Print Sermon

এই সমস্ত প্রচারের পান্ডুলিপি এবং ভিডিওগুলি এখন প্রতি মাসে 215টিরও বেশি দেশের প্রায় 116,000 কম্প্যুটারে www.sermonsfortheworld.com ওয়েবসাইটে পাঠানো হয়| আরও শত শত লোক ইউ টিউবের ভিডিওর মাধ্যমে এগুলি দেখেন, কিন্তু খুব শীঘ্রই তারা ইউটিউব ছেড়ে বেরিয়ে যান, কারণ প্রত্যেকটি ভিডিও প্রচার তাদেরকে আমাদের ওয়েবসাইটের দিকে পরিচালিত করে| ইউটিউব আমাদের ওয়েব সাইটে লোক এনে দেয়| প্রচারের এই পান্ডুলিপিগুলি প্রতি মাসে 34টি ভাষায় প্রচারিত হয় হাজার হাজার লোকের কাছে| প্রচারের এই সব পান্ডুলিপিগুলি গ্রন্থসত্ত্ব দ্বারা সংরক্ষিত নয়, কাজেই প্রচারকগণ আমাদের অনুমতি ছাড়াই এইগুলি ব্যবহার করতে পারেন| মুসলিম এবং হিন্দু রাষ্ট্রসমেত, সমগ্র পৃথিবীতে সুসমাচার ছড়িয়ে দেওয়ার এই মহান কাজে সাহায্য করার জন্য কিভাবে আপনি একটি মাসিক অনুদান প্রদান করতে পারেন তা জানতে অনুগ্রহ করে এখানে ক্লিক করুন|

যখন আপনি ডঃ হেইমার্সকে লিখবেন সর্বদা তাকে জানাবেন যে আপনি কোন দেশে বাস করেন, অথবা তিনি আপনাকে উত্তর দিতে পারবেন না| ডঃ হেইমার্সের ই-মেল ঠিকানা হল rlhymersjr@sbcglobal.net |




জীবন্ত খ্রীষ্টধর্মের জন্য সংগ্রাম !

ডঃ আর. এল. হেইমার্স, জুনিয়র প্রদত্ত একটি ভূমিকা
THE FIGHT FOR LIVING CHRISTIANITY!
AN INTRODUCTION OF DR. R. L. HYMERS, JR.
(Bengali)

লেখক : মিঃ জন্ শ্যমূয়েল কেগান
by Mr. John Samuel Cagan


সংকটের সময়ে, ইতিহাস তাদের দ্বারা তৈরী হয়েছিল যারা নিজেদের তুলনায় মহান কোন কিছুতে বিশ্বাস করতেন| ইতিহাস গড়পড়তা মানুষের দ্বারা লেখা হয়না| সেখানে কেউ কেউ আছেন যারা মাঝারি মাপের মানুষদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা কামনা করবেন| সেখানে তারাও রয়েছেন যাদের মধ্যে ব্যর্থতার ভয় এত বেশি যে তারা কখনো চেষ্টা করবেন না| সেখানে তারা রয়েছেন যারা কখনও কোন মহান কিছু অর্জন করতে পারেন না কারণ তারা বেশি সহনশীল হওয়ার মূল্য দেবেন না| সেখানে তারা রয়েছেন যারা কোন কিছু পরিবর্তন করবেন না, যারা বিশ্বে কোন প্রভাব বিস্তার করবেন না, এবং যারা এমনভাবে মারা যাবেন যেন তারা কখনও জীবিত ছিলেন না| এই ধরনের মানুষদের দ্বারা পরিপূর্ণ একটি সময়ে, ঈশ্বর ডঃ হেইমার্সকে তুলে ধরেছেন|

বেশির ভাগ মানুষ যারা সেবাকাজে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাদের প্রায় সব রকম উপায়ে সহায়তা দান করা হয়| তবুও, ডঃ হেইমার্স দিনের বেলা কাজ করে এবং রাতের বেলা স্কুলে গিয়ে, কলেজের মাধ্যমে নিজের মতো উপায় বের করেছিলেন| পরিবার এবং বন্ধুবান্ধবদের দ্বারা, আর একইভাবে সেবাকাজের থেকেও প্রায়ই অনুৎসাহিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি ঈশ্বরের সেবক হওয়ার স্বপ্নকে নিজের লক্ষ্য হিসাবে স্থির রেখেছিলেন, তা সে অসুবিধা যত বড়ই হোক না কেন এর থেকে কখনো সরে যাবেন না| দানবিক আক্রমন এবং মানসিক বেদনা সত্ত্বেও ঈশ্বরের একজন প্রচারক হওয়ার জন্য তিনি সংগ্রাম সহ্য করেছেন| ঈশ্বরের সত্য ব্যক্ত করার উদ্দেশ্য সাধনের জন্য ডঃ হেইমার্স প্রত্যেকটি পরীক্ষা এবং যাতনা সহ্য করেছেন| তিনি জীবনের অগ্নি সহ্য করেছিলেন যার কারণে, ডঃ হেইমার্সকে সত্যের নিমিত্ত নিযুক্ত করা হয়েছিল|

ঈশ্বরের বাক্যের সত্যে ডঃ হেইমার্স এত বিশ্বাস করেন যে তিনি সর্বদা এর পক্ষে সংগ্রাম করতে আগ্রহী| তিনি সেইরকমের মানুষ নন যারা আরামদায়ক বলেই একটা মিথ্যা স্বীকার করে নেওয়ার দ্বারা সন্তুষ্ট হবেন না| তার সমস্ত জীবন ধরেই এইরকম চলে আসছে| যখন তার বাইবেল-প্রত্যাখ্যানকারী সেমিনারীতে বাইবেলের নিন্দা করা হয়েছিল তখন তিনি চুপচাপ এবং কোন কাজ না করেননি এমন নয়| তার নিবন্ধিতকরণ এবং গ্র্যাজুয়েশনের ঝুঁকি নিয়েই, ডঃ হেইমার্স বাইবেলের উপরে উদারপন্থীদের আক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন| তিনি ক্লাস করা বন্ধ করেছিলেন, স্কুলের প্রকাশিত খবরের কাগজে প্রবন্ধ লিখেছিলেন, নিজেদের ডর্মিটরিতে প্রার্থনা সভার আয়োজন করেছিলেন; বাইবেলের সত্যকে যে মিথ্যা নিবৃত্ত করবে তার বিরুদ্ধে তিনি নিজের আয়ত্তে থাকা সমস্ত সম্পদ ব্যবহার করেছিলেন| বাইবেলের প্রতিরক্ষায় তার প্রতিবাদ থামানোর নির্দেশ দিতে তাকে যখন সেমিনারীর প্রেসিডেন্টের দপ্তরে ডেকে পাঠানো হয়েছিল, ডঃ হেইমার্স তখনও আত্মসমপর্ণ করেননি| তার পরিবর্তে, তিনি সেমিনারীতে উদারনীতির বিরুদ্ধে একটা বই লিখেছিলেন| বাইবেলের পক্ষে সংগ্রামে তিনি দীর্ঘ এবং শক্তিশালী হয়ে উঠেছিলেন|

কেউ কেউ সমালোচনা করেছেন, অন্যেরা অভিযোগ করেছেন, এবং এখনও অন্য অনেকে আত্মসমর্পণ করেছেন, কিন্তু ডঃ হেইমার্স হলেন এক সক্রিয় মানুষ| সত্য এবং ঈশ্বরের প্রতি তার চেতনাগুলি এতই মজবুত যে এমনকী যদি মৃত্যু নিশ্চিত থাকে তাও তিনি নিজের তলোয়ার বের করবেন আর অশুভ শক্তিকে আঘাত করবেন| ডঃ হেইমার্স জীবনকে এতটা ভালবাসেন না যে শিকলের মূল্যে তিনি তা কেনেন| যখন অন্যেরা ক্রীতদাসত্বের বিনিময়ে শান্তি কেনেন তখন তিনি একজন সংগ্রামী মানুষ হিসাবে থাকেন|

যখন হলিউড খ্রীষ্টের মুখে থুতু ছেটায়, ডঃ হেইমার্স তাঁর পরিত্রাতার মুখ মুছে দেওয়ার জন্য এগিয়ে যান| এই কারণে, তিনি আক্রান্ত হয়েছিলেন| এমনকী যখন খবরের কাগজে তার বিরুদ্ধে লেখা হয়েছিল, তিনি খ্রীষ্টের পক্ষ অবলম্বন করেছিলেন! এইজন্যে তিনি বন্ধুদের হারিয়েছিলেন| তবুও, যা সঠিক সেই কর্তব্য পালন ডঃ হেইমার্সকে বাধ্য করেছিল ক্রিয়াশীল হতে, প্রতিবাদ করতে, এবং যুদ্ধ করতে|

যখন সম্ভবত সমগ্র সমাজ মেয়েদের ‘‘গর্ভপাতের অধিকার’’ এর স্বীকৃতি দিয়ে দিচ্ছে, তখন ডঃ হেইমার্স যুদ্ধ ছাড়া একটি শিশু হত্যা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন| খুব বেশী হলে গড়পড়তা মানুষ সহমর্মিতা দেখাবেন এবং একটা দাতব্য কাজে দান করবেন, কিন্তু ডঃ হেইমার্স গড়পড়তা মানুষ নন| তিনি এবং আমার বাবা একটি গর্ভপাত ক্লিনিকের সামনে বসে পড়েছিলেন| ঘোড়ার পিঠে বসা লাঠি এবং তকমাধারী পুলিশের হুমকিতে যখন অন্য সকলে চলে গিয়েছিলেন, ডঃ হেইমার্স নিজের বিশ্বাসে বাঁধা পড়েছিলেন| একটি শিশুর জীবন এবং একটি মহিলার অধিকারের মধ্যেকার শেষ বাক্য হিসাবে তিনি যা জেনেছেন সেখান থেকে তাকে উন্মূলন করা যায় না| দুটি গর্ভপাত ক্লিনিক বন্ধ করার জন্যে তিনি সব রকমের প্রচেষ্টায় মন্ডলীকে পরিচালিত করেছিলেন| গর্ভপাতের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালাতে তিনি কঠোর এবং দৃঢ় ছিলেন|

আর তারপরে ছিল আমাদের মন্ডলীর জন্য সংগ্রাম| আমাদের মন্ডলীর একজন ‘‘প্রাক্তন নেতা’’ চলে গিয়েছিলেন| তার দেখাদেখি, মন্ডলীর আরও 400 সদস্য চলে গিয়েছিলেন| আমাদের মন্ডলী এই বাড়িটাই প্রায় হারাতে বসেছিল| মন্ডলী প্রায় দেউলিয়া হতে চলেছিল| একজন বিখ্যাত প্রচারক ডঃ হেইমার্সকে শহরতলীর অন্য একটি বড় মন্ডলীতে পালক হওয়ার জন্য, এখান থেকে পালানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন| যা একটা ডুবন্ত জাহাজের মতন মনে হয়েছিল তা থেকে ঝাঁপ দেওয়ার একটা সুযোগ তিনি ডঃ হেইমার্সকে করে দিয়েছিলেন! তিনি বলেছিলেন, ‘‘এটাই আপনার পালানোর শেষ সুযোগ|’’ অনেক পালকই হয়তো চলে যেতেন| কিন্তু সদস্যরা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন এবং মন্ডলী আর্থিক সংকটে রয়েছে - এই অবস্থায় ডঃ হেইমার্স থেকে যান! স্থানীয় এই মন্ডলীটির জন্য ডঃ হেইমার্স যুদ্ধ করতে রাজি ছিলেন! তার আত্মিক সাহসিকতা এবং যারা নিজেদের সময় এবং অর্থ ব্যয় করেছিলেন, সেই সমস্ত বিশ্বাসী লোকজনদের কারণে আমরা লস এঞ্জেল্সের সিভিক সেন্টারে এখনও একটি মন্ডলী পাচ্ছি! তিনি থেকে গেলেন এবং সমাধান ও সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করার অসম্ভবতার সামনে দাঁড়ালেন যেমন উইনস্টোন চার্চিল পাশ্চাত্য সভ্যতার যুদ্ধে হিটলারের মোকাবিলা করেছিলেন|

স্থানীয় মন্ডলীর গুরুত্বের বিষয়ে ডঃ হেইমার্স নিশ্চিত ছিলেন| ডঃ হেইমার্স প্রায়ই বলতেন যে তার সমগ্র জীবন হল এই মন্ডলীর সাফল্য| শুধু এই মন্ডলীর জন্যে নয়, বিশ্বের সব মন্ডলীর জন্যেই, তার রয়েছে গভীর ভালবাসা| মন্ডলীর শক্তি হল তার গভীর আবেগ| তার ব্যক্তিগত পরিচয়টি মন্ডলীর জীবনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ছিল| খ্রীষ্ট এবং মন্ডলীর জন্যে তার সেইরকমের একাগ্রতা ছিল যা থাকে মহাতারকা খেলোয়াড়, রাজনৈতিক নেতা, এবং বিজেতাদের মধ্যে| তিনি জানেন যে মন্ডলী হল খ্রীষ্টের নববধূ, এবং সেইজন্যে তিনি মন্ডলীর মঙ্গলের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা, যুদ্ধ, এবং প্রচার করে থাকেন|

কারও দ্বারা অননুমোদিত এবং কারোর দ্বারা সন্দেহ প্রকাশিত হওয়া সত্ত্বেও, ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বস্ত বহু প্রোটেস্টান্ট নেতৃবৃন্দ ডঃ হেইমার্সের প্রশংসা এবং সমর্থন করেছেন| তাদের মধ্যে আছেন জাতিয় বিখ্যাত সুসমাচার প্রচারক এবং ‘‘দ্য বিবলিক্যাল ইভানজেলিষ্ট’’ পত্রিকার দীর্ঘদিনের সম্পাদক, ডঃ রবার্ট এল. সুমনার| বিংশশতাব্দীর প্রখ্যাত খ্রীষ্ট বিশ্বাসী ব্যক্তিত্বের দ্বারা পরিবিষ্ট হয়ে, ডঃ সুমনার ঈশ্বরের আসল মানুষদের বিষয়ে অন্তত কিছুটা জেনেছিলেন| ডঃ হেইমার্সের সম্পর্কে ডঃ সুমনার লিখেছিলেন,

‘‘ডঃ হেইমার্স সুচিন্তিতভাবে, ইচ্ছাকৃতভাবে লস্ এঞ্জেল্সের ডাউনটাউনের ন্যায় খারাপ এলাকার একেবারে কেন্দ্রস্থলে সুসমাচার-প্রচারকারী, সুসমাচার প্রচার সংক্রান্ত, বাইবেল অধ্যয়ণ বিষয়ক একটি মন্ডলী প্রতিষ্ঠা করিতে বাহির হইয়াছিলেন| যদি অন্য কিছুর জন্য না হইয়া থাকে, আমি উহার জন্য এবং শহরতলীর দিকে পলায়নরত অন্য কোন সুসমাচারপ্রচার সংক্রান্ত সেবাকার্যের সঙ্গে যুক্ত না হইবার জন্য তাহাকে সুপারিশ করিয়াছিলাম...আমি একজন মানুষের প্রশংসা এবং শ্রদ্ধা করি যিনি তাহার চেতনা অনুসারে সত্যের জন্য একটি অবস্থান লইতে ইচ্ছুক থাকেন এবং তাহার পরে তাহাদের পার্শ্বে দাঁড়ান, এমনকী তখনও যখন সমস্ত বিরোধীতা তাহার বিরুদ্ধে থাকে| রবার্ট লেস্লী হেইমার্স হইতেছেন খ্রীষ্টের সেইরূপ খ্রীষ্ট বিশ্বাসী দাস! আমেরিকার একটি সর্বাপেক্ষা মন্দ শহরের কেন্দ্রস্থলে স্থানীয় সেবাকর্মের অতিরিক্ত হিসাবে, তিনি একটি আন্তর্জাতিক সেবাকর্মও চালাইতেছেন - এমনকী স্থানীয় স্তরেও, তাহার সেবাকর্মগুলি ‘সরাসরি’ স্প্যানিশ এবং চীনা উভয় ভাষাতেই অনুবাদিত হইতেছে|’’

বহু দশক ধরে একজন সুসমাচার প্রচারক হয়ে থাকার ফলে, ডঃ সুমনার চিনতে পেরেছিলেন সেই বিশাল ক্ষমতার গুণাবলীকে যা ডঃ হেইমার্সের জীবন এবং সেবাকাজের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য স্থাপন করে!

ডঃ হেইমার্স হলেন একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন মানুষ| তিনি বিশ্বাস করেন যে এমনকী সমস্যার সময়ে যখন অন্য সমস্ত আশা বিনষ্ট হয়, তখন ঈশ্বর মহান সব বিষয় সম্পাদন করতে পারেন| তিনি একটি ওয়েবসাইটের দর্শন পেয়েছিলেন যা বিশ্বের চারিদিকে পালক ও মিশনারীদের ধর্ম্মোপদেশের পান্ডুলিপি এবং অন্যান্য প্রচার সামগ্রী সরবরাহ করবে| এই ধরনের উদ্যোগ এর আগে কখনও গ্রহণ করা হয়নি এবং অশ্রুত ছিল| যাই হোক, বিশ্বের চতুর্দিকের দেশগুলির মধ্যে পার্থক্য তৈরী করার একটি প্রয়াসে, এই মহান কাজকে সহজতর করার উদ্দেশ্যে তিনি এমনকী তার ধর্ম্মোপদেশ প্রস্তুতির ধারার পরিবর্তন করেছিলেন|

তার সেবাকাজের বেশির ভাগ অংশের জন্য, ডঃ হেইমার্স একটি রূপরেখা থেকেই প্রচার করেছেন| তবুও, তিনি চেয়েছিলেন তার ধর্ম্মোপদেশ অন্যান্য দেশের খ্রীষ্ট বিশ্বাসীদের কাছেও উপলভ্য থাকুক যারা অন্য কোন উপায়ে বাইবেল এবং অন্য প্রচার সামগ্রী সহজে পান না| সেইজন্যে তিনি তার ধর্ম্মোপদেশ অক্ষরে অক্ষরে লেখা এবং একটি পান্ডুলিপি থেকে প্রচার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন| এই ধরনের অনেক দীর্ঘ সময় ধরে সেবাকাজে থাকার পর বেশীর ভাগ প্রচারকই তাদের প্রস্তুতি বদলাবেন না, কিন্তু ডঃ হেইমার্স ছিলেন একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন মানুষ| বেশ কয়েক বছর পরে, বিশ্বের প্রায় প্রত্যেকটি দেশেই ডঃ হেইমার্সের পান্ডুলিপিগুলি পাঠ করা হবে এবং খালি 2016 সালেই দেড় লক্ষ লোক তার ওয়েবসাইট দেখেছিলেন|

যারা সর্বদা বিভিন্ন পশ্চাদ্পটবিশিষ্ট লোকদের বিষয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন, সেই ধরনের পালক হওয়ার জন্যে ডঃ হেইমার্স তার ধর্মোপদেশগুলি অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ করার সুনির্দ্দিষ্ট কাজ শুরু করেছিলেন| প্রথমে, ধর্মোপদেশগুলি মাত্র কয়েকটি ভাষাতে অনুবাদিত হয়েছিল| যাই হোক, সমগ্র বিশ্বের দরবারে পৌঁছানোর জন্য ভাষার বাধা থাকা সত্ত্বেও ডঃ হেইমার্স তার দৃষ্টিভঙ্গীতেই কাজ চালিয়ে গিয়েছিলেন|

বর্তমানে, ডঃ হেইমার্সের পান্ডুলিপিগুলি 35টি ভাষাতে অনুবাদিত হয়! তৃতীয় বিশ্বের মিশনারী এবং পালকদের কাছে এই ধর্মোপদেশগুলি হল আশীর্বাদ ও সহায়তা| জাগ্রত হতে এবং আত্মার চেতনা আনতে যীশুর প্রয়োজনীয়তা বোঝার অনুগ্রহ লাভের একটা উপায় হিসাবে সেগুলি ব্যবহৃত হচ্ছে, এবং এমনকী ধর্মোপদেশগুলি পাঠ করে কয়েকজন মন পরিবর্তনও করেছেন| 35টি ভাষায় অনুবাদ করে নিদর্শন এবং প্রতিষ্ঠা লাভ হয়েছিল, কিন্তু খ্রীষ্ট বিশ্বাসীদের জগতে একটি শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করতে এটা ঈশ্বরে দ্বারা ব্যবহৃত হয়ে আসছে|

যুদ্ধের তীব্রতা কোন ব্যাপার নয়, ডঃ হেইমার্স ঈশ্বরের রাজ্যের মানুষ হওয়ার জন্য কঠোর সংগ্রাম করেছেন| এমনকী যখন অন্য এতগুলি লোক খ্রীষ্টের সুসমাচার ভুলে ছিলেন তখন তিনি তা প্রচার করেছেন| তিনি পুরানো-ঢঙের আবেগপূর্ণ ও উৎসাহে ভরপুর শৈলীতে প্রচার করেছেন যখন অন্য সকলে তা বর্জন করেছেন| যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে প্রাপ্ত ঈশ্বরের অনুগ্রহ এবং ক্ষমতার দ্বারা প্রকৃত মন পরিবর্তনে তিনি বিশ্বাস করেন এবং যারা শোনেন তাদের কাউকে কিছু পরিমান কম পাওনা মেটানোর দ্বারা নরকের বিপদের মধ্যে পড়তে দেন না|

একটা সময়ে যখন প্রার্থনা কেবল একটা প্রচলিত রীতি হয়ে রয়েছে, ডঃ হেইমার্স উত্তর পাওয়া যায় এমন প্রার্থনায় ঈশ্বরের ক্ষমতায় বিশ্বাস করছেন| একটা সময় যখন অন্য সকলে অন্যান্য মন্ডলী থেকে সদস্য চুরি করে আনার দ্বারা বৃহত্তর প্রস্তাব লাভের আশার পিছনে ছুটছেন, তখন ডঃ হেইমার্স জগতের সমস্ত যুবকদের কাছে সুসমাচার সংক্রান্ত প্রচার করাতে বিশ্বাস স্থাপন করছেন| যখন অন্যেরা পর পর সেবাকাজ বন্ধ করে দিচ্ছেন, তখন ডঃ হেইমার্স মন্ডলীর গুরুত্ব এবং প্রাণশক্তিতে বিশ্বাস করছেন| দীর্ঘদিন ধরেই জীবন এবং ক্ষমতা হারিয়েছে এমন একটি মৃতদেহে খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করে যখন এত সব অন্য লোক সন্তুষ্ট হচ্ছেন, তখন ডঃ হেইমার্স জীবন্ত খ্রীষ্টধর্মে বিশ্বাস করছেন এবং এর পক্ষে সংগ্রাম করে চলেছেন|

একটু পরেই ডঃ হেইমার্স প্রচার করতে আসবেন| কিন্তু প্রথমে ডঃ হেইমার্সের একটি প্রিয় গান, ‘‘অগ্রসর হও, আজি খ্রীষ্টসেনা সব’’ গাইবার জন্য মিঃ গ্রিফিথ আসবেন|

রবিবারের রাত্রের জন্য যুদ্ধ

(যুদ্ধ ঘোষণার একটি ধারাবাহিকের এক নম্বর)
THE BATTLE FOR SUNDAY NIGHT
(NUMBER ONE IN A SERIES OF BATTLE CRIES)
(Bengali)

লেখক : ডঃ আর. এল. হেইমার্স, জুনিয়র
by Dr. R. L. Hymers, Jr.

2017 সালের, 15ই জানুয়ারী, প্রভুর দিনের সকালবেলায় লস্ এঞ্জেল্সের
ব্যাপটিষ্ট ট্যাবারন্যাক্ল মন্ডলীতে এই ধর্ম্মোপদেশটি প্রচারিত হয়েছিল
A sermon preached at the Baptist Tabernacle of Los Angeles
Lord’s Day Morning, January 15, 2017

‘‘প্রিয়তমেরা, আমাদের সাধারন পরিত্রাণের বিষয়ে তোমাদিগকে কিছু লিখিতে নিতান্ত যত্নবান্ হওয়াতে আমি বুঝিলাম, পবিত্রগণের কাছে একবারে সমর্পিত বিশ্বাসের পক্ষে প্রাণপণ করিতে তোমাদিগকে আশ্বাস দিয়া লেখা আবশ্যক’’ (যিহুদা 3)|

আজ সকালে আমরা একটা যুদ্ধ ঘোষনার ধারাবাহিক শুরু করব| তার মধ্যে আমরা ‘‘আন্তরিকভাবে বিশ্বাস লাভের চেষ্টা করব|’’ আমরা আমাদের মন্ডলীগুলির অনেক ভ্রান্ত মতবাদ এবং অনুশীলনের বিরুদ্ধে আলোচনা করব|

প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডি 1963 সালে চার্চিলকে ইউনাইটেড স্টেটসের প্রথম সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দিয়েছিলেন| সেই বিখ্যাত যুদ্ধবীরের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ‘‘তিনি ইংরাজি ভাষাকে সচল করিয়াছিলেন এবং যুদ্ধে প্রেরণ করিয়াছিলেন|’’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে দেওয়া তার একটি বিখ্যাত ভাষনে চার্চিল বলেছিলেন, "যখন বিশ্বে মহান যুক্তিসমূহ চলমান হইয়া, সকল মানবগণের আত্মা আলোড়িত করিতেছে, গৃহ ও স্বাচ্ছন্দ্য হইতে তাহাদের আকর্ষণ করিতেছে, যাহা তৎক্ষণাৎ ভয়াবহ ও দুর্নিবার এইরূপ আঘাতের প্রতিক্রিয়াতে বিলাস, ঐশ্বর্য্য এবং সুখ সাধনা দূরে নিক্ষেপ করিতেছে, তখন আমরা শিক্ষা লাভ করিতেছি যে আমরা পশু নহি, এবং স্থান ও কালের মধ্যে, এবং স্থান ও কালের আওতার বাহিরেও কিছু একটা চলিতেছে, যাহা, আমরা পছন্দ করি বা না করি, আমাদের দায়িত্ব ব্যাখ্যা করিতেছে|"

আমরা নিজেরাই অনেক সংগ্রামের মধ্যে রয়েছি| আমরা মূল্য প্রদান করেছি, বন্টন করেছি, আমেরিকার প্রতিটি সাউদার্ণ ব্যাপটিষ্ট মন্ডলীতে সেই ভয়াবহ ভ্রান্ত শিক্ষাকে মেল করেছি যা ছাত্র প্রচারকদের তাদের সেমিনারীতে শেখানো হয়েছে| আমার স্পেন দেশীয় যুবতী স্ত্রী ছয় মাসের গর্ভবতী ছিলেন যখন তিনি পেনসিলভ্যানিয়ার, পিটস্বার্গের সাউদার্ণ ব্যাপটিষ্ট সন্মেলনে এই মুদ্রিত রচনাটি বিলি করেছিলেন| যদিও তারা দেখছিলেন যে তিনি ক্ষুদ্রকায়াবিশিষ্টা এবং শিশুসহ বেশ ওজনদার, তাও বয়স্ক লোকেরা প্রবন্ধটি টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলেছিললেন আর তার মুখে প্রায় থুতু দিতে যাচ্ছিলেন| যখন আমরা ঘরে ফিরে এসেছিলাম আমার হতভাগ্য স্ত্রী আমাকে একটি প্রশ্ন করেছিল যার উত্তর আমি দিতে পারিনি| সে বলেছিল, ‘‘রবার্ট, কিভাবে এই সব লোকেরা প্রকৃত খ্রীষ্ট বিশ্বাসী হতে পারে?’’ তাদের অনেককেই মনে হচ্ছিল সাউদার্ণ ব্যাপটিষ্টের বদলে নরক থেকে আগত দিয়াবলদের মতন| তারা আমার স্ত্রীর প্রতি রাগত ছিলেন কারণ সে তাদের সেমিনারীর সেই অধ্যাপকদের উদ্ধৃতি তুলে ধরেছিলেন যারা বলছিলেন যীশুর দেহ মৃতাবস্থা থেকে উত্থিত হয়নি - বরং বুনো কুকুরে খেয়ে নিয়েছিল, বলছিলেন যে সেখানে মোশি বলে কোন ব্যক্তি ছিলেন না, এবং পৌলের লেখা সবটাই জালিয়াতি, মোটেও প্রেরিতের দ্বারা লিখিত নয়| কিন্তু আমরা সেই রচনার জন্য ক্রমাগতভাবে মূল্য দিয়ে গেছি এবং সেগুলি মেল করেছি এবং বছরের পর বছর ধরে অন্যদের দিয়ে এসেছি - যতক্ষণ না শেষ অবধি আমরা জয়ী হয়েছি এবং আমেরিকার সব সাউদার্ণ ব্যাপটিষ্ট সেমিনারী থেকে ঐসব দিয়াবলবিষ্ট শিক্ষকদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে| ঈশ্বরের সাহায্য নিয়ে, আমরা সেই যুদ্ধে জয়লাভ করেছিলাম!

যেখানে গর্ভপাতজনিত ব্যাপক হ্ত্যাকান্ডে শিশুহত্যা বন্ধ করতে অন্যান্য দল অর্থ সংগ্রহ করছিল (যা তারা নিজেদের পকেটস্থ করত) - যেখানে তারা একমাত্র নিজেদের জন্যই অর্থ সংগ্রহ করত, আমাদের মন্ডলী আমাদের লোকদের পাঠিয়েছিল এবং সেই রক্ত-সিঞ্চিত ক্লিনিকগুলির মধ্যে দুটি ক্লিনিককে প্রকৃতপক্ষে প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিল! একবার এক পরিস্থিতিতে ডঃ কেগান এবং আমি ঐ ক্লিনিকগুলির একটির সামনে ফুটপাতের উপরে বসে পড়েছিলাম - আর আমরা সেখানে থেকে গিয়েছিলাম যখন ঘোড়ার পিঠে চড়া পুলিশেরা আমাদের ঘিরে ধরেছিল এবং হাতকড়া পরিয়ে আমাদের জেলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিল| কিন্তু যখন তারা দেখল যে আমরা নড়ব না, তারা নিজেদের ঘোড়ার মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে চলে গেছিল| আবার, ঈশ্বরের সাহায্য নিয়ে, সেই যুদ্ধে আমরা জয়লাভ করেছিলাম!

যখন ইউনিভার্সাল পিক্চার্সের প্রধান, লিউ ওয়াসেরম্যান একটি নোংরা ছবি প্রোডিউস করলেন, সেই মুভি যাতে দেখানো হয়েছিল যে খ্রীষ্ট, মরিয়ম মগ্দালীনির সঙ্গে যৌনকর্মে লিপ্ত রয়েছেন, আমরা প্রতিবাদ করার জন্য বিভারলি হিল্সে অবস্থিত ওয়েসারম্যানের বাড়ির সামনে চলে গিয়েছিলাম| আমাদের প্রতিবাদ খবরের কাগজের প্রথম পাতার শিরোনামে এসেছিল বিশ্বের চতুর্দিকে, ইংল্যান্ডে, স্পেনে, ইস্রায়েলে, এবং ফ্রান্সে, আর এমনকী গ্রীসে মুভিটির বিরুদ্ধে রীতিমতো দাঙ্গার আগুন জ্বলে উঠেছিল! প্রায় দুই সপ্তাহেরও বেশী সময় ধরে আমাদের বিভিন্ন প্রতিবাদ টিভির সংবাদ চ্যানেলে দেখানো হয়েছিল - প্রত্যেক রাত্রে| আমাদের বিক্ষোভ প্রদর্শনের ফলে ইউনিভার্সাল পিক্চার্স এত ভয় পেয়েছিল যে তারা আর কখনও সেই রকমের মুভি প্রকাশ করেনি যা খ্রীষ্টকে কলঙ্কিত করে! আবার, ঈশ্বরের সাহায্যে, আমরা সেউ যুদ্ধে জয়লাভ করেছিলাম!

যখন পিটার এস. রুকম্যান নামের একজন লোক শিক্ষা দিয়েছিলেন যে কিং জেম্স বাইবেলের বাক্যগুলি সব অভ্রান্ত, এমনকী তিনি গ্রীক ও ইব্রীয় ভাষায় সেগুলি সংশোধন করে দিয়েছিলেন যেখান থেকে সেইসব অনুবাদিত হয়েছিল, তখন শত শত মন্ডলী রুকম্যানের এই তত্ত্বের উপরে দ্বিধাবিভক্ত হয়েছিল| আমি ‘‘রুকম্যানিজ্ম এক্সপোজ্ড’’ শিরোনামে একটা বই লিখেছিলাম - যা ব্যপকভাবে সব মন্ডলীগুলিতে ছড়িয়ে পড়েছিল| বর্তমানে এটা প্রায় একটা মৃত বিষয়, প্রধানত সেই বইটির কারণে, যেটা আপনারা আমাদের ওয়েবসাইট www.sermonsfortheworld.com থেকে পড়তে পারেন| আর, হ্যাঁ, রুক্ম্যানিজ্মের সেই দিয়াবলীয় মতবাদ বিরোধী যুদ্ধে, ঈশ্বরের সাহায্য নিয়ে, আমরা আবার জয়ী হয়েছিলাম!

তারপরে রিচার্ড ওলিভাস নামের আর একজন লোক আমাদের ত্যাগ করলেন আর আমাদের মন্ডলী থেকে 400 সদস্য সঙ্গে নিয়ে গেলেন| আমি আমাদের লোকদের উদ্বুদ্ধ করতে এবং প্রত্যেক মাসে তাদের দেওয়া জিনিষপত্র ও উপহারের অতিরিক্ত 16,000 ডলার প্রদান করতে পরিচালিত করলাম, যতদিন না এই দালানটিকে রক্ষা করা যায়, এবং আমাদের মন্ডলী ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য ওলিভারের পরিকল্পনা বন্ধ হল| বরঞ্চ আবার, ঈশ্বরের সাহায্যে, আমরা আবার জয়লাভ করলাম!

কিন্তু আমরা বর্তমানে আরও ভয়ঙ্কর যুদ্ধের মধ্যে রয়েছি - একটা প্রতারণাপূর্ণ যুদ্ধ যা শেষ পর্যন্ত আমাদের প্রায় সমস্ত মন্ডলীগুলিকে ধ্বংস করে ফেলতে পারে| এবং খ্রীষ্টের দাস হিসাবে এটা আমার কর্তব্য এর বিরুদ্ধে সতর্ক করা| এটা আমাদের মন্ডলীগুলি নষ্ট এবং ধ্বংস করছে| এটা হচ্ছে লাওডিসিয়ানিজ্মের ভ্রান্ত মতবাদ| এটা হল সেই ধারনা যে আমাদের মন্ডলীগুলিতে রবিবারের সান্ধ্যকালীন উপাসনা বন্ধ করা উচিৎ| এই ভ্রান্ত এবং ভয়ঙ্কর মতবাদের বিরুদ্ধে আমরা ‘‘একেবারে সমর্পিত’’ (যিহুদা 3)| আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে আমরা এর বিরুদ্ধে লড়াই করব|

মথি 25:5 পদে যীশু আমাদের মন্ডলীর অবস্থা সম্বন্ধে সঠিক বর্ণনা দিয়েছেন | লক্ষ লক্ষ সুসমাচার সংক্রান্ত এবং মৌলবাদীরা তন্দ্রাচ্ছন্ন এবং নিদ্রামগ্ন | খ্রীষ্টের দ্বিতীয় আগমন অতি আসন্ন, কিন্তু আমাদের মন্ডলীগুলি গভীর নিদ্রামগ্ন ! আমরা এখন দেখছি একটার পর একটা মন্ডলী তাদের সান্ধ্যকালীন সেবাকাজ বন্ধ করে দিচ্ছে | আমি দৃঢ়নিশ্চিত যে এটা শেষের দিনের চিহ্নগুলির মধ্যে একটা - ঢুলতে থাকা মন্ডলীগুলি তাদের দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে - যেমন সময় ঘনিয়ে আসছে - এবং যেমন আমরা জানি যে জগত শেষের দিকে এগিয়ে আসছে | যীশু বলেছেন,

‘‘আর বর বিলম্ব করাতে সকলে ঢুলিতে ঢুলিতে ঘুমাইয়া পড়িল’’ (মথি 25:5)|

এমনকী যদি মনে হয় ভাববাণী আমাদের বিরুদ্ধে - আমরা যুদ্ধ করতে থাকব - আর কেউ কেউ শুনবেন এবং উদ্ধার লাভ করবেন|

প্রত্যেকটি ধারার ক্ষেত্রে ব্যাপটিষ্ট এবং অন্যান্যদের মধ্যে সর্বশেষ প্রবণতা হল রবিবারের সন্ধ্যার সেবাকাজ বন্ধ করা| আমেরিকার একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত - সাউদার্ণ ব্যাপটিষ্ট এবং স্বাধীন ব্যাপটিষ্ট মন্ডলী, ‘‘প্রগতিশীল’’ বিবিএফআই মন্ডলী, আর এমনকী কিছু সংখ্যক বব্ জোন্স বুনিয়াদি মন্ডলীও, রবিবারের সকালের উপাসনার পরে তাদের দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে| রবিবারের সন্ধ্যার সেবাকাজ দ্রুত অতীতের বিষয় হয়ে পড়ছে|

এটা আমাদের মন্ডলীগুলির দীর্ঘকালীন অসুস্থতার বিষয়টি প্রকাশ করে| এটা নিশ্চিতভাবে একটা ইতিবাচক লক্ষণ নয়| যেমন দীর্ঘকালীন অসুস্থতার ক্ষেত্রে যতক্ষণ না অসুখটি চিহ্নিত হয়, ডাক্তার তার জন্য কোন আরোগ্যের নির্দেশ দিতে পারেন না| এই ধর্ম্মোপদেশে, একজন ডাক্তারের মত, আমরা রোগীকে (সেই সমস্ত মন্ডলী যারা রবিবারের সন্ধ্যার সেবা বন্ধ করেছে) পরীক্ষা করব এবং কারণ চিহ্নিত করব - আর তারপরে একটা আরোগ্যের পরামর্শ দেব - একটা ওষুধ এবং আরোগ্য| চারটি উপায়ে এইসব মন্ডলীর রোগ নির্ণয় করা যেতে পারে|

I. প্রথমত, একটা সাধারণ প্রোটেস্টান্ট প্রবণতা অনুসারে অতি সাম্প্রতিক কালে আমাদের সব মন্ডলীতে রবিবারের সন্ধ্যার সেবাকাজ বন্ধ করার ঘটনা ঘটছে |

মোটামুটি 1910 সাল নাগাদ মেথডিষ্টরা রবিবারের সন্ধ্যায় তাদের সেবাকাজ বন্ধ রাখতে শুরু করেছিলেন| 1925 সাল নাগাদ প্রেসবাইটেরিয়ানস্‌রা তাদের রবিবারের রাত্রির সেবাকাজ বন্ধ করা শুরু করেন| আমেরিকান ব্যাপটিষ্টরা (আগে বলা হত নর্‌দার্ণ ব্যাপটিষ্ট) তাদের সান্ধ্যসেবা বন্ধ করতে শুরু করেছিলেন প্রায় 1945 সাল নাগাদ| সাউদার্ণ ব্যাপটিষ্ট এটা করতে শুরু করেছেন প্রায় 1985 সাল থেকে| এটা মনে রাখা উচিৎ যে যখন ‘‘প্রগতিশীল’’ প্রচারক সম্প্রদায়ের মধ্যে এই প্রবণতা শুরু হয়েছিল, সেই সময়ে মেথডিষ্ট, প্রেসবাইটেরিয়ানস্‌ এবং আমেরিকান ব্যাপটিষ্টরা সকলেই যে কোন বুনিয়াদি ব্যপটিষ্ট মন্ডলীর মতনই বাইবেল-বিশ্বাসী ছিলেন|

আজকের মেথডিস্ট, প্রেসবাইটেরিয়ানস্‍ এবং আমেরিকান ব্যাপটিস্টদের দিকে দেখুন! তাদের সদস্য ক্রমিক সংখ্যা বছরের পর বছর ধরে সংকুচিত হচ্ছে| 1900 সাল থেকে ঐ তিনটি সম্প্রদায়ের সবগুলিই লক্ষ লক্ষ সদস্য হারাচ্ছেন| তাদের হাজার হাজার মন্ডলী সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে| রবিবারের সান্ধ্যকালীন সেবাকাজ বন্ধ করা তাদের কোন সাহায্য করেনি| এটা ছিল ধ্বংসের এক পিচ্ছিল ঢালে পা ফেলা মাত্র|

সেই একই পথ যা মেথডিস্ট এবং প্রেসবাইটেরিয়ানস্‌ ও আমেরিকান ব্যাপটিস্টদের ধ্বংস করেছিল, অনুসরণ করছেন তবুও আজকের দিনে অনেক স্বাধীন ব্যাপটিস্ট মনে করেন যে তারা কিছু নতুন এবং প্রগতিশীল ধারণার ‘‘বিভাজনের সীমানা’’তে দাঁড়িয়ে রয়েছেন| ক্যালিফোর্‌নিয়ার সান দিয়েগোর কাছেই বসবাসকারী, জিম্ বাইজি নামের একজন স্বাধীন ব্যাপটিস্ট প্রচারক, বলেছিলেন, ‘‘আমি মৌলিক পদক্ষেপ গ্রহণ করিয়াছি! আমাদের রবিবারের সান্ধ্যকালীন সেবাকার্য্য আমি বন্ধ করিয়া দিয়াছি!’’ তিনি মনে করছেন এটা তার মন্ডলীকে সাহায্য করবে, কিন্তু আমি মনে করছি এটা তার সমাবেশের শুধু ক্ষতি করবে| এই লোকটির মতন একজন প্রচারককে আমি বলছি প্রতারক - খ্রীষ্টের কারণে একজন বিশ্বাসঘাতক! এই সমস্ত লোকেরা যা করছে তা সেইরকমের যা করা হয়েছিল ‘‘মেনলাইন’’ মন্ডলীতে যার উল্লেখ আমি আগে করেছি| এখন সাউদার্ণ ব্যাপটিস্ট মন্ডলী প্রত্যেক বছরে 200,000 লোক হারাচ্ছে| কারণগুলির একটা হল যে তাদের অনেক মন্ডলী রবিবারের রাত্রে বন্ধ থাকে|

উইনস্টন চার্চিল একবার বলেছিলেন, ‘‘ইতিহাস পড়ুন! ইতিহাস পড়ুন!’’ তিনি বলেছিলেন, ‘‘আপনি পিছনে অনেকদূর তাকাতে পারেন, অনেকটা সামনেও আপনার দেখতে পাওয়া উচিৎ|’’ সেইজন্যেই অতীতে তারা যখন তাদের রবিবারের রাত্রিকালীন সেবাকাজ ত্যাগ করেছিলেন সেইসময়ে ‘‘মেনলাইন’’ প্রোটেস্টান্ট এবং ব্যাপটিস্ট মন্ডলীতে কি ঘটেছিল তা জানাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ| এটা দেখা গুরুত্বপূর্ণ যে কিভাবে এই সাহায্য তাদের ব্যর্থতা, বিভাজন, এবং সবশেষে তাদের মৃত্যু ডেকে এনেছিল|

বর্তমানে, ঐতিহ্যমন্ডিত ‘‘মেনলাইন’’ মন্ডলীগুলি অতীতে যা ছিল তার একটা ছোট্ট ভগ্নাবশেষ মাত্র হয়ে রয়েছে| প্রথমে তারা প্রার্থনা সভা বাদ দিয়েছিলেন| তারপরে বাদ দেন তাদের সন্ধ্যার সেবাকাজ| এখন তারা আত্মা ছেড়ে দিচ্ছেন! এই অবশ্যম্ভাবী পরিণতি ব্যাপটিস্ট এবং অন্যান্যদেরও হবে যারা আমাদের সময়ে সেই এক পথ অনুসরণ করছেন|

II. দ্বিতীয়ত, ‘‘সিদ্ধান্তবাদের’’ ফলাফলগুলির মধ্যে একটি হল আমাদের মন্ডলীগুলিতে রবিবার রাত্রিকালীন সেবা বন্ধ করা |

আমাদের বই, টুডে’স এপোস্ট্যাসিতে, যেমন আমরা নির্দেশ করেছি 19শ শতকের মাঝামাঝি সময়ে চার্লস জি. ফিনি মহান প্রোটেস্টান্ট এবং ব্যাপটিষ্ট মন্ডলীগুলিতে তার ‘‘সিদ্ধান্তবাদ’’কে জনপ্রিয় করিয়েছিলেন| মানুষের আত্মায় ঈশ্বরের কাজ হিসাবে বাইবেল সংক্রান্ত মন পরিবর্তনের ধারণাকে ফিনির ‘‘সিদ্ধান্তবাদ’’ প্রতিস্থাপিত করেছিল এই ধারণা দিয়ে যে একটি ‘‘খ্রীষ্টের জন্য সিদ্ধান্ত’’ অগভীরভাবে গ্রহণ করার দ্বারা মানুষ উদ্ধার পায়| খালি একটা প্রার্থনা বা শারীরিক প্রতিক্রিয়া প্রাচীন-কালের মৌলিক বাইবেল সংক্রান্ত মন পরিবর্তনের ধারণার জায়গা নিয়েছিল| যার ফলে, প্রোটেস্টান্ট এবং ব্যাপটিস্ট মন্ডলীগুলি হাজার হাজার হারানো মানুষদের নিয়ে দ্রুত তাদের সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি করেছিল| অপরিত্রাণপ্রাপ্ত লোকেরা রবিবারে দুইবার করে মন্ডলীতে যেতে চান না - সেইজন্যে ফিনির পদ্ধতি গৃহিত হওয়ার কয়েক দশক পরে এই সমস্ত মন্ডলীতে রবিবারের রাত্রিকালীন সেবাকাজ অদৃশ্য হয়ে গেছিল | যে সব লোকেরা মন পরিবর্তন করেননি তারা রবিবারের রাত্রে আসবেন না ! আমেরিকার চতুর্দিকের ‘‘রক্ষণশীল’’ মন্ডলীগুলিতে এখন এর একটা হবহু পুনরাবৃত্তি ঘটে চলেছে|

নবীন যুবক হিসাবে আমি যতগুলি ব্যাপটিস্ট মন্ডলীতে উপস্থিত ছিলাম তার একটিতেও রবিবারের রাত্রে প্রত্যেকের উপস্থিতি ছিল না| আমরা সবসময়ে বুঝতাম যে যারা অপেক্ষাকৃত কম সমর্পিত, বা যাদের কখনই প্রকৃত মন পরিবর্তন হয়নি, তারা সেখানে থাকবেন না| কিন্তু আমরা যে কোনভাবেই হোক এগিয়ে চলেছিলাম| আমার যুবকবেলায় রবিবারের সন্ধ্যার সেবাকাজ ছিল সর্বদা শ্রেষ্ঠ সেবাকাজ| অপেক্ষাকৃত ভাল গান করা যেত| ধর্ম্মোপদেশগুলি আরও জোরদার হত| সেটা হত এই কারণে যে অন্য সকলের আত্মাকে নিম্নগামী করতে সেখানে হারানো মানুষেরা থাকত না| বিগত ষাট বছরের দিকে তাকিয়ে, আমি যা ভাবছি তা এইরকমই|

আজকের দিনে আমাদের মন্ডলীতে, রবিবারের রাত্রে প্রত্যেকে ফিরে আসেন| আমি বিশ্বাস করি এর কারণ হল তারা এইরকম করার শিক্ষা পেয়েছেন| কিন্তু আমি আরও বিশ্বাস করি যে আমাদের মন্ডলীর সদস্য হওয়ার আগে তাদের প্রত্যেকের সত্যিকারের মন পরিবর্তন হওয়া নিশ্চিত করার জন্য আমাদের নেওয়া খুঁটিনাটি যত্নের এটা একটা ফল| রবিবারের রাত্রে মন্ডলীতে আসবেন না তেমন আর একজন হারানো লোককে দ্রুত ব্যাপ্তিস্ম দেওয়ার পরিবর্তে, প্রকৃতভাবে মন পরিবর্তন করার জন্য আমি বরং কাউকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করাবো!

‘‘সিদ্ধান্তবাদ’’ আমাদের মন্ডলীর সদস্যপদ হারানো মানুষদের দিয়ে ভরে দিয়েছে - এবং এখন আমরা তার মূল্য দিচ্ছি| রবিবারের রাত্রে তারা আসতে চায় না কারণ তারা উদ্ধার পাননি! এর কারণগুলির মধ্যে এটা একটা যে গত দুই বছরে সাউদার্ণ ব্যাপটিস্টরা প্রায় অর্ধ লক্ষ সদস্য হারিয়েছেন!

III. তৃতীয়ত, রবিবারের রাত্রিকালীন সেবা বন্ধ করা বিভিন্ন অপ্রত্যাশিত ফলাফল বয়ে আনে |

আমি নিশ্চিত যা আমি উল্লেখ করব তা ছাড়াও সেখানে আরও অনেক না-বাচক ফলাফল রয়েছে| কিন্তু যা আমার মনে হয়েছে এখানে তার কয়েকটি দেওয়া হল|

1.   যে সব মন্ডলী তাদের রবিবারের রাত্রিকালীন সেবাকাজ বন্ধ করেন তারা তাদের লোকদের সামনে অন্য মন্ডলীতে যাওয়ার দরজা খুলে দেন যারা তাদের বিপথে পরিচালনা করে | তার রাত্রির সেবাকাজ সম্প্রতি বন্ধ করেছেন এমন একজন প্রচারক বলেছিলেন, ‘‘এটা আমাকে মুক্ত করেছে অন্যান্য মন্ডলীতে যেতে|’’ তিনি ভেবেছিলেন যে এটা খুব ভাল হয়েছে যে তিনি রবিবারের সন্ধ্যায় অন্যান্য প্রচারকদের প্রচার শুনতে যেতে পারবেন| কিন্তু আমি ভাবছিলাম, ‘‘তার লোকদের কি অবস্থা হয়েছে? তাদের মধ্যে কিছু লোকের ধারণা কি এইরকমই হবে?’’ এবং ঐ সমস্ত লোকদের পরিণতি কি হবে? স্মরণ করুন, শ্রেষ্ঠ লোকেরা এখনও রবিবারের রাত্রে যেতে চান| কিন্তু তারা কোথায় যাবেন? তারা কি রাস্তার মোড়ের ক্যারিস্‌মেটিক মন্ডলীতে যাবেন? একজন নতুন-সুসমাচার সংক্রান্ত বাইবেল শিক্ষকের এককোনে অবস্থিত মন্ডলী থেকে প্রচারিত, একটি ‘‘চাতুরীপূর্ণ’’ বার্তার দ্বারা তারা কি বিপথে পরিচালিত হবেন? আমি বলি যে তাদের মধ্যে কেউ কেউ হবেন - এবং এই যে আমরা আমাদের শ্রেষ্ঠ লোকদের কাউকে কাউকে হারাবো যদি আমরা রবিবারের রাত্রের সেবাকাজ বন্ধ করে দিই|

2.   সেই সব মন্ডলী যারা রবিবারের রাত্রিকালীন সেবাকাজ বন্ধ করেন তারা সপ্তাহের মহোত্তম সুসমাচার সংক্রান্ত সুযোগের একটি হারিয়ে ফেলেন | একজন প্রচারক আমাকে একটি মন্ডলীর বিষয়ে বলেছিলেন যেটি তাদের রাত্রের সেবাকাজ বন্ধ করে দিয়েছে| এর পরিবর্তে, সকালের সেবাকাজের পর তারা লোকদের একটি করে স্যান্‌ড্যুইচ দেন এবং তারপরে অন্য একটি সেবাকাজের জন্য তাদের অডিটোরিয়ামে ফিরিয়ে নিয়ে যান| এই উপায়ে লোকেরা রবিবারের দুপুর 2:00টা নাগাদ বাড়ি ফিরে যান| সেই প্রচারক আমাকে বলেছিলেন, ‘‘তারা যতটা সম্ভব বাইবেল পায়|’’ কিন্তু রবিবারের রাত্রের সেবাকাজের একমাত্র উদ্দেশ্য কি শুধুই ‘‘তাহাদের অধিক বাইবেল শিক্ষা দেওয়া’’? না, সেটা নয় ! বহু বছর ধরেই ভাল মন্ডলীগুলি রবিবারের রাত্রের সেবাকে একটি সুসমাচার সংক্রান্ত সভায় পরিণত করেছে| আমি বিশ্বাস করি যে এটা ছিল পুরানো দিনের ব্যাপটিস্ট মন্ডলীর মহা শক্তিশালী বিষয়গুলির মধ্যে একটি| হারানো আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব এবং স্বল্পপরিচিতদের সুসমাচার শোনার জন্য, রবিবারের রাত্রে সঙ্গে করে নিয়ে আনতে উৎসাহিত করা হত| এটা মন্ডলীর ভাল লোকদের সুযোগ দিত একজন হারানো লোককে রবিবারের গোটা বিকাল জুড়ে সান্ধ্যকালীন সেবাকাজের জন্য ‘‘প্রস্তুত করা’’র| সকালের সেবাকাজের পর আপনি লোকদের একটা দুপুরের খাবার দিতে পারেন, বাইবেলের অধ্যয়ণে আরও অংশ নিতে, কিন্তু তা সুসমাচার সংক্রান্ত মতবাদ ধ্বংস করে যা রবিবারের রাত্রে আমাদের ব্যাপটিস্ট মন্ডলীগুলিকে গড়ে উঠতে সাহায্য করেছিল ! আমার এক পালক বন্ধু আমাকে বলেছিলেন কিভাবে তার মন্ডলীর সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষের মধ্যে একজন রবিবার রাত্রের সেবাকাজে ‘‘অনুপস্থিত’’ হওয়ার ফলে চলে গিয়েছিলেন যখন তিনি হারিয়ে গিয়েছিলেন| তাহলে তার মতন কত জন লোককে আপনি হারাবেন যদি রবিবারের রাত্রের সেবাকাজ বন্ধ করে দিয়ে আপনি এই বিশাল সুসমাচারপ্রচার সংক্রান্ত সুযোগটি হাতছাড়া করেন?

3.   সেই সব মন্ডলী যারা রবিবারের রাত্রিকালীন সেবাকাজ বন্ধ করেন তারা যুবকদের কাছে পৌঁছানোর এবং তাদের সুশৃঙ্খল করার এক অসাধারণ সুযোগ হাতছাড়া করেন | যুবকেরা রাত্রিবেলায় বাইরে যেতে চান | মনে রাখবেন, রবিবারের রাত্রিকালীন সেবাকাজ বন্ধ করা কেবল অপেক্ষাকৃত বয়স্কদের জন্যই প্রযোজ্য, যারা টিভি দেখার জন্য, আর তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ার জন্য, বাড়িতে থাকতে চান| এটা প্রায়ই দেখা যায় যে বিবাহিত লোকেরা এবং বয়স্ক লোকেরা রবিবারের রাত্রের সেবাকাজ চান না| কিন্তু যুবকেরা নিজেদের নিয়ে কি করবেন সেটা তারা জানেন না | আমি বিশ্বাস করি যে কিশোর-কিশোরী এবং প্রাপ্তবয়্স্ক যুবক-যুবতীদের জন্য স্থানীয় মন্ডলীর একটি ‘‘দ্বিতীয় গৃহের’’ ভূমিকা পালন করা উচিৎ| আমি বিশ্বাস করি যে আমাদের মন্ডলীর ভবিষ্যৎ তাদের মধ্যেই অন্তর্নিহিত রয়েছে| বয়স্ক মানুষেরা হয়ত তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে চাইতে পারেন| কিন্তু যারা যুবক তাদের হাতেই মন্ডলীর ভবিষ্যৎ রয়েছে| আমি বিশ্বাস করি এই সব যুবকদের কথা মাথায় রেখে রবিবারের রাত্রের সেবাকাজের পরিকল্পনা বিশেষভাবে করা উচিৎ| রবিবারের রাত্রে যদি আমাদের কাছে যুবক-কেন্দ্রিক কোন সেবাকাজ থাকে, তাহলে আমরা মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারি, খ্রীষ্টের প্রতি তাদের জয় করতে পারি, এবং স্থানীয় মন্ডলীতে সেবাকাজের জন্য তাদের শিক্ষিত করতে পারি| অন্যদিকে, যদি আমরা রবিবারের সন্ধ্যার সেবাকাজ বন্ধ করে দিই, তাহলে আমাদের মন্ডলীতে খুব তাড়াতাড়ি শুধু মুষ্টিমেয় কয়েকজন পাকাচুলো বৃদ্ধা মহিলা, রবিবারের সকালে একঘন্টার জন্য প্রায় শূন্য মন্ডলীর ঘরে একসাথে গাদাগাদি করে থেকে যাবেন - এক কোনে অবস্থিত মেথডিস্ট মন্ডলীর মতন - যারা পঞ্চাশ বা ষাট বছর আগে তাদের রবিবার রাত্রের সেবাকাজ বর্জন করেছিলেন| আমি বিশ্বাস করি যে যেসব মন্ডলী রবিবারের রাত্রিকালীন সেবাকাজ বর্জন করেছে তারা আজ থেকে বেশ কয়েক বছর পরেও একই অবস্থায় থাকবে যদি না প্রত্যেক রবিবার রাত্রে নবীন যুবকদের উপরে আমরা আমাদের প্রচার কেন্দ্রীভূত করি!

IV. চতুর্থত, রবিবারের রাত্রিকালীন সেবা বন্ধ করা আমাদের প্রকৃত উদ্দীপনা পেতে বাধা দেয় |

আমি এই বিষয়টি কেবল ছুঁয়ে যেতে পারি, কিন্তু আমি উদ্দীপনার ইতিহাসের সম্বন্ধে যথেষ্ট পড়াশোনা করেছি এটা জানতে যে উদ্দীপনা প্রায়শই রাত্রিবেলায় আসে| আসলে উদ্দীপনা সাধারণত রবিবারের রাত্রে ঈশ্বরের থেকে প্রেরিত হয়ে থাকে!

ডঃ এ. ডব্লিউ. টোজার ‘‘Born after Midnight’’ নামে একটি বার্তাবাহী প্রবন্ধ লিখেছিলেন| তাতে তিনি বলেছেন:

উদ্দীপনাসমূহ মধ্যরাত্রের পরে জন্ম নিয়াছে এই ধারণার মধ্যে বিবেচনাযোগ্য সত্য রহিয়াছে, কারণ উদ্দীপনাসমূহ...কেবলমাত্র উহাদের নিকটেই আসে যাহারা তাহা অতি কঠোরভাবে চাহিতেছে... এবং ইহা আরও বেশি করিয়া সম্ভব যে যিনি অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতা [উদ্দীপনার অভিজ্ঞতা] চাহিতেছেন তাহার নিকট সেই বিরল আত্মা মধ্যরাত্রের পরে পৌঁছায় (A. W. Tozer, “Born After Midnight,” in The Best of A. W. Tozer, compiled by Warren W. Wiersbe, Baker, 1978, pp. 37-39) |

অনুগ্রহ করে বোকার মতন এমন মন্তব্য করবেন না যে আমি বলছি আমাদের সন্ধ্যার সভা সবসময়ে মধ্যরাত অবধি চলা উচিৎ|

যাই হোক, আমার কাছে রয়েছে দুটি মন্ডলীতে ঐতিহ্যবাহী উদ্দীপনার সাক্ষী থাকার বিরল অভিজ্ঞতা, যা শত শত মন পরিবর্তন করিয়েছিল| সেই উভয় মন্ডলীতেই সন্ধ্যার সেবাকাজ চালু ছিল যা রাত অবধি চলত| ঈশ্বর প্রেরিত উদ্দীপনার তিন বছর ধরে এই মন্ডলীগুলির একটি প্রায় বেশ কয়েক হাজার লোক যুক্ত করেছিল| অনেক সভাই শেষ রাত্রি অবধি চলত| অন্য মন্ডলীটি তিন মাসে পাঁচ হাজারেরও বেশি লোক যুক্ত করেছিল| ঈশ্বর প্রেরিত এই উদ্দীপনার দ্বিতীয়টি শুরু হয়েছিল এক রবিবারের সান্ধ্যকালীন সভায়| প্রথম মন্ডলীতে ছিল রবিবারের সান্ধ্যকালীন সেবা আর সেইসঙ্গে সপ্তাহ-রাত্রিকালীন সেবা| এটি স্বর্গ থেকে আগত উদ্দীপনার অভিজ্ঞতা লাভ করেছিল!

এই দুটি ব্যাপটিস্ট মন্ডলী কি এইধরনের উদ্দীপনার আশীর্ব্বাদ লাভ করার অভিজ্ঞতা পেতেন যদি তারা তাদের সান্ধ্যকালীন সেবা বন্ধ করে দিতেন? না, তারা সেটা পেতেন না ! যেমন ডঃ টোজান বলেছিলেন, উদ্দীপনা একমাত্র ‘‘উহাদের নিকটেই আসে যাহারা তাহা অতি কঠোরভাবে চাহিতেছে|’’ যদি আমরা অতি কঠোরভাবে উদ্দীপনা চাই, তাহলে আমরা সেই বিশেষ সেবাটি বন্ধ করব না যেখানে ঈশ্বর প্রায়ই প্রকৃত উদ্দীপনা পাঠিয়ে থাকেন|

আমাদের নিজেদের মন্ডলীতে গত বছরে ঈশ্বর একটি লক্ষণীয় উদ্দীপনা পাঠিয়েছিলেন| কয়েক রাত্রিতেই উনত্রিশ জন যুবক উদ্ধার পেয়েছিলেন - এবং আমাদের মন্ডলীতে থেকে গিয়েছিলেন কারণ প্রকৃতভাবে তাদের মন পরিবর্তন করান হয়েছিল| ঐ সভাগুলির প্রায় সবগুলিই রাত্রিবেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল|

এখন আমি আজ সকালে এখানে উপস্থিত আপনাদের মধ্যে শুধু তাদেরকেই সংক্ষেপে কিছু বলব যারা এখনও পরিত্রাণ পাননি| উদ্ধার পাওয়ার বিষয়ে আপনি কি উদ্বিগ্ন? আপনি কি আপনার পাপের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন? আপনি কি চান যে যীশু আপনাকে পাপ এবং নরক থেকে রক্ষা করুন? তাহলে আমি আমার সমস্ত হৃদয় দিয়ে আপনাকে আজ রাত্রে এখানে ফিরে আসার অনুরোধ করছি| জন্‌ কেগান ‘‘হারানো আত্মার জন্য সংগ্রাম’’ বিষয়ে প্রচার করবেন| এটা এমন একটি ধর্ম্মোপদেশ যা আপনাকে প্রতিদ্বন্দীতায় আহ্বান জানাবে - এমন একটি ধর্ম্মোপদেশ যা যীশুকে খুঁজে পেতে এবং তাঁর পবিত্র রক্তের দ্বারা আপনার পাপ থেকে উদ্ধার পেতে আপনাকে সাহায্য করবে! আজ রাত্রে এখানে চলে আসার এবং জন্‍ কেগানের গতিশীল প্রচার শোনার বিষয়ে নিশ্চিত হোন!

কিন্তু পরিত্রাণ না পেয়ে কেন এখন বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন? আপনার পাপ থেকে ফিরে আসুন এবং এখন যীশুতে বিশ্বাস স্থাপন করুন! যীশু এখনই আপনাকে আপনার পাপ থেকে শুচি করবেন যখন আপনি তাঁকে আর একমাত্র তাঁকেই বিশ্বাস করবেন!

অনুগ্রহ করে উঠে দাঁড়ান 7 নম্বর গানটি করুন, ‘‘কেবলমাত্র যীশুর রক্ত|’’ যখন আমরা গাইছি, আমি চাই আপনি এখানে সামনে এগিয়ে আসুন এবং প্রার্থনার জন্য হাঁটু গেড়ে বসুন| ঈশ্বর যেন আপনাকে যীশুর প্রতি আকর্ষণ করেন তার জন্যে ডঃ কেগান, জন্‌ কেগান এবং আমি আপনাকে পরামর্শ দিতে এবং আপনার সঙ্গে প্রার্থনা করতে এখানে উপস্থিত থাকব| কারণ যে রক্ত যীশু ক্রুশের উপরে ঝরিয়েছিলেন আপনাকে রক্ষা করতে তা দিয়ে ধৌত করে আপনাকে শুচি করার দ্বারা একমাত্র যীশুই পারেন আপনার পাপ থেকে আপনাকে রক্ষা করতে| আমাদের গান করাকালীন আপনি চলে আসুন| অনুগ্রহ করে উঠে দাঁড়ান আর আপনার গানের পাতার 7 নম্বর গানটি করুন| গানটি হল ‘‘কেবলমাত্র যীশুর রক্ত’’ এবং সেটা আপনার গানের পাতার 7 নম্বর গান|

কি মোর পাপ পারে ধুইতে? কেবলমাত্র যীশুর রক্ত;
   কি পারে নির্মল করিতে? কেবলমাত্র যীশুর রক্ত|
আহা! অমূল্য ধারা এই, যায় আমি শুচি হই;
   আর অন্য ধারা নাই, কেবলমাত্র যীশুর রক্ত|

এতে আমি রক্ষা পাই - কেবলমাত্র যীশুর রক্ত;
   এতে আমি সাধু হই - কেবলমাত্র যীশুর রক্ত|
আহা! অমূল্য ধারা এই, যায় আমি শুচি হই;
   আর অন্য ধারা নাই, কেবলমাত্র যীশুর রক্ত|

পাপে প্রায়শ্চিত্ত এই - কেবলমাত্র যীশুর রক্ত;
   মোর সৎ কর্ম্ম পারে নাই - কেবলমাত্র যীশুর রক্ত|
আহা! অমূল্য ধারা এই, যায় আমি শুচি হই;
   আর অন্য ধারা নাই, কেবলমাত্র যীশুর রক্ত|
(“Nothing But the Blood” by Robert Lowry, 1826-1899) |


যদি এই প্রচার আপনাকে আশীর্বাদ দান করেছে তাহলে ডঃ হাইমার্স আপনার কাছ থেকে কিছু শুনতে চান| যখন আপনি ডঃ হাইমার্সকে চিঠি লিখবেন তখন অবশ্যই তাকে জানাবেন যে কোন দেশ থেকে আপনি তাকে লিখছেন নয়ত তিনি আপনার ই-মেলের জবাব দিতে সক্ষম হবেন না| যদি এই প্রচার আপনাকে আশীর্বাদ দান করেছে তবে ডঃ হাইমার্সকে একট ই-মেল পাঠান এবং তাকে সেইকথা জানান, কিন্তু কোন দেশ থেকে আপনি লিখছেন চিঠিতে সেটা অবশ্যই অন্তর্ভূক্ত করবেন| ডঃ হাইমার্সের ই-মেল ঠিকানা হল rlhymersjr@sbcglobal.net (এখানে ক্লিক করুন) | আপনি যে কোন ভাষায় ডঃ হাইমার্সকে চিঠি লিখতে পারেন, কিন্তু যদি পারেন তো ইংরাজিতেই লিখুন| যদি আপনি ডঃ হাইমার্সকে ডাক-ব্যবস্থার মাধ্যমে চিঠি পাঠাতে চান, তবে তার ঠিকানা হল P.O. Box 15308, Los Angeles, CA 90015 | আপনি তাকে (818)352-0452 নম্বরে ফোন করতে পারেন|

(সংবাদের পরিসমাপ্তি)
ডঃ হাইমার্সের সংবাদ আপনি প্রতি সপ্তাহে ইন্টারনেটে www.sermonsfortheworld.com ওয়েবসাইটে গিয়ে পড়তে পারেন| ক্লিক করুন “প্রচার পান্ডুলিপি|”

আপনি ডাঃ হাইমার্সকে মেইল পাঠাতে পারেন rlhymersjr@sbcglobal.net - আপনি
তাকে পত্র লিখতে পারেন P.O. Box 15308, Los Angeles, C A 90015.এই ঠিকানায়
। আপনি তাকে টেলিফোন করতে পারেন (818) 352-0452.

এই সুসমাচারের ম্যানুস্ক্রিপ্ট এর ওপর ডাঃ হাইমসের কোন কপিরাইট নেই। আপনারা
ইহা ব্যাবহার করতে পারেন ডাঃ হাইমসের অনুমতি ছাড়াই। অবশ্য, ভিডিও মেসেজ
সবই কপিরাইটের সহিত আছে এবং কেবলমাত্র তার অনুমতি নিয়েই ব্যাবহার করা যাবে।

সংবাদের আগে শাস্ত্রাংশ পাঠ করেছেন মিঃ আবেল প্রুধোম্মে: যিহুদা 1-4 |
সংবাদের আগে একক সংগীত পরিবেশন করেছেন মিঃ বেঞ্জামিন কিনকেড গ্রিফিত:
“Onward, Christian Soldiers” (Sabine Baring-Gould, 1834-1924) |


খসড়া চিত্র

রবিবারের রাত্রের জন্য যুদ্ধ

(যুদ্ধ ঘোষণার একটি ধারাবাহিকের এক নম্বর)
THE BATTLE FOR SUNDAY NIGHT
(NUMBER ONE IN A SERIES OF BATTLE CRIES)

লেখক : ডঃ আর. এল. হেইমার্স, জুনিয়র

‘‘প্রিয়তমেরা, আমাদের সাধারন পরিত্রাণের বিষয়ে তোমাদিগকে কিছু লিখিতে নিতান্ত যত্নবান্ হওয়াতে আমি বুঝিলাম, পবিত্রগণের কাছে একবারে সমর্পিত বিশ্বাসের পক্ষে প্রাণপণ করিতে তোমাদিগকে আশ্বাস দিয়া লেখা আবশ্যক’’ (যিহুদা 3)|

(মথি 25:5)

I.    প্রথমত, একটা সাধারণ প্রোটেস্টান্ট প্রবণতা অনুসারে অতি সাম্প্রতিক কালে আমাদের সব মন্ডলীতে রবিবারের সন্ধ্যার সেবাকাজ বন্ধ করার ঘটনা ঘটছে|

II.   দ্বিতীয়ত, "সিদ্ধান্তবাদের" ফলাফলগুলির মধ্যে একটি হল আমাদের মন্ডলীগুলিতে রবিবার রাত্রিকালীন সেবা বন্ধ করা|

III.  তৃতীয়ত, রবিবারের রাত্রিকালীন সেবা বন্ধ করা বিভিন্ন অপ্রত্যাশিত ফলাফল বয়ে আনে|

IV.  চতুর্থত, রবিবারের রাত্রিকালীন সেবা বন্ধ করা আমাদের প্রকৃত উদ্দীপনা পেতে বাধা দেয়|