কিছু পরিবর্তন করার প্রয়োজন নেই। আপনাকে কোন কিছু ত্যাগ দেওয়ার প্রয়োজন নেই-কেবল তাঁর কাছে আসুন এবং তাঁকে পরিত্রাতা হিসাবে বিশ্বাস করুন!”
     সুতরাং তারা আসে ও পরিত্রাতাকে বিশ্বাস করে। পরবর্তী সময়ে,কোন সভা ও মহাসভাতে, তারা আরো এক প্রকার আবেদনের বিষয়ে শোণেঃ “এখন আপনারা তাঁকে পরিত্রাতা রুপে গ্রহণ করেছেন, তাহলে তাঁকে এখন প্রভু বলে কেমন করে পেতে পারেন?”
     ঘটনা হল এই বিষয়ে আমরা প্রত্যেক জায়গাতে শুণলেও তা ইহাকে সঠিক করে তোলে না। বিভক্ত খ্রীষ্টকে বিশ্বাস করার প্রতি মানুষের বা নরনারীর প্রতি এই যে অনুরোধ তা হল খারাপ শিক্ষা কেননা কেউই খ্রীষ্টের অর্দ্ধেকটা গ্রহণ করতে পারে না...কোন ব্যাক্তি যখন যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাস করে তখন তাকে অতি অবশ্যই সম্পুর্ণ যীশুখ্রীষ্টে বিশ্বাস করতে হবে-আর এর জন্য কোন ভাবেই কোন রকম সংরক্ষণ করলে চলবে না! পাপ আমাদের যখন পীড়িত করে তোলে তখন যীশুর প্রতি এক ঐশ্বরিক পরিচর্যা লাভ করার প্রতি পরিতৃপ্তি লাভ করাটা এক খারাপ বিষয় আর তাঁর সাহায্য লাভের পরে, তাঁকে,“বিদায়” বলে-পুণরায় নিজের পথে চলাটা...
     আমরা তাঁর কাছে এই ভাবে আসি না সেই ব্যাক্তির মতো করে, যিনি তার বাড়ির জন্য আসবাবপত্র কিনে,ঘোষণা করেনঃ “আমি এই টেবিলটি চাই কিন্তু এই চেয়ারটা নয়”- ইহাকে বিভক্ত করে তোলে! না, মহাশয়! ইহা হতে পারে খ্রীষ্টের সবটাই আর তা না হলে খ্রীষ্টের কোনটাই নয়!
     আমি বিশ্বাস করি আমাদের প্রয়োজন রয়েছে যেন সমুদয় জগতের কাছে খ্রীষ্টের সমস্ত সত্যতাকে প্রচার করি-এমন এক খ্রীষ্ট যার প্রয়োজন নেই আমাদের ক্ষমা প্রার্থনার, এমন এক খ্রীষ্ট যিনি বিভক্ত হবেন না, আমাদের সমস্ত কিছুর প্রভু অথবা যিনি কোন মতেই আমাদের প্রভু হবেন না!
     আমি আপনাকে সতর্ক করছি-সেই ভাবে আপনি তাঁর কাছ থেকে কোন সাহায্য পাবেন না সেই ভাবে কেননা তিনি তাদের বাঁচান না যাদের তিনি আজ্ঞা দিতে পারেন না! তিনি তাঁর অফিসকে বিভক্ত করতে পারেন না। আপনি কোন ভাবেই অর্দ্ধ-খ্রীষ্টে বিশ্বাস করতে পারেন না। তিনি যা সেই হিসাবেই আমরা তাঁকে গ্রহণ করি-এক অভিষিক্ত পরিত্রাতা ও প্রভু হিসাবে যিনি হলেন রাজাদের রাজা এবং প্রভুদের প্রভু! তিনি যদি আমাদের উদ্ধার ও আহবান করেন ও না জেনে আমাদের মনোনীত করেন যে তিনি আমাদের পরিচালনা ও জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন তবে তিনি যা তা তিনি হতে পারেন না...
     আমরা সত্য সত্যই যা চিন্তা করি ইহা কি তাই হতে পারে আমাদের বাধ্যতার জন্য যীশু খ্রীষ্টকে বাধিত করতে পারিনা ? যখন থেকে আমরা তাঁকে বাধ্যতার সাথে গ্রহণ করেছি, তখন থেকেই প্রতিটি সেকেণ্ড জন্য তাঁর কাছে আমাদের পরিত্রাণ পাবার জন্য ক্রন্দন করেছি, আর তাঁকে যদি সেই বাধ্যতা [আমরা] প্রদান না করি, তবে আমার কাছে যুক্তি রয়েছে যে [আপনি] প্রকৃত পক্ষে সত্য সত্যই রুপান্তরিত বা কনভার্ট হয়েছেন কি না!
     আমি এমন কিছু দেখছি এবং খ্রিষ্টিয়ানেরা যা করছে সেই বিষয়ে যা শুণছি ও তাদের যে ভাবে দেখছি...তখন আমিও প্রশ্ন তুলি সত্য সত্যই তারা রুপান্তরিত হয়েছে কি না...
     আমি বিশ্বাস করি শুরু থেকে ইহা হবে ভ্রান্ত শিক্ষার পরিণাম। তারা প্রভুকে এক হাসপাতালের ন্যায় মনে করে এবং যীশুকে অন্যান্য কর্মীর মধ্যে এমন মুখ্য ব্যাক্তি বলে ভাবেন যিনি যারা সমস্যায় পড়েছে সেই পাপে পতিত ব্যাক্তির সমস্যার সমাধান করেন! “আমাকে ঠিক করে দাও, প্রভু,” এই ভাবে তারা জোর করে ধরে, “যেন আমি আমার নিজের পথে চলতে পারি!”
     সেটা তো ভীষণ খারাপ শিক্ষা...ইহার মধ্য আত্ম-প্রবঞ্চনায় পরিপূর্ণ। আসুন আমাদের যীশুর প্রতি এই ভাবে দৃষ্টিপাত করি যিনি হলেন আমাদের প্রভু, অতি উচ্চ অধিষ্ঠিত, পবিত্র, মুকুট পরিধানরত, রাজাদের রাজা ও প্রভুদের প্রভু, যার মধ্যে রয়েছে তাঁর সমস্ত পরিত্রাণপ্রাপ্ত লোকেদের থেকে সম্পূর্ণ বাধ্যতা জ্ঞাপনের পরিশুদ্ধ অধিকার!...
     ঈশ্বর ইচ্ছা করেন যেন সমস্ত কিছুর উপরে আমরা তাঁর সঙ্গে সততার পরিচয় দিই। শাস্ত্র অনুসন্ধান করুন, নুতন নিয়ম পড়ুন, আর আপনি যদি দেখতে পান যে সত্যতার কোন বীজ আপনার মধ্যে দিতে পেরেছি, তবে আমি অনুরোধ করি যেন ইহার বিষয়ে আপনি কিছু করেন। আপনি যদি অসম্পূর্ণ খ্রীষ্টে বিশ্বাস করার প্রতি পরিচালিত হয়েছেন,তবে আনন্দিত হোন যে সেখানে আপনার জন্য এখন সময় রয়েছে যেন ইহার বিষয়ে কিছু করেন! (A. W. Tozer, D.D., I Call It Heresy!, Christian Publications, 1974 edition, pp. 9-21).

কিন্তু আমি দেখতে পেয়েছি একজন ধর্ম বিরুপক ব্যাক্তি তার নীতিহীনতার মধ্য থেকে মন পরিবর্তন করে প্রকৃতভাবে কনভার্ট বা রুপান্তরিত হওয়াটা খুবই নগণ্য। প্রায় ৫৫ বৎসরেরও অধিক সময়,আমি প্রচার করছি আর ব্যাক্তিগত ভাবে আমি এমন কোন একজন সমর্পিত ধর্মবিরুপকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করিনি যে তার ভ্রান্ত বা ভুল শিক্ষা থেকে মন পরিবর্তন করার পরে প্রকৃত পরিবর্তন বা রুপান্তর সাধনকে অনুভব করেছে। আমি বিশ্বাস করি এটা বাস্তব কেননা সমর্পিত ধর্মবিরুপকেরা শয়তানের অধিনস্থ। ১-ম যোহান ৩:৮ পদের উপরে ভিত্তি করে, আমি ইংরাজী স্ট্যান্ডার্ড ভার্সান থেকে এই শব্দের উল্লেখ করছি, “যে কেহ পাপাচারণ করে সে দিয়াবলের...” আর এইজন্যই আমাদের বলা হয়েছে যারা ধর্মবিরুপক তারাই পাপী “তারা দিয়াবলের”-আর তাই, তারা দিয়াবলের নিয়ন্ত্রনাধীন। সেই দিয়াবল হল “আকাশের কর্ত্তৃত্বাধিপতি, যে আত্মা এখন অবাধ্যতার সন্তানগণের মধ্যে কার্য করছে”(এফিসিয়ান্স২:২)। এখানে আমি “এ্যান্টিনমনিয়ানিজম” বা ধর্মবিরুপকের উদ্ধৃতি রিফর্মেশান স্টাডি বাইবেল থেকে উক্তি করছি। ইহা বলে,

এ্যান্টিনমনিয়ানিজম বা ধর্মবিরুপকের অর্থ হল “নিয়মের বিরুদ্ধকারী।” এ্যান্টিনমনিয়ানিজম বা ধর্ম বিরুপকেরা তাদের প্রতিই দেখে যারা শাস্ত্রে ঈশ্বরের নিয়মকে অস্বীকার করে খ্রীষ্টিয়ান জীবন ধারাকে সরাসরিভাবে নিয়ন্ত্রণ করে...তারা এক ভ্রান্ত নিষ্পত্তিকে টেনে তুলে নিয়ে আনেন যেখানে তাদের আচরণের মধ্যে কোন পার্থক্যই উপলব্ধি হয় না, পরিবর্তে তারা সেটাকেই ক্রমান্বয়ে বিশ্বাস করতে থাকে। কিন্তু ১-ম যোহান ১:৮-২:১ এবং ৩:৪-১০ নির্দেশ করে এক ভিন্ন প্রকার শিক্ষার প্রতি। এটা কোন ভাবেই সম্ভবপর নয় খ্রীষ্টের মধ্যে থেকে পুণরায় পাপকে জীবনের এক ধারা বলে আলিঙ্গন করা (পৃ.১৮৩১).

সেই সংগে, এ্যান্টিনমনিয়ানিজম বা ধর্মবিরুপকদের ইতালিয়তে ১-ম করিন্থিয়ানস ৫:১ পদের প্রতি আবেদন জানায়,

“বাস্তবিক শুনা যাইতেছে যে তোমাদের মধ্যে ব্যাভিচার আছে, আর তা এমন ব্যাভিচার যাহা পরজাতীয়দের, মধ্যেও নেই কেননা তোমাদের মধ্যে একজন আপন পিতার ভার্যাকে রাখিয়াছে” (১-ম করিনথিয়ানস ৫:১).

ইটালিতে এ্যান্টনমিয়ানিজম বা ধর্মবিরুপক বলে যে “এটা হল বিশ্বাসীদের মধ্যে এক অজাচারের উদাহরণ মাত্র।” সুতরাং, তারা বলে থাকে, এটা প্রমাণিত যে “বিশ্বাসীরাও মাংসিক মনোভাবাবপন্ন হতে পারে।” এই প্রকার অর্থহীন কথা আমি আমেরিকাতেও শুণেছি। কিন্তু ১-ম করিনথিয়ানস ৫:২-১৩ দেখায় যে যেখানে পল করিনথিয়ানস মন্ডলীকে বলেন “এমন কর্ম যে ব্যাক্তি করিয়াছে তাহাকে তোমাদের মধ্য হইতে বাহির করিয়া দাও”(১-ম করিনথিয়ানস ৫:১৩)। ইহা এখানে এতটাই পরিষ্কার যেখানে প্রেরিত পল তাদের বলছেন যেন “সেই মন্দ ব্যাক্তিকে” সেই মতো মণ্ডলীর মধ্য থেকে বের করে দেওয়া হয়, আর এমন কি সেই প্রকার ব্যাক্তির সঙ্গে যেন খাদ্য ভক্ষণ করা না হয় (১-ম করিনথিয়ানস ৫:১১)। এর উপরে যে ব্যাখ্যা তা একটা অধ্যায়ের পরেই দেওয়া হয়েছে, ১-ম করিনথিয়ানস ৬:৯-১১-এ,

“তোমরা কি জাননা যে অধার্মিকেরা ঈশ্বরের রাজ্যে অধিকার পাইবে না ? ভ্রান্ত হইও নাঃ যাহারা ব্যাভিচারী, কি প্রতিমা পূজক, কি পারদ্বারিক, কি স্ত্রীবৎ আচারী, কি গুণ্ডামি, কি চোর, কি লোভী, কি মাতাল, কি কটূভাষী, কি পরধনগ্রাহী, তাহারা ঈশ্বরের রাজ্যে অধিকার পাইবে না। আর তোমরা কেহ কেহ সেই প্রকার লোক ছিলেঃ কিন্তু তোমরা প্রভু যীশু খ্রীষ্টের নামে ও আমাদের ঈশ্বরের আত্মায় আপনাদিগকে ধৌত করিয়াছ, পবিত্রীকৃত হইয়াছ, ধার্মিক গণিত হইয়াছ” (১-ম করিনথিয়ানস ৬:৯-১১).

এখানে ধর্ম বিরুপকের একটা তালিকা প্রেরিত বর্গ প্রদান করেছেন “যারা ঈশ্বরের রাজ্যের অধিকারী হইবে না”(৬:৯)। এটা বিষয়টাকে এতটাই পরিষ্কার করে দেয় যে ব্যাক্তি একটানা “ব্যাভিচার” করে চলে “সে ঈশ্বরের রাজ্যের অধিকারী হবে না।” ১-ম করিনথিয়ানস ৬:৯ পদে বাইবেল বলে যে “অধার্মিকেরা” ঈশ্বরের রাজ্যের মধ্যে থাকবে না। প্রকাশিত বাক্য ২১:৮ আমাদের বলে সেই প্রকার বেশ্যাগামী ও অনৈতিক লোকেদের অগ্নি ও গন্ধকে ফেলে দেওয়া হবে। সমুদয় কালের জন্য তারা নরকের-অগ্নিতে দগ্ধ হতে থাকবে।

আমি যেমন ভাবে বলেছি, ইতালিতে এই এ্যান্টিনমনিয়ানিজম বা ধর্ম বিরুপকতার কাজ নিষিদ্ধ নয়। কোন মতেই নয়! এই প্রকার দিয়াবলের শিক্ষা পশ্চিমী দেশের সর্বত্র ব্যাপৃত হচ্ছে, আর তা বিশেষত আমেরিকাতে। আমাদের দ্বিতীয় প্রসঙ্গে এ্যান্টিনমনিয়ানিজম বা ধর্ম বিরুপকতার বিষয়ে পরিষ্কার ভাবেই বর্ণণা করা হয়েছে,

“যেহেতু এমন কয়েকজন গোপনে প্রবিষ্ট হইয়াছে, যাহারা এই দণ্ডাজ্ঞার পাত্ররুপে পূর্বে লিখিত হইয়াছিল, তাহারা ভক্তিহীন, আমাদের ঈশ্বরের অনুগ্রহ লম্পটতায় পরিণত করে,এবং আমাদের একমাত্র অধিপতি,ও প্রভু যীশু খ্রীষ্টকে অস্বীকার করে” (যিহুদার পত্র ৪).

এ্যান্টিনমনিয়ানিজম বা ধর্ম বিরুপকেরা বলে থাকে যেহেতু আমরা অনুগ্রহের দ্বারা উদ্ধার লাভ করেছি তাই আমরা পাপে জীবন যাপন করাটাকেও ঠিক বলতে পারি। তারা বলে থাকে আপনাকে এর জন্য কোন কিছুই ছাড়তে হবে না। তাদের দশমাংশ এবং না তো আত্মা জয় করতে হবে। এমন কি তাদের মন্ডলীর সভাতেও যোগদান করতে হবে না! আর তারা বলে থাকে আমাদের মধ্যে যারা এই বিষয়ে বাধ্যতার প্রতি বিস্তারিত ভাবে অনড় তারা “ইতিবাচক।” সেটাই হল এ্যান্টিনমনিয়ানিজম বা ধর্ম বিরুপকের উপযুক্ত শব্দ। তারা বাধ্য খ্রিষ্টিয়ানদের বলে থাকে “ইতিবাচক” বা বিধিবদ্ধ যা “ফরিশিস।” কিন্তু তার যে পরিভাষা সেটাকে তারা অপব্যাবহার করে থাকে। ইতিবাচক বা বিধিবদ্ধশীল ব্যাক্তি এবং ফরিশিরা মানুষকে শিক্ষা দেয় যে লোকেরা উত্তম কার্য করার দ্বারাই পরিত্রাণ লাভ করে। তথাপি আমরা শিক্ষা দিয়ে থাকি যে আমরা কেবলমাত্র অনুগ্রহের, দ্বারাই পরিত্রাণ লাভ করেছি আর তার পরে যিনি সত্য সত্যই পরিত্রাণ লাভ করেছেন তার মধ্য দিয়ে ভালো কার্য্য ইতিমধ্যেই প্রবাহিত হবে। ইতিবাচক বা বিধিবদ্ধশীল ব্যাক্তি ও ফরিশিরা শিক্ষা দিয়ে থাকেন ভালো কার্য্যই আপনাকে পরিত্রাণ দেবে। প্রকৃত খ্রীষ্টিয়ানেরা শিক্ষা দেয় যে কেবলমাত্র অনুগ্রহই আপনাকে উদ্ধার প্রদান করবে, আর তারপরেই প্রতিটি পরিবর্তিত বা রুপান্তরশীল ব্যাক্তি তাদের জীবনে ভালো কাজ উৎপন্ন করে। বিধিবদ্ধ শীলেরা শিক্ষা দেয় ভালো কাজের দ্বারাই পরিত্রান কার্য্য সাধিত হয়। আমরা শিক্ষা দিই যে অনুগ্রহই পরিত্রাণ প্রদান করে আর তখনই ভালো কার্য্য সাধিত হয়। কিন্তু বিধিবদ্ধশীল ব্যাক্তিরা বলে থাকে ভালো কাজের দ্বারাই পরিত্রাণ লাভ হয়। আমরা বলি পরিত্রাণের ফলের উত্তম কার্য্য সম্পন্ন হয়-যা কি না বিধিবদ্ধশীলের যে শিক্ষা তার সম্পুর্ণ বিপরীত! কিন্তু এ্যান্টিনমনিয়ানিজম বা ধর্ম বিরুপকেরা উত্তম কার্য্যের প্রতি কোন সময়েই জোর দেন না। এমন কি তারা এমনটাও মনে করেন না যে খ্রীষ্টিয়ানদের মন্ডলীতে যোগদানের প্রয়োজন আর প্রতি রবিবারের সভায় যোগদান করা আবশ্যক। আর তারা এমনটাও মনে করে না যে তাদের প্রয়োজন রয়েছে প্রতি সপ্তাহে প্রার্থনা সভাতে যোগদান করা। আপনার আয়ের দশমাংশের বিষয়ে প্রয়োজনীয়তা তারা উপলব্ধি করে না, বা প্রতি সপ্তাহে আত্মা জয় করার জন্য বাইরে গিয়ে সাক্ষ্য প্রদানেও বিশ্বাস করে না। তারা এমনটাও মনে করে না যে আপনাকে বিনয়ী বস্ত্র পরিধান করার প্রয়োজন রয়েছে। তারা প্রায় সময়ে মণ্ডলীতে সমুদ্র সৈকতের উঁচু নীচু বস্ত্র পরিধান করে বিদ্রোহীর মতো বিনয়ী পরিধানের বিরুদ্ধাচারণ করে। গত সপ্তাহে আমার স্ত্রী এক কিশোরী কন্যাকে দেখলেন যে এ্যান্টিনমনিয়ানিজম বা ধর্ম বিরুপক প্রচারকের কন্যা সে তো একেবারে ছোট বেশভুষা পরিধান করে এক বয়স্ক পালকের কবরে যোগদান করতে এসেছে! আমাদের মন্ডলীতে যখন এ্যান্টিনমনিয়ানিজম বা ধর্ম বিরুপক কোন সুসমাচার প্রচারকারী আমাদের মন্ডলীতে যোগদান করে তখন তাকে আমরা টাই দিই পরিধান বা লাগাবার জন্য। আর তখন কেউই বাধা দেন না। রোমান ক্যাথলিক, বুদ্ধের পথে চলা বা অন্যান্যরা, যারা সমাচার প্রচারকারী নয়, কখনও বাধা দেন না। কিন্তু এ্যান্টিনমনিয়ানিজম বা ধর্ম বিরুপক সুসমাচার প্রচারকারীরা সর্বদাই ইহার বিরোধ করে থাকে। তারা প্রায় সময়ে টাইকে ছিঁড়ে ফেলে ও ইহাকে মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলে দেয়, অথবা ইহাকে পরিধান বা গলায় লাগান তা অস্বীকার করে। তারা সব সময়ই যথাযথ পরিধানের বিষয়ে বিরুদ্ধাচারণ করতে থাকে! তাদের কাছে বেশভুষার কোন বিধিবদ্ধ আইন নেই! তারা অসংযত। তারা সমস্ত নিয়মের বিরোধী। তারা এ্যান্টিনমনিয়ানিজম বা বিশ্বাসের বিরুদ্ধাচারী! সেই সঙ্গে, তারা মানতেই চায় না যে আপনাকে অনুতাপ করে জঘন্য পাপ থেকে মন পরিবর্তন করতে হবে। অন্য ভাবে বলা য়ায়, এ্যান্টিনমনিয়ানিজম বা ধর্মবিরুদ্ধাচারীরা মনে করে আপনি নুতন জন্মপ্রাপ্ত খ্রীষ্টিয়ান হতে পারেন এবং জীবনে তার কোন উপসত্ত্ব উপলব্ধি না’ও করতে পারেন!

আমরা বিশ্বাস করি যে বাইবেল শিক্ষা দেয়-অনুগ্রহের দ্বারা প্রকৃত যে পরিত্রাণ তা জীবনে উত্তম কার্য্য উৎপাদন করে। আর সেটাই শাস্ত্রের মধ্যে অত্যন্তভাবেই স্বচ্ছ,আর সেটাই এফিসিয় দ্বিতীয় অধ্যায়ে, উৎকৃষ্টভাবে সেটাকেই প্রকাশ করে,

“কেননা অনুগ্রহেই বিশ্বাস দ্বারা পরিত্রাণ পাইয়াছ; এবং ইহা তোমাদের হইতে হয় নাইঃ ইহা ঈশ্বরের দানঃ তাহা কর্মের ফল নহে, যেন কেহ শ্লাঘা না করে। কারণ আমরা তাঁহারই রচনা, খ্রীষ্ট যীশুতে বিবিধ সৎ ক্রিয়ার নিমিত্ত সৃষ্ট, সেগুলি ঈশ্বর পূর্বে প্রস্তুত করিয়া ছিলেন যেন আমরা সেই পথে চলি” (এফেসিয়ানস ২:৮-১০).

“খ্রীষ্ট যীশুতে বিবিধ সৎ ক্রিয়ার নিমিত্ত সৃষ্ট”-সেটাই সরল ও স্বচ্ছ। সেটা বুঝে ওঠাটাই সব থেকে সহজ।

কিন্তু এ্যান্টিনমনিয়ানিজম বা ধর্মবিরুদ্ধচারীরা শাস্ত্রের সেই অংশ গ্রহণ করতে চায় না। তারা সব সময়েই তাদের বিরুদ্ধে দ্বন্দ্ব করে চলে। তারা বলে, “বিচার করবে না।কিন্তু তারাই আবার সমস্ত লোকেদের মধ্যে বিচার করে থাকে! আমি যে প্রকার মন্দ এ্যান্টিনমনিয়ানিজম বা ধর্মবিরুদ্ধচারী জায়গা থেকে আসছি সেই প্রকার বেশ কিছু নিকৃষ্টতম আক্রমণ আমি আমার নিজের জীবনেও পরিচর্যা কাজে সম্মুখীন কোন দিন হইনি। আমার প্রথম যে সংবাদ ছিল তা কেবল ধর্মবিরুদ্ধাচারীর বিরুদ্ধে যা আমি হান্টিংটন পার্ক, ক্যালিফোর্ণিয়াতে যে মণ্ডলীর সদস্য আমি ছিলাম সেখানে যুবকদের মধ্যে আমি তা দেখতে পেয়েছিলাম। সেই সময়ে আমার বয়স ছিল কেবল সতেরো। আমার সংবাদের পরে যুবকদের নেতা আমাকে এক পাশে নিয়ে গিয়ে বললো আমি যেন পরবর্তী সময়ে এই ভাবে কথা না বলি। তিনি যখন আমাকে ধমক দিচ্ছেন, তখন তার সাহায্যকারী আমাকে বললেন হে যুবক তুমি ভুল জায়গাতে আছো, আর আমার সংবাদে অস্থির হবে না। কিন্তু বেশ কিছু মাস পরে যুবকদের এই যে পরিচালক ছিলেন তাকে মণ্ডলী থেকে পলায়ন করতে হয় কেননা তার পিতা মাতা দেখেছিলেন যে সে তার সন্তানদের সঙ্গে যৌন কার্য্যে লিপ্ত। সেই বৎসরের পরেই আমি বাস্তবিক ভাবেই দেখতে পেলাম যে সমস্ত যুবকদের কাছে আমি সেই দিনে প্রচার করেছিলাম তারা সকলেই মন্ডলী থেকে পালিয়ে গিয়েছিল অধার্মিকতার জীবন যাপন করার জন্য। এরপরে ঈশ্বর আমার হৃদয়ে কথা বললেন, “রবার্ট, তুমি এই মুহুর্তে সেখানে গিয়ে ধর্ম বিদ্বেষীতার বিরুদ্ধে প্রচার কর। ইহা সাংঘাতিক ভাবেই ভুল শিক্ষা। তুমি ভয় করবে না। ইহার বিরুদ্ধে তুমি সাহসের সঙ্গে প্রচার কর!”

আমার পরিচর্যা কার্যের মধ্যে সেটা করার চেষ্টা আমি করেছি। আমি যখন স্যানফ্রাসসিস্কোর উত্তরে, মেরিন কাউন্টিতে, পালকত্বের কাজ করি আর এক ধর্ম বিরুপক মন্ডলীর নেতার দ্বারা আমি সাংঘাতিক ভাবেই এক “আইন সিদ্ধকারী বা বৈধকরণ” ব্যাক্তি হিসাবে আক্রমণের হাতে পড়ি। পরবর্তী সময়ে ইহা প্রকাশমান হয়ে পড়ে যে সেই ব্যাক্তি তারই মণ্ডলীতে একজন মেয়ের সঙ্গে যৌন কার্য্যে লিপ্ত ছিল। ওয়েষ্টউডের মধ্যে, যা ছিল লস এঞ্জেলেসের পশ্চিম প্রান্তের এক অঞ্চল, সেখানে এক ধর্মবিরুপক “বাইবেল শিক্ষক” আমাকে ফরিশি এবং এক সাংঘাতিক ভ্রান্ত শিক্ষক বলে সম্বোধন করতেন। অন্যা এক সময়ে তিনি যখন আমার মন্ডলীতে একজন যুবক ব্যাক্তির সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন তখন আমাকে ছিঁড়ে ফেলার মতো অন্য একটা লাইনও আমি শুণেছিলেম। আমি যখন বললাম, “হ্যালো, বিল, আমি ডাঃ হাইমার্স,” তখন তিনি চিৎকার করে উঠলেন ও দড়াম করে রিসিভারটা রেখে দিলেন। বাইবেল ক্লাসের মধ্যে যুবক ব্যাক্তিরা মারিজুয়ানা পান করতো, আর অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গেই মন্ডলীতে যোগদানের বিরোধিতা করেছিল। আর সেটাই সেই ধর্ম বিরুপক “শিক্ষক” তাদের শেখাতেন। বেশ কিছু বৎসরের মধ্যে তার সমস্ত “পরিচর্যা কাজ” ভেঙে পড়ে-আর তা অস্তিত্বের বাইরে চলে যায়। আজ পর্যন্ত এক ধর্মবিরুপক মহিলা ইন্টারনেটে আমাকে সাংঘাতিক ভাবে আক্রমণ করে, আর আমাকে এক আইনসিদ্ধ করণ বা বৈধকরণ ব্যাক্তি ও ভ্রান্ত শিক্ষক বলে তকমা প্রদান করে। তিনি সঙ্গে করে একটি পিস্তল বহন করেন আর বলেন যে তার বন্দুক তাকে বলে, “গুলি কর, গুলি করে মার!” আমরা তার নাম এফ.বি.আই.-তে দাখিল করেছি। কিন্তু এর বহু আগেই আমি শিখেছি যেন ধর্ম বিরুপকদের আক্রমণে বিভ্রান্ত হয়ে না পড়ি। সেই প্রকার আক্রমণ সেই তখন থেকেই প্রকৃত খ্রীষ্টিয়ানদের বিরুদ্ধে গিয়েছে যখন থেকে সেই প্রাচীন জগতে কেইন তার ভাই হেবলকে হত্যা করেছিল। কেইনের দ্বারা তার ভাই হেবলের যে মৃত্যু হয়েছিল এই বিষয়ে প্রেরিত যোহান তার হত্যা সম্বন্ধে নির্দেশ করেন। তিনি বলেন “কেইন, ছিল পাপাত্মার লোক, এবং আপন ভ্রাতাকে বধ করিয়াছিল। কিন্তু সে কেন তাকে বধ করিয়াছিল ? তার কারণ এই কেননা তার নিজের কার্য্য মন্দ ছিল,কিন্তু তাহার ভ্রাতার কার্য্য ধর্মানুযায়ী ছিল। জগৎ যদি তোমাদিগকে ঘৃণা করে, তবে হে আমার ভ্রাতারা, আশ্চর্য জ্ঞান করিও না”(১-ম যোহান ৩:১২-১৩).

“মন্দকার্য্য হইতে মন পরিবর্তনের” প্রচার ধর্মবিরুপকেরা অত্যন্ত কঠোর ভবাএই প্রত্যাখান করে(হিব্রুজ ৬:১). আক্ষরিক ভাবে তারা সেই প্রকার প্রচারের বিষয়ে ঘৃণা করে-আর যারা এই ভাবে প্রচার করে তাদের বিরুদ্ধে দ্বন্দ্ব করে চলে। পাপ থেকে মন পরিবর্তনের বিষয়ে প্রচার করার জন্য হেরোদ যোহান ব্যাপ্টিস্টের শিরচ্ছেদ করেন। স্যানহ্যাড্রিন খ্রীষ্টের ক্রুশারোপণের আহবান জানান কেননা তিনি পাপ থেকে মন পরিবর্তনের বিষয়ে প্রচার করেছিলেন। প্রেরিত পল “ভ্রান্ত ভাতৃদ্বয়ের মধ্যে বিপাকে পড়েন” কেননা তিনিও পাপ থেকে মন পরিবর্তএর সংবাদ প্রচার করেছিলেন। (২-য় করিনথিয়ানস১১:২৬; প্রেরিত ২৬:২০,২১).

অতি সমর্পিত ধর্মবিরুপকেরা এখন পর্যন্ত রুপান্তরিত হয় নি। তারা কোন সময়েই নুতন জন্ম লাভ করে নি। আরা আক্ষরিক ভাবেই যারা তাদের বলেন যে তারা হারিয়ে গিয়েছে তাদের তারা ঘৃণা করেন। ডাঃ টোজার তার রচনায় তাদের রোষের বিষয়ে লেখেন, “তারা একবার জন্মালে দ্বিতীয় বারেও জন্ম গ্রহণ করে।” শাস্ত্রের মধ্য থেকে তিনি দেখান যে যারা কোন সময়ে নুতন জন্ম লাভ করে নি তারা সব সময়েই তাদের সঙ্গে যুদ্ধ বা সংঘর্ষ করে যারা নুতন জন্ম লাভ করেছে- যাকে বলা হয় দ্বিতীয়-জন্মলাভ। যারা নুতন জন্মের অভিজ্ঞতা লাভ করেছে তাদের সঙ্গে ধর্মবিরুপকেরা সংঘর্ষ করে, ভয় দেখায়, ও আক্রমণ করে। ডাঃ টোজার বলেছেন, “দ্বিতীয় বার জন্ম লাভের এই প্রকার পরাক্রমী রোষ কেবলমাত্র সেই সত্যকে নিশ্চিত করে যা তারা শিক্ষা দেয়”(A. W. Tozer, D.D., “The Once-Born and the Twice-Born,” Man: The Dwelling Place of God, Christian Publications, 1966, page 21).

ঘটনা যে এমন তা সত্যিই দুঃখজনক। ধর্মবিরুপকেরা যেন উদ্ধার বা পরিত্রাণ লাভ করে তার প্রতিই আমরা পথ চেয়ে রয়েছি। আমরা প্রায় সময়ে প্রার্থনা করে থাকি যেন তারা রুপান্তরিত হয়। খ্রীষ্ট যে ক্রুশের উপরে মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের পাপের মূল্য মিটিয়ে দেওয়ার জন্য এই বিষয় তারা জানেন। তিনি যে স্বর্গে জীবিত তাও তারা জানেন। কিন্তু তারা প্রকৃতভাবে কোন সময়েই অনুতপ্ত হন নি আর কোন সময়েই প্রকৃতভাবে তাঁর প্রতি নির্ভর করেন নি। .

আজিকের রাত্রে এমন কেউ হয়তো এখানে রয়েছেন যারা ধর্মবিরুপক, মতবাদভুক্ত থাকে ভ্রান্ত রুপান্তরে আহবান জানাচ্ছে আর নিজের অন্তর মধ্যে প্রকৃত বিষয়টার বিরুদ্ধে দ্বন্দ্ব করে চলেছে। অথবা কোন একজন যিনি এই সংবাদ নেটে পোড়েছেন বা শুণেছেন হয়তো এই রুপান্তর করণের বিষয়ে হৃদয়ে অন্তর্দ্বন্দ্ব করছেন। আপনাকে আমি এক হৃদয় বিদারক বোঝা নিয়ে বলছি, “আপনি এক ভ্রান্ত মত বিশ্বাস নিয়ে মৃত ও বিশ্রী শরীরের প্রতি আহবান জানাচ্ছেন। আপনি প্রকৃত রুপান্তরকরণের আনন্দ ও শান্তিকে হারাচ্ছেন। জীবন মনোনীত করুন! মনোনীত করুন জীবনকে! আপনার ভ্রান্ত বিশ্বাসের বিশ্রী, ময়লাযুক্ত শবকে ছুঁড়ে ফেলে দিন! আর তারপরে নিজেকে যীশু খ্রীষ্টের চরণে নিক্ষেপ করুন! তিনি আপনার পাপকে তাঁর নিজের রক্ত দিয়ে ধুয়ে দেবেন! যারা প্রেমের সংগে বাধ্যতা সহকারে তাঁর আহবান জানায় তাদের তিনি নুতনভাবে সৃষ্টি করেন, আর তাই এই মন্দ যুগে তাঁর বিরুদ্ধাচারণ করে তাঁর বিপক্ষে যাওয়ার থেকে তাঁর কাছে ফিরে আসুন।” বাইবেল বলে,

“ফলতঃ যদি কেহ খ্রীষ্টে থাকে, তবে নুতন সৃষ্টি হইলঃ পুরাতন বিষয় গুলি অতীত হইয়াছে; দেখ, সেগুলি নুতন হইয়া উঠিয়াছে” (২-য় করিনথিয়ানস ৫:১৭).

আপনি যখন অনুতপ্ত হয়ে নিজেকে যীশুর চরণে সমর্পণ করেন তখন আপনি এই গান গাইতে সক্ষম হিবেন, “সবই করি অর্পণ।”

যীশুকে সব করি অর্পণ, স্বেচ্ছায় সকল করি দান;
প্রেম ও বিশ্বাসে, এ জীবন কাটাই তাঁহার সন্নিধান।
সব করি অর্পণ, সব করি অর্পণ।
সর্বস্ব তোমায়, হে ধন্য ত্রাতা, করি সমর্পণ।

যীশুকে সব করি অর্পণ, প্রণমি তাঁর শ্রীচরণ,
ভবের সুখ দিলাম বিসর্জন নাথ, কর গ্রহণ, যীশু, আমায় এখনই কর গ্রহণ।
সব করি অর্পণ, সব করি অর্পণ।
সর্বস্ব তোমায়, হে ধন্য ত্রাতা, করি সমর্পণ।
(“I Surrender All” by Judson W. Van Deventer, 1855-1939).

যীশুর দ্বারা উদ্ধার লাভের বিষয়ে কথা বলার জন্য আমরা উপস্থিত। আপনি যদি আমাদের সংগে কথা বলতে চান, তবে এখনই আপনার স্থান পরিত্যাগ করে পিছনে যে অডিটরিয়াম রয়েছে সেখানে চলে যান। ডাঃ কাগান আপনাকে একটি শান্ত জায়গাতে নিয়ে গিয়ে আপনার সাথে কথা বলবেন। ডাঃ চ্যান, অনুগ্রহ করে প্রার্থনা করুন যেন আজ রাত্রে যারা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তারা যীশুতে নির্ভর করতে পারে। আমেন।

সংবাদের পরিসমাপ্তি
ডাঃ হাইমার্সের সংবাদ আপনি প্রতি সপ্তাহে ইন্টারনেটের মাধ্যমে
www.realconversion.com এই সাইটে পড়তে পারেন। ক্লিক করুন “সংবাদের হস্তলিপি”

অথবা আপনি ডাঃ হাইমার্সকে মেইল পাঠাতে পারেন rlhymersjr@sbcglobal.net
অথবা আপনি তাকে পত্র লিখতে পারেনঃ পোস্ট বক্স ১৫৩০৮, লস এঞ্জেলেস, সিএ ৯০০০১৫,
এই ঠিকানায় অথবা আপনি তাকে টেলিফোন করতে পারেন (৮১৮)৩৫২-০৪৫২

সংবাদের আগে শাস্ত্রের যে অংশ পাঠ করা হয়েছে তা করেছেন মিঃ আবেল প্রধম্মেঃ এফেসিয়ানস২:৪-১০.
সংবাদের আগে একক সংগীত গেয়েছেন মিঃ বেঞ্জামিন কিন গেইড গ্রীফিথঃ
“I Surrender All” (by Judson W. Van Deventer, 1855-1939).