Print Sermon

এই ওয়েবসাইটের উদ্দেশ্য হল ধর্ম্মোপদেশের পান্ডুলিপি এবং ধর্ম্মোপদেশের ভিডিওগুলি বিশ্বব্যাপী পালক ও মিশনারিদের বিনামূল্যে সরবরাহ করা, বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বে, যেখানে ধর্ম্মতত্ত্বমূলক সেমিনারী বা বাইবেল স্কুল থাকলেও খুব কম রয়েছে|

এই সমস্ত প্রচারের পান্ডুলিপি এবং ভিডিওগুলি এখন www.sermonsfortheworld.com ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতি মাসে 221টিরও বেশি দেশের প্রায় 1,500,000 কম্প্যুটারে যায়| শত শত লোক ইউটিউবের ভিডিওর মাধ্যমে এগুলি দেখেন, কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই তারা ইউটিউব ছেড়ে বেরিয়ে যান এবং আমাদের ওয়েবসাইটে চলে আসেন| ইউটিউব আমাদের ওয়েবসাইটে লোক এনে দেয়| প্রচারের এই পান্ডুলিপিগুলি প্রতি মাসে 40টি ভাষায় প্রায় 120,000 কম্প্যুটারে প্রচারিত হয়| প্রচারের পান্ডুলিপিগুলি গ্রন্থসত্ত্ব দ্বারা সংরক্ষিত নয়, কাজেই প্রচারকগণ আমাদের অনুমতি ছাড়াই এইগুলি ব্যবহার করতে পারেন| মুসলিম এবং হিন্দু রাষ্ট্রসমেত, সমগ্র পৃথিবীতে সুসমাচার ছড়িয়ে দেওয়ার এই মহান কাজে সাহায্য করার জন্য কিভাবে আপনি একটি মাসিক অনুদান প্রদান করতে পারেন তা জানতে অনুগ্রহ করে এখানে ক্লিক করুন|

যখনই আপনি ডঃ হেইমার্‍সকে লিখবেন সর্বদা তাকে জানাবেন যে আপনি কোন দেশে বাস করেন, অথবা তিনি আপনাকে উত্তর দিতে পারবেন না| ডঃ হেইমার্‌সের ই-মেল ঠিকানা হল rlhymersjr@sbcglobal.net |




মেষের নীরব অবস্থান

ঈশা ৫৩ অধ্যায়ের অষ্টম সংখ্যার সংবাদ
THE SILENCE OF THE LAMB
(SERMON NUMBER 8 ON ISAIAH 53)
(Bengali)

লেখকঃ ডাঃ আর.এল.হাইমার্স, জুনি.
by Dr. R. L. Hymers, Jr.

২০১৩ সালে,২৪-শে মার্চ সদাপ্রভুর দিনে সান্ধ্যকালীন মুহুর্তে লস এঞ্জেলেসের ব্যাপটিস্ট ট্যাবারনেকেল একটি সংবাদ প্রচারিত হয়েছিল
A sermon preached at the Baptist Tabernacle of Los Angeles
Lord’s Day Evening, March 24, 2013

“তিনি উপদ্রুত হইলেন, তবু দুঃখভোগ স্বীকার করিলেন, তিনি মুখ খুলিলেন না; মেষশাবক যেমন হত হইবার জন্য নীত হয়, মেষী যেমন লোমচ্ছেদকের সম্মুখে নীরব হয়, সেইরুপ তিনি মুখ খুলিলেন না” (ঈশা ৫৩:৭).


খ্রিষ্টিয়ান শহীদদের সর্ব শেষ যে কথা তা শোণ সব সময়ই যেন এক অনুপ্রেরণা মূলক। মৃত্যুর সময়ে তাদের কথা শোণাটা যেন আমাদের হৃদয়কে তুলে ধরে। দ্বিতীয় শতাব্দীর প্রথমের দিকে পলিকার্প ছিলেন একজন প্রচারক। ইংরাজীতে তার নাম হল পলিকার্প এবং লাতিন ভাষায় তার নাম হল পলিকার্পাস। পলিকার্প ছিলেন প্রেরিত যোহানের ছাত্র। বহু বৎসর পর তিনি অবিশ্বাসী বিচারকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, যিনি বলেন, “তুমি একজন বৃদ্ধ মানুষ। ইহার প্রয়োজন নেই যে তুমি মৃত্যু বরণ কর....। তুমি প্রতিজ্ঞা কর তাহলে আমি তোমাকে মুক্ত করে দেব। কি দোষ যদি বল হে “সম্রাট সীজার” আর সুগন্ধী উপহার কর? তোমার তা আছে কিন্তু সীজারের দ্বারা শপথ করা হল আমি আনন্দের সংগে তোমাকে মুক্ত করতে চাই। তুমি খ্রীষ্টকে অস্বীকার কর এবং বাঁচো।”

পলিকার্পাস উত্তর দিলেন, “৮৬-বছর আমি তাঁর(খ্রীষ্টের) সেবা করে এসেছি, আর তিনি আমার প্রতি কোন অন্যায় করেন নই। আর যিনি আমাকে উদ্ধার করেছেন সেই রাজার প্রতি আমি কি ভাবে নিন্দা করতে পারি”? বিচারক বললেন, “আমি তোমাকে আগুনে জ্বালিয়ে দিতে পারি।” পলিকার্পাস উত্তর দিলেন, “যে আগুনে আপনি জ্বালিয়ে দেওয়ার জন্য ভয় দেখাচ্ছেন কিন্তু একটি ঘন্টার মধ্যে তা নির্বাপিত হয়ে যাবে। আপনি কি তাহলে আগত বিচারের অগ্নিময় অবস্থার কথা জানেন না, তা হল হারিয়ে যাওয়া ব্যাক্তিদের জন্য অনন্তকালীন বিচার ও ন্যায়? কিন্তু আপনি তাহলে দেরী করছেন কেন? আসুন, আপনার যা ইচ্ছা তাই করুন।”

এই বিচারের মল্লযুদ্ধে অগ্রগামী দূতেদের প্রেরণ করা হবে উচ্চৈরবে লোকেদের কাছে ঘোষণা করার জন্য “পলিকার্প নিজেকে খ্রীষ্টিয়ান হওয়ার জন্য ঘোষণা করছেন!” “ওকে জ্বলন্ত পুড়িয়ে মার!” এই ভাবে অবিশ্বাসীর দল তার প্রতি চিৎকার করতে থাকে। তার জন্য আগুনের এক জায়গা প্রস্তুত করা হয়েছিল। বিচারক পলিকার্পের দিকে এগিয়ে গিয়ে তাকে ক্রুশের উপরে আটকে দিতে নির্দেশ করেন। পলিকার্প শান্ত ভাবে বলে ওঠেন, “আমি যেমন আছি আমাকে তেমনি থাকতে দাও। যিনি আমাকে অগ্নিশিখা সহ্য করতে ধৈর্য্য দিয়েছেন তিনিই আমাকে সেই চিতাতে অনড় রাখবেন। বিনা নিরাপত্তাতেই যা তোমরা ক্রুশ থেকে আশা করছো।”

এরপরে পলিকার্প প্রার্থনায় নিজের স্বরকে উচ্চ করলেন, ঈশ্বরের প্রশংসা করতে থাকলেন কেননা, “বিশ্বাস করে মৃত্যুবরণ করার তিনি যোগ্য ব্যাক্তি।” আগুন জ্বালানো হয় এবং আগুনের শিখা তার চারপাশে জ্বল জ্বল করে উঠলো। আগুনের টুকরো তার শিখাকে টুকরো করতে পারলো না, প্রাণদণ্ডকারী এক ছোরার আঘাত তাকে আঘাত করলো। আর এই ভাবেই প্রেরিত যোহানের ছাত্র এবং যিনি ছিলেন স্মৃণার পালক সেই পলিকার্পের জীবনের অবসান ঘটলো (see James C. Hefley, Heroes of the Faith, Moody Press, 1963, pp. 12-14).

আমাদের গৌরবময় ব্যাপটিস্ট মিশনারি “জেন বুশিয়ারের সম্বন্ধে” স্পারজিউন বলেছিলেন,“যখন তাকে ক্রেনমার ও রিডলীর সামনে আনা হয়” ইংল্যান্ড মন্ডলীর দুজন বিশপ যারা এই ব্যাপটিস্টকে দোষারোপিত করে মরণ খুঁটিতে পুড়িয়ে দিতে বলেছিলেন, এই বলে যে পুড়িয়ে মারাটা হল সহজ মৃত্যুদণ্ড। তিনি তাদের বলেছিলেন, “ঠিক তোমাদের সকলের মতোই আমি নিজেও খ্রীষ্টের এক প্রকৃত দাসী, আর তোমরা যদি তোমাদের এই হতভাগী বোনকে মৃত্যুদণ্ড দাও তবে খুব সাবধান ও(সতর্ক হও) পাছে ঈশ্বর রোমের নেকড়ে বাঘদের তোমাদের ওপরে ছেড়ে দেয় আর তোমাদেরও ঈশ্বরের জন্য দুঃখভোগ করতে হবে।” এই কথা বলার দ্বারা তিনি কতোটাই না যথার্থ ছিলেন, কেননা এই উভয় ব্যাক্তিদের বেশ কয়েক দিন পরে শহীদ হতে হয়! (see C. H. Spurgeon, “All-Sufficiency Magnified,” The New Park Street Pulpit, volume VI, pp. 481-482).

পলিকার্প এবং জেন বুশিয়ার বহু শতাব্দী যাবত আলাদা থাকলেও তাদের যখন মরণ খুঁটিতে পুড়িয়ে দেওয়া হয় তখন তারা বিশ্বাসের বিষয়ে ভীষণ এক কথা বলেছিলেন। তথাপি যখন মৃত্যু ও উৎপীড়নের দ্বারা ভয় দেখানো হয় তখন প্রভু যীশুখ্রীষ্ট সেই ভাবে কিছুই করেন নি! হ্যাঁ, তিনি সেই মহাযাজকের প্রতি কথা বলেছিলেন। হ্যাঁ, রোমীয় শাসনকর্তা পন্টিয়াস পীলাটের প্রতিও কথা বলেছিলেন। কিন্তু তার প্রতি যখন চাবুকের মারের ও ক্রুশের উপরে পেরেক দ্বারা মৃত্যুদন্ড দেওয়ার সময় এল সেই সময়ে ঈশা ভাববাদির বর্ণণাতে যে সুন্দর বর্ণণা পাওয়া যায় তা হল সেই সময়ে তিনি ছিলেন নীরব!

“তিনি উপদ্রুত হইলেন, তবু দুঃখভোগ স্বীকার করিলেন, তিনি মুখ খুলিলেন না; মেষশাবক যেমন হত হইবার জন্য নীত হয়, মেষী যেমন লোমচ্ছেদকের সম্মুখে নীরব হয়, সেইরুপ তিনি মুখ খুলিলেন না” (ঈশা ৫৩:৭).

তারা যখন তাঁকে মারতে থাকে তখন তিনি একটা শব্দও উচ্চারণ করেন নি! তারা যখন তাঁকে ক্রুশে পেরেক দ্বারা বিদ্ধ করে তখন তিনি একটি শব্দও উচ্চারণ করেন নি! আসুন আমরা আমাদের পাঠ্যাংশে ফিরে আসি এবং তিনটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার দ্বারাও তার উত্তর দেওয়ার মধ্যে ইহার মধ্য থেকে তৃপ্তি সহকারে পান করি।

১. প্রথম, যাকে যীশু বলা হয় এই ব্যাক্তি কে ?

যার বিষয়ে ভাববাদীরা উক্তি করেন এই ব্যাক্তি তাহলে কে ছিলেন,

“তিনি উপদ্রুত হইলেন, তবু দুঃখভোগ স্বীকার করিলেন, তিনি মুখ খুলিলেন না....?”(ঈশা ৫৩:৭).

বাইবেল আমাদের বলে যে তিনি ছিলেন প্রতাপের প্রভু, ত্রিত্ব ঈশ্বরের দ্বিতীয় সত্ব, যিনি মনুষ্যরুপ নিয়ে পুত্র ঈশ্বর হিসাবে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন! ধর্ম সূত্র যেভাবে বলে, “ঈশ্বর হইতে জাত ঈশ্বর।” আমরা যেন কোন মতেই চিন্তা না করি যে তিনি কেবলমাত্র সাধারণ শিক্ষক বা এক স্বাভাবিক ভাববাদি! এই ভাবে চিন্তা করার জন্য তিনি কোন জায়গাই আমাদের জন্য ছেড়ে যান নি; কেননা তিনি বলেছেন,

“আমি এবং আমার পিতা আমরা এক”(যোহান১০:৩০)।

পুণরায়, তিনি বলেছেন,

“আমিই পুণরুত্থান ও জীবন, যে আমাতে বিশ্বাস করে সে মরিলেও জীবিত হইবে”(যোহান ১১:২৫).

যদি অন্য কোন ব্যাক্তি এই সমস্ত কথাগুলো বলে তবে আমরা তাকে মন্দ আত্মাগ্রস্ত, ভ্রান্তিজনক, বুদ্ধিভ্রষ্ট, উন্মাদ বা বিশৃঙ্খল ব্যাক্তি বলবো! কিন্তু যীশু যখন এই কথা বলেন যে তিনি ও পিতা ঈশ্বর তারা উভয়ে এক, এবং তিনি যখন বলেন, “আমিই পুণরুত্থান ও জীবন”, আর এই প্রকার বিভিন্ন কথাতে আমরা থমকে যাই, এবং এমনকি এই সমস্ত কিছুর থেকে খারাপ যেটা এই সমস্ত কিছুর মধ্যেও আমরা বিস্মিত হয়ে পড়ি এই সমস্ত কিছুর উপরে তিনি যদি যথার্থ না হয়!

যদিও অন্য বিষয়ে আমি সি.এস.লুইসের সঙ্গে সর্বদা একমত না হলেও প্রভু যীশুখ্রীষ্ট চমৎকার এই যে উক্তি করেছেন তার বিষয়ে আমরা কি ভাবে অসম্মতি প্রকাশ করতে পারি? সি.এস.লুইস বলেছেন,

তাঁর বিষয়ে লোকেরা যে সমস্ত বাতুল কথা বলে থাকে সেই প্রকার যা কিছু অন্য কোন ব্যাক্তি বলে থাকে তার বিষয়ে আমি বাধা দিতে চাইঃ “যীশু যে নৈতিকভাবে এক মহান শিক্ষক তা গ্রহণ করতে আমি প্রস্তুত কিন্তু তিনি যে ঈশ্বরত্বের দাবী করেন তাতে আমি সম্মতি প্রকাশ করি না।” একজন ব্যাক্তি যিনি স্বভাবতই মানুষ এবং যীশু যে সমস্ত কথা বলেছেন সেই ভাবে কথা বলেন তিনি কোন ভাবেই এক নৈতিক শিক্ষক হতে পারেন না। হয় তিনি এক উন্নত্ত পাগল সেই দিক দিয়ে যিনি বলেন তিনি এক পোচ করা ডিম—আর তা না হলে তিনি হলেন নরকের দিয়াবল। আপনাকে নিশ্চিত ভাবেই আপনার মনোনয়ন করার প্রয়োজন রয়েছে। এই ব্যাক্তি হয় ঈশ্বরের পুত্র ছিলেন ও আছেনঃ অথবা এক পাগল ব্যাক্তি বা তার থেকেও অধিক কিছু। একজন বেকুব হিসাবে তাঁকে আপনি বন্ধ করে রাখতে পারেন বা এক মন্দ আত্মাগ্রস্ত হিসাবে তাঁকে আপনি থুতু দিতে পারেন, হত্যা করতে পারেন; অথবা আপনি তাঁর চরণে পড়ে তাঁকে প্রভু ও ঈশ্বর হিসাবে সম্মান জানাতে পারেন। কিন্তু আসুন আমরা যেন তাঁর অস্তিত্বের বিষয়ে অর্থহীন এমন কোন পৃষ্ঠপোষণ না কর যে তিনি কেবলমাত্র এক মহান মানবিক শিক্ষক। এই প্রকার কোন বিকল্পই তিনি আমাদের কাছে ছেড়ে যান নই। তিনি এই প্রকার অভিপ্রায় করে রাখেন নি (C. S. Lewis, Ph.D., Mere Christianity, Harper Collins, 2001, p. 52).

“এক মন্দ আত্মাগ্রস্ত হিসাবে তাঁকে আপনি থুতু দিতে পারেন; অথবা তাঁর চরণে পড়ে আপনি তাঁকে ঈশ্বর ও প্রভু বলে ডাকতে পারেন...। আপনার সিদ্ধান্ত আপনাকে অবশ্যই নিতে হবে”, কেননা যীশু বলেছেন,

“আমিই পথ, সত্য ও জীবনঃ আমাছাড়া কোন ব্যাক্তিই পিতার নিকটে আসিতে পারে না”(যোহান ১৪:৬).

ইহা আপনি সেখানেই পাবেন! যীশুখ্রীষ্টকে আপনি বুদ্ধধর্ম বা হিন্দু ধর্ম বা ইসলাম ধর্মের সংগে সমান করতে পারেন না, “কেননা যীশু আমাদের কাছে সেই প্রকার কোন বিকল্প আমাদের কাছে রেখে যান নই। এই প্রকার কোন অভিপ্রায়ও তিনি করে যান নি।” খ্রীষ্ট অন্য কোন বিকল্পই আমাদের কাছে ছেড়ে যান নই। তিনি বলেছেন, “আমাছাড়া কোন মানুষই পিতার কাছে আসতে পারে না।” সে.এস.লুইস যেমন ভাবে বলেছেন, “তাঁকে আপনি থুতু দিতে বা তাঁকে আপনি মৃত্যুদণ্ড দিতে পারেন, অথবা আপনি তাঁর চরণে পড়ে তাঁকে আপনি ঈশ্বর ও প্রভু বলে ডাকতে পারেন.... এর জন্য আপনাকে অতি অবশ্যই একতা সিদ্ধান্ত নিতে হবে।” ইহা কেবলমাত্র এক বা অন্যটি হতে পারে।এই বিষয়ে কোন ব্যক্তিই নিরপেক্ষ নয়! তারা হয়তো তা করার ভান করতে পারে কিন্তু তারা সত্য সত্যই নিরপেক্ষ নয়। এই প্রকার কোন অভিব্যাক্তিই তিনি আমাদের কাছে ছাড়েন নি।”

২. দ্বিতীয়, যাঁরা তাঁর প্রতি অত্যাচার এবং মৃত্যুদণ্ড দেন তাদের কাছে যীশু কেন পরাজিত হলেন?

ইহা কেন এই প্রকার

“তিনি উপদ্রুত হলেন, তবু দুঃখভোগ স্বীকার করিলেন, তিনি মুখ খুলিলেন না” (ঈশা ৫৩:৭).

সবচেয়ে প্রখ্যাত বিজ্ঞানী এলবার্ট আইনষ্টাইন, যদিও খ্রীষ্টিয়ান ছিলেন না, তিনি বলেছেন,

যীশুর বাস্তব উপস্থিতি উপলব্ধি না করে অন্য কোন ব্যক্তিই (চারটি) সুসমাচার অনুভব করতে পারে না। প্রতিটি বাক্যের মধ্যে তাঁর ব্যাক্তিত্ব স্পন্দিত হয়ে ওঠে। তাঁর মতো জীবনে কোন পৌরাণিক কাহিনীই পূর্ণমাত্রা ধারন করতে পারে না। (Albert Einstein, Ph.D., The Saturday Evening Post, October 26, 1929).

তথাপি তিনি যখন প্রচন্ড চাবুক দ্বারা প্রহৃত হয়ে ক্রুশারোপিত হন তখন যীশু কিছুই বলেন নি! যারা তাঁকে মারে ও যারা তাঁকে মৃত্যুদন্ড দেয় তাদের কাছে নিজেকে বাঁচানো থেকে যীশু কেন পরাজিত হলেন? ফ্রেঞ্চ দার্শনিক রাউসিউ, যদিও একজন নাস্তিক, অদ্ভুত ভাবেই সেই উত্তরের কাছাকাছি যান সেই প্রশ্নের প্রতি যেখানে তিনি বলেন,

সক্রেটীয়েরা জীবন যাপন ও মৃত্যু বরণ করেন ঠিক দার্শনিকের
মতো, যীশু জীবন যাপন ও মৃত্যুবরণ করেন ঠিক ঈশ্বরের
মতো (Jean-Jacques Rousseau, French philosopher, 1712-1778).

যীশু নিজেকে বাঁচাবার চেষ্টা করেন নি কেননা এই পৃথিবীতে আগমন করার তাঁর চিরকালীন উদ্দেশ্য হল যেন ক্রুশের উপরে দুঃখভোগ ও মৃত্যু বরণ করেন। ক্রুশে মৃত্যুবরণ করার এক বছর আগে যীশু এই বিষয়টি পরিষ্কার করে দেন।

“সেই সময় অবধি যীশু আপন শিষ্য দিগকে স্পষ্টই বলিতে লাগিলেন যে, তাঁহাকে জেরুজালেমে যাইতে হইবে এবং প্রাচীনবর্গের প্রধান যাজকদের ও অধ্যাপকদের হইতে অনেক দুঃখভোগ করিতে হইবে ও হত হইতে হইবে আর তৃতীয় দিবসে উঠিতে হইবে।” (ম্যাথুজ ১৬:২১).

দি এ্যাপ্লায়েড নিউ টেষ্টামেন্ট কমেন্ট্রি বলে,

এই সবেমাত্র পীটার স্বীকার করেন যে যীশুই হলেন সেই খ্রীষ্ট, মশিহা, জীবন্ত ঈশ্বরের পুত্র (মার্ক ৮:২৯)। কিন্তু তখনও পর্যন্ত পীটার বুঝে উঠতে পারেন নি যে এই পৃথিবীতে কি করার জন্য খ্রীষ্টের আগমন হয়েছে। ঠিক যেভাবে অন্যান্য ইহুদীরা চিন্তা করছিলেন ঠিক সেইভাবে তিনিও তাই মনে করেছিলেন যার সাধারন অর্থ হল খ্রীষ্ট এই পৃথিবীতে এসেছেন এক জাগতিক রাজা হিসাবে। অতএব যীশু যখন তাকে বললেন যে তাঁকে অনেক ভাবে দুঃখভোগ করতে হবে এবং.... মৃত্যুবরণ করতে হবে; তখন পীটার এই বিষয়টাকে গ্রহণ করতে পারেন নই। এই রুপ কথা বলার জন্য তিনি যীশুকে ধমক দিতে থাকেন। যীশুও বলেন যে, তিন দিন পরে তিনি আবার জীবিত হয়ে উঠবেন। তিনি যে মৃত্যুবরণ করবেন যীশু যে এই বিষয় জানতেন তাই নয় কিন্তু মৃত্যুর তিন দিন পরে তিনি আবার জীবিত হয়েও উঠবেন। শিষ্যেরা এই বিষয়টা কোন মতেই বুঝে উঠতে পারে নি।(Thomas Hale, The Applied New Testament Commentary, Kingsway Publications, 1996, pp. 260-261).

কিন্তু আমাদের ইহা বুঝতে হবে, কেননা বাইবেল বলে,

“পাপীদের উদ্ধার করার জন্যই খ্রীষ্ট যীশু এই জগতে আসিয়াছেন”(১-ম টিমোথি ১:১৫)

ক্রুশের উপরে আমাদের পাপের জন্য তাঁর মৃত্যুর দ্বারা এবং তাঁর পুণরুত্থানের দ্বারা আমরা জীবন লাভ করেছি। তিনি যখন বেত্রাঘাতে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে ক্রুশারোপিত হন, তখন যিশু কোন কথা না বলার দ্বারা নিজেকে পরাজিত করেন নি কেননা রোমিয় সম্রাট পীলাটকে তিনি যে ভাবে বলেছেন, “আমি এই জন্যই জন্মগ্রহণ করিয়াছি ও এইজন্য জগতে আসিয়াছি।” (যোহান ১৮:৩৭).

৩. তৃতীয়, যীশুর নীরব দুঃখভোগের বিষয়ে পাঠ্যাংশ আমাদের কি বলে ?

আসুন একসঙ্গে অনুগ্রহ করে উঠে দাঁড়িয়ে উচ্চৈস্বরে ঈশা ৫৩:৭ পদটি আরো একবার পড়ি।

“তিনি উপদ্রুত হইলেন, তবু দুঃখভোগ স্বীকার করিলেন, তিনি মুখ খুলিলেন না; মেষশাবক যেমন হত হইবার জন্য নীত হয়, মেষী যেমন লোমচ্ছেদকের সম্মুখে নীরব হয়, সেইরুপ তিনি মুখ খুলিলেন না” (ঈশা ৫৩:৭).

আপনারা বসুন।

“তিনি উপদ্রুত হলেন ও দুঃখভোগ স্বীকার করলেন,” ডাঃ ইয়াং বলেছেন এতাকে অনুবাদ করা যেতে পারে, “তিনি উপদ্রুত হওয়ার জন্য নিজেকে অনুমোদন জানালেন।” “উপদ্রুত হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি স্বেচ্ছায় দুঃখভোগ বরণ করে নিলেন....। নিজকে বাঁচাবার বা প্রতিবাদ করার জন্য নিজের মুখ থেকে কোন বাক্য ব্যায় করলেন না। এই পূর্ণতার বিষয়টি চিন্তা না করে একজন কোন ভাবেই ভবিষ্য বাণীর কথাকে পড়তে পারেন না, কেননা পীলাটের বিচার সিংহাসনের সম্মুখে এই প্রকৃত দাস একটা শব্দও মুখ থেকে বার করলেন না। ‘তিনি যখন তিরষ্কৃত হন তখন পুণরায় উলটে তিরষ্কার করলেন না’(তিনি যখন দুঃখভোগ করেন তখন তিনি ভয় পেলেন না)।” (Edward J. Young, Ph.D., The Book of Isaiah, Eerdmans, 1972, volume 3, pp. 348-349).

“তখন পীলাট তাহাকে কহিলেন, তুমি কি শুণিতেছ না উহারা তোমার বিপক্ষে কত বিষয়ে সাক্ষ্য দিতেছে? তিনি তাহাকে এক কথারও উত্তর দিলেন না; ইহাতে দেশাধ্যক্ষ অতিশয় আশ্চর্যের জ্ঞান করিলেন” (ম্যাথুজ ২৭:১৩-১৪)।

“পরে প্রধান যাজকেরা তাঁহার উপরে অনেক দোষারোপ করিতে লাগিল। পীলাট তাঁহাকে আবার জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি কি কিছুই উত্তর দিবে না? দেখ ইহারা তোমার উপরে কত দোষারোপ করিতেছে। কিন্তু যীশু আর কিছু উত্তর করিলেন না; তাহাতে পিলাটের আশ্চর্য্য বোধ হইল” (মার্ক ১৫:৩-৫)।

“তিনি উপদ্রুত হইলেন তবু দুঃখভোগ স্বীকার করিলেন, তিনি মুখ খুলিলেন না, মেষশাবক যেমন হত হইবার জন্য নীত হয়, মেষী যেমন লোমচ্ছেদকের সম্মুখে নীরবহয়, সেইরুপ তিনি মুখ খুলিলেন না” (ঈশা ৫৩:৭)।

ঈশা ৫৩:৭ খ্রীষ্টকে এক মেহশের সঙ্গে তুলনা করে। পুরাতন নিয়মে মানুষেরা পশু নিয়ে, ঈশ্বরের কাছে আসত বলিদান দেওয়ার জন্য। বলিদানের জন্য একটি মেষ প্রস্তুত করা হতো বলিদানের জন্য সেখানে তারা পশুর লোমগুলোকে ছেদন বা কাটতো।সেই সময়ে মেষি শান্ত ও নীরব হয়ে দঁড়িয়ে থাকতো। ঠিক যেমন বলিদানের সময় মেষী নীরব থাকে, ঠিক “সেই ভাবেই তিনিও তাঁর মুখকে খুললেন না” (ঈশা ৫৩:৭).

ব্যাপ্টিস্মদাতা যোহানও তাঁকে মেষের সংগে তুলনা করে বলেন,

“ঐ দেখ ঈশ্বরের মেষ শাবক যিনি জগতের পাপ ভার বহন করিয়া লইয়া যান” (যোহান ১:২৯)।

আপনি যখন বিশ্বাস সহকারে যীশুতে নির্ভর করেন তখন ক্রুশের উপরে তাঁর প্রায়শ্চিত্ত আপনার পাপের সমস্ত মূল্যকে মিটিয়ে দেয় আর আপনি তখন ঈশ্বরের সামনে পাপরোহিত, দোষহীন হিসাবে দাঁড়াতে সক্ষম হন। ক্রুশের উপরে আপনার সমস্ত দোষের প্রায়শ্চিত্ত হয়েছে। এবং যে রক্ত তিনি সেখানে দিয়েছেন তার দ্বারা আপনার পাপ পরিষ্কৃত হয়েছে।

ডেভিড ব্রেইনার্ড, যিনি হলেন ভারতীয় আমেরিকানদের বিখ্যাত মিশনারি তিনি এই সত্যতাকে তাঁর পরিচর্যা কাজের সর্বত্রই ঘোষণা করেন। তিনি যখন, ভারতীয় আমেরিকানদের কাছে প্রচার করেন তখন তিনি বলেন, “আমি কোন সময়েই যীশু এবং তাঁর ক্রুশারোপণের কাছ থেকে দূরে চলে যাই নি। আমি দেখতে পেয়েছিলাম যে একবার একবার এই লোকেরা সেই মহানতার দ্বারা আকর্ষিত হলে....আমাদের জন্য খ্রীষ্টের বলিদানের অর্থ উপলব্ধি করতে পারলে তাদের আচরণ পরিবর্তন করার জন্য আমাকে কোন নির্দেশ প্রদান করার প্রয়োজন হবে না” (Paul Lee Tan, Th.D., Encyclopedia of 7,700 Illustrations, Assurance Publishers, 1979, p. 238).
 

আজও সেটা প্রকৃত সত্য সেটা আমি জানি। একবার আপনি যখন সেটা দেখেন,

“শাস্ত্রানুযায়ী খ্রীষ্ট আমাদের পাপের জন্য মৃত্যুবরণ করেন” (১-ম করিনথিয়ানস ১৫:৩),

আর আপনি যখন একবার ক্রুশারোপিত ও জীবিত পরিত্রাতার কাছে সমর্পিত হন তখনই আপনি এক খ্রীষ্টিয়ানে রুপান্তরিত হন। পরবর্ত্তী যে বিষয়টা তা ব্যাখা ও বোঝার জন্য তুলনামূলক ভাবেই সহজ সাধ্য হয়ে ওঠে, বিশ্বাসেই যীশুতে নির্ভর করুন আর তাহলেই আপনি পরিত্রাণ লাভ করবেন!

স্পারজিউন বলেছেন, “তিনি যখন মৃত্যুবরণ করছেন তখন আমার ধর্মতত্ত্বে চারটি ছোট শব্দ আমি পেয়েছি তা হল, ‘যীশু আমার জন্য মরেছেন।’ আমি বলবো না যে আমাকে যদি পুণরায় উঠতে হয় তবে এই বিষয় প্রচার করবো কিন্তু ইহার উপরে ম্রিত্যুবরণ করাটাই হল সবথেকে বড় বিষয়। যীশু আমার জন্য মরেছেন।”(Tan, ibid.) আপনি কি তা বলতে পারবেন? আপনি কি বলতে সক্ষম হবেন যে “যীশু আপনার জন্য মরেছেন?” যদি তা না হয় তবে কি আজকের রাত্রিতে আপনি পুণরত্থিত পরিত্রাতার কাছে নিজেকে সমর্পণ করবেন? আপনি কি বলবেন, যীশু আমার জন্য মৃত্যুবরণ করেছেন আর তাঁর রক্ত ও ধার্মিকতার দ্বারা সম্পূর্ণ পরিত্রাণের জন্য আমি তাঁর কাছে সমর্পিত ও নির্ভর করেছি? এটা করার জন্য ঈশ্বর আপনাকে এক সাবলীল বিশ্বাস প্রদান করুন। আমেন। .

অনুগ্রহ করে উঠে দাঁড়িয়ে গানের পাতাতে ছয় সংখ্যার গানটি গান, “আর ইহা কি হতে পারে?” লেখক চার্লস ওয়েসলি।

আর ইহা কি আমার লাভের বিষয়
যেন পরিত্রাতার রক্তে এক আসক্তি রাখি?
আমার জন্য মরে যিনি ব্যাথা সহিলেন?
আমার জন্য যিনি মৃত্যু অনুসরণ করলেন?
অদ্ভুত এই প্রেম, কি ভাবে সম্ভব!
যেখানে আমার ঈশ্বর, আমার জন্য মরবে?
অদ্ভুত এই প্রেম, কি ভাবে সম্ভব!
যেখানে আমার ঈশ্বর, আমার জন্য মরবে?
   (“And Can It Be?” by Charles Wesley, 1707-1788).

যীশু যে আপনার পাপ ক্ষমা ও আপনার আত্মা উদ্ধার করেছেন এই বিষয়ে আপনি যদি চেতনা পাচ্ছেন তবে আমরা আপনার সংগে কথা বলতে আগ্রহী খ্রীষ্টকে অনুসরণ করার জন্য। তাই অনুগ্রহ করে আপনার চেয়ার ত্যাগ করে পিছনে ঘরটিতে চলে যান। ডাঃ কাগান আপনাকে একটা নীরব জায়গাতে নিয়ে যাবেন যেখানে আমরা কথা বলতে পারি। তাই এই অডিটোরিয়ামের পিছনে এখনই চলে যান। মিঃ লী, অনুগ্রহ করে এখানে এসে যারা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তাদের জন্য প্রার্থনা করবেন। আমেন।

সংবাদের পরিসমাপ্তি
ডাঃ হাইমার্সের সংবাদ আপনি প্রতি সপ্তাহে ইন্টারনেটের মাধ্যমে
www.realconversion.com এই সাইটে পড়তে পারেন। ক্লিক করুন “সংবাদের হস্তলিপি”

অথবা আপনি ডাঃ হাইমার্সকে মেইল পাঠাতে পারেন rlhymersjr@sbcglobal.net
অথবা আপনি তাকে পত্র লিখতে পারেনঃ পোস্ট বক্স ১৫৩০৮, লস এঞ্জেলেস, সিএ ৯০০০১৫,
এই ঠিকানায় অথবা আপনি তাকে টেলিফোন করতে পারেন (৮১৮)৩৫২-০৪৫২

সংবাদের আগে শাস্ত্রের যে অংশ পাঠ করা হয়েছে, তা করেছেন ডাঃ ক্রিঘটন এল. চানঃ ঈশা ৫২:১৩-৫৩:৭
সংবাদের আগে একক সংগীত গেয়েছেন মিঃ বেঞ্জামিন কিন গেইড গ্রীফিথঃ
“A Crown of Thorns” (by Ira F. Stanphill, 1914-1993).


খসড়া চিত্র

মেষের নীরব অবস্থান

ঈশা ৫৩ অধ্যায়ের অষ্টম সংখ্যার সংবাদ
THE SILENCE OF THE LAMB
(SERMON NUMBER 8 ON ISAIAH 53)

লেখকঃ ডাঃ আর.এল.হাইমার্স, জুনি.
by Dr. R. L. Hymers, Jr.

“তিনি উপদ্রুত হইলেন, তবু দুঃখভোগ স্বীকার করিলেন, তিনি মুখ খুলিলেন না; মেষশাবক যেমন হত হইবার জন্য নীত হয়, মেষী যেমন লোমচ্ছেদকের সম্মুখে নীরব হয়, সেইরুপ তিনি মুখ খুলিলেন না” (ঈশা ৫৩:৭).

১. প্রথম,যাকে যীশু বলা হয় এই ব্যাক্তি কে ?
যোহান১০:৩০;১১:২৫;১৪:৬

২. দ্বিতীয়, যাঁরা তাঁর প্রতি অত্যাচার এবং মৃত্যুদণ্ড দেন তাদের কাছে
যীশু কেন পরাজিত হলেন?
ম্যাথুজ ১৬:২১;১-ম টিমোথি ১:১৫;যোহান ১৮:৩৭

৩. তৃতীয়, যীশুর নীরব দুঃখভোগের বিষয়ে পাঠ্যাংশ আমাদের কি বলে ?
ম্যাথুজ ২৭:১৩-১৪; মার্ক ১৫:৩ঃ৩-৫যোহান ১:২৯; ১-ম
করিনথিয়ানস ১৫:৩