Print Sermon

এই ওয়েবসাইটের উদ্দেশ্য হল ধর্ম্মোপদেশের পান্ডুলিপি এবং ধর্ম্মোপদেশের ভিডিওগুলি বিশ্বব্যাপী পালক ও মিশনারিদের বিনামূল্যে সরবরাহ করা, বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বে, যেখানে ধর্ম্মতত্ত্বমূলক সেমিনারী বা বাইবেল স্কুল থাকলেও খুব কম রয়েছে|

এই সমস্ত প্রচারের পান্ডুলিপি এবং ভিডিওগুলি এখন www.sermonsfortheworld.com ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতি মাসে 221টিরও বেশি দেশের প্রায় 1,500,000 কম্প্যুটারে যায়| শত শত লোক ইউটিউবের ভিডিওর মাধ্যমে এগুলি দেখেন, কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই তারা ইউটিউব ছেড়ে বেরিয়ে যান এবং আমাদের ওয়েবসাইটে চলে আসেন| ইউটিউব আমাদের ওয়েবসাইটে লোক এনে দেয়| প্রচারের এই পান্ডুলিপিগুলি প্রতি মাসে 39টি ভাষায় প্রায় 120,000 কম্প্যুটারে প্রচারিত হয়| প্রচারের পান্ডুলিপিগুলি গ্রন্থসত্ত্ব দ্বারা সংরক্ষিত নয়, কাজেই প্রচারকগণ আমাদের অনুমতি ছাড়াই এইগুলি ব্যবহার করতে পারেন| মুসলিম এবং হিন্দু রাষ্ট্রসমেত, সমগ্র পৃথিবীতে সুসমাচার ছড়িয়ে দেওয়ার এই মহান কাজে সাহায্য করার জন্য কিভাবে আপনি একটি মাসিক অনুদান প্রদান করতে পারেন তা জানতে অনুগ্রহ করে এখানে ক্লিক করুন|

যখনই আপনি ডঃ হেইমার্‍সকে লিখবেন সর্বদা তাকে জানাবেন যে আপনি কোন দেশে বাস করেন, অথবা তিনি আপনাকে উত্তর দিতে পারবেন না| ডঃ হেইমার্‌সের ই-মেল ঠিকানা হল rlhymersjr@sbcglobal.net |




স্ব-পক্ষত্যাগী

THE APOSTASY
(Bengali)

লেখকঃ ডাঃ আর এল হাইমার্স, জুনি.
by Dr. R. L. Hymers, Jr.

২৯-শে ডিসেম্বর,২০১২ সালে সদাপ্রভুর একটি দিনে শণিবারের সন্ধ্যায় লস এঞ্জেলেসের
ব্যাপটিস্ট ট্যাবারনেকেলে একটি উপদেশ প্রচারিত হয়েছিল
A sermon preached at the Baptist Tabernacle of Los Angeles
Saturday Evening, December 29, 2012

“কেহ কোন মতে যেন তোমাদিগকে না ভুলায়; কেননা প্রথমে সেই ধর্মভ্রষ্টতা উপস্থিত হইবে এবং সেই পাপ পুরুষ, সেই বিনাশ সন্তান প্রকাশ পাইবে” (২-য় থেসালনিয়ান্স ২:৩)


‘সেই দিন’ নির্দেশ করে ‘সদা প্রভুর দিনের বিষয়ে’। খ্রীষ্ট যে পুণরায় ফিরে আসবেন এই বিষয়ে থেসালনিয়ান্সরা উদ্বিগ্ন ছিলেন না। তিনি যে এখন পর্যন্ত ফিরে আসেন নি এটা তারা জানতো। কিন্তু সদাপ্রভুর আগমনের প্রথমের অংশ বা দিকটি যে ইতিমধ্যে এসে গিয়েছে তাতে তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন কেন না তারা ইতিমধ্যেই দুঃখ কষ্টের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। নিদারুণ যে তাড়না ও যন্ত্রণা রোম সম্রাটের কাছ থেকে তারা অনুভব করেছিলেন তা তাদের কাছে যেন ঠিক দুঃখ কষ্ট ও ক্লেশ বলে মনে হয়েছিল। তারা এতোটাই ভয় পেয়ে গেছিলেন, কেন না শেষ সময়ে বা শেষ কালে ঈশ্বরের যে অভিশাপ তা যেন ইতিমধ্যেই আরম্ভ হয়ে গিয়েছে। এখন, আমাদের এই পাঠ্যাংশে প্রেরিত পল ব্যাখা করে দেন জে কেন তারা ক্লেশ বা দুঃখকষ্টের সময়ে জীবন যাপন করবে না। প্রথমত দুটি ঘটনা অবশ্যই ঘটবে। উইলিয়াম ম্যাকডোনাল্ড বলেন,

      প্রথমে সেখানে বিশ্বাসের পতন দেখা দেবে বা বিশ্বাস থেকে দূরে চলে যাবার মতো অবস্থা হবে। এর অর্থ তাহলে কি? ইহা নির্দেশ করে খ্রীষ্টিয়ান বিশ্বাস থেকে ব্যাপক ভাবে পরিত্যাগ করা, খ্রীষ্টিয় বিশ্বাসের ইতিবাচক এক প্রত্যাখান।
      এর পরে জগতের মধ্যে খ্যাতনামা ব্যাক্তির উত্থান হবে। চারিত্রিক দিক দিয়ে তিনি হবেন ‘অরাজাতক বাক্তি’ আর সেটাই হবে পাপ ও বিদ্রোহ পরিত্যাগকারী ব্যাক্তি।
      (William Macdonald, Believer’s Bible Commentary, Thomas Nelson Publishers, 1995 edition, p. 2053; comments on II Thessalonians 2:1-3).

‘অরাজাতক ব্যাক্তি’ নির্দেশ করে খ্রীষ্টের বেশধারণকারী ব্যাক্তির প্রতি, যে হবে এই জগতের চূড়ান্ত নায়ক। আর তাই প্রেরিতেরা আমাদের কাছে দুটো বিষয়ে বলে থাকেন সেই ক্লেশ বা যাতনা আরম্ভ হওয়ার আগে – একটা হল ধর্ম পরিত্যাগ এবং খ্রীষ্টের বেশধারণকারী ব্যাক্তির প্রকাশ। এই সংবাদের মধ্যে সর্বপ্রথমে আমি আমি আদান প্রদান করবো—ধর্ম পরিতাগের বিষয়ে বা বিশ্বাস থেকে সরে পড়ার বিষয়ে। ‘প্রথমতঃ যতক্ষণ পর্যন্ত না সেখানে পতন দেখা দিচ্ছে’ ততক্ষণ পর্যন্ত সদাপ্রভুর আগমন হবে না। ডাঃ ডব্লুউ. এ. ক্রিসওয়েল বলেন,

‘ধর্মভ্রষ্টতা বা ধর্মপরিত্যাগ’ বলে যে শব্দগুচ্ছ তাকে ‘ধর্ম থেকে দূরে সরে পড়া বা বিচ্ছিন্ন’ হওয়ার সঙ্গে অনুবাদ করা যেতে পারে। এই প্রসংগটি ব্যবহার করা ইঙ্গিত প্রদান করে যে পলের মনের মধ্যে এক নির্দিষ্ট ভাবেই ধর্ম পরিত্যাগ করার বিষয় চিল। এর যে প্রয়োগ তা হল ‘সদাপ্রভুর দিনের আগে’ আনুগত্য প্রবল বিশ্বাসীদের মধ্যে ধর্মপরিত্যাগ করার বিষয়টিকে এক চিহ্ন হিসাবে নির্দিষ্ট হয়েছে। (ডব্লুউ.এ.ক্রিসওয়েল, Ph.D., The Criswell Study Bible, Thomas Nelson Publishers, 1979; note on II Thessalonians 2:3).

খ্রীষ্টিয়ানদের যুগে ধর্মভ্রষ্টতার প্রসঙ্গে সেখানে বেশ কিছু সময়ের মধ্য দিয়ে তাদের যেতে হয়েছে অথবা তাদের অবসাদের মধ্যে থাকতে হয়েছে। কিন্তু সেখানে এমন একটা সময় আসে নি যেখানে তাদের সম্পূর্ণ ভাবে গ্রাস করা হয়েছে , তা মুখ্যত এই আধুনিক সময় পর্যন্ত খ্রীষ্টিয়ান বিশ্বাসের ধারাবাহিক ভাবে ধর্মভ্রষ্ট হয়ে থাকতে হয়নি। (ম্যাকডোনাল্ড, ইবিড)। আজকে যত প্রোটেসট্যান্ট প্রতিষ্ঠান রয়েছে তারা হলেন ধর্মভ্রষ্টতার এক প্রহেলিকা মাত্র। ‘আজকের ধর্মভ্রষ্টতার বিষয়ে’ আমরা আমাদের বইয়েতে যেভাবে তথ্য কেন্দ্রীভুত করেছি সেই দিক দিয়ে এটা মেথডিস্ট স্কুল এবং প্রতিষ্ঠান সমূহ, সেই সঙ্গে লুথেরানস, প্রধান প্রেস বাইটেরিয়ান দল, এপিস্কোপালিয়ানস এবং বহু ব্যাপটিস্টদের কাছেও এটা খুবই সত্য বিষয়। (Hearthstone Publishing, 1999; second edition 2001). এমন কি রোমান ক্যাথলিক মন্ডলীর মধ্যেও ধর্মভ্রষ্টতার উদারতা বিস্তার লাভ করছে যেখানে পোপ নিজেই এখন সম্পূর্ণ ভাবে ডারুইনের বিবর্তন প্রক্রিয়াকে আলিঙ্গন করেছেন। ডাঃ হ্যারল্ড লিন্ডসেল মন্ডলীর মধ্যে সেই ধর্মভ্রষ্টতার বিষয়ে বিশদ ভাবে চিহ্নিত করে তার প্রমাণ দেখিয়েছেন ‘বাইবেলের জন্য যে যুদ্ধ’ সেই বইয়ের মধ্যে (Zondervan, 1976). এই বিয়ের মধ্যে যে সমস্ত অধ্যায় শিরোনাম করা হয়েছে যা ধর্মভ্রষ্টতার বিষয়ে যে আচরণ সেটাকেই অন্তর্ভুক্ত করে।

লুথারেন চার্চ – মিসৌরী সিনোদ,
সাউদার্ণ ব্যাপটিস্ট কনভেনশান
ফুলার থিওলজিকাল সেমিনারী
অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সমূহ এবং সেই সঙ্গে প্যারা চার্চের দল সমূহ।

গর্ডন কনওয়েল থিওলজিকাল সেমিনারীর ঐতিহাসিক এবং ধারাবাহিক ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপক ডাঃ ডেভিড এফ. ওয়েলস এই প্রকার শিরোনামের উপরে সুসমাচারের মধ্যে জে ধর্মভ্রষ্টতা সেই বিষয়ে বেশ কিছু বই লিখেছেন যাদের নাম এই প্রকার, God in the Wasteland, Losing our Virtue, and No Place for Truth: or Whatever Happened to Evangelical Theology? টাইম ম্যাগাজিন ডাঃ ওয়েলসের বই গুলিকে বলে, ‘সুসমাচারে ধর্মতত্ত্বমূলক দূর্নীতির এক অভিযোগকারী বিষাক্ত হুল’। ‘সত্যের জন্য কোন স্থান নেই’ –এ ডাঃ ওয়েলস বলেন,

খ্রীষ্টিয়ান সত্যতার বাক্য যখন ভেঙে পড়ে তখন তার পরিণাম হয় ব্যাবহারিক নাস্তিকতাবাদে, আর ইহা উদারমানা বা মৌলিক যারা জে কোন ভাবে ইহার প্রতি অত্যন্ত ব্যাস্ত থাকে। ইহা হল এমন এক নাস্তিকতাবাদ যা প্রসঙ্গত যে সেবামূলক বিষয় ইহা উৎসর্গ করে বা উত্তম এক প্রকার অনুভব শক্তি যা একজন পরিচর্যাকারী তা উৎপাদন করে সেই দিক দিয়ে ইহা মন্ডলীকে অবস্তুর ন্যায় গ্রাস করে তোলে – সাহায্যকারী অধিকারের থেকে “তা সামান্য হ্রাস করে তোলে – এখানে আমাদের জন্যে যেটুকু থাকে তা হল কেবল ভাবানুভুতি... যা কোন প্রকার বিচার না রেখেই কেবল শুনতে চায়- যার মধ্যে থাকে সত্য জানার সামান্য আসক্তি যেটা একপ্রকার অনুবেদনা প্রবণ কিন্তু প্রকৃত ভাবে যেটা সত্য তার প্রতি কোন আবেগই নেই।” (পৃ. ২৪৮,২৪৯)

তিনি আবার বলেন,

“আধুনিকতার সুবিধা জনক অবস্থায় এক দীর্ঘকালীন প্রক্রিয়া সুসমাচার প্রচারমূলক যে জগৎ তা ইহার মধ্যে যে আমূল সংস্কার মূলক মতবাদ রয়েছে তা হারিয়েছে। করুণভাবেই বলতে হয় ঈশ্বরের যে নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ততা সেই বিষয়ে ইহার পরম্পরাগত যে বোধশক্তি সেটাকে হারিয়েছে... মন্ডলীর কাছে এখন যেটার প্রয়োজন তা কেবল উদ্দীপনা নয় কিন্তু এক সংস্কার সাধন।” (ইবিড, পৃ. ২৯৫,২৯৬)

তিনি বলেন যে, বিশাল মন্ডলী সমূহ, উত্থানশীল মন্ডলী সমূহ এবং ক্রমবর্ধনশীলেরা এগিয়ে চলেছে, ‘উদারপন্থী খ্রীষ্টিয়ানিটির প্রতি আস্থা রেখে। যথা সময়ের মধ্যে সুসমাচার মূলক বিষয়ে উন্নত সন্তানেরা তারা সম্পুর্ণ রুপেই উদারপন্থী হয়েই প্রবাহিত হবে; আমার অনুভব ঠিক তাদেরই মতো হবে যাদের বিরুদ্ধে সুসমাচেরমূলক ঠাকুরদা বা পূর্ব পিতামহরা মৌলিক ভাবে প্রতিবাদ করেছিলেন’। (David F. Wells, Ph.D., The Courage to Be Protestant, Eerdmans Publishing Company, 2008, p. 2)। আমি তার সঙ্গে সহমত পোষণ করি, আর আমি মনে করি তাদের মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যে ‘সম্পুর্ণ ভাবে প্রবাহমান উদারপন্থীতে’ রুপান্তরিত। দৃষ্টান্ত অনুযায়ী রব বেল যেমন ভাবে অনন্তকালীন নরকের বিষয়ে সমালোচনা করেন যা অবিলম্বে হ্যারি ইমারসন ফসডিকের বইয়েতে চলে আসে যা আগেকার উদার মনোভাবাপন্ন বা সংস্কার মুক্তকারীদের কাছে চলে যায়। আর বেলের বইটি ফুলার থিওলজিক্যাল সেমিনারীর যে সভাপতি রয়েছেন সেখানে ইহা সম্পুর্ণ ভাবে অনুমোদন লাভ করে;

“কেহ কোন মতে যেন তোমাদিগকে না ভুলায়; কেননা প্রথমে সেই ধর্মভ্রষ্টতা উপস্থিত হইবে এবং সেই পাপ পুরুষ, সেই বিনাশ সন্তান প্রকাশ পাইবে” (২-য় থেসালনিয়ান্স ২:৩)

এখন আমরা প্রশ্নাতীত ভাবেই ধর্মভ্রষ্টতার যুগে বাস করছি।
কিন্তু এই ধর্মভ্রষ্টতা কি ভাবে উপস্থিত হল ? ডাঃ মার্টিন লয়েড-জোনস যখন এই কথা বলেন, তখন তিনি এই বিষয়ে যথার্থই বলেছিলেন,

আজকে খ্রীষ্টিয়ান মন্ডলীর মুখ্য বিষয় এবং জগতের সম্পূর্ণ অবস্থাকে দৃঢ ভাবে বিবৃতি করাতে আমার কোন দ্বিধা হয়না যা গত একশত বৎসর কাল ধরে মন্ডলীর চরিত্রগত ধর্মভ্রষ্টতার বিষয়ে সাংঘাতিক ভাবে উল্লেখ করেছে। (D. Martyn Lloyd-Jones, M.D., Revival, Crossway Books, 1987 edition, p. 55).

১৯৭০ সালের প্রারম্ভে ডাঃ লয়েড-জোনস বলেছিলেন, যে আজকে তাকে এই বিষয়ে যদি ইক্তি করতে হয় তবে তিনি বলবেন, ‘গত একশত পঞ্চাশ বৎসর কাল ধরে সাংঘাতিক ধর্মভ্রষ্টতা মন্ডলীর চরিত্রে বর্ধিষ্ণু হয়েছে’।

ধর্মভ্রষ্টতার যে মূল তাকে আমরা আলোক প্রাপ্তির সময়ের দিকে নিয়ে গিয়ে রেখাপাত করতে পারি। ডাঃ ফ্রান্সিস এ. সিফার (১৯১২-১৯৮৪)নির্দেশ করেন যে ফ্রেঞ্চ দার্শনিক ভলটেয়ার (১৬৯৪-১৭৭৮)-কে বলা হতো ‘আলোকপ্রাপ্তি বা আলোক প্রদানের পিতা’। ডাঃ সিফার বলেছেন,

আলোক প্রাপ্তির আকাশ কুসুম যে স্বপ্ন তাকে কেবল মাত্র পাঁচটি শব্দে বর্ণনা করা যেতে পারেঃ যুক্তি, প্রকৃতি, সুখ উন্নতি এবং স্বাধীনতা। ইহার চিন্তাধারা সম্পূর্ন ভাবেই পার্থিব। (Francis A. Schaeffer, D.D., How Should We Then Live?, original copyright 1976; Crossway Books reprinted edition 2005, p. 121).

আলোকপ্রাপ্তির চিন্তাধারাতে মানুষই চিল মুখ্য কেন্দ্র বিন্দু। ঈশ্বর এবং বাইবেলকে এই পটভুমির মধ্যে কল্পনা করা হয়েছে।

ধর্মভ্রষ্টরা নীতি বিসর্জন নিয়ে আমাদের এই যে অধ্যয়ন এই সময়ে তিন উপদেশকারী ব্যাক্তি উঠে আসেন আর তাদের তাৎপর্যতা অত্যন্ত ভাবেই গুরুত্বপূর্ণ। জোহান সেমলার (১৭২৫-১৭৯১), তিনি ছিলেন জার্মান ধর্মতত্ত্ববিদ যিনি বলেন ধর্মতত্ত্ববিদেরা যে ভাবে প্রতিক্রিয়া জানায় বিভিন্ন প্রকার সংস্কৃতি মূলক অবস্থার প্রতি তখন এই ধর্মতত্ত্ব ক্রমাগত উন্নত হয়ে পরিবর্তনের আকার ধারণ করে। এর পরিণাম স্বরুপ তিনি বলেন যে বাইবেলের মধ্যে বহু কিছু রয়েছে যা অনুপ্রাণিত হয় নি। বাইবেলের যা মূল্যবোধ তা প্রত্যেক স্বতন্ত্র ব্যাক্তির প্রতি বিচার্য্য বিষয় বলেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এইভাবে সেমলার বাইবেল ভিত্তিক উন্মোচনের উপরেই মানবীয় যুক্তিকে রাখেন ও বাইবেলের সমালোচনাকারী দরজাকে উন্মুক্ত করে দেন আর সেটাই দ্রুততর ভাবে জার্মানীদের প্রবাহের মধ্যে নিয়ে আসে এবং এই আধুনিক জগতে বাইবেল ভিত্তিক কত্তৃর্ত্বের ভিত্তিকে দূর্বল করে তোলে।

দ্বিতীয় ব্যাক্তিও ধর্মভ্রষ্টতা বা নীতি বিসর্জনের বিষয়ে বিকাশ সাধন করার ক্ষেত্রে এক মহত্ত্বর ভূমিকা পালন করেন যার নাম হল চার্লস ডারউইন ( ১৮০৯-১৮৮২)। ডারউইনের শিক্ষাগত জে ডিগ্রী বা মান তা কেবলমাত্র ধর্মতত্ত্বের উপরেই। কিন্তু তিনি সৃষ্টি সম্বন্ধে আদি পুস্তকের যে নথি সেই বিষয়ে জে বিশ্বাস তা পরিত্যাগ করেন এবং উন্নত করেন নিজের মতবাদ যাকে বলা হয় রুপান্তর সাধনকারী এক মুদ্রা যাকে সবিশেষে বিবর্তনবাদ বলেই জানা যায়। তাঁর যে বই সেখানে ‘The Origin of Species’ উন্নত করেন। পরবর্ত্তী সময়ে তিনি মানুষ তত্ত্ব সম্বন্ধে বিবর্তনমূলক মতবাদকে প্রয়োগ করেন ১৮৭১ খৃষ্টাব্দে যার নামকরণ হয় ‘The Descent of Man’। থমাস হাক্সলে (১৮২৯-১৮৯৫) ডারউইনের বিবর্তন মূলক মতবাদকে বিভিন্ন ভাবে বতর্কমূলক সভাতে প্রয়োগ করে খ্রীষ্টিয়ানিটিকে আক্রমণ করেন। ডারউইন এবং হাক্সলে শাস্ত্রের যে কর্তৃত্ত্ব এবং খ্রীষ্টিয়দের যে বিশ্বাস তার ভিতকে অত্যন্ত দূর্বল করে গেলেন।

উপদেশ দান করার বিষয়ে তৃতীয় ব্যাক্তির এই যে চিন্তাধারা যিনি ধর্মভ্রষ্টতা বা নীতি বিসর্জনের বিষয়টাকে স্বাভাবিক ভাবেই উপেক্ষা করেন তার নাম হল চার্লস জি ফিনি(১৭৯২-১৮৭৫)। প্রোটেস্ট্যান্টদের যে জাগরণ সেই সম্পর্কে ফিনি’র শিক্ষা খ্রীষ্টধর্মকে আক্রমণ করে এবং উদ্ধার ও পরিত্রাণের বিষয়টাকে ঈশ্বরের থেকে বরং মানুষের হাতেই ছেড়ে দেন। ফিনি শিক্ষা দেন যে মানুষ তার নিজের ইচ্ছার উপরে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সেই পরিত্রাণকে মনোনীত বা পরিত্যাগ করতে পারে। অতএব পরিত্রাণ বা উদ্ধার জে কেবল মাত্র অনুগ্রহের দ্বারা – নব জাগরণ কারীদের এই যে মহান মতবাদ সেটাকে ফিনি’র নতুন যুক্তিমূলক বক্তব্য বলে মানা হয়। তার সেই যে চিন্তা ধারা তা হল মানুষ নিজে থেকেই খ্রীষ্টিয়ান হওয়ার বিষয়টাতে সিদ্ধান্ত জানাতে পারে আর তিনি সেটা করতে পারেন তার নিজের ইচ্ছার উপরে ভিত্তি করে। ফিনি আর্মেনিয়ান ছিলেন না। তিনি ছিলেন পুরোদস্তুর Pelagianist. ফিনি’র পেলাজিয়ানিস্ট বিরুদ্ধচারী মতবাদ প্রসঙ্গত নব্জাগরণকারীদের অনুগ্রহের মধ্য দিয়ে উদ্ধার লাভের যে শিক্ষা তার স্থানান্তর ঘটিয়ে প্রোটেস্ট্যান্টদের ভিত্তিকে দূর্বল করে গেলেন। ফিনিতত্ত্বের এই পরাক্রমশালী যে শিক্ষা বাস্তবিকভাবে উচ্চমানের প্রটেস্ট্যান্টদের যে ধর্মতত্ত্ব তাকে আধুনিক সময়ে ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণ মূলক’ মতবাদের সঙ্গে স্থানান্তরিত করেন।

এখন আসুন আমরা দেখি কিভাবে ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণমূলক মতবাদ’ মন্ডলীকে উপেক্ষা করে এবং বর্তমান সময়ে ধর্মভ্রষ্টতা বা নীতি বিসর্জনের বিষয়টিকে উন্নত করে! তার লিখিত বই, Revival and Revivalism: The Making and Marring of American Evangelicalism 1750-1858, যেখানে ইয়ান. এইচ. মারে নির্দেশ করেন যে উনবিংশতিতম শতাব্দীতে চার্লস জি. ফিনি (১৭৯২-১৮৭৫) ‘সিদ্ধান্তগ্রহণমূলক’-র যে যুক্তি শিখিয়েছিলেন তা রুপান্তর মাধ্যমের পুরাতন যে চিন্তাধারা সেখান থেকে সুসমাচার প্রচারের ধারা অন্যদিকে ঘুরে গিয়েছে। মারে ঘোষণা করেন যে বিংশতিতম শতাব্দীর প্রারম্ভে পরিবর্তনমূলক বিষয়টা সুসমাচার মুলক বিষয়ে জনপ্রিয় চিন্তাধারার মধ্যে প্রায় সম্পূর্ন হয়ে ওঠে।

      রুপান্তর সাধনের সেই যে চিন্তাধারা যা কিনা মানুষের কাজ তা দেশীয় সুসমাচারে (যা কিনা সুসমাচারের সব থেকে প্রয়োজনীয় অংশ) পরিগণিত হয় আর ঠিক মানুষ যেমন করে ভুলেই গিয়েছিলেন পুণরায় জন্মগ্রহণ করাটা ঈশ্বরের কাজ তেমনই ভাবে উদ্দীপনাতে বিশ্বাস করাটা ঈশ্বরের আত্মার কাজ, তা অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। ইহা ছিল ফিনি’র ধর্মতত্ত্বের সুনির্দ্দিষ্ট এক কাজ। (Iain H. Murray, Revival and Revivalism: The Making and Marring of American Evangelicalism 1750-1858, Banner of Truth Trust, 1994, pp. 412-13).

মারের এই আবর্তনকালীন সময়ে এক গভিড় অন্তঃর্দৃষ্টি প্রদান করে। চতুঃর্দশ অধ্যায়টি ভালো ভাবে পড়া প্রয়োজন। সেখানে ‘সিদ্ধান্তগ্রহণ ক্ষমতা’ নিয়ে ফিনি’র নতুন যে মতবাদ রয়েছে তা রুপান্তর সাধন বিষয়ে পুরাতন যে চিন্তাধারা তা সুসমাচারমূলক ধর্মকে দূরে নিয়ে যাওয়ার সামান্য খসড়া তুলে ধরে। প্রোটেস্ট্যান্ট এবং ব্যাপটিস্টদের দ্বারা রুপান্তর সাধনের বিষয়টি যেভাবে পূর্ব থেকে শিক্ষা দেওয়া হয়েছিল তা ধীরে ধীরে ভুলে যাওয়া হয়েছিল। খ্রীষ্টের প্রতি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাটা যেন এক নিছক বিষয় ছিল, ব্যাক্তি বিশেষে যা করবে সেটাই ছিল সমস্ত কিছু। ‘এগিয়ে যাওয়া’, ‘হাত উর্দ্ধে ওঠানো’, ‘পাপীর প্রার্থনা বলা’, ‘খ্রীষ্টকে একজনের প্রভু বলে মানা’, ‘পরিত্রাণের পরিকল্পনা’ বিশ্বাস করা অথবা বাইবেলের কিছু পদ বলার বিষয়টা মানুষের হৃদয়ের মধ্যে সেটা যে ঈশ্বরের কাজ তা রুপান্তর সাধনের ক্ষেত্রে পরিবর্তন করে ফেলা হয়েছে।

রুপান্তরসাধন থেকে সিদ্ধান্তগ্রহণকারী ক্ষমতায় পরিবর্তিত হওয়ার বিষয়টাকে ফিনি যেমন ভাবে আক্রমণ করে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন তা অন্যদের দ্বারা বিশেষ ভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে। ডাঃ ডেভিড এফ. ওয়েলস, যিনি ছিলেন গর্ডন-কনওয়েল থিওলজি সেমিনারীর ইতিহাস ও ধারাবাহিক ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপক, তিনি বলেন, ‘রুপান্তর সাধনের বিষয়টা বোধগম্য করে তোমার যে বদল তার বিভিন্ন ধাপ বা পদক্ষেপ ছিল’। তিনি সেগুলো তাদের দিয়ে নির্দেশ করেন যে এই যে পরিবর্তন তা চার্লস ফিনির যে পরিচর্যা কাজ তার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত (David F. Wells, Ph.D., Turning to God: Biblical Conversion in the Modern World, Baker Book House, 1989, p. 93) । সাম্প্রতিক সময়ের ঐতিহাসিক ডাঃ উইলিয়াম জি.ম্যাকলাফলিন,জুনি. ‘চার্লস গ্র্যাণ্ডিসন ফিনি’র বিষয়ে বলেন, যিনি ১৮২৫-১৮৩৫ সালের মধ্যে আধুনিক উদ্দীপনাবাদের সৃষ্টি করেন’ (William G. McLoughlin, Jr., Ph.D., Modern Revivalism: Charles Grandison Finney to Billy Graham, The Ronald Press Company, 1959, p. 11) । সুসমাচার প্রচারকারী ধর্মতত্ত্ববিদ জে.আই.পেকার এই মত পোষণ করে সম্মতি প্রকাশ করেন ‘আধুনিক যুগে সুসমাচার প্রচার উদ্ভাবিত হয়েছে চার্লস জি. ফিনি’র দ্বারা ১৮২০ সালে’ (J. I. Packer, A Quest For Godliness, Crossway Books,1990,p.292)। রিচার্ড রেবিনোউইটজ ধর্মনিরপেক্ষ ঐতিহাসিকদের দৃষ্টিকোণ থেকে ফিনি’র সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা যে রুপান্তরবাদের পক্ষ থেকে বদলে গিয়েছে সেই বিষয়ে বলেন (Richard Rabinowitz, The Spiritual Self in Everyday Life: The Transformation of Personal Religious Experience in Nineteenth-Century New England, Northeastern University Press, 1989)। অন্যান্য প্রচারকেরাও এই বদলের মধ্যে অংশ নিয়েছিলেন কিন্তু কেবলমাত্র ইহা ছিলেন ফিনি যিনি পরিষ্কার ভাবে এই পথে পরিচালিত করেন।

বৃহত্তর ক্ষেত্রে এই সমস্ত লোকেরা যেমন ভাবে নির্দেশ প্রদান করেন সেই হিসেবে চার্লস জি. ফিনি’র লেখা এবং পরিচর্যা কাজের মধ্য দিয়ে রুপান্তরবাদ সিদ্ধান্ত গ্রহণের যে ক্ষমতা সেখানে পরিবর্তন আনে। ফিনি’র যে দৃষ্টান্ত তা আমেরিকার সুসমাচার প্রচারকারী মন্ডলীগুলোকে গ্রাস করে এবং পরবর্ত্তী সময়ে বিংশতীতম শতাব্দীতে ইহা ব্রিটিশ উপদ্বীপের মন্ডলীগুলোতে তা অনুপ্রবেশ করে। আজকে ইংরাজী ভাষার জগতে ইয়ান মারে’র যে উক্তি তা সম্ভবত ভাবেই বিশ্বজনীন হয়ে ঊঠেছে; ‘মানুষেরা ভুলে গিয়েছে যে পুণর্জন্ম লাভ করাটা হল ঈশ্বরের কাজ, তাই উদ্দীপনাতে বিশ্বাস করাটা যে ঈশ্বরের আত্মার কাজ তা প্রায় অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে’। এটা ছিল ফিনি’র ‘ধর্মতত্ত্বের সরাসরি এক ধর্মতত্ত্ব’। (Murray, Revival and Revivalism, পৃ.৪১২-৪১৩)। ডাঃ উইলিয়াম জি.ম্যাকলাফলিন,জুনি. যেমন ভাবে ইহাকে উল্লেখ করেছেন, ‘তিনি আমেরিকার সুসমাচার প্রচার অভিযানের যে উদ্দীপনা তার এক নতুন যুগের সূচনা করেছেন। তিনি সুসমাচার প্রচারের সমুদয় দর্শন ও প্রক্রিয়াকে রুপান্তরিত করে দিয়েছেন’। (McLoughlin, Modern Revivalism, p. 11) । আজকে আমরা এখন পর্যন্ত রুপান্তরসাধনের যে প্রভাব সেই বিষয় নিয়ে আদান প্রদান করছি। আমাদের চারপাশে ধর্মভ্রষ্টতা বা নীতি বিসর্জনের বিষয়টা প্রকাশমান যে ফিনি’র সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতার যে মতবাদ তা আমাদের বর্তমান দিনের যে সমস্ত মন্ডলী সমূহ রয়েছে তারও মৃত্যু ঘটিয়েছে।

ফিনি ছিলেন উপদেশ প্রদানকারী এক উৎপাদন মাত্র যা অষ্টাদশ শতাব্দীতে মানবতাবাদকে (জ্ঞানের উৎস হিসেবে মানুষের যুক্তি) দর্শন মূলক রামধনু বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। ব্যাবস্থার উপরে ব্ল্যাক স্টোনের যে ব্যাখা রয়েছে সেটাই ছিল মুখ্য লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য যার দ্বারা উপদেশ প্রদানকারী এই চিন্তাধারা ফিনি’র চিন্তার মধ্যে এসেছে। ফিনি’র যে ধর্মতত্ত্ব বই রয়েছে, তা প্রায় সম্পুর্ণ ভাবেই মানুষের যুক্তির উপরে আধারিত যেখানে এই উপদেশ দান করার কৃতজ্ঞতাকে তিনি দেখাচ্ছেন। ক্যান্ট(১৮০৪) এবং শিলেমেশার(১৮৩৪)-এর যুক্তি তা হল ধর্ম হল মানুষের ধর্মীয় অভিজ্ঞতার থেকে ধর্ম হল ঈশ্বরের বিষয়ে সামান্য বিষয় যা ফিনি’র ধর্মতত্ত্বে ও তত্ত্ববিদ্যার মধ্যে পাওয়া যায়। জি.ডাব্লু.এফ.হেজেল (১৮৩১) বলেন যে ঈশ্বর হলেন এক নৈর্বক্তিক শক্তি। এই চিন্তাধারা ও ফিনি’র লেখাতে পুণঃ পুণঃ উত্থাপিত হয়। তাই উপদেশ মূলক সেই প্রকার দর্শন ইমানুয়েল ক্যান্ট, ফ্রেডেরিখ শিলেমেশার এবং জি.ডাব্লু.এফ.হেজেল এই চিন্তাধারাকে সুদক্ষ সতেজ যুবকদের মনে প্রতিনিধিত্ব করার মধ্য দিয়ে ফিনি’র চিন্তাধারাকে ছেঁকে নেন। ফিনি’র সময়ে মানবাতার মুখ্যভাব এবং মানবীয় পর্যাপ্ততা বিজ্ঞমনা চিন্তার এক অঙ্গ হয়ে ওঠে আর তিনি এই চিন্তাধারার মধ্য দিয়ে এক বিরাট প্রভাব বিস্তার করেন। আর ইহা কেবল মাত্র বৃহত্তর ভাবে ফিনি সেই আলোকপ্রাপ্তিকে প্রটেস্ট্যান্ট তত্ত্বের ধরণাকে ভেদ করে কিন্তু ইহাকে নষ্ট করে ফেলে। ১৮৮৭-র প্রারম্ভে স্পারজিওন তাই বলতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, ‘আধুনিক ভাবে প্রচলিত ধর্মমতের কাছে সেই মন্ডলী গরম কাদা-মাটির অজস্র ধারায় কবর প্রাপ্ত হয়ে গিয়েছে’। (“The Blood Shed for Many,” The Metropolitan Tabernacle Pulpit, Pilgrim Publications, 1974 reprint, volume XXXIII, p. 374).

ফিনি’র সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সর্ব প্রথমে কংগ্রেসিয়ানালিস্টদের ধুলিসাৎ করে, এরপরে ম্যাথডিস্টরা ও তারপরে প্রেসবাইটেরিয়ানসরা ধুলিসাৎ হন, এরপরে তা প্রভাব ফেলে বিভিন্ন ব্যাপ্টিস্ট দলের কাছে। উদারপন্থী মনোভাব এই সমস্ত মন্ডলীগুলোর মৃত্যু ঘটায় নি। সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ক্ষমতা সম্পন্নেরাই তা করেছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পন্থীরাই উদারপন্থী মনোভাব উৎপন্ন করেছে। সাউদার্ন ব্যাপটিস্ট সেমিনারীতে উদারপন্থী প্রতিটি অধ্যাপক যাদের সঙ্গে আমি যোগদান করেছি তারা বেশ কিছু প্রকার সিদ্ধান্ত তৈরী করেছে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তগুলো তাদের কনভার্ট বা রুপান্তর করতে পারে নি—আর তাই তারা যখন ইহা অধ্যয়ন করে তখন তারা মাথাকে এই উদারপন্থী মতবাদের প্রতি ঢোকাতে চায়। সিদ্ধান্তগ্রহণকারী তত্ত্বই উদারপন্থী উৎপাদন করে, কেন না, একজন যিনি কনভার্ট নন, সেই ব্যাক্তি যদিও তিনি সিদ্ধান্ত নিলেও তিনি সাধারণ ভাবে বাইবেলের আত্মিক বিষয়গুলি বুঝে উঠতে পারেন না (cf.১-ম করিনথিয়ানস২ঃ১৪)। যীশু একবার নামকরা এক বাইবেল শিক্ষককে বলে ছিলেন, ‘আমি তোমাকে যা বললাম, তাতে আশ্চর্য্য বোধ করিও না, তোমাকে অবশ্যই নতুন জন্ম লাভ করিতে হইবে’। (যোহান ৩ঃ৭)। সিদ্ধান্তগ্রহণকারী তত্ত্ব যারা অনুসরণ করে তারা মন্ডলীতে রুপান্তরহীন (যারা খ্রীষ্টকে জানে না) লোকেদের নিয়ে পরিপূর্ণ থাকে। সিদ্ধান্ত গ্রহণ কারী তত্ত্বের সরাসরি যে পরিণাম তা হল প্রোটেস্ট্যান্ট প্রতিষ্ঠান হারিয়ে যাওয়া নর ও নারীর নিয়ন্ত্রণে নিমজ্জিত হয়ে যায়। আর এই ভাবেই বর্তমান দিনে ধর্মভ্রষ্টতা মন্ডলীগুলোকে গ্রাস করে ফেলেছে।

আপনি যে কে তাতে কিছু যায় আসে না, ও আপনি কি শিখেছেন, কতগুলো ‘সিদ্ধান্ত’ বা ‘পুণঃউৎসর্গীকরণ’ আপনি করেছেন বা খ্রীষ্টকে আপনার প্রভু বলে মেনে নেওয়াতে কতোটা আপনি ক্লান্ত হয়েছেন তাতে কিছু যায় আসে না, আপনাকে অতি অবশ্যই প্রকৃত রুপান্তর অনুভব করতে হবে অথবা আপনি নরকে পতিত হবেন। আমাদের প্রার্থনা হল আপনি যেন পাপের বিষয়ে চেতনা লাভ করেন এবং আরো বেশী দেরী হয়ে যাওয়ার আগে আপনি যেন প্রকৃত মন পরিবর্তনের বিষয় উপলব্ধি করেন।

সংবাদের পরিসমাপ্তি
ডাঃ হাইমার্সের সংবাদ আপনি প্রতি সপ্তাহে ইন্টারনেটের মাধ্যমে
www.realconversion.com এই সাইটে পড়তে পারেন। ক্লিক করুন “সংবাদের হস্তলিপি”

You may email Dr. Hymers at rlhymersjr@sbcglobal.net, (Click Here) – or you may
write to him at P.O. Box 15308, Los Angeles, CA 90015. Or phone him at (818)352-0452.

সংবাদের আগে একক সংগীত গেয়েছেন মিঃ বেঞ্জামিন কিন গেইড গ্রীফিথ ঃ
“Christ Returneth” (by H. L. Turner, 1878).