Print Sermon

এই সমস্ত প্রচারের পান্ডুলিপি এবং ভিডিওগুলি এখন প্রতি মাসে 215টিরও বেশি দেশের প্রায় 116,000 কম্প্যুটারে www.sermonsfortheworld.com ওয়েবসাইটে পাঠানো হয়| আরও শত শত লোক ইউ টিউবের ভিডিওর মাধ্যমে এগুলি দেখেন, কিন্তু খুব শীঘ্রই তারা ইউটিউব ছেড়ে বেরিয়ে যান, কারণ প্রত্যেকটি ভিডিও প্রচার তাদেরকে আমাদের ওয়েবসাইটের দিকে পরিচালিত করে| ইউটিউব আমাদের ওয়েব সাইটে লোক এনে দেয়| প্রচারের এই পান্ডুলিপিগুলি প্রতি মাসে 34টি ভাষায় প্রচারিত হয় হাজার হাজার লোকের কাছে| প্রচারের এই সব পান্ডুলিপিগুলি গ্রন্থসত্ত্ব দ্বারা সংরক্ষিত নয়, কাজেই প্রচারকগণ আমাদের অনুমতি ছাড়াই এইগুলি ব্যবহার করতে পারেন| মুসলিম এবং হিন্দু রাষ্ট্রসমেত, সমগ্র পৃথিবীতে সুসমাচার ছড়িয়ে দেওয়ার এই মহান কাজে সাহায্য করার জন্য কিভাবে আপনি একটি মাসিক অনুদান প্রদান করতে পারেন তা জানতে অনুগ্রহ করে এখানে ক্লিক করুন|

যখন আপনি ডঃ হেইমার্সকে লিখবেন সর্বদা তাকে জানাবেন যে আপনি কোন দেশে বাস করেন, অথবা তিনি আপনাকে উত্তর দিতে পারবেন না| ডঃ হেইমার্সের ই-মেল ঠিকানা হল rlhymersjr@sbcglobal.net |




ওবামার সময়ে প্রার্থনা এবং উপবাস

PRAYER AND FASTING IN THE AGE OF OBAMA
(Bengali)

লেখক : ডঃ আর. এল. হাইমার্স, জুনিয়র।
by Dr. R. L. Hymers, Jr.

২০১৫ সালের, ১২ই জুলাই, প্রভুর দিনের সন্ধ্যাবেলায় লস্ এঞ্জেল্সের
ব্যাপটিষ্ট ট্যাবারন্যাকল মন্ডলীতে এই ধর্ম্মোপদেশটি প্রচারিত হয়েছিল
A sermon preached at the Baptist Tabernacle of Los Angeles
Lord’s Day Evening, July 12, 2015

“পরে তিনি গৃহে আসিলে, তাঁহার শিষ্যেরা বিজনে তাঁহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, আমরা কেন সেটা ছাড়াইতে পারিলাম না? তিনি কহিলেন, প্রার্থনা ভিন্ন, আর কিছুতেই এই জাতি বাহির হয় না” (মার্ক ৯:২৮-২৯)|


গল্পটি খুব সহজ| যীশু একটি পর্বতের উপরে ছিলেন| যখন তিনি নেমে এলেন এবং দেখলেন বৃহৎ জনতা শিষ্যদের চারিদিকে জড় হয়ে আছে| যীশু তাদের জিজ্ঞাসা করলেন কি ঘটেছিল| এক ব্যক্তি ভিড়ের মধ্যে থেকে বের হয়ে আসলেন এবং যীশুকে বললেন তার ছেলে অশুচি আত্মাবিষ্ট হয়েছে| তিনি আরও বললেন যে দিয়াবল তার ছেলের মৃগীরোগ ধরিয়ে দিয়েছে| সেই লোকটি বললেন যে তিনি শিষ্যদের দিয়াবলকে বের করতে বলেছিলেন, কিন্তু শিষ্যরা সেটা করতে পারেনি| যীশু লোকটিকে বললেন তার ছেলেকে নিয়ে আসতে| যীশু দিয়াবলকে ধমক দিলেন এবং বললেন, “ইহা হইতে বাহির হও, আর কখনও ইহার মধ্যে প্রবেশ করিও না|” দিয়াবল চেঁচিয়ে উঠল এবং বালকটির দেহ ছেড়ে বেরিয়ে গেল| যীশু ছেলেটির হাত ধরলেন, তাকে টেনে তুললেন এবং সে সুস্থ হয়ে উঠল| এর কয়েক মিনিট পরে যীশু একটি বাড়িতে গেলেন| শিষ্যেরা তাঁর কাছে আসলেন এবং বললেন, “কেন আমরা সেটা ছাড়াইতে পারিলাম না?” (মার্ক ৯:২৮)|

ডঃ মার্টিন লয়েড-জোন্স বলেছেন, “তাহারা তাহাদের সর্ব্বশক্তি দিয়া চেষ্টা করিয়াছিলেন, কিন্তু তাহারা অকৃতকার্য্য হইয়াছিল| তাহারা অন্য অনেক ক্ষেত্রে কৃতকার্য্য হইয়াছিল| এক্ষনে তাহারা সকলে মিলিয়া অকৃতকার্য্য হইয়াছিল| এবং তা সত্বেও এক মুহূর্তে এবং পরম স্বাচ্ছন্দে আমাদের প্রভু [যীশু খ্রীষ্ট] শুধুমাত্র একটি বাক্য বলিয়াছিলেন এবং বালকটি সুস্থ হইয়াছিল| ‘আমরা কেন সেটা ছাড়াইতে পারিলাম না?’ তাহারা বলিয়াছিল, এবং তিনি [খ্রীষ্ট] উত্তর দিয়াছিলেন এবং বলিয়াছিলেন, ‘প্রার্থনা এবং উপবাস ভিন্ন আর কিছুতেই এই জাতি বাহির হয় না’” (Martyn Lloyd-Jones, M.D., Revival, Crossway Books, 1994 edition, p. 9; comment on Mark 9:28, 29)|

দিয়াবলের এই ঘটনা যে শিষ্যের দ্বারা দিয়াবলকে বের করা যায়নি খুব গুরুত্বপূর্ণ| এটা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে পবিত্র আত্মা নতুন নিয়মে এই ঘটনাকে তিনবার লিপিবদ্ধ করেছেন – মথি, মার্ক, এবং পুনরায় লূকের মধ্যে| ডঃ লয়েড-জোন্স বলেছেন যে বর্তমানে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্যে| আমি তার সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে একমত| কিন্তু আমাদের মন্ডলীতে এই গল্পের অর্থ প্রয়োগ করার আগে, আমাকে অবশ্যই বাইবেল সমালোচকদের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে যারা “এবং উপবাস” শব্দটিকে সমস্ত আধুনিক অনুবাদ থেকে বাদ দিয়েছিলেন|

সেইজন্যে, প্রচারে যাওয়ার আগে, আমি আপনাদের সঙ্গে ২৯ নং পদের সেই শেষ দুটি শব্দ – “এবং উপবাস” বিষয়ে কথা বলতে চাই| স্কোফিল্ড কেন্দ্রীয় মন্তব্য “u” বলছে, “দুইটি সর্বশ্রেষ্ঠ MSS [পান্ডুলিপি] বাদ দিয়েছে সেই বাক্যটি ‘এবং উপবাস|’” এর মানে হল যে এমনকী সেই অতি রক্ষনশীল স্কোফিল্ড স্টাডি বাইবেলও উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগের সেই ধ্বংসাত্মক বাইবেল সমালোচনার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল| উপবাস শব্দ বাদ দেওয়া সেই দুটো পান্ডুলিপিকে কেন বলা হত “সর্ব্বশ্রেষ্ঠ পান্ডুলিপি”? সমালোচকেরা ব্যবহৃত মূল পান্ডুলিপিটি ছিল সিনাইটিকাস পান্ডুলিপি| সমালোচকদের তত্ব ছিল এটাই যে প্র্রাচীনতম হল সর্বদা উৎকৃষ্টতম| কিন্তু কিভাবে আমরা সেই তত্ব সম্বন্ধে নিশ্চিত হতে পারি?

বেশ কয়েক বছর আগে, আমার স্ত্রী এবং আমি সিনাই পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত সাধু ক্যাথরিনা মঠে গিয়েছিলাম| যেখানে সেই পান্ডুলিপিটি পাওয়া গিয়েছিল সেই জায়গাটি আমরা দেখেছিলাম – এই প্রাচীন মঠে স্তূপাকৃতি পাথরকুচির মধ্যে ছিল সেই জায়গা| মঠের দরজার কাছে মানুষের মাথার খুলি স্তূপীকৃত করে রাখা ছিল| এইগুলি ছিল সেইসব সন্ন্যাসীদের মাথার খুলি যারা শতাব্দীকাল ধরে সেখানে বসবাস করতেন| ভিতরে ছিল মন্ডলীর পবিত্র জায়গা যা সবথেকে অন্ধকার এবং শয়্তানিয় অনুভূতি বিশিষ্ট যেরকম আমি আর কখনো দেখিনি| ঘরের ছাদ থেকে ডজন খানেক উটপাখির ডিম ঝুলছে| স্থানটি আলোকিত ছিল ছাঁচে তৈরী মোমবাতির আলোর দ্বারা| এটা এমন একটা জায়্গার মতন দেখচ্ছিল যা আপনি দেখেন “Raiders of the Lost Ark” এর মধ্যে! আমি সেই ভয়ঙ্কর স্থানে সেই রাত কাটাতে রাজী ছিলাম না! এই অন্ধকারময় এবং অনুজ্জ্বল স্থান থেকে Tischendorf সুসমাচার বিষয়ক সেই পুরানো পান্ডুলিপিটি খুঁজে পেয়েছিলেন| পরবর্তীতে লন্ডন মিউজিয়ামে আমার স্ত্রী এবং আমি সেই প্রকৃত পান্ডুলিপিটি দেখেছিলাম|

আমি দৃঢ়প্রত্যয়ী যে প্রাচীন সন্ন্যাসীরা সেই মঠে জ্ঞানবাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন| নিঃসন্দেহে জ্ঞানবাদ উপবাসের উপর জোর দিতে চায়নি| সেটাই ছিল কারণ যে যখন সেই সব জ্ঞানবাদ-প্রভাবিত সন্ন্যাসীরা মার্কের সুসমাচার হাতে লিখে অনুলিপিত করেছিলেন তখন “উপবাস” শব্দটি বাদ দিয়েছিলেন|

এরপরে আমি মনে করি সেখানে আরও একটা কারণ ছিল যে “উপবাস” শব্দটি স্বয়ং মার্ক দ্বারা লিখিত হয়েছিল| আপনি দেখুন যে, যদি “উপবাস” শব্দটি বাদ দেওয়া হয় তবে বাক্যটির অর্থ উপলব্ধি করা যায় না| NIV এর মধ্যেও, সমস্ত আধুনিক অনুবাদের মতন, এরকম আছে, “প্রার্থনা ভিন্ন আর কিছুতেই এই জাতি বাহির হয় না|” শুধু আপনার বুদ্ধি প্রয়োগ করুন| আপনি কী জানেন না যে শিষ্যেরা প্রার্থনা করেছিল? অবশ্যই তারা প্রার্থনা করেছিল! কিন্তু “এই জাতি”র প্রার্থনা ছাড়াও অধিক কিছুর প্রয়োজন ছিল| সেটা কী আবশ্যক ছিল না? যেমন সি. এস. লিউস তার একটি রচনায় নির্দেশ করেছেন যে, এই বাইবেল সমালোচকদের অবশ্যই ইংরাজি সাহিত্য পড়া উচিৎ ছিল| তারা যদি কম্পোজিশন পড়তো তবে অনুভব করতে পারত যে কিছু একটা হারিয়ে যাচ্ছে| “প্রার্থনা ভিন্ন আর কিছুতেই এই জাতি বাহির হয় না”? অসম্ভব! নিঃসন্দেহে তারা প্রার্থনা করেছিলেন| সেই বাক্যটির কোন অর্থ উপলব্ধি করা যায় না যদি না বলা হয়, “প্রার্থনা এবং উপবাস ভিন্ন আর কিছুতেই এই জাতি বাহির হয় না|”

এরপরে সেখানে তৃতীয় একটা কারণ আছে| খ্রীষ্টীয় ধর্মের সুদীর্ঘ ইতিহাসে খ্রীষ্ট বিশ্বাসীরা বিশ্বাস করেছে যে প্রার্থনার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উপবাস করারও প্রয়োজন আছে, যেখানে কোন কোন শয়্তানিক শক্তি ঈশ্বরের কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল| অতীতকালের উদ্দীপনার সমস্ত মহান প্রচারকরা জানতেন যে এরকম একটা সময় ছিল যখন তাদের উপবাস করতে হত| কিন্তু বর্তমানে তারা উপবাস থেকে বহুদূরে পরিচালিত হয়েছেন, সেই “প্রার্থনা এবং উপবাস” শব্দগুচ্ছ অপসারনের ফলে| আপনি কী জানতেন যে প্রথন মহা জাগরণের সময়ে জন ওয়েস্লী সপ্তাহে দুই বা তার বেশি দিন উপবাস করতেন? আপনি কী জানতেন যে “ক্রোধান্বিত ঈশ্বরের হস্তে পাপীরা” এই বিষয়ে প্রচারের আগে জোনাথান এডওয়ার্ড তিনদিন উপবাস করেছিলেন? এই প্রচার লক্ষ্যণীয়ভাবে তার মন্ডলীতে উদ্দীপনা পরিচালনা করেছিল, যা পরে সমগ্র নতুন ইংল্যান্ডে বিস্তার লাভ করেছিল – এবং পরবর্তীতে ইংল্যান্ডে| যদি এডওয়ার্ড উপবাস ছাড়া প্রার্থনা করতেন তবে সেই উদ্দীপনা কী আসত? এইটুকু নিশ্চিত যে – ঈশ্বর উদ্দীপনা পাঠিয়েছিলেন যখন তিনি উপবাস এবং সেইসঙ্গে প্রার্থনা করেছিলেন! বর্তমানে আমাদের মন্ডলীতে উপবাসের অভাবই কী সেখানে উদ্দীপনা না হওয়ার অনেক কারণের মধ্যে একটি? এইটুকু নিশ্চিত যে – বর্তমানে যদি কোন উদ্দীপনা হয়েছে তবে তা খুবই সামান্যই হয়েছে, একই সময়ে যদি কোন উপবাস থেকে থাকে তবে সেটাও খুব কম! এটা নিঃসন্দেহ!

এরপরে সেখানে “এবং উপবাস” বাক্যটি রাখার চতুর্থ একটা কারণ আছে| লুথার শাস্ত্রের “অনুরূপতার” বিষয়ে বলেছিলেন| তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে যখন আমরা একটা অধ্যায়ের ব্যাখ্যা দিই, তখন অনুরূপ অন্যান্য শাস্ত্রের প্রতি আমাদের দৃষ্টিপাত করা উচিৎ সেগুলি কি বলছে সেটা জানার জন্যে| বাইবেলের মধ্যে উপবাসের বিষয়ে সবচেয়ে সুপরিচিত অধ্যায় কোনটি? নিশ্চিতভাবে একজন বাইবেল শিক্ষার্থীর জানা উচিৎ যে সেটা যিশাইয় ৫৮:৬ পদের মধ্যে নিহিত আছে|

“আমার মনোনীত উপবাস কি এই নয়? দুষ্টতার গাঁটসকল [শৃঙ্খল] খুলে দেওয়া, যোঁয়ালির খিল মুক্ত করা, এবং দলিত লোকদিগকে স্বাধীন করিয়া ছাড়িয়া দেওয়া, ও…প্রত্যেক যোঁয়ালী ভগ্ন করা কি নয়?” (যিশাইয় ৫৮:৬)|

যীশু খুব ভাল করে জানতেন যিশাইয়কে| তিনি যিশাইয় ৬১:১,২ পদ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছিলেন যখন তিনি নাজারথের সমাজগৃহে প্রচার করেছিলেন| নিশ্চিতভাবে যীশু খুবই নূন্যতম পরিমানে যিশাইয় ৫৮:৬ পদের প্রতি ইঙ্গিত করেছিলেন যখন তিনি বলেন যে, “প্রার্থনা এবং উপবাস ভিন্ন, আর কিছুতেই এই জাতি বাহির হয় না” (মার্ক ৯:২৯)|

“আমার মনোনীত উপবাস কি এই নয়? দুষ্টতার গাঁটসকল [শৃঙ্খল] খুলে দেওয়া, যোঁয়ালির খিল মুক্ত করা, এবং দলিত লোকদিগকে স্বাধীন করিয়া ছাড়িয়া দেওয়া, ও…প্রত্যেক যোঁয়ালী ভগ্ন করা কি নয়?” (যিশাইয় ৫৮:৬)|

যিশাইয়ের সঙ্গে, যীশু সেই শিষ্যদের বলছিলেন যে প্রার্থনা এবং উপবাস “দলিত লোকদিগকে স্বাধীন করিয়া ছাড়িয়া দিতে পারে” – এবং ভগ্ন করতে পারে শয়তানের যোঁয়ালিকে! সেটাই হচ্ছে শাস্ত্রের “অনুরূপতা”! সেটাই বাইবেলকে আমাদের পাঠ্যাংশের সর্বশ্রেষ্ঠ বর্ণনা করে তুলেছে| আমি নিশ্চিতভাবে অনুভব করি যে লুথার আমার সঙ্গে এই বিষয়ে একমত হতেন|

“এবং উপবাস” মেনে নেওয়ার পক্ষে পঞ্চম কারণ সেই সত্য ঘটনা থেকে আসে যে যারা দিয়াবলকে বের করে দিয়েছিলেন তারা সর্বদা এই শিক্ষা দিয়েছিলেন যে উপবাস কোন বিশেষ ক্ষেত্রে সাহায্যকারী হয়| শ্রদ্ধেয় জন ওয়েস্লী, মথি ১৭:২১ পদের মধ্যে কোন সমান্তরাল অধ্যায়ের বিষয়ে বলতে গিয়ে, বলেছেন, “এই জাতীয় দিয়াবল প্রার্থনা ও উপবাস ছাড়া বাহির হয় না – উপবাসের কার্য্যক্ষমতার কি এক অপূর্ব সাক্ষ্য, যখন আকুল প্রার্থনার সঙ্গে সেটিকে যুক্ত করা হয়েছে| ইতিপূর্বে উপবাস ব্যতীত কয়েক ধরনের দিয়াবলকে প্রেরিতরা বাহির করিয়াছিলেন” কিন্তু এই জাতীয় দিয়াবলেরা প্রার্থনা এবং উপবাস ছাড়া বের হয় না (John Wesley, M.A., Wesley’s Notes on the New Testament, Baker Book House, 1983, volume I; note on Matthew 17:21)|

জন্ ওয়েস্লী (১৭০৩-১৭৯১) ওয়েস্লীয়ান মেথডিষ্ট তত্ত্বের প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে তার দীর্ঘ দিনের সেবাকাজে তিনি জানতেন দিয়াবল থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্যে কিরকম আচরণ করতে হয়|

ডঃ থমাস হেলী থাইল্যান্ডে চিকিৎসা সংক্রান্ত মিশনারী ছিলেন| মিশন সংক্রান্ত কাজের সময় বহুবার দিয়াবলের শক্তির মুখোমুখি হয়ে, ডঃ হেলী, তার বর্ণনার মধ্যে, উপবাসের পক্ষে ওকালতি করেছিলেন| মার্ক ৯:২৯ পদের উপরে মন্তব্য করতে গিয়ে, ডঃ হেলী বলেছেন, “কোন কোন অবস্থায় আমাদের অনুরোধ ঈশ্বর থেকে গ্রহণ করার জন্যে উপবাসের প্রয়োজন হয়…যখন, উপবাসের দ্বারা, আমরা ঈশ্বরকে দেখাই যে আমরা আন্তরিক…তিনি আমাদের অধিক পরিমানে ক্ষমতা এবং প্রজ্ঞা এবং আত্মিক আশীর্বাদ দেওয়ার দ্বারা আমাদের প্রার্থনার উত্তর দিবেন|” মিশনের কাজের সময়ে দিয়াবলের মুখোমুখি হওয়ার পরে, ডঃ হেলী বলেছিলেন “এবং উপবাস” শব্দটি আমাদের পাঠ্যাংশে রাখা উচিৎ| (Thomas Hale, M.D., The Applied New Testament Commentary, Kingsway Publications, 1997, p. 265; note on Mark 9:29)|

এখন আমি আপনাদের “এবং উপবাস” শব্দটি রাখার পক্ষে ষষ্ঠ এবং সর্বশেষ কারণটি দেখাব| মাত্র দুটি পান্ডুলিপি রয়েছে যেখানে এটা বাদ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সেখানে আক্ষরিকভাবে শতাধিক পান্ডুলিপি আছে, খুব প্রাচীন পান্ডুলিপি, যেখানে এটা আছে| সমালোচকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে সেই দুটি পান্ডুলিপির পক্ষেই তারা যবেন যেখানে এটা বাদ দেওয়াছিল এবং বাকি শতাধিক প্রাচীন পান্ডুলিপির কথা তারা ভুলে যাবেন যাদের মধ্যে এই শব্দটা ছিল| ঈশ্বর আমাদের সাহায্য করুন! আমি মনে করি না যে আমরা আর কখনও উদ্দীপনা পাব যদি না আমরা প্রার্থনার সঙ্গে উপবাসের দিকে ফিরে যাই!

এখানে, এই পদের আধুনিক অনুবাদ বর্জন করার জন্যে আমি আপনাকে ছয়টি কারণ দেখিয়েছি! আমি কখনও সেগুলি থেকে প্রচার করি না| আমি তাদের বিশ্বাস করি না| সেটাই হল কারণ যে আমি সর্বদা কিং জেমস বাইবেল থেকে প্রচার করি| সেটাই হল কারণ যে আমি আপনাদের বলি কিং জেমস্ বাইবেলের পদগুলিকে আপনার স্মৃতিবদ্ধ করতে, এবং সর্বদা আপনাদের রোজকারের বাইবেল শুধু কিং জেমস্ বাইবেল থেকে পাঠ করুন| এটা আপনাকে আশীর্বাদ করবে এবং আপনি একে বিশ্বাস করতে পারেন!

“প্রার্থনা এবং উপবাস ভিন্ন, আর কিছুতেই এই জাতি বাহির হয় না|” (মার্ক ৯:২৯)|

এখন, এই প্রচারের বাকি অংশে আমি দুটি প্রশ্নের উত্তর দিতে চলেছি:

(১) “এই জাতি” কী?
(২) কিভাবে আমরা “এই জাতি”র উপর বিজয় লাভ করব?

দিয়াবল এবং শয়তান যে আছে আপনার কাছে সেটা প্রমান করতে গিয়ে আমি সময় নষ্ট করতে চাইছি না| আপনি যদি আত্মা-জয়কারী হয়ে থাকেন তহলে আপনি ইতিমধ্যেই জেনেছেন, অভিজ্ঞতার মাধ্যমে, দিয়াবলের বাস্তবতা সম্পর্কে| সুতরাং আমি তাদের অস্তিত্বের বিষয়ে আপনাকে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা ছাড়াই দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি|

“এই জাতি” দিয়াবলের সঙ্গে সম্পর্কিত যা আমাদের এমনভাবে থামিয়ে দেয়, যে আমাদের মনে হয় যে স্বাভাবিক পদ্ধতির সাহায্যে আমরা সেটা অতিক্রম করতে সক্ষম হব না| বাইবেল শিক্ষা দেয় যে দিয়াবলেরা “অবিশ্বাসীদের মন অন্ধ করিয়াছে” (২য় করিন্থীয় ৪:৪)| এবং এই জগতে মন পরিবর্তনের পূর্বে প্রত্যেকটি মানুষের ক্ষেত্রে খুব সত্যি| আমরা দীর্ঘ সময় ধরে “ঐ” জাতির সঙ্গে মোকাবিলা করে আসছি| এবং আমাদের প্রার্থনার উত্তরের মধ্যে আমরা প্রায়ই দেখি যে খ্রীষ্ট “ঐ” জাতির উপর বিজয় লাভ করেছেন|

আমরা এটাও জানি “ঐ” জাতি অবিশ্বাসীদের অন্তর থেকে সেই শব্দটি হরণ করেছিল – “পরে দিয়াবল আসিয়া, তাহাদের হৃদয় হইতে সেই বাক্য হরণ করিয়া লয়” (লূক ৮:১২)| এবং আমাদের প্রার্থনার উত্তরের মধ্যে আমরা প্রায়ই দেখি যে খ্রীষ্ট “ঐ” জাতির উপর বিজয় লাভ করেছেন|

সময়ের শুরু থেকেই দিয়াবল শয়তানকে সেই দুটো কাজ করা জন্যে পাঠিয়েছিল| এদোনের উদ্যানে সে আদম ও হবার মনকে অন্ধ করে দিয়েছিল| সেই অত দিন আগে সে তাদের অন্তর থেকে সেই বাক্য হরণ করেছিল|

আমরা কম বেশি করে বলতে পারি যে আধুনিক সময় পর্যন্ত্য সেগুলি ছিল দিয়াবলের আমেরিকা ও পাশ্চাত্যের লোকেদের ক্রীতদাস করে ফেলার দুটি প্রধান পদ্ধতি| আধুনিক কাল না আসা অবধি মানুষের সাধারনভাবে ঈশ্বরে বিশ্বাস করতেন| লোকেরা সাধারনভাবে বিশ্বাস করত যে বাইবেল ছিল ঈশ্বরের বাক্য| তাদের মন অন্ধ ছিল| সেই বাক্য তাদের অন্তর থেকে হরণ করা হয়েছিল| কিন্তু তবুও তারা, সাধারনভাবে, ঈশ্বর এবং বাইবেলে বিশ্বাস রেখেছিল| আমরা তাদের সম্বন্ধে বলতে পারি যে তারা “প্রাক্-আধুনিক” পুরুষ এবং মহিলা ছিলেন| প্রাক্-আধুনিক হিসাবে তারা কোন সঙ্কটপূর্ণ মন নিয়ে খ্রীষ্টধর্মে বিশ্বাসী হতে আসেননি| তারা হয়ত খ্রীষ্টে বিশ্বাস করতেন না – কিন্তু তারা এইরকম বলে সমালোচনা করেননি যে “ঈশ্বর বলে কিছু নেই,” অথবা “ঈশ্বর মৃত” – এইরকম কিছু ঘোষণা করে| সুতরাং সেই প্রাক্-আধুনিক লোকদের জন্যে আপনার যা করতে হত তা হলো তাদের জন্যে সুসমাচার প্রচার ও প্রার্থনা| সেটা ছিল অপেক্ষাকৃত সহজ কাজ|

কিন্তু এরপরে আমরা “আধুনিক” যুগে প্রবেশ করলাম| এই যুগকে পরিভাষাগতভাবে চিহ্নিত করা যায় তথাকথিত আলোকপ্রাপ্ত যুগ হিসাবে, যা শুরু হয়েছিল সপ্তদশ শতাব্দীর শেষভাগে এবং চলেছিল ভলটেইয়ারের (১৬৯৪-১৭৭৮) সময় অবধি| সেই যুগ থেকে লোকেরা জড়বাদী হতে শুরু করেছিল এবং ঈশ্বর ও বাইবেল সম্পর্কে সমালোচনামূলক হয়ে পড়ছিলো| কিন্তু উনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত্য সেই সমালোচনামূলক মনোভাব চুঁইয়ে নেমে আসতে পারেনি সাধারন লোকেদের কাছ অবধি| সেই “আধুনিক মানসিকতা” চাইত যে সব কিছুই “প্রমানিত” হোক তথাকথিত “বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি” দ্বারা| আধ্যাত্মিক সব কিছুর বিষয়ে তারা সমালোচনামূলক ছিল| যোহন ৩:১৬ পদের উপরে প্রচার করতে গিয়ে বিখ্যাত সুসমাচার প্রচারক বিলি গ্রাহাম বলেছিলেন, “আপনি ঈশ্বরকে একটি পরীক্ষা নলের মধ্যে রাখতে পারেন না|” তিনি “আধুনিক” মানুষদের কাছে প্রচার করছিলেন| কিন্তু এটা সাধারনভাবে মেনে নেওয়া হয় যে “আধুনিক” যুগ হিপ্পি প্রজন্মের সাথে লুপ্ত হয়ে গেছে|

বর্তমানে আমরা বাস করছি যাকে দার্শনিকেরা বলে থাকেন “আধুনিক-উত্তর” যুগ – আধুনিকতার পরবর্তী যুগ| বর্তমানে আধুনিক-উত্তর যুবকদের মানসিকতা নীতিহীন| সেখানে কোন নীতি নেই| এদের কয়েকটি “রাজনৈতিকভাবে সঠিক” ধারণা আছে, কিন্তু প্রকৃত নৈতিক ভিত্তি নেই| “সেটা আপনার জন্যে ঠিক, কিন্তু আমার জন্যে নয়|” সেখানে ঠিক ও বেঠিক বিচারের কোন নৈতিক মাপকাঠি নেই| “যদি মনে হয় এটা ঠিক তবে সেটা ঠিক” এটাই হচ্ছে আধুনিক-উত্তর নীতিবাক্য| আধুনিক লোকেরা যেমন বলতেন “সেখানে কোন ঈশ্বর নাই” সেরকম বলার পরিবর্তে – তারা বলেন “যদি আপনার কাছে ঈশ্বর বাস্তব হন, খুব ভাল – কিন্তু আমাকে আমার নিজের ঈশ্বর পেতে দিন|” অন্য কথায় বলা যায়, সেখানে বিচারের কোন মাপকাঠি নেই| আপনার যা কিছু কাজ ভাল হয় – তা আপনার জন্যে|

সেটাই হচ্ছে “এই জাতি” – সেটাই আজকের দিনে যুবকেরা ভাবে – সেই সমস্ত অস্বচ্ছ, পরিবর্তনশীল, অনিশ্চিত, “আপনার জন্যে যা ঠিক” ভাবনার মধ্যে থেকে| সেটাই হচ্ছে “এই জাতি|” এই হলো সেই শয়তান যার বিরুদ্ধে আমরা এখন লড়াই করছি! আমি শুনি যে বৃদ্ধ লোকেরা বলেন, এবং ঠিক তাই যে, যেখানে ওবামা সেখানে অন্ধকার| সব কিছু অন্যরকম অনুভূত হয়| কোন কিছুই নিশ্চিত বা স্থায়ী নয়| হ্যা, আপনি একে বলতে পারেন “ওবামা” আত্মা, সেই আধুনিক-উত্তর শয়তান যা পুরানো সব কিছুকে আবর্জনা বলে ফেলে দিচ্ছে – এবং প্রতিস্থাপন করার জন্যে কিছুই দিচ্ছে না| এটা কী আমাদের মন্ডলীগুলিকে প্রভাবিত করছে? ওহ, হ্যাঁ! গত বছরে সাউদার্ণ ব্যাপটিষ্ট ২,০০০ মন্ডলী হারিয়েছে! নিশ্চয়ই শোনেননি? এরকম আর কখনও হয়নি! ডঃ লয়েড-জোন্স বলেছেন, “আমাদের অবশ্যই বুঝতে হবে যে আমরা আমাদের জীবনের জন্যে ভয়ঙ্কর এক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করছি| আমরা এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপরীতে আছি” (Studies in the Sermon on the Mount, part 2, p. 148)|

“এই জাতি” আমাদের পক্ষে খুবই শক্তিশালী| কেবলমাত্র প্রার্থনা দ্বারা এর উপরে বিজয় লাভ করা যাবে না| না – আমাদের অবশ্যই থাকতে “প্রার্থনা এবং উপবাস” নয়ত আমাদের সমস্ত রকমের সুসমাচারমূলক প্রয়াস অকৃতকার্য হবে| সেইজন্যে আমি আপনাদের পরের শনিবারে উপবাস এবং প্রার্থনা করতে বলছি| যদি আপনার কোনরকম শারীরিক সমস্যা থেকে থাকে তবে উপবাস করবেন না| শারীরিক বিষয়ে আপনার যদি কোন সন্দেহ থাকে তবে ডাক্তারের কাছে পরীক্ষা করে নিন| আপনি যদি আমাদের সঙ্গে উপবাস করেন, প্রচুর পরিমানে জল খাওয়া বিষয়ে নিশ্চিত হবেন, প্রত্যেক ঘন্টায় প্রায় এক গ্লাস করে বা সেরকম কিছু পরিমানে| এবং আমরা উপবাস ভঙ্গ করবো শনিবারে বিকাল সাড়ে পাঁচটায় এখানে মন্ডলীতে খাবার খেয়ে| “প্রার্থনা এবং উপবাস ভিন্ন, এই জাতি আর কিছুতেই বাহির হয় না|” নিশ্চিত হোন যে শনিবার আপনি অনেকবার প্রার্থনা করেছেন যাতে ঈশ্বর হারানো লোকেদের ফিরিয়ে আনেন ও তাদের এখানে রাখেন, এবং তাদের খ্রীষ্টের প্রতি আকর্ষণ করেন তাঁর রক্ত ও ধার্মিকতার মাধ্যমে পরিত্রাণ লাভ করার জন্যে| ঐশ্বরিক পিতা, সেই রকমই হোক| যীশুর নামে, আমেন|

যদি এই প্রচার আপনাকে আশীর্বাদ দান করেছে তবে অনুগ্রহ করে ডঃ হাইমার্সকে
একট ই-মেল পাঠান এবং তাকে বলুন| অনুগ্রহ করে তাকে এটাও বলুন যে কোন
দেশ থেকে আপনি তাকে লিখছেন| ডঃ হাইমার্সের ই-মেল ঠিকানা হল
rlhymersjr@sbcglobal.net (এখানে ক্লিক করুন)| আপনি যে কোন ভাষায় ডঃ
হাইমার্সকে চিঠি লিখতে পারেন, কিন্তু যদি পারেন তো ইংরাজিতেই লিখুন|

(সংবাদের পরিসমাপ্তি)
ডাঃ হাইমার্সের সংবাদ আপনি প্রতি সপ্তাহে ইন্টারনেটের মাধ্যমে
www.realconversion.com এই সাইটে পড়তে পারেন। ক্লিক করুন “সংবাদের হস্তলিপি”

আপনি ডাঃ হাইমার্সকে মেইল পাঠাতে পারেন rlhymersjr@sbcglobal.net - আপনি
তাকে পত্র লিখতে পারেন P.O. Box 15308, Los Angeles, C A 90015.এই ঠিকানায়
। আপনি তাকে টেলিফোন করতে পারেন (818) 352-0452.

এই সুসমাচারের ম্যানুস্ক্রিপ্ট এর ওপর ডাঃ হাইমসের কোন কপিরাইট নেই। আপনারা
ইহা ব্যাবহার করতে পারেন ডাঃ হাইমসের অনুমতি ছাড়াই। অবশ্য, ভিডিও মেসেজ
সবই কপিরাইটের সহিত আছে এবং কেবলমাত্র তার অনুমতি নিয়েই ব্যাবহার করা যাবে।

সংবাদের আগে শাস্ত্রাংশ পাঠ করেছেন মিঃ আবেল প্রধুম্মে: মার্ক ৯:১৪-২৯ |
সংবাদের আগে একক সংগীত পরিবেশন করেছেন মিঃ বেঞ্জামিন কিনকেড গ্রিফিত:

       “O For a Thousand Tongues to Sing” (by Charles Wesley, 1707-1788;
       to the tune of “O Set Ye Open Unto Me).