Print Sermon

এই ওয়েবসাইটের উদ্দেশ্য হল ধর্ম্মোপদেশের পান্ডুলিপি এবং ধর্ম্মোপদেশের ভিডিওগুলি বিশ্বব্যাপী পালক ও মিশনারিদের বিনামূল্যে সরবরাহ করা, বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বে, যেখানে ধর্ম্মতত্ত্বমূলক সেমিনারী বা বাইবেল স্কুল থাকলেও খুব কম রয়েছে|

এই সমস্ত প্রচারের পান্ডুলিপি এবং ভিডিওগুলি এখন www.sermonsfortheworld.com ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতি মাসে 221টিরও বেশি দেশের প্রায় 1,500,000 কম্প্যুটারে যায়| শত শত লোক ইউটিউবের ভিডিওর মাধ্যমে এগুলি দেখেন, কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই তারা ইউটিউব ছেড়ে বেরিয়ে যান এবং আমাদের ওয়েবসাইটে চলে আসেন| ইউটিউব আমাদের ওয়েবসাইটে লোক এনে দেয়| প্রচারের এই পান্ডুলিপিগুলি প্রতি মাসে 39টি ভাষায় প্রায় 120,000 কম্প্যুটারে প্রচারিত হয়| প্রচারের পান্ডুলিপিগুলি গ্রন্থসত্ত্ব দ্বারা সংরক্ষিত নয়, কাজেই প্রচারকগণ আমাদের অনুমতি ছাড়াই এইগুলি ব্যবহার করতে পারেন| মুসলিম এবং হিন্দু রাষ্ট্রসমেত, সমগ্র পৃথিবীতে সুসমাচার ছড়িয়ে দেওয়ার এই মহান কাজে সাহায্য করার জন্য কিভাবে আপনি একটি মাসিক অনুদান প্রদান করতে পারেন তা জানতে অনুগ্রহ করে এখানে ক্লিক করুন|

যখনই আপনি ডঃ হেইমার্‍সকে লিখবেন সর্বদা তাকে জানাবেন যে আপনি কোন দেশে বাস করেন, অথবা তিনি আপনাকে উত্তর দিতে পারবেন না| ডঃ হেইমার্‌সের ই-মেল ঠিকানা হল rlhymersjr@sbcglobal.net |




নোয়াহর বিশ্বাস

THE FAITH OF NOAH
(Bengali)

লেখকঃ ডাঃ আর.এল.হাইমার্স,জুনি.
by Dr. R. L. Hymers, Jr.

২০১৩ সালে জানুয়ারীর ৬-তারিখে সদাপ্রভুর এক সন্ধ্যায় লস এঞ্জেলেসের ব্যাপটিস্ট ট্যাবারনাকেলে এক সংবাদ প্রচারিত হয়
A sermon preached at the Baptist Tabernacle of Los Angeles
Lord’s Day Evening, January 6, 2013

“বিশ্বাসে নোয়াহ, যাহা যাহা দেখা যাইতেছিল না, এমন বিষয়ে আদেশ পাইয়া অভিযুক্ত ভয়ে আবিষ্ট হইয়া আপন পরিবারের ত্রাণার্থে এক জাহাজ নির্মাণ করিলেন ও আপনি বিশ্বাসানুরুপ ধার্মিকতার অধিকারী হইলেন” (হিব্রুজ ১১:৭)


আজকের রাত্রিবেলা কিছু সময় আমি নোয়াহ-র বিশ্বাস নিয়ে কথা বলবো। ইতিহাসের মধ্যে নোয়াহ ছিলেন সব থেকে গুরুত্ব পূর্ণ ব্যাক্তি। নোয়াহ ছাড়া এই পৃথিবীতে আজকের জগতে কোন মনুষ্য সমাজ হতো না। নোয়াহ-র পরিবারকে সেই মহা প্লাবনের সময়ে সংরক্ষিত করে রাখা হয়েছিল, তাই বর্তমানে সকল মনুষ্য তার মধ্যে দিয়েই অধিষ্ঠান করছে।

ইউরোপ মহাদেশকে মুসল্মানের হামলা ও বহিরাক্রম থেকে রক্ষা করেছিলেন বলে, আমরা চার্লস মারটেলকে সম্মান করি (৬৮৮-৭৮১)। হিটলারের হাত থেকে পশ্চিমী সভ্যতাকে রক্ষা করার জন্য আমরা উইলস্টন চার্চিলকে(১৮৭৪-১৯৬৫)সম্মান প্রদর্শন করি। আমেরিকাকে দুটি ছোট প্রদেশে বিভক্ত হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন বলে এ্যাব্রাহাম লিংকনকে (১৮০৯-১৮৬৫) আমরা সম্মান প্রদর্শন করি। ১৯৬০ সালে জাতিগত দ্বন্দ্বের হাত থেকে দেশকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমরা ডাঃ মার্টিন লুথার’কে (১৯২৯-১৯৬৮) সম্মান প্রদর্শন করি। পশ্চিমী দেশকে সাম্যবাদীদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আমরা রাষ্ট্রপতি রেগান(১৯১১-২০০৪), মারগারেট থেচার (১৯২৫-), এবং পোপ জন পল-২-য়কে সম্মান করি। এদের প্রায় নেতারা খ্রীষ্টিয়ান ছিলেন না কিন্তু তারা এই বিশ্বের জন্য মহান এক কার্য্য সাধন করেছেন। কিন্তু এই নেতৃবর্গ যতটা মহান ছিলেন তাদের কার্য্য যথেষ্ঠ তাৎপর্যমূলক হলেও বাইবেলে নয়াহ যা করেছিলেন তার থেকে তাৎপর্যহীন। কেননা আপনি দেখতে পাচ্ছেন নোয়াহ মহা প্লাবনে মহা মৃত্যুর হাত থেকে নুতন মনুষ্য জাতিকে রক্ষা করেছেন!

নোয়াহ সানডে স্কুলে ছেলে মেয়েদের কাছে কৌতুকের কোন চরিত্র নয়। আমার যদি সেই প্রকার রাস্তা থাকতো তাহলে তারা সেই সমস্ত বইগুলোকে ছাপানো বন্ধ করে দিত! নোয়াহ ছিলেন বাস্তব এক মনুষ্য এবং এক মহান বীর যিনি মনুষ্য জাতিতে সম্পুর্ণ ভাবে ধ্বংসের হাত থেকে উদ্ধার করেছেন। আর তার জন্য প্রতিটি খ্রীষ্টিয়ানের শ্রদ্ধা থাকে এবং তিনি যা করছেন তার জন্য যেন উচ্চসম্মানে সম্মানিত করেন।

নিউইয়র্ক নগরীতে “ক্রুশেডের” শেষ দিনে বিলি গ্রাহাম নোয়াহ-র দিনের বিষয়ে প্রচার করেছিলেন ম্যাথুজ২৪ঃ৩৬-৩৯ অংশ থেকে যার বিষয়ে ঠিক কিছু সময় আগেই ডাঃ চেন সেই বিষয়ে এই সভাতে পাঠ করলেন। ইহা ছিল মিঃ গ্রাহামের “ক্রুশেডের” শেষ দিনের সংবাদ যেটা তিনি নিউ ইয়র্ক নগরীর ফ্লাশিং মিডোজ করোনা পার্কে ৯০,০০০ লোকের সামনে প্রচার করেছিলেন। সেই সংবাদে মিঃ গ্রাহাম বলেছিলেন, ‘জগতের অবস্থা যখন নোয়াহ-র সময়ের মতো হয়ে ওঠে তখন আপনি চোখ তুলে তাকাবেন, আর দেখবেন যে যীশুর আগমন শীঘ্র’। (Billy Graham, Living in God’s Love, G. P. Putnam’s Sons, 2005, p. 110). পক্ষান্তরে বেশ কিছু বিষয়ে আমি বিলি গ্রাহামের সঙ্গে একমত নই, আমার মনে হয় তিনি প্রকৃত ভাবেই ঠিক বলেছিলেন যখন তিনি আমাদের জগৎকে যে সময়ে নোয়াহ জীবন যাপন করেছিলেন সেই সময়ের সঙ্গে তুলনা করেন।

কিন্তু আজকে রাত্রে আমার সংবাদ নোয়াহ-র দিনের কথায় আলোকপাত করবে না। আজ রাত্রে আমি ‘নোয়াহ-র বিশ্বাস নিয়ে’ কথা বলবো। ডাঃ আম.আর.ডিহানসের লেখা শেষ অধ্যায়ের প্রতি আমি ভীষন ভাবে ভরষা করি, যার নাম হল ‘নোয়াহ-র দিনগুলো’ (Zondervan Publishing House, 1979 edition, pp. 178-184). হিব্রুজ ১১:৭ বলে,

“বিশ্বাসে নোয়াহ, যাহা যাহা দেখা যাইতেছিল না, এমন বিষয়ে আদেশ পাইয়া অভিযুক্ত ভয়ে আবিষ্ট হইয়া আপন পরিবারের ত্রাণার্থে এক জাহাজ নির্মাণ করিলেন ও আপনি বিশ্বাসানুরুপ ধার্মিকতার অধিকারী হইলেন” (হিব্রুজ ১১:৭)

একটি পদের মধ্যে এই অনুচ্ছেদটি নোয়াহ-র কাহিনীর বিষয়ে আমাদের কাছে তুলে ধরে। এখানের এই যে অনুচ্ছেদ তা একই শব্দের দ্বারা শুরু ও সমাপ্ত হয় যা হল ‘বিশ্বাস’। এই শব্দটিকে আমরা সাতটি শিরোনামে ভাগ করতে পারি যার প্রতিটিতেই নোয়াহ-র বিশ্বাস সম্বন্ধে প্রকাশ করে।

১. প্রথম, নোয়াহ-র বিশ্বাসের ভিত্তি।

এখানের যে পাঠ্যাংশ তা শুরু হচ্ছে ‘বিশ্বাসে নোয়াহ, যাহা যাহা তখন দেখা যাইতেছিল না এমন বিষয়ে আদেশ পাইয়া....’। প্লাবন যে আসতে চলেছে এই বিষয়ে ঈশ্বর নোয়াহ-কে সতর্ক করে দেন। সেই রুপ প্লাবন সেই সময়ের আগে কোনো দিনই হয় নি। ইহা দেখে যেন অসম্ভব বলে মনে হচ্ছিল জে এই প্রকার বিপর্যয় ঘটতে পারে। কিন্তু ঈশ্বর যা বলেছিলেন, নোয়াহ বিশ্বাসে তাতে আস্বস্ত হলেন। ডাঃ ডিহান বলেছেন, ‘প্রকৃত যে বিশ্বাস তা প্রমাণের কোন চিহ্ন আশা করে না। ইয়াহ কোন চিহ্ন কার্‍্য্য বা কোন চিৎকার বা দর্শন অথবা স্বপ্নের বা বিজ্ঞান সম্মত প্রমাণ অথবা প্রত্নতাত্ত্বিক মূলক আবিষ্কার বা ভূতত্ত্বমূলক কোন প্রমাণ চায় না। পরিত্রাণ লাভের জন্য প্রকৃত যে বিশ্বাস, যেহেতু ঈশ্বর ইহা বলেছেন তাই সেটাকেই বিশ্বাস করে’। (ইবিড পৃ ১৭৯)। বাইবেল বলে,

“আর বিশ্বাস প্রত্যাশিত বিষয়ের নিশ্চইয় জ্ঞান, অদৃশ্য বিষয়ের প্রমাণ প্রাপ্তি” (হিব্রুজ ১১:১)।

“সারবস্তু” কথার অর্থ হল ভবিষ্যত বিষয়ের প্রকৃত যে নিশ্চয়তা বা দৃঢতা তার প্রতি প্রত্যয় রাখা। বিশ্বাস হল ‘যে বিষয় গুলো দেখা যায় না অর্থাৎ অদৃশ্য বিষয়ের প্রমাণ প্রাপ্তি’। আমরা কি দেখতে পাই বা কি অনুভব করি বিশ্বাস তার উপরে আধারিত নয় কিন্তু ‘যে বিষয় অদৃশ্য যা দেখা যাচ্ছে না’ সেই বিষয়ে ঈশ্বর দত্ত নিশ্চয়তা। বিশ্বাসের ভিত্তি হল ঈশ্বর নির্ভর করা, বিশ্বাস হল ‘ঈশ্বরের দান’ (এফেসিয়ানস ২ঃ৮)। ঈশ্বর আগত প্লাবন সম্বন্ধে যা বলেছেন সেই বিষয়ে বিশ্বাস করার জন্য তিনি নোয়াহ-কে বিশ্বাস দিয়েছিলেন। বিশ্বাস বাস্তব অভিজ্ঞতার উপরে আধারিত নয়, কিন্তু তা হল ঈশ্বরে নির্ভর করা।

২. দ্বিতীয়, নোয়াহ-র বিশ্বাসের প্রকৃতি।

আমাদের পাঠ্যাংশ বলে, ‘বিশ্বাসে নোয়াহ, যাহা যাহা তখন দেখা যাইতেছিল না, এমন বিষয়ে আদেশ পাইয়া....’। ‘যাহা যাহা তখন দেখা যাইতেছিল না’ যা নির্দেশ করে যে সেই প্লাবন যা পৃথিবীকে জলমগ্ন করে দেবে। আপনি দেখতে পাচ্ছেন আকাশ থেকে কোন বৃষ্টিপাতই তখন পর্যন্ত হয় নি। আদি পুস্তকের দ্বিতীয় অধ্যায়ে আমাদের বলা হয়েছে যে তখন পর্যন্ত কোন বৃষ্টি হয় নি। নোয়াহ-র সময় পর্যন্ত মাটিকে আর্দ্র করার জন্য জলীয় বাষ্প পৃথিবী থেকেই আসতো। আদি পুস্তক দ্বিতীয় অধ্যায়ে আমরা পড়ি

“কেন না সদাপ্রভু ঈশ্বর পৃথিবীতে বৃষ্টি বর্ষান নাই .... আর পৃথিবী হইতে কুজ্ঝটিকা উঠিয়া সমস্ত ভুতলকে জল সিক্ত করিল” (আদি পুস্তক ২:৫,৬)

এর আগে বৃষ্টি দেখা যায় নি কিন্তু যখন ‘কোন কিছুই তখন পর্যন্ত দেখা যায় নি তখন নোয়াহ-কে সেই বিষয়ে আদেশ করা হলে তিনি তাহাতে বিশ্বাস করলেন। তাকেই বলা হয় বিশ্বাস—সেটা আমরা ব্যাখা করতে পারি না তা বিশ্বাস করা, ইহাতে বিশ্বাস এইজন্য কেন না ঈশ্বর ইহা বলেছেন। ঈশ্বরের উপরে আমাদের যে নির্ভরতা তাকেই বলা হয় বিশ্বাস।

ঈশ্বর বলেন, ‘তোমরা যীশুখ্রীষ্টে বিশ্বাস কর, তাহলেই পরিত্রাণ লাভ করবে’। (প্রেরিত ১৬ঃ৩১)। কিন্তু কেউ যদি বলে, ‘আমি তো যীশুকে দেখতে পাচ্ছি না, আমি তো তাঁকে অনুভব করতে পাচ্ছি না, কি ভাবে আমি তাঁর উপরে বিশ্বাস করতে পারি’? আপনি বাস্তব সম্মত প্রমাণ চান। আপনি যীশুকে দেখতে চান এবং তাঁকে অনুভব করতে চান। অতি অবশ্যই আপনাকে যীশুর উপরে বিশ্বাসেই নির্ভর করতে হবে। ‘যাহা দেখা যাইতেছিল না সেই বিষয়ে’ কেহ বিশ্বাস করিলেন, আর ঠিক সেই ভাবে আপনাকেও বিশ্বাস করতে হবে তাঁর উপরে যাকে আপনি দেখেন নি। বাইবেল বলে,

“কিন্তু বিশ্বাসে প্রীতির পাত্র হওয়া কাহারও সাধ্য নয়; কারণ যে ব্যাক্তি ঈশ্বরের নিকটে উপস্থিত হয়, তাহার ইহা বিশ্বাস করা আবশ্যক জে ঈশ্বর আছেন এবং যাহারা তাঁহার অণ্বেষন করে তিনি তাহাদের পুরষ্কার দাতা” (হিব্রুজ ১১:৬)

৩. তৃতীয়, নোয়াহ-র বিশ্বাসের হেতু।

পাঠ্যাংশ বলে, ‘বিশ্বাসে নোয়াহ যাহা তখন দেখা যাইতেছিল না এমন বিষয়ে আদেশ পাইয়া ভক্তিযুক্ত ভয়ে আবিষ্ট হইয়া...’। নোয়াহ ভয় পেয়েছিলেন। ঈশ্বর তাকে যখন সেই মহা প্লাবণের কথা বলেন তাহা নোয়াহ-কে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল। আর তাই তিনি ‘ভক্তিযুক্ত ভয়ে আবিষ্ট হলেন’। ডাঃ ডিহান বলেছেন, ‘মানুষ স্বীকার করুক বা না, সমস্ত মানুষই মৃত্যুকে ভয় পান। আমি লোকদের আত্মশ্লাঘা এবং গর্ব করতে, ঠাট্টা বিদ্রুপ এবং অভিশাপ দিতে ও ঈশ্বরের ও ধর্মের প্রতি হাসতে দেখেছি; এবং তারা যখন অনন্ত কালীন বিষয়ের প্রতি সম্মুখীন হোন সেখানে তাদের আমি চাপড় মারা কুকুর ছানার মতো ভয়ে ঘ্যান ঘ্যান করে কাঁদতেও দেখেছি। যে কোন ব্যাক্তি যাদের মধ্যে সুস্থ মন রয়েছে তারা যেন ভবিষ্যতের সেই প্রকার কিছু ভয় ও ঈশ্বরের প্রকোপ রয়েছে তা যেন তারা অনুভব করে ও জানে। হ্যাঁ, ঈশ্বরের ভয়ে অভুযুক্ত হয়ে পরিত্রাণ লাভ করার অণ্বেষণ করতে শুরু করলেন’। (ইবিড পৃ. ১৮০)।

বাইবেল বলে হারিয়ে যাওয়া পাপীদের জন্যে একটি নরক সেখানে অপেক্ষা করছে। তাই বাইবেল বলে,

“আর যেমন মনুষ্যের নিমিত্ত একবার মৃত্যু, তৎপরে বিচার নিরুপিত আছে” (হিব্রুজ ৯:২৭)

আপনি যে ঈশ্বরের প্রকোপে ভয় পান তা স্বীকার করুন আর পরিত্রাণ লাভ করার জন্য যীশুর কাছে ছুটে আসুন। ডাঃ ডিহান বলেছেন, ‘যদি কোন ব্যাক্তি কিছু প্রকার উপাদান ছাড়া পরিত্রাণ লাভ করে তাহলে তাকে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়’। (ইবিড)।

৪.চতুর্থ, নোয়াহ-র বিশ্বাসের অনুশীলন।

আমাদের পাঠ্যাংশ বলে, ‘বিশ্বাসে নোয়াহ যাহা যাহা তখন দেখা যাইতেছিল না, এমন বিষয়ে আদেশ পাইয়া ভক্তিযুক্ত ভয়ে আবিষ্ট হইয়া....ত্রাণার্থে এক জাহাজ নির্মাণ করিলেন...’। নোয়াহ-র যে বিশ্বাস তা কার্য্যে পরিণত হল। প্রকোপের বিষয়ে মানসিক দিক দিয়ে বিশ্বাস করাটাই যথেষ্ঠ নয়। আপনাকে ইহার উপরে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে। আপনি কি বাইবেল বিশ্বাস করেন? আপনি কি বিশ্বাস করেন যে যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা অনুতাপ সহকারে যীশুর প্রতি ফিরে না আসে সেই সমস্ত পাপীদের ঈশ্বর শান্তি দেবেন? আপনি হয়তো সেই সমস্ত কিছুতে বিশ্বাস করলেও আবার হারিয়ে যেতে পারেন, কেননা এর উপরে আপনাকে যীশু খ্রীষ্টের উপরে ব্যাক্তিগত ভাবে বিশ্বাস করার মধ্য দিয়েই প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে। লোকেরা প্রায় সময়ে বলে থাকে, ‘পরিত্রাণ বা উদ্ধার লাভ করার জন্য আপনার কোন কিছু করার দরকার নেই’। কিন্তু এর উল্টোটাই অত্যন্ত ভাবে সত্য। ‘হারিয়ে যাওয়ার জন্য আপনাকে নিজে থেকে কিছুই করতে হবে না’! যীশু বলেছেন, ‘জে বিশ্বাস করে না, সে ইতিমধ্যেই দোষী সাব্যস্ত হয়ে গিয়েছে’। (যোহান ৩:১৮)। আপনি ইতিমধ্যেই দোষী সাব্যস্ত হয়ে হারিয়ে গিয়েছেন। কারা রক্ষক যখন পলকে বললেন, ‘তুমি ও তোমার পরিবার যীশুতে বিশ্বাস কর, আর তাহলেই তুমি পরিত্রাণ পাইবে’। (প্রেরিত ১৬:৩১)। আপনি কি বিশ্বাসের দ্বারা যীশুর উপরে নির্ভর করেছেন? পরিত্রাণ লাভ করার জন্য আপনি কি পরিত্রাতার কাছে এসেছেন?

৫.পঞ্চম, নোয়াহ-র বিশ্বাসের সুযোগ।

আমাদের পাঠ্যাংশ বলে, ‘বিশ্বাসে নোয়াহ যাহা যাহা দেখা যাইতেছিল না, এমন বিহশোয়ে আদেশ পাইয়া ভক্তিযুক্ত ভয়ে আবিষ্ট হয়ে আপনার পরিবারের ত্রাণার্থে এক জাহাজ নির্মাণ করিলেন....’। নোয়াহ একা পরিত্রাণ লাভ করে পরিতৃপ্ত ছিলেন না। তিনি আবার তার নিজের পরিবারের জন্যও অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন, যেন তার পরিবারও পরিত্রাণ ও উদ্ধার পায় আর তাই সেই জাহাজের মধ্যে তিনি তাদের জন্য ঘর তৈরী করলেন। ‘তার পরিবারকে উদ্ধার করার জন্য তিনি একটি জাহাজ প্রস্তুত করিলেন’। ডাঃ ডিহান বলেন, (প্রকৃত উদ্ধার লাভের) ইহা হল নিশ্চিত ও অকাট্য এক প্রমাণ। যখন কোন ব্যাক্তি সত্য সত্যই পরিত্রাণ লাভ করেন তখন তিনি অন্যের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন যার সূচনা হয় তার নিজের বাড়ি থেকেই...। আমি কতো ভাবেই এই বিষয়ে লক্ষ্য করেছি অতি সত্বর কোন ব্যাক্তি যীশুকে গ্রহণ করার পরেই তিনি তার পরিবারে বাবা, মা, বালক ও বালিকাদের বিষয়ে ঊদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমি আমার মা ও বাবাকে এই সিদ্ধান্তের প্রতি নিয়ে আসতে পারছি আমি বিশ্রাম নেবো না, এই ভাবেই একজন ব্যাক্তি খ্রীষ্টকে গ্রহণ করার পরেই নতজানু অবস্থা থেকে চিৎকার করে উঠলেন। এই নিয়মের দ্বারা আপনি নিজেকে পরীক্ষা করুন। আর ইহাই আপনার আত্মিক জীবনের গভীরতা ও বাস্তবাওতাকে প্রকাশ করে দেবে...। হ্যাঁ, নোয়াহ, তার পরিবারকে উদ্ধার করার জন্য ‘একটি জাহাজ তৈরী করেছিলেন’। (ইবিড পৃ. ১৮১-১৮২)।

৬.ষষ্ঠ, নোয়াহ-র বিশ্বাসের সাক্ষ্য।

পাঠ্যাংশ বলে, ‘বিশ্বাসে নোয়াহ... এক জাহাজ নির্মাণ করিলেন আর তার দ্বারা তিনি জগৎকে দোষী করিলেন’। জাহাজ নির্মাণের যে কাজটা তা ছিল নোয়াহ-র পরিত্রাণের জন্য। কিন্তু ইহা আবার অবিশ্বাসী জগতের কাছেও এক সাক্ষ্য ছিল। বাইবেল নোয়াহ-কে ধর্মপ্রচারের অষ্টম ব্যাক্তি বলে আখ্যা দেন’( ২-য় পীটার ২ঃ৫)। দিনের পর দিন নোয়াহ লোকেদের কাছে আসন্ন বিচারের মহা প্লাবনের সম্বন্ধে প্রচার করেছিলেন। দিনের পর দিন নোয়াহ লোকেদের অনুনয় করেছিলেন অনুতাপ করে পরিত্রাণ লাভ করার জন্য। নোয়াহ-র প্রচার এমনকি জাহাজ নিজে থেকেই সেই দিনে সেই লোকেদের কাছে এক সাক্ষ্য স্বরুপ ছিল। ইহা খুবই সত্য, নোয়াহ-র প্রচারের দ্বারা অন্য আর কেউ নয়, কিন্তু তার পরিবার রুপান্তরিত হয়ে ছিলেন। কিন্তু আমাদের সাক্ষ্যের দ্বারা কতজন লোক উদ্ধার ও পরিত্রাণ লাভ করলেন সেই বিষয়ে ঈশ্বর ততোটা উদ্বেগ প্রকাশ করেন না কিন্তু তিনি চান যেন পাপে পূর্ণ হারিয়ে যাওয়া জগতের কাছে আমরা সাক্ষ্যকে বহন করি। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় যখন পুণরায় খোলে তখন আমি বিশ্বাস করি আপনাদের মধ্যে অঙ্কেই আত্মা জয় করার বিষয়টা মনের মধ্যে নিয়ে যাবেন ও তাদের কাছে ফোন কয়ারা জন্য তাদের নাম ও ফোন নাম্বার নিয়ে আসবেন। সেই সঙ্গে সুসমাচার শোণার জন্য আপনার হারানো স্বজন ও বন্ধু বান্ধবদের প্রতি সপ্তাহে মন্ডলীতে নিয়ে আসুন।

৭.সপ্তম, নোয়াহ-র বিশ্বাসের পুরষ্কার।

নোয়াহ-র বিশ্বাসের লক্ষ্যণীয় অন্যান্য বিষয় গুলি অবশিষ্ট ছিল। আমরা তার বিশ্বাসের ভিত্তি, প্রকৃতি, মনোভাব, অনুশীলন, সুযোগ এবং সাক্ষ্যের বিষয়ে লক্ষ্য করেছি। এখন আমরা শেষ বা সপ্তমে এসে হাজির হয়েছি, যা হল, বিশ্বাসের পুরষ্কার। পাঠ্যাংশ বলে,

“বিশ্বাসে নোয়াহ, যাহা যাহা দেখা যাইতেছিল না, এমন বিষয়ে আদেশ পাইয়া অভিযুক্ত ভয়ে আবিষ্ট হইয়া আপন পরিবারের ত্রাণার্থে এক জাহাজ নির্মাণ করিলেন এবং তদ্বারা জগৎকে দোষী করিলেন ও আপনি বিশ্বাসানুরুপ ধার্মিকতার অধিকারী হইলেন” (হিব্রুজ ১১:৭)

নোয়াহ কোন পাপহীন ব্যাক্তি ছিলেন না। ঠিক অন্য সকলের মতোই তিনি ছিলেন হারানো এক পাপী। কিন্তু খ্রীষ্টের ধার্মিকতা তার মধ্যে স্থাপিত হল কেননা তিনি জাহাজের বিষোয়ে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস করলেন। মনে রাখবেন এই জাহাজটি ছিল খ্রীষ্টের এক প্রতীক। খ্রীষ্ট সম্বন্ধে ঈশ্বর নোয়াহ-কে যা বলেছিলেন তা তিনি বিশ্বাস করছিলেন। আপনাকে যেমন ভাবে খ্রীষ্টের কাছে আসার প্রয়োজন ঠিক তেমনি নোয়াহ-ও জাহাজের মধ্য এপ্রবেশ করেন। তাকে ও তার পরিবারকে উদ্ধার করার জন্য জাহাজের যে ভারসাম্য হবে তার প্রতি নোয়াহ-কে বিশ্বাস করে ঝুঁকি নিতে হয়েছিল। আর তাই আপনার ও আপনার আত্মার যাতে উদ্ধার হয় তার জন্য আপনাকে তদ্রুপ ঝুঁকি নেবার প্রয়োজন অবশ্যই রয়েছে। নোয়াহ যেমন জাহাজের মধ্যে এসেছিলেন আপনাকেও তদ্রুপ খ্রিষ্টের মধ্যে, তাঁর কাছে আসতে হবে। নোয়হ যেমন বিশ্বাস করেছিলেন এবং জাহাজের উপরে নির্ভর করেছিলেন তেমনি আপনাকেও খ্রিষ্টের প্রতি বিশ্বাস করতে হবে।

দরজা যখন পর্যন্ত খোলা রয়েছে তখনই আপনাকে খ্রীষ্টের কাছে আসতে হবে। সেই জাহাজেরকেবল মাত্র একটিই দরজা ছিল। সেই দরজা বন্ধ হলে পর সমস্ত আশাই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে! সুরক্ষা লাভ করার জন্য লোকেরা অন্য একতা জাহাজ নিতে পারবে না; কেননা সেখানে তো আর অন্য কোন জাহাজ নেই! ডা; ডিহান বলেছেন, ‘ আমি নিশ্চিত, কেননা বৃষ্টি যখন শুরু হল, এবং বিদ্যুৎ চমকাতে শুরু করলো, এবং বাজ পড়তে শুরু করলো, সেই সঙ্গে জল বাড়তে লাগলো আর তখন সেখানে অন্য আর একটি জাহাজ নেই। তারা তো ইতিমধ্যেই সেই জাহাজটি ছেড়ে দিয়েছে। তারা একদিন করে বহুদিন অপেক্ষা করেছে....(প্লাবন যখন ধীরে ধীরে বেড়েছে, কি আতঙ্কই না তখন তাদের মধ্যে) ভয় এবং মৃত্যু আশঙ্কা তাদের ঘিরে ধরেছে! সেই দিন সেই জাহাজের গায়ে কি প্রকার বিলাপ ও কান্নাই না হয়েছিল। কি বিভৎস, চুরমার করা অধৈ্য্যই না তাদের হতে হয়েছিল সেই জাহাজটিকে ঘিরে যাকে তারা অবমাননা করেছিল! (কিন্তু তাদের সেই কাকুতিতে কোন কাজই হয়নি)। জাহাজের দরজা বন্ধ হয়ে গিয়েছে! তারা এখন জাহাজটি হারিয়েছে! (ইবিড পৃ. ১৮৩-১৮৪)। ইহা যেন বড্ড দেরী হয়ে গিয়েছে!

যীশু বলেছেন, ‘বাস্তবিক নোয়াহ-র সময়ে যেরুপ হইয়াছিল, মনুষ্য পুত্রের আগমনও তদ্রুপ হইবে। কারণ জল প্লাবনের সেই পূর্ব্ববর্ত্তী কালে, জাহাজে নোয়াহ-র প্রবেশ দিন পর্যন্ত লোকে যেমন ভোজন ও পান করিত, বিবাহ করিত ও বিবাহিতা হইতো এবং বুঝিতে পারিল না যাবৎ না বন্যা আসিয়া সকলকে ভাসাইয়া লইয়া গেল তদ্রুপ মনুষ্য পুত্রের আগমন হইবে (ম্যাথুজ ২৪:৩৭-৩৯)।আমাদের কাছে সমস্ত চিহ্নই ইঙ্গিত করছে যে আমরা সেই সময়ে বসবাস করেছি “ঠিক” যেমন ভাবে নোয়াহ-র সময়ে ছিল’। অন্যরা যখন জীবনে বস্তুবাদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে তখন আমি আপনাকে বলছি অনুতাপ করে যীশুর কাছে আসুন কেননা উদ্ধার ও পরিত্রাণ লাভ করাটা তখন হয়তো আরো দেরী হয়ে যাবে—চিরকালের মতোই, বড্ড দেরী হইয়ে যাবে! মিঃ লী, অনুগ্রহ করে আমাদের প্রার্থনায় এগিয়ে যাবেন!

সংবাদের পরিসমাপ্তি
ডাঃ হাইমার্সের সংবাদ আপনি প্রতি সপ্তাহে ইন্টারনেটের মাধ্যমে
www.realconversion.com এই সাইটে পড়তে পারেন। ক্লিক করুন “সংবাদের হস্তলিপি”

You may email Dr. Hymers at rlhymersjr@sbcglobal.net, (Click Here) – or you may
write to him at P.O. Box 15308, Los Angeles, CA 90015. Or phone him at (818)352-0452.

সংবাদের আগে শাস্ত্রের যে অংশ পাঠ করা হয়েছে, তা করেছেন ডাঃ ক্রিঘটন এল.চানঃ ম্যাথুজ ২৪:৩৭-৪২
সংবাদের আগে একক সংগীত গেয়েছেন মিঃ বেঞ্জামিন কিন গেইড গ্রীফিথ ঃ
“বিশ্বাসই হল সেই বিজয়” (by John H. Yates, ১৮৩৭-১৯০০)


খসড়া চিত্র

নোয়াহর বিশ্বাস

লেখকঃ ডাঃ আর.এল.হাইমার্স,জুনি.

“বিশ্বাসে নোয়াহ, যাহা যাহা দেখা যাইতেছিল না, এমন বিষয়ে আদেশ পাইয়া অভিযুক্ত ভয়ে আবিষ্ট হইয়া আপন পরিবারের ত্রাণার্থে এক জাহাজ নির্মাণ করিলেন এবং তদ্বারা জগৎকে দোষী করিলেন ও আপনি বিশ্বাসানুরুপ ধার্মিকতার অধিকারী হইলেন” (হিব্রুজ ১১:৭)

১.  প্রথম, নোয়াহ-র বিশ্বাসের ভিত্তি।
হিব্রুজ ১১:৭ এ; ১; এফেসিয়ানস ২:৮ ২. দ্বিতীয়, নোয়াহ-র বিশ্বাসের
প্রকৃতি। হিব্রুজ ১১:৭ বি; আদি পুস্তক ২ঃ৫,৬; প্রেরিত১৬ঃ৩১;
হিব্রুজ ১১:৬

৩.  তৃতীয়, নোয়াহ-র বিশ্বাসের হেতু। হিব্রুজ ১১:৭ সি; ৯:২৭

৪.  চতুর্থ, নোয়াহ-র বিশ্বাসের অনুশীলন।
হিব্রুজ ১১:৭ ডি; জন ৩:১৮; প্রেরিত ১৬:৩১

৫.  পঞ্চম, নোয়াহ-র বিশ্বাসের সুযোগ। হিব্রুজ ১১:৭ ই
৬. ষষ্ঠ, নোয়াহ-র বিশ্বাসের সাক্ষ্য। হিব্রুজ ১১:৭ ই; ২-য় পীটার ২:৫

৭.  সপ্তম, নোয়াহ-র বিশ্বাসের পুরষ্কার। হিব্রুজ ১১:৭ জি; ম্যাথুজ ২৪:৩৭-৩৯