Print Sermon

এই সমস্ত প্রচারের পান্ডুলিপি এবং ভিডিওগুলি এখন প্রতি মাসে 215টিরও বেশি দেশের প্রায় 116,000 কম্প্যুটারে www.sermonsfortheworld.com ওয়েবসাইটে পাঠানো হয়| আরও শত শত লোক ইউ টিউবের ভিডিওর মাধ্যমে এগুলি দেখেন, কিন্তু খুব শীঘ্রই তারা ইউটিউব ছেড়ে বেরিয়ে যান, কারণ প্রত্যেকটি ভিডিও প্রচার তাদেরকে আমাদের ওয়েবসাইটের দিকে পরিচালিত করে| ইউটিউব আমাদের ওয়েব সাইটে লোক এনে দেয়| প্রচারের এই পান্ডুলিপিগুলি প্রতি মাসে 34টি ভাষায় প্রচারিত হয় হাজার হাজার লোকের কাছে| প্রচারের এই সব পান্ডুলিপিগুলি গ্রন্থসত্ত্ব দ্বারা সংরক্ষিত নয়, কাজেই প্রচারকগণ আমাদের অনুমতি ছাড়াই এইগুলি ব্যবহার করতে পারেন| মুসলিম এবং হিন্দু রাষ্ট্রসমেত, সমগ্র পৃথিবীতে সুসমাচার ছড়িয়ে দেওয়ার এই মহান কাজে সাহায্য করার জন্য কিভাবে আপনি একটি মাসিক অনুদান প্রদান করতে পারেন তা জানতে অনুগ্রহ করে এখানে ক্লিক করুন|

যখন আপনি ডঃ হেইমার্সকে লিখবেন সর্বদা তাকে জানাবেন যে আপনি কোন দেশে বাস করেন, অথবা তিনি আপনাকে উত্তর দিতে পারবেন না| ডঃ হেইমার্সের ই-মেল ঠিকানা হল rlhymersjr@sbcglobal.net |




উদ্দীপনার ঈশ্বর

(উদ্দীপনা সভার চতুর্দশ প্রচার)
THE GOD OF REVIVAL
(SERMON NUMBER 14 ON REVIVAL)
(Bengali)

লেখক : ডঃ আর এল হাইমার্স, জুনিয়র।
by Dr. R. L. Hymers, Jr.

২০১৪ সালের, ২ রা নভেম্বর, সদাপ্রভুর একটি দিনে সন্ধ্যাবেলায় লস্ এঞ্জেলসের ব্যাপটিষ্ট ট্যাবারন্যাকল মন্ডলীতে এই ধর্ম্মোপদেশটি প্রচারিত হয়েছিল
A sermon preached at the Baptist Tabernacle of Los Angeles
Lord's Day Evening, November 2, 2014

“আহা তুমি আকাশমন্ডল বিদীর্ণ করিয়া, নামিয়া আইস, পর্ব্বতগণ তোমার সাক্ষাতে কম্পিত হউক, যেমন অগ্নি ঝোপ প্রজ্জ্বলিত করে, যেমন অগ্নি জল ফুটায় [তদ্রুপ হউক], তোমার বিপক্ষদিগকে তোমার নাম জ্ঞাত কর, তোমার সাক্ষাতে জাতিগণ কম্পমান হউক! যখন তুমি ভয়ানক কার্য্য করিয়াছিলে যাহার অপেক্ষা আমরা করি নাই, তখন তুমি নামিয়া আসিয়াছিলে, তোমার সাক্ষাতে পর্ব্বতগণ কম্পিত হইয়াছিল” (যিশাইয় ৬৪:১-৩)|


ইস্রায়েলের লোকেরা খারাপ অবস্থার মধ্যে ছিলেন| তারা ভীত ও দুঃখিত ছিলেন| কিন্তু ভাববাদী তাদের পুনরুদ্ধার করার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন| তিনি ঈশ্বরকে স্মরণ করালেন যে এর আগে তিনি তাদের জন্য কি করেছিলেন| তিনি ঈশ্বরকে আবার সেটা করার জন্য অনুরোধ করলেন| ঈশ্বর কখনও পরিবর্তিত হন না| তিনি কাল, আজ, এবং অনাদিকাল ধরে একইরকম আছেন| তিনি অতীতে যা করেছিলেন সেটা আজও করতে পারেন| এই অনুসারে, ভাববাদী ঈশ্বরকে স্মরণ করালেন,

“যখন তুমি ভয়ানক কার্য্য করিয়াছিলে যাহার অপেক্ষা আমরা করি নাই, তখন তুমি নামিয়া আসিয়াছিলে, তোমার সাক্ষাতে পর্ব্বতগণ কম্পিত হইয়াছিল” (যিশাইয় ৬৪:৩)|

এই পাঠ্যাংশ থেকে আমরা তিনটি বিষয় দেখতে পাই|

১| প্রথমত, ঈশ্বরের উপস্থিতিই আমাদের একমাত্র আশা |

যিশাইয়া যখন প্রার্থনা করছিলেন তখন, প্রথম পদে তিনি দেখেছিলেন, “আহা তুমি আকাশমন্ডল বিদীর্ণ করিয়া নামিয়া আইস” (যিশাইয় ৬৪:১)| এর কিছু আগেই তিনি প্রার্থনা করেছিলেন ঈশ্বরের প্রতি যে “তুমি স্বর্গ হইতে অবলোকন কর” (যিশাইয় ৬৩:১৫)| তার সব প্রার্থনা পূর্ণ হয়েছিল| এই যাচ্ঞা দিয়ে তিনি শুরু করেছিলেন যে ঈশ্বর যেন অবলোকন করেন| কিন্তু এখন তিনি ক্রন্দন করছেন এই বলে যে, “নামিয়া আইস|” এখন তিনি প্রার্থনা করছেন যেন ঈশ্বর আকাশমন্ডল বিদীর্ণ করেন – এবং তাঁর লোকেদের সাহায্য করার জন্য স্বর্গ থেকে নেমে আসেন|

ঈশ্বরের কাছে আসার জন্য খ্রীষ্ট আমাদের সামনে রাস্তা খুলে দিয়েছেন| তিনি মন্দিরের পর্দা উত্তোলন করেননি| না! তিনি পর্দাকে উপর থেকে নীচ অবধি, ছিঁড়ে দুভাগ করে দিয়েছিলেন| সুতরাং ঈশ্বরের কাছে যাওয়ার পথ চিরকালের জন্য খুলে গেছিল! খ্রীষ্ট উন্মুক্ত স্বর্গের মধ্য দিয়ে উপরে পরমদেশে গিয়েছিলেন! আর এই উন্মুক্ত স্বর্গের মধ্যে দিয়ে পবিত্র আত্মা পঞ্চসপ্তমীর দিনে মন্ডলীতে অবতরন করেছিলেন|

ঈশ্বরের আত্মা আমাদের উপর আবার নেমে আসার জন্য আমাদের প্রার্থনা করা উচিৎ! আসুন আজকে আমরা হৃদয় দিয়ে প্রার্থনা করি যেন ঈশ্বরের আত্মা নেমে আসেন ও আমাদের মধ্যে অবস্থান করেন! চীনা মন্ডলীতে আমার দীর্ঘ সময়ের পালক ছিলেন ডঃ তিমথী লিন| তিনি বলেছেন,

         পুরাতন নিয়মের সময়ে ঈশ্বরের লোকেদের আশীর্ব্বাদ পাইবার জন্য [প্রয়োজন] ছিল ঈশ্বরের উপস্থিতি…
         ইসহাক হইতেছেন এক উত্তম উদাহরন| তাহার [সময়ে] পলেষ্টিয় দেশে তিনি পক্ষপাত এবং তাড়নার মধ্যেও শতগুণ ফসল সঞ্চয় করিতে সক্ষম হইয়াছিলেন – ঈশ্বরের উপস্থিতির কারনে… এমনকি পলেষ্টিয়দের রাজা তাহাকে বলিয়াছিলেন, “আমরা স্পষ্টই দেখিলাম যে সদাপ্রভু আপনার সহবর্ত্তী” (আদিপুস্তক ২৬:২৮)…
         যোষেফের ক্ষেত্রেও ইহা সত্য| তাহাকে ক্রীতদাস হিসাবে বিদেশে বিক্রয় করা…এবং অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ করা সত্ত্বেও, যোষেফ শেষ অবধি সক্ষম হইয়াছিলেন কয়েদখানার [বস্ত্র] পরিবর্তে সুন্দর রাজকীয় বস্ত্র পরিধান করিতে এবং সমগ্র মিশর দেশের উপর রাজত্ব করিতে| এই নাটকীয় পরিনতির [একমাত্র] কারণ হইল তাহার সহিত ঈশ্বরের উপস্থিতি ছিল| “কেননা সদাপ্রভু তাহার সহবর্ত্তী ছিলেন, এবং তিনি যাহা কিছু করিতেন, সদাপ্রভু তাহা সফল করিতেন” (আদিপুস্তক ৩৯:২৩)…
         ঈশ্বরের উপস্থিতির প্রবল গুরুত্ব এমনকি প্রাথমিক মন্ডলীর যুগেও অধিকরূপে প্রতীয়মান হইয়াছিল…প্রাথমিক মন্ডলীর যুগে মন্ডলীগুলির বৃদ্ধির গোপন রহস্য ছিল ঈশ্বরের উপস্থিতি, এবং পবিত্র আত্মার কার্য্যই ছিল তাঁহার উপস্থিতির নিশ্চিত স্পষ্টতা| শেষ সময়ের মন্ডলীগুলি যদি বৃদ্ধি পাইতে চায় তাহা হইলে অবশ্যই ঈশ্বরের উপস্থিতির মধ্যে থাকিতে হইবে, নচেৎ সমস্ত প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হইবে (Timothy Lin, Ph.D., The Secret of Church Growth, FCBC, 1992, pp. 2-6)|

“আহা তুমি আকাশমন্ডল বিদীর্ণ করিয়া নামিয়া আইস, পর্ব্বতগণ তোমার সাক্ষাতে কম্পিত হউক…” (যিশাইয় ৬৪:১)|

ঈশ্বরের উপস্থিতি মোশের সঙ্গে ছিল – এবং ঈশ্বর মিশরের দাসত্ব থেকে তার লোকেদের মুক্ত করেছিলেন| যখন তারা প্রান্তরে ঘুরছিলেন তখনও ঈশ্বর তাদের সহবর্ত্তী ছিলেন| তিনি সেখানে মেঘস্তম্ভ ও অগ্নিস্তম্ভ হয়ে তাদের সান্নিধ্যে থেকে তাদের পরিচালনা করেছিলেন| যখন ইস্রায়েলের পতাকায় লেখা ছিল “ঈশ্বর আমাদিগের সহিত”, তারা সমুদ্রের পর সমুদ্র জয় করেছিলেন| কিন্তু যখন তারা ঈশ্বরকে দুঃখ দিয়েছিল তখন তারা এক নিস্তেজ জাতিতে পরিনত হয়েছিল| তাদেরকে ক্রীতদাসের মতন বেবিলনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল| ঈশ্বরের উপস্থিতিই ইস্রায়েলের গৌরব ছিল| কিন্তু ঈশ্বরের উপস্থিতি ছাড়া তারা কিছুই করতে পারেনি|

এইগুলি অন্ধকারময় এবং ভয়ঙ্কর দিন| আমাদের মন্ডলীগুলি দূর্বল হয়ে পড়েছে| আমাদের প্রচারকেরা ক্ষমতাহীন| আমরা এখানে পাশ্চাত্য জগতের অন্ধকার এবং পরজাতীয় দুশ্চরিত্র – বিশাল ও পাপপূর্ণ শহরের কেন্দ্রস্থলে রয়েছি! আমাদের স্তব্ধ করার জন্য নরকের সেই শক্তিগুলি তাদের নিকৃষ্টতম কাজ করেছে| কিন্তু ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে ছিলেন! এখন আমাদের মন্ডলীর দেনা শোধ হয়েছে – যেটা একটা অলৌকিক কাজ! ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে ছিলেন এবং এখন এই প্রচারগুলি ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রতি মাসে ৮০,০০০ লোকের কাছে পৌঁছায়! ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে ছিলেন| কিন্তু এখন আমাদের উচিৎ আরও অনেক যুবককে মন্ডলীর মধ্যে নিয়ে আসা এবং মন্ডলী গঠন করা| আপনি বলবেন, “এটা মনে হচ্ছে অসম্ভব|” হ্যাঁ, আমি জানি আপনার অনুভূতি| কিন্তু সেই অনুভূতি আমাদের রক্তমাংস সম্বন্ধীয় প্রকৃতি এবং শয়্তানের কাছ থেকে আসে| আমাদের অবশ্যই স্মরণে রাখতে হবে যে যখন ঈশ্বর আমাদের মন্ডলীগুলি রক্ষা করেছিলেন তখন তিনি আমাদের জন্য কী করেছিলেন| আর, যুবকবৃন্দ, আমাদের সুসমাচার প্রচারে এবং আমাদের উপাসনায়, সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের উপস্থিতির জন্য, আপনারা এমনভাবে প্রার্থনা করুন যেরকম প্রার্থনা এর আগে আপনি কখনও করেননি!

“আহা তুমি আকাশমন্ডল বিদীর্ণ করিয়া, নামিয়া আইস, পর্ব্বতগণ তোমার সাক্ষাতে কম্পিত হউক…” (যিশাইয় ৬৪:১)|

ঈশ্বরের উপস্থিতিই আমাদের একমাত্র আশা! কেউ থাকবে না| কেউ মন পরিবর্তন করবে না| কেউ আমাদের মন্ডলীর ক্ষমতাপন্ন সদস্য হবে না – যদি না ঈশ্বর স্বর্গ থেকে আমাদের মধ্যে নেমে আসেন!

২| দ্বিতীয়ত, ঈশ্বরের উপস্থিতি সৃষ্টি করে আশ্চর্য্য বিষয় |

পাঠ্যাংশ বলে, “যখন তুমি ভয়ানক কার্য্য করিয়াছিলে যাহার অপেক্ষা আমরা করি নাই, তখন তুমি নামিয়া আসিয়াছিলে|” আধুনিক অনুবাদকের অনুবাদ হল “ভয়ানক” এর পরিবর্তে “ভয়ঙ্কর|” আমি এই শব্দটার বিষয়ে কোন ভ্রুক্ষেপ করি না কারন এটা অতি ব্যবহারের ফলে অব্যবহার্য্য হয়ে পড়েছে| এর সম্বন্ধে এইরকম ভাবলে হয়তো ভাল হতে পারত যে “আশ্চর্য্য বিষয় যাহার জন্য অপেক্ষা আমরা করি নাই|” ইস্রায়েলীয়রা প্রায়ই বলতেন, “তুমিই আশ্চর্য্য কার্য্যকারী ঈশ্বর” (গীতসংহিতা ৭৭:১৪)|

আপনি কি মনে করেন ইস্রায়েলীয়রা প্রত্যাশা করেছিলেন যে তারা লোহিত সাগরের মধ্যে দিয়ে হেঁটে যাবেন, আর সমুদ্রের জল উঁচু হয়ে দুইধারে সরে দাঁড়াবে? তবুও তারা গিয়েছিলেন – আর তাদের পিছনে ধাওয়া করতে গিয়ে মিশরীয়রা সমুদ্রের জলে ডুবে গিয়েছিল যখন ঐ জল আবার ফিরে একত্রিত হয়েছিল| আপনি কি মনে করেন যে তারা প্রত্যাশা করেছিলেন যে প্রতি রাত্রে প্রান্তরের মধ্যে তাদের তাঁবুতে আমাদের বিদ্যুতের আলোর চেয়ে ভাল কোন আলো জ্বলবে? তবুও প্রতি রাত্রে একটি জ্বলন্ত স্তম্ভের দ্বারা তাদের তাঁবু আলোকিত হত| যখন তারা ক্ষুধার্ত হয়েছিল তখন তারা কি স্বর্গ থেকে নিয়ে আসা মান্না খাওয়ার প্রত্যাশা করেছিল? যখন তারা তৃষ্ণার্ত হয়েছিল তারা কি প্রত্যাশা করেছিল যে হঠাৎ করে একটা পাথর ফুঁড়ে জল বেরিয়ে আসবে? যখন তারা ঝিরিহো নগরের চারিদিকে প্রদক্ষিণ করছিল তারা কি প্রত্যাশা করেছিল যে যখন তারা শিঙ্গাঁ বাজাবে আর উচ্চৈঃস্বরে সিংহনাদ করবে তখন ঐ নগরীর প্রাচীর ভেঙ্গে পড়বে? না, ইস্রায়েলের ইতিহাস এইরকম ভয়ঙ্কর, আতঙ্ককর বস্তুতে পরিপূর্ণ “যাহার অপেক্ষা আমরা করি নাই” যখন ঈশ্বর নেমে এসেছিলেন|

কে প্রত্যাশা করেছিলেন যে ঈশ্বর খ্রীষ্টের ব্যক্তিত্বে নেমে আসবেন? কে প্রত্যাশা করেছিলেন যে তিনি ক্রুশের উপরে মৃত্যুবরণ করবেন “অধার্ম্মিকতার জন্য ধার্ম্মিকভাবে,” আমাদের স্বর্গে আনার জন্য? (১ম পিতর ৩:১৮)| কেউ কি চিন্তা করেছিলেন যে সেই সব সন্ত্রস্ত শিষ্যরা, তালাবদ্ধ ঘরে বন্দী থাকা অবস্থায়, খ্রীষ্টের সুসমাচার সমগ্র রোম সাম্রাজ্যের সর্বত্র নিয়ে যাবেন? কেউ কি চিন্তা করেছিলেন যে একটি ছোট্ট, আর দূর্বলভাবে সশস্ত্র দ্বীপ, যা একজন বৃদ্ধ মানুষের দ্বারা পরিচালিত হত যাকে শুধু একটিমাত্র চাবুক ব্যবহার করতে হত, হিটলার এবং তার শক্তিশালী সৈন্যবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করবে – আর জয়লাভ করবে? কেউ কি চিন্তা করেছিলেন যে যিহুদীরা, সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে, এবং দুইহাজার বছর বন্দীত্বের পর আবার ইস্রায়েলে ফিরে আসবে? কেউ কি ভাবতে পেরেছিলেন ছোট্ট ইস্রায়েল রাষ্ট্র অতি গোঁড়া মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষাট বছরেরও বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে? কেউ কি চিন্তা করেছিলেন যে অল্প কিছু সংখ্যক চীনা খ্রীষ্ট বিশ্বাসী অর্দ্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে মাও সে তুং ও তার লাল-বাহিনীর চরম অত্যাচারের মধ্যে দিয়ে যাবেন? কেউ কি ভেবেছিলেন যে তাদের ছোট্ট “গৃহস্থ মন্ডলীর” মধ্যে থেকে পৃথিবীর ইতিহাসের বৃহত্তম উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়বে? কে ভেবেছিল যে ১৯৬০ সালের শেষের দিকে এবং ১৯৭০ সালের প্রথম দিকে আত্মার মহা সংগ্রহ আসবে অর্দ্ধনগ্ন, মাদকদ্রব্য গ্রহনকারী হিপিদের মধ্যে? কেউ কি ভেবেছিল যে আমার শোনা নিকৃষ্টতম মন্ডলী ভাঙ্গনের মধ্যেও আমাদের মন্ডলী টিকে থাকবে? কেউ কি চিন্তা করেছিলেন যে এই মন্ডলীর ভবন তৈরীর ঋণ পরিশোধের জন্য উনচল্লিশ জন লোক কুড়ি বছর ধরে প্রতি মাসে ষোল হাজার ডলার করে অর্থ তুলতে পারবেন? কেউ কি চিন্তা করেছিলেন যে ঈশ্বর আমাকে সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে সুন্দরতম একজন পালকের স্ত্রী পাঠাবেন? কেউ কি চিন্তা করেছিলেন যে প্রতি রবিবার মন্ডলীতে আমার সঙ্গে আমার দুটি সবল পুত্রসন্তান থাকবে? কেউ কি ভেবেছিলেন যে ঈশ্বর আমাদের মন্ডলীর পরিচালনায় সাহায্য করার জন্য, দুইটি বিষয়ে পিএইচডি-সহ একজন, এবং একজন মেডিক্যাল ডাক্তারকে পাঠাবেন? এবং কেউ কি, তাদের অসংযত স্বপ্নের মধ্যেও চিন্তা করতেন যে আমার হতভাগ্য, জীর্ণ ও হতোদ্যম বৃদ্ধা মা তার আশী বছর বয়সে, একজন বিশিষ্ট খ্রীষ্ট বিশ্বাসীতে পরিনত হবেন?

“যখন তুমি ভয়ানক কার্য্য করিয়াছিলে যাহার অপেক্ষা আমরা করি নাই, তখন তুমি নামিয়া আসিয়াছিলে…” (যিশাইয় ৬৪:৩)|

যখন ঈশ্বর নেমে আসেন তখন তিনি আশ্চর্য্য সব কাজ করেন যা কেউই প্রত্যাশা করে না!

আমার ঈশ্বর, তোমার কার্য্যসকল কত আশ্চর্য্য,
তোমার মহিমা কত উজ্জ্বল;
তোমার অনুগ্রহের আসন কত সুন্দর
জ্বলন্ত আলোর গভীরে,
জ্বলন্ত আলোর গভীরে!

কত আশ্চর্য্য, কত সুন্দর,
অবশ্যই হবে তোমার দৃষ্টিতে;
তোমার সীমাহীন জ্ঞান, অবাধ ক্ষমতা,
এবং ভয়ঙ্কর পবিত্রতা,
এবং ভয়ঙ্কর পবিত্রতা!
(“My God, How Wonderful Thou Art” by Frederick W. Faber, 1814-1863)|

আজ সন্ধ্যায় আমি আপনাদেরকে যিশাইয়ের বাক্য থেকে সুপারজিয়নের প্রচারের কিছু অংশ দিচ্ছি| আমি কেবল তার প্রচারেরই রূপরেখা এবং কিছু চিন্তাধারা ব্যবহার করছি| সেই মহান “প্রচারের রাজপুত্র” বলেছেন,

যখন ঈশ্বর লোকেদের মধ্যে নামিয়া আসেন তখন তিনি এমন বিষয় কিছু করেন যাহার অপেক্ষা আমরা করি না…তিনি অতি অবাধ্যকে রক্ষা করিতে পারেন, এবং প্রতিবাদীকে যীশুর চরণে আনিতে পারেন| [প্রার্থনা] করুন তিনি যেন তাহাই করেন (C. H. Spurgeon, “Divine Surprises,” MTP, volume XXVI, Pilgrim Publications, 1972 reprint, p. 298)|

৩| তৃতীয়ত, ঈশ্বরের উপস্থিতি মহাসমস্যা এবং বাধার উপর বিজয় লাভ করে |

“যখন তুমি ভয়ানক কার্য্য করিয়াছিলে যাহার অপেক্ষা আমরা করি নাই, তখন তুমি নামিয়া আসিয়াছিলে, তোমার সাক্ষাতে পর্ব্বতগণ কম্পিত হইয়াছিল” (যিশাইয় ৬৪:৩)|

এটি একটি আশ্চর্য্যজনক উক্তি, “তোমার সাক্ষাতে পর্ব্বতগণ কম্পিত হইয়াছিল|”

যখন ঈশ্বর ইস্রায়েলের উপর নেমে এসেছিলেন, শক্তিশালী শত্রুগণকে, যারা ইস্রায়েলের উপর বিশাল পাহাড়ের মতন ধেয়ে এসেছিল, জয় করা সম্ভব হয়েছিল, আর ঈশ্বরের উপস্থিতির কারনে ঐ পর্ব্বতদের অধিকার করা গিয়েছিল| যখন সেই পবিত্র আত্মা উদ্দীপনায় নেমে আসে, কঠিন হয়ে যাওয়া হৃদয়গুলিও ঈশ্বরের উপস্থিতিতে বিগলিত হবে! আমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছেন যাদের হৃদয় পাথরের মতন শক্ত| আমরা তাদের জন্য প্রাথনা করি, আমরা তাদের প্রতি প্রচার করি, কিন্তু কিছুই হয় না| এটা মনে হয় যেন তারা কখনই মন পরিবর্তন করবে না| কিন্তু যখন ঈশ্বর নেমে আসেন, সেই কঠোরতম হৃদয়ও ভেঙ্গে পড়বে| তারা হঠাৎ করে তাদের পাপগুলি অনুভব করবে| তারা হঠাৎ করে দেখবে যে একমাত্র যীশুই তাদের উদ্ধার করতে পারেন| যখন ঈশ্বর নেমে আসেন তখন তারা অনুভব করে তাদের পাপ থেকে তাদের ধৌত করার জন্য যীশুর রক্তের প্রয়োজনীয়তা| পাপের চেতনার অশ্রুজল তাদের কঠোরতম হৃদয়গুলিকেও কোমল করবে| তারা তখন জানতে পারবে যে এই ছোট্ট কবিতাটির অর্থ কি,

তাঁহার করুণায় বিগলিত হইয়া, আমি ভূমিতে পতিত হইলাম,
এবং ক্রন্দনে করূণার প্রশংসা আমি পাইলাম|

উদ্দীপনায় সবসময়ে এইরকমটাই ঘটে থাকে| ডঃ লয়েড-জোন্স উদ্দীপনার এই সংজ্ঞা দিয়েছেন,

উদ্দীপনা হইল ঈশ্বরের আত্মার প্রবহন…এই আত্মা লোকেদের উপর অবতরণ করিতেছে|

তারপর তিনি ওয়ালস্’র মহান প্রচারক, হাওয়েল হেরিসের সম্বন্ধে বলেছিলেন| হাওয়েল হেরিস প্রভুর ভোজের অনুষ্ঠানে মন পরিবর্তন করেছিলেন| তিনি দীর্ঘ সময় ধরে একটি অভ্যন্তরীন সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন| দিয়াবল সব বিষয়ে তার বিশ্বাসকে নাড়িয়ে দিতে চেষ্টা করেছিল| কিন্তু তিনি যখন প্রভুর ভোজ নেওয়ার জন্য এসেছিলেন, “পর্ব্বতসকল স্রোতের ন্যায় নামিয়া আসিয়াছিল [ঈশ্বরের] উপস্থিতিতে|” হাওয়েল হেরিস বলেছিলেন,

ক্রুশের উপরে খ্রীষ্ট রক্তমোক্ষণরত ইহা আমার আমার চক্ষুর সন্মুখে সদাসর্বদা রক্ষিত ছিল; এবং আমাকে শক্তি দান করা হইয়াছিল ইহা বিশ্বাস করিতে যে সেই রক্তের মূল্য হিসাবে আমি [আমার পাপের জন্য] ক্ষমা পাইতেছি| আমি আমার বোঝা হারাইয়াছি; আমি আনন্দের সহিত লাফাইতে লাফাইতে গৃহে ফিরিয়াছিলাম…এইভাবে আমি ইহাকে চিরকাল কৃতজ্ঞতার সহিত স্মরণে রাখিব (Martyn Lloyd-Jones, M.D., “Howell Harris and Revival,” The Puritans: Their Origins and Successors, Banner of Truth, 1996 edition, pp. 289, 285)|

হাওয়েল হেরিস প্রথম মহা জাগরণের সময়ে সর্বাধিক শক্তিমত্তার সঙ্গে ব্যবহৃত প্রচারকদের মধ্যে একজন হয়েছিলেন| যদি আপনি তার ডাইরীগুলি পড়েন, তবে আপনি দেখবেন, পরের পর, কিভাবে উদ্দীপনা এসেছিল| যখন ক্ষমতার সঙ্গে পবিত্র আত্মা নেমে আসেন তখন হারানো লোকেরা কিভাবে মন পরিবর্তন করেন| হেরিস বলেছেন, “সেই প্রবল বাতাস [আত্মার প্রবল বাতাস] নামিয়া আসিয়াছিল যখন আমি পরিত্রাতার অনন্তকালীন মৃত্যু দেখিয়াছিলাম|” “প্রভু ক্ষমতার সহিত নামিয়া আসিয়াছিলেন|” “একটি প্রবল বাতাস নামিয়া আসিয়াছিল যখন আমি দেখাইয়াছিলাম পরিত্রাণের মহানতাকে|” এই সাধারন ব্যক্তি প্রচার করেছিলেন এবং আক্ষরিক অর্থে ইংল্যান্ড আর সেইসঙ্গে ওয়াল্সে সহস্রাধিক লোকে মন পরিবর্তন করেছিলেন|

আমাদের মন্ডলীতে কি আমরা উদ্দীপনা আনতে পারি? হ্যাঁ, কিন্তু আমাদের অবশ্যই একে প্রকৃতভাবে চাইতে হবে| একজন নরওয়েবাসী মহিলার লেখা একটি সুন্দর ছোট্ট বই আমি পড়ে আসছি যিনি ১৯০০ সাল থেকে ১৯২৭ সাল পর্য্যন্ত চীনদেশে মিশনারী ছিলেন| তিনি বছরের পর বছর ধরে উদ্দীপনার জন্য প্রার্থনা করেছেন| তিনি উপবাস এবং প্রার্থনা করেছেন| ১৯০৭ সালে তিনি কোরিয়ায় চলতে থাকা মহা উদ্দীপনার বিষয়ে পড়েছিলেন| তিনি চেয়েছিলেন যে চীনে উদ্দীপনা আসুক| তিনি প্রকৃতভাবেই উদ্দীপনা চেয়েছিলেন| এটা হঠাৎ করে এসেছিল, একদল চীনা মহিলাদের মধ্যে| এরপর সেটা বিস্তার লাভ করে, এবং তিনি চীন ছেড়ে নরওয়েতে ফিরে যাওয়ার ঠিক আগে, শতাধিক লোকে মন পরিবর্তন করেছিল|

এখানে আমাদের মন্ডলীতে, আমরা কি তার সামান্য কিছু অংশ করতে পারি? হ্যাঁ, কিন্তু আমাদের অবশ্যই এমনভাবে প্রার্থনা করতে হবে যেমনটি আমরা এর আগে কখনও করিনি| প্রথম পদে যিশাইয় যেমন প্রার্থনা করেছিলেন আমাদের অবশ্যই সেইরকম প্রার্থনা করতে হবে|

“আহা তুমি আকাশমন্ডল বিদীর্ণ করিয়া, নামিয়া আইস, পর্ব্বতগণ তোমার সাক্ষাতে কম্পিত হউক…” (যিশাইয় ৬৪:১)|

যদি আপনি এখনও মন পরিবর্তন করেননি, আমরা আপনার জন্য প্রার্থনা করব| আমরা প্রার্থনা করব যেন ঈশ্বর আপনার পাপের জন্য আপনাকে চেতনা দান করবেন, এবং তিনি আপনাকে খ্রীষ্টের প্রতি আকর্ষণ করবেন|

আপনার পাপের দেনা শোধ করার জন্য খ্রীষ্ট ক্রুশের উপর মৃত্যুবরণ করেছিলেন| তিনি মৃত্যু থেকে উঠেছেন এবং তৃতীয় স্বর্গে জীবিত আছেন, আপনার জন্য প্রার্থনা করছেন| কিন্তু আপনার পাপ থেকে উদ্ধার লাভ করতে হলে আপনাকে অবশ্যই অনুতাপ করতে হবে এবং তাঁকে বিশ্বাস করতে হবে|

আপনি বলতে পারেন যে, “আমি পাপী নই| আমি একজন উত্তম ব্যক্তি|” কিন্তু বাইবেল বলে, “যদি আমরা বলি যে পাপ করি নাই, তবে তাঁহাকে মিথ্যাবাদী করি, এবং তাঁহার বাক্য আমাদিগের অন্তরে নাই” (১ম যোহন ১:১০)| আমরা প্রার্থনা করছি যে ঈশ্বরের আত্মা আপনাকে দেখিয়ে দেবে আপনার পাপকে, আর তারপর তাঁর রক্ত দ্বারা আপনাকে ধৌত করার জন্য, খ্রীষ্টে আকর্ষণ করবেন| ডঃ চ্যান, অনুগ্রহ করে আমাদের প্রার্থনায় পরিচালিত করুন| আমেন|

(সংবাদের পরিসমাপ্তি)
ডাঃ হাইমার্সের সংবাদ আপনি প্রতি সপ্তাহে ইন্টারনেটের মাধ্যমে
www.realconversion.com এই সাইটে পড়তে পারেন। ক্লিক করুন “সংবাদের হস্তলিপি”

আপনি ডাঃ হাইমার্সকে মেইল পাঠাতে পারেন rlhymersjr@sbcglobal.net - আপনি
তাকে পত্র লিখতে পারেন P.O. Box 15308, Los Angeles, C A 90015.এই ঠিকানায়
। আপনি তাকে টেলিফোন করতে পারেন (818) 352-0452.

এই সুসমাচারের ম্যানুস্ক্রিপ্ট এর ওপর ডাঃ হাইমসের কোন কপিরাইট নেই। আপনারা
ইহা ব্যাবহার করতে পারেন ডাঃ হাইমসের অনুমতি ছাড়াই। অবশ্য, ভিডিও মেসেজ
সবই কপিরাইটের সহিত আছে এবং কেবলমাত্র তার অনুমতি নিয়েই ব্যাবহার করা যাবে।

সংবাদের আগে শাস্ত্রাংশ পাঠ করেছেন মিঃ আবেল প্রধুম্মে: যিশাইয় ৬৪:১-৩ |
সংবাদের আগে একক সংগীত পরিবেশন করেছেন মিঃ বেঞ্জামিন কিনকেড গ্রিফিত:
“My God, How Wonderful Thou Art” (by Frederick W. Faber, 1814-1863;
to the tune of “Majestic Sweetness Sits Enthroned”).


খসড়া চিত্র

উদ্দীপনার ঈশ্বর

(উদ্দীপনাসভার চতুর্দশ প্রচার)

লেখক : ডঃ আর এল হাইমার্স, জুনিয়র।

“আহা তুমি আকাশমন্ডল বিদীর্ণ করিয়া, নামিয়া আইস, পর্ব্বতগণ তোমার সাক্ষাতে কম্পিত হউক, যেমন অগ্নি ঝোপ প্রজ্জ্বলিত করে, যেমন অগ্নি জল ফুটায় [তদ্রুপ হউক], তোমার বিপক্ষদিগকে তোমার নাম জ্ঞাত কর, তোমার সাক্ষাতে জাতিগণ কম্পমান হউক! যখন তুমি ভয়ানক কার্য্য করিয়াছিলে যাহার অপেক্ষা আমরা করি নাই, তখন তুমি নামিয়া আসিয়াছিলে, তোমার সাক্ষাতে পর্ব্বতগণ কম্পিত হইয়াছিল” (যিশাইয় ৬৪:১-৩)|

১| প্রথমত, ঈশ্বরের উপস্থিতিই আমাদের একমাত্র আশা, যিশাইয় ৬৪:১; ৬৩:১৫;
আদিপুস্তক ২৬:২৮; ৩৯:২৩ |

২| দ্বিতীয়ত, ঈশ্বরের উপস্থিতি সৃষ্টি করে আশ্চর্য্য বিষয়, গীতসংহিতা ৭৭:১৪;
১ম পিতর ৩:১৮; যিশাইয় ৬৪:৩ |

৩| তৃতীয়ত, ঈশ্বরের উপস্থিতি মহাসমস্যা এবং বাধার উপর বিজয় লাভ করে,
যিশাইয় ৬৪:৩, ১; ১ম যোহন ১:১০ |