Print Sermon

এই সমস্ত প্রচারের পান্ডুলিপি এবং ভিডিওগুলি এখন প্রতি মাসে 215টিরও বেশি দেশের প্রায় 116,000 কম্প্যুটারে www.sermonsfortheworld.com ওয়েবসাইটে পাঠানো হয়| আরও শত শত লোক ইউ টিউবের ভিডিওর মাধ্যমে এগুলি দেখেন, কিন্তু খুব শীঘ্রই তারা ইউটিউব ছেড়ে বেরিয়ে যান, কারণ প্রত্যেকটি ভিডিও প্রচার তাদেরকে আমাদের ওয়েবসাইটের দিকে পরিচালিত করে| ইউটিউব আমাদের ওয়েব সাইটে লোক এনে দেয়| প্রচারের এই পান্ডুলিপিগুলি প্রতি মাসে 34টি ভাষায় প্রচারিত হয় হাজার হাজার লোকের কাছে| প্রচারের এই সব পান্ডুলিপিগুলি গ্রন্থসত্ত্ব দ্বারা সংরক্ষিত নয়, কাজেই প্রচারকগণ আমাদের অনুমতি ছাড়াই এইগুলি ব্যবহার করতে পারেন| মুসলিম এবং হিন্দু রাষ্ট্রসমেত, সমগ্র পৃথিবীতে সুসমাচার ছড়িয়ে দেওয়ার এই মহান কাজে সাহায্য করার জন্য কিভাবে আপনি একটি মাসিক অনুদান প্রদান করতে পারেন তা জানতে অনুগ্রহ করে এখানে ক্লিক করুন|

যখন আপনি ডঃ হেইমার্সকে লিখবেন সর্বদা তাকে জানাবেন যে আপনি কোন দেশে বাস করেন, অথবা তিনি আপনাকে উত্তর দিতে পারবেন না| ডঃ হেইমার্সের ই-মেল ঠিকানা হল rlhymersjr@sbcglobal.net |




প্রার্থনায় ঈশ্বর উত্তর দেন

THE PRAYERS GOD ANSWERS
(Bengali)

লেখক : ডঃ আর. এল. হেইমার্স, জুনিয়র
by Dr. R. L. Hymers, Jr.

2016 সালের, 22শে মে, প্রভুর দিনের সন্ধ্যাবেলায় লস্ এঞ্জেল্সের
ব্যাপটিষ্ট ট্যাবারন্যাক্ল মন্ডলীতে এই ধর্ম্মোপদেশটি প্রচারিত হয়েছিল
A sermon preached at the Baptist Tabernacle of Los Angeles
Lord’s Day Evening, May 22, 2016

‘‘এলিয় আমাদের ন্যায় সুখদুঃখভোগী মনুষ্য ছিলেন, আর তিনি দৃঢ়তার সহিত প্রার্থনা করিলেন যেন বৃষ্টি না হয়: এবং তিন বৎসর ছয় মাস ভূমিতে বৃষ্টি হইল না’’ (যাকোব 5:17)|


এটা খুব আকর্ষণপূর্ণ যে পুরানো নিয়মে ইলিশায়ের এই ধরনের প্রার্থনার কোন উল্লেখ করে না| এতে আমাদের শুধু বলা হয়েছে যে সেই ভাববাদী জানতেন ঈশ্বর প্রার্থনার উত্তর দেবেন যার কোন উল্লেখ তারা করেননি (I রাজাবলি 17:1)| আমার কাছে মনে হচ্ছে যে ইলিশায়ের প্রার্থনাগুলি যাকোবের কাছে বিশেষভাবে প্রকাশ পেয়েছিল| কিন্তু পুরানো নিয়ম আমাদের শুধু সেই কথাই বলছে যা সেই ভাববাদী রাজা আহবের কাছে বলেছিলেন| ডঃ ম্যাকগী নির্দেশ করেছিলেন যে ভাববাদীরা মানুষদের প্রতি বলেছিলেন, কিন্তু যাজকেরা ঈশ্বরের প্রতি কথা বলেছিলেন| ইলিশায় একজন ভাববাদী ছিলেন, কাজেই বাইবেল আমাদের শুধু তাই বলে যা ইলিশায় আহবকে বলেছিলেন| ইলিশায় ঈশ্বরকে যা বলেছিলেন সেটা ততক্ষণ অবধি গোপন ছিল যতক্ষণ না ইশ্বর সেটা যাকোবের কাছে প্রকাশ করেছিলেন| ইলিশায় আহবকে বলেছিলেন,

‘‘আমি যাঁহার সাক্ষাতে দন্ডায়মান, ইস্রায়েলের ঈশ্বর সেই জীবন্ত সদাপ্রভুর দিব্য, এই কয়েক বৎসর শিশির কি বৃষ্টি পড়িবে না, কেবল আমার কথানুসারে পড়িবে’’ (I রাজাবলি 17:1)|

ইলিশায়ের অনাবৃষ্টি এবং বৃষ্টির প্রার্থনার প্রসঙ্গে আমরা বেশি কিছুই জানতে পারতাম না যদি না যাকোব 5:17 পদটি ঈশ্বরের অনুপ্রেরণার দ্বারা যাকোবকে না বলা হত (II তীমথিয় 3:16)|

সেই পাঠ্যাংশটি আমাদের বলছে ইলিশায় ‘‘আন্তরিকভাবে’’ খরা এবং বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেছিলেন| গ্রীক বাক্যে ‘‘আন্তরিকভাবে’’ অনুবাদিত হয়েছিল যার অর্থ হল ‘‘তিনি প্রার্থনার সহিত প্রার্থনা করিয়াছিলেন|’’ থমাস ম্যান্টন (1620-1667) বলেছেন যে এটা বোঝাচ্ছে ‘‘জিহ্বা এবং হৃদয়ের মধ্যকার একটি চুক্তিকে; হৃদয় প্রার্থনা করিতেছিল এবং [সেই] জিহ্বা প্রার্থনা করিতেছিল’’ (Commentary on James, The Banner of Truth Trust, 1998 reprint)| আমি বিশ্বাস করি যে এটা উচ্চ স্বরে প্রার্থনা করার চাইতেও বেশি কিছু বোঝাচ্ছে| আমি মনে করি ম্যান্টন সঠিক যে এতে হৃদয়ের সঙ্গে প্রার্থনার বাক্যগুলির একটি চুক্তি বোঝানো হয়েছে| এর মানে হল যে কারো হৃদয় আন্তরিকভাবে সেটাই কামনা করছে যা তিনি তার প্রার্থনায় বলছেন|

বছরের পর বছর ধরে আমি প্রার্থনার অনেক অসাধারন উত্তর প্রত্যক্ষ করেছি| কিন্তু আমি যা প্রার্থনা করেছি তার সব কয়টির উত্তর তাড়াতাড়ি আসেনি| প্রার্থনার প্রতি মহান উত্তরগুলি সাধারনত তখনই আসে যখন সেখানে প্রথম থেকেই সেই জিনিষের জন্য প্রবল একটা চাপ থাকে যার জন্য আমি প্রার্থনা করছিলাম| হতে পারে সেটা এমন একটা কিছু যার বিষয়ে চিন্তা করা আমি বন্ধ করতে পারতাম না| প্রাচীনকালের খ্রীষ্ট বিশ্বাসীরা একে বলতেন একটি ‘‘বোঝা,’’ এমন একটা কিছু যা আপনার উপরে ভার প্রয়োগ করে, একটা কিছু যা আপনাকে গভীর উদ্বেগের মধ্যে ফেলে দেয়, যাতে আপনি সেই বিষয়ে এত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হন যে এটা আপনার কাছে ক্রমাগতভাবে ফিরে আসতে থাকে| এবং যতক্ষণ না উত্তর আসে আপনি এর জন্য প্রার্থনা করতে থাকেন|

যতক্ষণ না উত্তর আসে ততক্ষণ ধরে যা আমাদের উপরে চাপ সৃষ্টি করে সেই জিনিষের জন্য প্রার্থনা চালিয়ে যাওয়ার গুরুত্ব বোঝানোর প্রতি খ্রীষ্ট দুটি দৃষ্টান্ত দিয়েছিলেন| প্রথমটিকে বলা হয় ‘‘নাছোড়বান্দা বন্ধুর দৃষ্টান্ত|’’ নাছোড়বান্দার অর্থ হল ‘‘অধ্যাবসায়ী’’ বা এমনকী ‘‘বিরক্তিকর|’’ এটা লূক 11:5-13 পদগুলিতে লেখা আছে| স্কোফিল্ড স্টাডি বাইবেলের 1090 পৃষ্ঠাতে এটা পাবেন| অনুগ্রহ করে উঠে দাঁড়ান এবং জোরে জোরে পড়ুন|

‘‘আর তিনি তাঁহাদিগকে কহিলেন, তোমাদের মধ্যে কাহারও যদি বন্ধু থাকে, আর সে যদি মধ্যরাত্রে তাহার নিকটে গিয়া বলে, ‘বন্ধু, আমাকে তিনখানা রুটী ধার দেও, কেননা আমার এক বন্ধু পথে যাইতে যাইতে আমার কাছে আসিয়াছেন, তাঁহার সম্মুখে রাখিবার আমার কিছুই নাই;’ তাহা হইলে সেই ব্যক্তি ভিতরে থাকিয়া কি এমন উত্তর দিবে, ‘আমাকে কষ্ট দিও না, এখন দ্বার বন্ধ, এবং আমার সন্তানেরা আমার কাছে শুইয়া আছে, আমি উঠিয়া তোমাকে দিতে পারি না’? আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, সে যদ্যপি বন্ধু বলিয়া উঠিয়া তাহা না দেয়, তথাপি উহার আগ্রহ প্রযুক্ত উঠিয়া উহার যত প্রয়োজন, তাহা দিবে| আর আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, যাচ্ঞা কর, তোমাদিগকে দেওয়া যাইবে; অন্বেষণ কর, পাইবে; দ্বারে আঘাত কর, তোমাদের জন্য খুলিয়া দেওয়া যাইবে| কেননা যে কেহ যাচ্ঞা করে, সে গ্রহণ করে, এবং যে অন্বেষণ করে, সে পায়; আর যে দ্বারে আঘাত করে, তাহার জন্য খুলিয়া দেওয়া যাইবে| তোমাদের মধ্যে এমন পিতা কে, যাহার পুত্ত্র রুটী চাহিলে তাহাকে পাথর দিবে? কিম্বা মাছ চাহিলে মাছের পরিবর্ত্তে সাপ দিবে? কিম্বা ডিম চাহিলে তাহাকে বৃশ্চিক দিবে? অতএব তোমরা মন্দ হইয়াও যদি তোমাদের সন্তানদিগকে উত্তম উত্তম দ্রব্য দান করিতে জান, তবে ইহা কত অধিক নিশ্চয় যে, স্বর্গস্থ পিতা, যাহারা তাঁহার কাছে যাচ্ঞা করে, তাহাদিগকে পবিত্র আত্মা দান করিবেন?’’ (লূক 11:5-13)|

আপনারা এখন বসতে পারেন|

সমগ্র দৃষ্টান্তটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে যাচ্ঞা করতে থাকি এবং প্রার্থনা করতে থাকি যতক্ষণ না আমরা যা চাইছি সেটা হাতে পাই| নবম এবং দশম পদদুটি বলছে,

‘‘আর আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, যাচ্ঞা কর, তোমাদিগকে দেওয়া যাইবে; অন্বেষণ কর, পাইবে; দ্বারে আঘাত কর, তোমাদের জন্য খুলিয়া দেওয়া যাইবে| কেননা যে কেহ যাচ্ঞা করে, সে গ্রহণ করে, এবং যে এবং যে অন্বেষণ করে, সে পায়; আর যে দ্বারে আঘাত করে, তাহার জন্য খুলিয়া দেওয়া যাইবে|’’ (লূক 11:9-10)|

গ্রীক পাঠ্যাংশে ‘‘যাচ্ঞা কর,’’ ‘‘অন্বেষণ কর,’’ এবং ‘‘আঘাত কর’’ সবই হচ্ছে বর্তমান কাল| এইগুলিকে এইভাবে অনুবাদ করা যেতে পারত যে ‘‘ক্রমাগত যাচ্ঞা করিতে থাক, ক্রমাগত অন্বেষণ করিতে থাক, ক্রমাগত আঘাত করিতে থাক|’’ এখন 13 নং পদের দিকে দেখুন,

‘‘অতএব তোমরা মন্দ হইয়াও যদি তোমাদের সন্তানদিগকে উত্তম উত্তম দ্রব্য দান করিতে জান, তবে ইহা কত অধিক নিশ্চয় যে, স্বর্গস্থ পিতা, যাহারা তাঁহার কাছে যাচ্ঞা করে, তাহাদিগকে পবিত্র আত্মা দান করিবেন?’’ (লূক 11:13)|

অতএব এখানে দেখা যাচ্ছে যে আমাদের ‘‘বন্ধুবর্গের’’ মধ্যে যাদের প্রয়োজন তাদের প্রতি পবিত্র আত্মা দান করে ঈশ্বরের দ্বারা তাদের অটল প্রার্থনার উত্তর দেওয়া হবে| ডঃ জন্ আর. রাইস সঠিক ছিলেন যখন তিনি বলেছিলেন আত্মা জয়ের জন্য পবিত্র আত্মার ক্ষমতা যাচ্ঞাকারী খ্রীষ্ট বিশ্বাসীদের প্রতি এটা প্রযোজ্য (Prayer: Asking and Receiving, pp. 212, 213)|

কিন্তু মথি 7:7-11 পদগুলিতেও সেই একই শিক্ষা দেওয়া হয়েছে| স্কোফিল্ড স্টাডি বাইবেলের 1003 পৃষ্ঠাতে পদগুলি পাবেন| উচ্চস্বরে পড়ুন|

‘‘যাচ্ঞা কর, তোমাদিগকে দেওয়া যাইবে; অন্বেষণ কর, পাইবে; দ্বারে আঘাত কর, তোমাদের জন্য খুলিয়া দেওয়া যাইবে| কেননা যে কেহ যাচ্ঞা করে, সে গ্রহণ করে; এবং যে অন্বেষণ করে, সে পায়; আর যে আঘাত করে, তাহার জন্য খুলিয়া দেওয়া যাইবে| তোমাদের মধ্যে এমন লোক কে যে, আপনার পুত্ত্র রুটী চাহিলে তাহাকে পাথর দিবে, কিম্বা মাছ চাহিলে তাহাকে সাপ দিবে? অতএব তোমরা মন্দ হইয়াও যদি তোমাদের সন্তানদিগকে উত্তম উত্তম দ্রব্য দান করিতে জান, তবে ইহা কত অধিক নিশ্চয় যে, তোমাদের স্বর্গস্থ পিতা, যাহারা তাঁহার কাছে যাচ্ঞা করে, তাহাদিগকে উত্তম উত্তম দ্রব্য দান করিবেন?’’ (মথি 7:7-11)|

আপনি লক্ষ করবেন যে 11 নং পদে পৃথক শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে| লূক 11তে যীশু বলেছেন, ‘‘ইহা কত অধিক নিশ্চয় যে, স্বর্গস্থ পিতা, যাহারা তাঁহার কাছে যাচ্ঞা করে, তাহাদিগকে পবিত্র আত্মা দান করিবেন?’’ কিন্তু মথি 7:11 পদে যীশু বলেছেন, ‘‘ইহা কত অধিক নিশ্চয় যে, তোমাদের স্বর্গস্থ পিতা, যাহারা তাঁহার কাছে যাচ্ঞা করে, তাহাদিগকে উত্তম উত্তম দ্রব্য দান করিবেন?’’

ভাববাদী ইলিশায় প্রার্থনা করেছিলেন যেন বৃষ্টি না হয়, এবং সাড়ে তিন বছর ধরে বৃষ্টি হয়নি| সেটাই ছিল বোঝা যা ঈশ্বর তার হৃদয়ে চাপিয়েছিলেন| এবং, যখন তিনি প্রার্থনা করেছিলেন, ঈশ্বর বৃষ্টি বন্ধ করার দ্বারা তার প্রার্থনার উত্তর দিয়েছিলেন| কখনো কখনো ঈশ্বর দ্রুত উত্তর দেন| অন্য কোন সময়ে ঈশ্বর প্রথমেই উত্তর দেন না|

আমি খুব ভাল করে সেই রাতটিকে স্মরণ করতে পারি যখন ঈশ্বর খুব দ্রুত আমার প্রার্থনার উত্তর দিয়েছিলেন| আমি তখন বারো বছর বয়সী ছিলাম| আমাকে এক কাকা ও কাকিমার সাথে থাকার জন্য পাঠানো হয়েছিল যারা টোপান্গা ক্যানিইওনের উপরে বাস করতেন| সেখানে থাকাকালীন কয়েক মাসের জন্য আমি একটি স্কুলে যেতাম - হাই স্কুল থেকে স্নাতক হওয়ার আগে আমাকে পাঠানো সেই বাইশটি স্কুলের মধ্যে সেটা ছিল একটা| সেই কারণেই আমি কলেজে গিয়ে প্রথম বছরে ফেল করেছিলাম| আপনাকে বাইশবার বিভিন্ন স্কুলে পাঠানো হলে, তখন আপনি বিশেষ কিছু শেখেন না| কিভাবে পড়তে হয় তা আমি শিখেছিলাম| বড় হাতের লেখা কিভাবে লিখতে হয় সেটা আমি শিখেছিলাম| কিভাবে যোগ ও বিয়োগ করতে হয় সেটা শিখেছিলাম| সাকুল্যে এই ছিল সব| কিন্তু সেখানে, সেই টোপান্গা ক্যান্ইওনের উপরে, এক কাকীমার সঙ্গে আমি থাকতাম যিনি সর্বদা মাতাল অবস্থায় থাকতেন| এক রাত্রে আমার কাকাতো ভাই তার বন্ধুদের সঙ্গে বসে মদ্যপান করছিল| প্রকৃতপক্ষে, তারা যথেষ্ট নেশাগ্রস্ত ছিল| তারা বলল, ‘‘রবার্ট, এদিকে এস| গাড়িতে উঠে বস আর চল আমরা একটু গাড়ি করে বেড়িয়ে আসি|’’ আমি যেতে চাইছিলাম না, কিন্তু আমার বয়স তখন সবেমাত্র বার বছর, এবং সেই শক্তিশালী যুবকেরা আমাকে পাকড়ে ধরেছিল আর জোর করে গাড়ির পিছনে আমাকে বসিয়েছিল| গাড়িটা ছিল আমার কাকার 1940 মডেলের ফোর্ড ক্যুপে| তার সামনেই শুধু বসার জায়গা ছিল| সামনের আসনের পিছনের সরু মতন জায়গাতে তারা আমাকে ঠেসে দিয়েছিল| বিয়র এবং হুইস্কি পান করার পরে তারা গাড়ি নিয়ে বের হল| সেই ‘‘একটু গাড়ি করে বেড়ানো’’ পরিণত হয়েছিল বেলাভূমির দিকে নেমে যাওয়া প্যাঁচালো রাস্তা দিয়ে বন্য, মাতালের মতন দৌড়ে| আপনি যদি কখনও সেই রাস্তায় গিয়েছেন তাহলে সেটা কি ধরনের সেই সম্বন্ধে আপনার কিছু ধারণা থেকে থাকবে| রাস্তাটি সাপের মতন এঁকেবেঁকে ঘুরতে ঘুরতে নিচের দিকে নেমেছে| তারা যথেষ্ট মাতাল ছিল এবং আমার ভাই প্রায় ঘন্টায় ষাট মাইল বেগে গাড়ি চালিয়ে পাহাড় বেয়ে নেমে আসছিল| গাড়ির সর্বোচ্চ গতিবেগের সীমা ধার্য করা ছিল, আমার মনে হয়, ঘন্টায় 25 মাইল আর তারা চলেছিল 65 বা 70 মাইল বেগে| যতদিন আমি বেঁচে থাকব এই ঘটনা আমি কখনো ভুলব না| কখন সখন এই বিষয়ে আমি এখনও দুঃস্বপ্ন দেখি| আমি নিজের মাথা নিচু করে রেখেছিলাম এবং সেই একটিই প্রার্থনা করছিলাম যা আমি সেই সময়ে জানতাম| পাহাড় বেয়ে নেমে আসার সমস্ত সময় ধরে আমি প্রভুর প্রার্থনা করেছিলাম - এই বাক্যের উপরে গভীর গুরুত্বসহ যে, ‘‘আমাদিগকে মুক্ত কর|’’ পাহাড়ের নিচে নেমে আসার পরে আমি গাড়ি থেকে নেমেছিলাম এবং সেখানে অন্ধকারের মধ্যে দাঁড়িয়ে কাঁপছিলাম| আমি জানি যিনি আমাদের রক্ষা করেছিলেন তিনি নিশ্চয়ই ঈশ্বর ছিলেন| সেই রাস্তাতে আগেও বহু প্রাণনাশক দূর্ঘটনা ঘটেছে| আমি গাড়িগুলিকে পাশের দিকে উল্টে যেতে এবং তার তলায় আগুন লেগে ফেটে পড়তে দেখেছি| প্রার্থনার উত্তরে ঈশ্বর আমাদের রক্ষা করেছিলেন| আমি এটা তখনও জানতাম, তেষট্টি বছর পরে, এখনও তাই জানি! ঈশ্বর বহুবার সংক্ষিপ্ত প্রার্থনার উত্তর দেন যেমন সেই রাত্রে তিনি দিয়েছিলেন|

কিন্তু উত্তর আসার আগে, অন্য কোন সময়ে আমাদের অপেক্ষা করতে হয়, কখনও কখনও দীর্ঘ সময়্কাল ধরে অপেক্ষা| সতের বছর বয়সে আমি অভিনেতা না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এবং তার পরিবর্তে সেবাকাজে যোগদান করেছিলাম| সেখানে কোন রকমের কোন আবেগ, কোন অনুভূতি জড়িত ছিল না| এমনকী প্রচার করার জন্য ‘‘আহুত’’ হওয়ার বিষয়ে কিছু শোনার কথাও আমার স্মরণে নেই| হতে পারে যে কেউ কেউ হয়ত এটা বলতেন, কিন্তু আমি কখনও এটা শুনিনি| সেইসময়ে তারা সর্বদা প্রচারের প্রতি ‘‘সমর্পণ’’ এর বিষয়ে আলোচনা করতেন| একটা বিরাট সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে যাওয়া এবং শেষ পর্য্যন্ত পালক হওয়ার প্রতি ‘‘সমর্পণ’’ এর বিষয়ে পালকরা আলোচনা করতেন| ভাল কথা, আমি আদৌ কোন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে যাইনি| আমি শুধু ভেবেছিলাম যে অভিনয় করাটা হল বোকামি এবং অর্থহীন, এবং আমি প্রচারের প্রতি নিজেকে সমর্পণ করেছিলাম, তার অর্থ যাই হোক না কেন! ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতি আমি নিজেকে সমর্পণ করেছিলাম| সেটাই ছিল কারণ যা আমাকে, মিশনারি হওয়ার জন্যে চীনা মন্ডলীর প্রতি পরিচালিত করেছিল| চীনের সেই মহান অগ্রগামী মিশনারি, জেমস হাডসন টেলরের জীবনী আমি পড়েছি| এবং আমি জানি যে তিনি আমার কাছে এক অনুকরণযোগ্য মহান আদর্শ ছিলেন|

সেইজন্যে আমি চীনা মন্ডলীতে গিয়েছিলাম এবং যা যা উপলভ্য ছিল সেই সমস্ত ধরনের সেবাকাজের মধ্যে নিজেকে নিক্ষেপ করেছিলাম| এমনকী আমি মন্ডলীর বাগানের মালী হয়েছিলাম এবং দারোয়ানের কাজ, মেঝে পরিস্কার করা, চেয়ার সাজানো, ঈশ্বরের সেবার প্রতি যা যা আমি পারতাম সেই সমস্ত কাজে নিযুক্ত হয়েছিলাম| সেই সময়ে আমি মুডি প্রেসের দ্বারা প্রকাশিত, জন্ ওয়েস্লীর পত্রিকা থেকে উদ্ধৃত অংশের একটি পেপারব্যাক সংষ্করণ কিনেছিলাম| আমি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সেটা পড়েছিলাম, প্রায় এমনভাবে যেন সেটাই ছিল বাইবেল| সেইসময়ে আমি অনুভব করতে পারিনি কিন্তু তাতে প্রথম মহা জাগরনের সময়ে কি ঘটেছিল তার একটা চিত্ররূপ দেওয়া হয়েছিল| ওয়েস্লীর পত্রিকা আমাকে উদ্দীপনার বিষয়ে খুব আগ্রহান্বিত করে তুলেছিল| কিভাবে 1960 সালের গোড়ার দিকে দুস্প্রাপ্য উদ্দীপনা হত তা জানার পক্ষে আমি অতি অল্পবয়সী ও অনভিজ্ঞ যুবক ছিলাম| আমি ছিলাম সাদাসিধা, আমি উদ্দীপনার জন্যে প্রার্থনা করতে পারি এবং সেটা ঘটবে সেই চিন্তা করার পক্ষে আমি যথেষ্ট সরলমনা ছিলাম| সেইজন্যে আমি চীনা মন্ডলীতে উদ্দীপনা আসার জন্য প্রার্থনা করতাম| আমি প্রত্যেকদিন এর জন্য প্রার্থনা করতাম| প্রত্যেকটি প্রার্থনা সভাতে আমি উচ্চস্বরে এর জন্যে প্রার্থনা করতাম| যখন আমাকে মন্ডলীতে খাবারের জন্য অনুগ্রহ চাইতে বলা হত তখনও আমার সমগ্র প্রার্থনা হত যেন ঈশ্বর উদ্দীপনা পাঠান| গোটা 1960 সাল জুড়ে এটাই ছিল আমার প্রার্থনার মুখ্য বিষয়| প্রকৃতপক্ষে আমি খুব একটা বিস্মিত হইনি যখন উদ্দীপনা এসেছিল, 1960 সালের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত একটি গ্রীষ্মকালীন শিবিরে হঠাৎ শুরু হয়েছিল| আমি জানতাম যে এটা আসবে কারণ, শিশুসুলভ বিশ্বাসে, আমি এর জন্যে প্রার্থনা করেছিলাম| তার মারা যাওয়ার কয়েক বছর আগে ডঃ মারফী লূম আমাকে সেই সমস্ত প্রার্থনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন| তিনি বলেছিলেন, ‘‘বব, এমনকী যখন আর কেউই সেটা করত না, আপনি সর্বদা উদ্দীপনার জন্যে প্রার্থনা করতেন|’’ তারপর তিনি বলেছিলেন, ‘‘বব, আমি বিশ্বাস করি উদ্দীপনা এসেছিল তার কারন আপনি ক্রমাগতভাবে এর জন্য প্রার্থনা করে এসেছেন|’’ কিন্তু যত দিনে তিনি এই কথাগুলি বলেছিলেন ততদিনে আমি সেই বিষয়টি প্রায় ভুলে গেছিলাম|

চীনা মন্ডলীতে উদ্দীপনা আমার হৃদয়ের একটা বোঝায় পরিনত হয়েছিল| আমি বিশ্বাস করি ঈশ্বর সেই বোঝা আমার মধ্যে চাপিয়েছিলেন| এই বিষয়ের চিন্তা আমি থামাতে পারিনি| এবং আমি প্রার্থনা চালিয়ে গিয়েছিলাম যতক্ষণ না ঈশ্বর আমাকে এর উত্তর দিয়েছিলেন| প্রাচীনকালের খ্রীষ্ট বিশ্বাসীরা একে বলতেন ‘‘প্রার্থনার মধ্যে|’’ এ হল কাকুতি- মিনতি সহযোগে, অধ্যবসায়ী প্রার্থনা - যতক্ষণ না ঈশ্বর উত্তর দিচ্ছেন এবং আপনি যার জন্যে প্রার্থনা করছেন সেটা গ্রহণ না করছেন! যীশু বলেছিলেন,

‘‘অতএব তোমরা মন্দ হইয়াও যদি তোমাদের সন্তানদিগকে উত্তম উত্তম দ্রব্য দান করিতে জান, তবে ইহা কত অধিক নিশ্চয় যে, তোমাদের স্বর্গস্থ পিতা, যাহারা তাঁহার কাছে যাচ্ঞা করে, তাহাদিগকে উত্তম উত্তম দ্রব্য দান করিবেন?’’ (মথি 7:11)|

আবার, যীশু বলেছিলেন,

‘‘আর আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, যাচ্ঞা কর, তোমাদিগকে দেওয়া যাইবে; অন্বেষণ কর, পাইবে; দ্বারে আঘাত কর, তোমাদের জন্য খুলিয়া দেওয়া যাইবে| কেননা যে কেহ যাচ্ঞা করে, সে গ্রহণ করে, এবং যে অন্বেষণ করে, সে পায়; আর যে দ্বারে আঘাত করে, তাহার জন্য খুলিয়া দেওয়া যাইবে|’’ (লূক 11:9, 10)|

গ্রীকে ‘‘যাচ্ঞা কর,’’ ‘‘অন্বেষণ কর’’ এবং ‘‘আঘাত কর’’ সবই হচ্ছে বর্তমান কাল| এর অর্থ হল, ‘‘ক্রমাগত যাচ্ঞা করিতে থাক, ক্রমাগত অন্বেষণ করিতে থাক, ক্রমাগত আঘাত করিতে থাক|’’ ডঃ জন্ আর. রাইস বলেছিলেন, ‘‘ঈশ্বরের একজন সন্তানের অধিকার আছে...নাছোড়বান্দাভাবে, দৃঢ়তার সহিত ঈশ্বরের প্রতিশ্রুতির জন্য বিনতি করিবার এবং নেতিবাচক উত্তর প্রত্যাখ্যান করিবার, যতক্ষণ না যাহা প্রয়োজন...তাহা ঈশ্বর হইতে গৃহিত হইতেছে| ওহ, প্রার্থনা, প্রার্থনা, প্রার্থনা করিতে ঈশ্বরের লোকদের উৎসাহিত করা হউক - প্রার্থনার মধ্যে তাহাদের উৎসাহিত করা হউক!

ক্রমাগত প্রার্থনা কর
   ইহা ব্যাপিয়া তুমি প্রার্থনা কর,
ক্রমাগত প্রার্থনা কর
   ইহা ব্যাপিয়া তুমি প্রার্থনা কর,
ঈশ্বরের মহান প্রতিশ্রুতি
   সকলসময়ে সত্য,
ক্রমাগত প্রার্থনা কর
   ইহা ব্যাপিয়া তুমি প্রার্থনা কর|’’

(John R. Rice, D.D., Prayer: Asking and Receiving, Sword of the Lord Publishers, 1970, pp. 213, 214)|

ডঃ আর. এ. টোররি, তার লেখা একটি ছোট্ট বিখ্যাত বই, How to Pray (কিভাবে প্রার্থনা করিতে হয়), এর মধ্যেও সেই একই কথা লিখেছেন| ডঃ টোররি বলেছেন,

ঈশ্বর সবসময়ে প্রথম প্রচেষ্টাতেই আমাদের জিনিষ দেন না| তিনি আমাদের শিক্ষা দিতে চান এবং ভাল জিনিষের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে আমাদের বাধ্য করার মাধ্যমে তিনি আমাদের শক্তিশালী করে তোলেন...আমরা প্রার্থনায় যা চাই আমাদের প্রথম প্রার্থনার উত্তরে তা তিনি সব সময়ে আমাদের দেন না| তিনি আমাদের শিক্ষিত করতে চান এবং উত্তম জিনিষের জন্য কঠোর প্রার্থনা করতে বাধ্য করে আমাদের শক্তিশালী প্রার্থনার লোকে পরিণত করেন| তিনি আমাদের প্রার্থনার মাধ্যমে প্রস্তুত করেন|
     আমি আনন্দিত যে এইরকমই ঠিক| আমরা ঈশ্বরের কাছে যা চাইছি তা অর্জন করার আগে, দীর্ঘ সময় ধরে, বার বার যাচ্ঞা করতে বাধ্য হওয়ার মাধ্যমে যা আসে, তার তুলনায় সেখানে প্রার্থনার মধ্যে আর অন্য কোন আশীর্বাদিত শিক্ষা নাই| অনেক লোক একে বলেন ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতি সমর্পণ যখন প্রথম বা দ্বিতীয় যাচ্ঞাতে ঈশ্বর তাদের অনুরোধের অনুমোদন দেন না| তারা বলেন, ‘‘ভাল, সম্ভবত এটা ঈশ্বরের ইচ্ছা নয়|’’
     ব্যবস্থা অনুযায়ী, এটা সমর্পণ নয় কিন্তু আত্মিক অলসতা...যখন কোন ক্রিয়াশীল শক্তিশালী পুরুষ বা মহিলা কোন বিষয় সম্পন্ন করার জন্য চেষ্টা শুরু করেন এবং প্রথম বা দ্বিতীয় বা একশ বারের চেষ্টার পরেও তা সম্পন্ন করতে না পারেন, তখন সেই পুরুষ বা মহিলাটি ক্রমাগত সেটা করতে থাকেন যতক্ষণ না সেটা সম্পন্ন হয়| শক্তিশালী প্রার্থনার লোক ক্রমাগত প্রার্থনা করতে থাকেন যতক্ষণ না তিনি প্রার্থনার মধ্যে আসছেন এবং যা চাইছেন তা অর্জন করছেন... যখন আমরা কোন জিনিষের জন্য প্রার্থনা করা শুরু করি, তখন আমাদের কখনও প্রার্থনা ছেড়ে দেওয়া উচিৎ নয় যতক্ষণ না আমরা সেটা গ্রহণ করি (R. A. Torrey, D.D., How to Pray, Whitaker House, 1983, pp. 50, 51)|

কিন্তু সেখানে এর আরও একটা দিক আছে| যদি আপনার হৃদয় ঈশ্বরের সঙ্গে সঠিক না থাকে তাহলে আপনার প্রার্থনার উত্তর দেওয়া হবে না| জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে আমি আমার পরিবারের সঙ্গে মেক্সিকোর, ক্যানকুনে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলাম| একদিন, যখন তারা মায়া সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখতে গিয়েছিল, আমি একা ছিলাম| লুইস দ্বীপপুঞ্জে 1949 থেকে 1952 সাল পর্য্যন্ত উদ্দীপনার বিষয়ে লেখা একটা বই আমি পড়ছিলাম| আমি প্রার্থনা করেছিলাম এবং একটা ধর্ম্মোপদেশ লিখেছিলাম| যখন আমরা ফিরে আসলাম আমি ঘোষণা করেছিলাম যে প্রত্যেকদিন রাত্রে আমরা সুসমাচার সংক্রান্ত সভা করব| যেমন আপনারা জানেন, ঈশ্বর এর মধ্যে ছিলেন| ডঃ কেগান তার 89 বছরের বৃদ্ধা মাকে খ্রীষ্টের প্রতি পরিচালনা করা দিয়ে এটা শুরু হয়েছিল| সেটা ছিল একটা প্রকৃত অলৌকিক ঘটনা কারণ বহু বছর ধরে সেই মহিলা ছিলেন একজন শক্তপোক্ত নাস্তিক| তারপরে ডঃ কেগানের শাশুড়ি আশাজনকভাবে মন পরিবর্তন করেছিলেন - 86 বছর বয়সে| পরিসংখ্যান দ্বারা আমরা জানি যে সত্তর বছরের পরে লোকেদের মধ্যে আর মন পরিবর্তন প্রায় হয়ই না| এখানে, মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে, দুইজন মহিলা তাদের আশি বছরের প্রান্তে এসে পরিত্রাত হয়েছেন| চমকপ্রদ! তারপরে, একে একে, 11 জন যুবক আশাজনকভাবে পরিত্রাত হয়েছিলেন| তার কয়েকদিন পরে, সেখানে আশাজনকভাবে আরও একটি মন পরিবর্তন ঘটেছিল| মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই চোদ্দজন লোক পরিত্রাত হয়েছিলেন|

কিন্তু তখন আমি রোমীয় 12:1 এবং 2 পদদুটি পড়েছিলাম এবং তাদের উপরে প্রয়োগ করেছিলাম যারা মন্ডলীতে এক বছর আগেই পরিত্রাণ পেয়েছিলেন|

‘‘অতএব যে ভ্রাতৃগণ, ঈশ্বরের নানা করুণার অনুরোধে আমি তোমাদিগকে বিনতি করিতেছি, তোমরা আপন আপন দেহকে জীবিত, পবিত্র, ঈশ্বরের প্রীতিজনক বলিরূপে উৎসর্গ কর, ইহাই তোমাদের চিত্তসঙ্গত আরাধনা| আর এই যুগের অনুরূপ হইও না: কিন্তু মনের নূতনীকরণ দ্বারা স্বরূপান্তরিত হও, যেন তোমরা পরীক্ষা করিয়া জানিতে পার ঈশ্বরের ইচ্ছা কি, যাহা উত্তম, ও প্রীতিজনক, ও সিদ্ধ" (রোমীয় 12:1, 2)|

যতদিন আমি আছি আপনারা যখন প্রচার করেছেন তখন সমাবেশের প্রতিক্রিয়া অনুভব করতে আপনারা শিখেছেন| যা আমি অনুভব করেছি তা ভাল ছিল না| আমি যুবকদের দেখেছি নিজেদের চোয়াল শক্ত করে ধরে আছে এবং নিচে মেঝের দিকে তাকিয়ে বসে আছে| আমি অনুভব করেছি একটা গভীর প্রতিবন্ধকতা এবং প্রকাশ্যে খ্রীষ্টের অবাধ্যতা, যেন তারা কখনও তাঁর কাছে সমর্পণ করবে না| এটা আমার হৃদয়ের মধ্যে একটা শীতল আঘাত প্রেরণ করেছিল| কেবলই এরকম মনে হচ্ছিল যেন তাদের আবার মন পরিবর্তন হওয়ার প্রয়োজন হয়েছে| সেটাই ঘটে যখন লোকেরা তাদের হৃদয়ে অবস্থিত খ্রীষ্টের জন্য রক্ষিত জায়গাতে এই জগতের জিনিষগুলিকে থাকতে দেয়| হৃদয় প্রায় সেইরকমই কঠিন হয়ে পড়ে যেমন সেটি ছিল প্রারম্ভিক মন পরিবর্তনের আগে| সেই হৃদয়কে অবশ্যই আবার ভেঙ্গে ফেলতে হয় এবং নতুন করে খ্রীষ্টের প্রতি সমর্পিত হতে হয়|

যারা খ্রীষ্টের প্রতি সমর্পিত হতে বার বার অস্বীকার করে তাদের হৃদয়গুলিতে বিদ্রোহ রাজত্ব করে| তিনি বলেছিলেন নিজের ক্রুশ তুলে নিতে ‘‘প্রত্যহ, এবং আমাকে অনুসরণ কর|’’ সেখানে খ্রীষ্টের প্রতি অবশ্যই একটি ‘‘প্রাত্যহিক’’ সমর্পণ থাকবে, নয়ত আমাদের হৃদয়গুলি শীতল এবং অবাধ্য হয়ে যাবে| এইরকম ভেবে নেওয়া ভুল হবে যে, ‘‘আমি এখন পরিত্রাণ পেয়েছি| আমার আর খ্রীষ্টের প্রতি নিজের জীবন সমর্পণের কোন প্রয়োজন নাই|’’ প্রেরিত পৌল যা বলেছিলেন তার চাইতে এগুলি কতটাই না আলাদা, ‘‘তোমরা আপন আপন দেহকে জীবিত...ঈশ্বরের প্রীতিজনক বলিরূপে উৎসর্গ কর, ইহাই তোমাদের চিত্তসঙ্গত আরাধনা| আর এই যুগের অনুরূপ হইও না: কিন্তু মনের নূতনীকরণের দ্বারা স্বরূপান্তরিত হও|’’ একমাত্র তখনই তোমরা ‘‘পরীক্ষা করিয়া জানিতে পার ঈশ্বরের ইচ্ছা কি, যাহা উত্তম, ও প্রীতিজনক, ও সিদ্ধ’’ (রোমীয় 12:1, 2)| ঈশ্বরের ইচ্ছা জানার জন্য আপনার অবশ্যই জীবন্ত বলি হিসাবে নিজেকে তাঁর প্রতি উৎসর্গ করতে হবে, এবং আপনার এই যুগের অনুরূপ হওয়া চলবে না|

সেই হৃদয় যা ‘‘জীবন্ত বলিরূপে’’ খ্রীষ্টের প্রতি সমর্পিত হয়নি তা হয়ে পড়বে একটি বিভক্ত হৃদয়| বাইবেল বলছে, ‘‘সেই ব্যক্তি যে প্রভুর নিকটে কিছু পাইবে, এমন বোধ না করুক’’ যাকোব 1:7)| যীশু বলেছেন, ‘‘কেহ যদি আমার পশ্চাৎ আসিতে ইচ্ছা করে, তবে সে আপনাকে অস্বীকার করুক, প্রতিদিন আপন ক্রুশ তুলিয়া লউন, এবং আমার পশ্চাৎগামী হউক’’ (লূক 9:23)| আপনার স্বয়ংকে অস্বীকার করার জন্য যীশু আপনাকে আহ্বান করছেন| তাঁকে অনুসরণ করার জন্য যীশু আপনাকে আহ্বান করছেন| ওহ, আমার জীবনে কতবার যে আমি আমার পরিত্রাণের আনন্দ হারিয়েছি কারণ আমি নিজেকে অস্বীকার করতে এবং তাঁকে অনুসরণ করতে ইচ্ছুক ছিলাম না! কিন্তু, আহা, কিভাবে প্রভুর আনন্দ ফিরে এসেছে, বারে বারে, যেহেতু আমি নিজেকে যীশুর প্রতি জীবন্ত বলি হিসাবে উপস্থাপিত করেছিলাম! আজ রাত্রে আমি প্রার্থনা করছি যে আপনিও যেন সেইরকমই করেন| আমার প্রায় সমস্ত জীবন ধরে মিঃ গ্রিফিতের গাওয়া গান শুনতে আমি ভালবেসেছি| যখনই আমি সেই গানগুলি গাইতাম, তখনই এক একাকী, বিভ্রান্ত কিশোর হিসাবে আমার দুচোখে জল এসে যেত,

হে অনুগ্রহ তুমি কত ঋণী
   প্রত্যহ আমি অস্বচ্ছন্দ হই!
তোমার ধার্ম্মিকতা, পায়ের বেড়ীর ন্যায়,
   তুমি আমার পথভ্রষ্ট হৃদয় বাঁধ|
প্রভু, আমি মনে করি, ইহা বিপথে আসক্ত,
   আসক্ত ছাড়া ঈশ্বর আমি ভালবাসি;
এই আমার হৃদয়, গ্রহণ কর এবং মুদ্রাঙ্ক কর;
   তোমার প্রাঙ্গনের উর্দ্ধে ইহা মুদ্রাঙ্ক কর|
(“Come, Thou Fount” by Robert Robinson, 1735-1790) |

আজ রাত্রে এখানে কি এমন কেউ আছেন যিনি জানেন যে আপনার নিজের নূতনীকরণে - এবং নিজের ক্রুশ তুলে নিতে এবং নূতন করে যীশুকে অনুসরণ করতে আপনার অস্বীকার করা উচিৎ? আপনাদের মধ্যে কি কেউ কেউ আছেন যাদের উচিৎ প্রভুর প্রতি ‘‘জীবন্ত উৎসর্গ’’ হিসাবে ‘‘নিজ দেহকে উপস্থিত’’ করা? যদি ঐভাবে ঈশ্বর আপনার সঙ্গে কথা বলছেন, তৎক্ষণাৎ, আমি আপনাকে আপনার বসার আসন ত্যাগ করতে এবং এই অডিটোরিয়ামের সামনে এসে নতজানু হয়ে বসতে বলব| আসুন এবং জীবন্ত বলি হিসাবে, আপনার জীবন নূতন করে যীশুর প্রতি উৎসর্গ করুন, যিনি আপনাকে রক্ষা করার জন্য ক্রুশের উপরে মৃত্যুবরণ করেছিলেন| এখানে নেমে আসুন এবং নূতন করে ও বিশুদ্ধভাবে আপনার হৃদয় এবং জীবনকে সমর্পণ করুন| আসুন এবং আপনার হৃদয় ও জীবনের বিরুদ্ধাচরণ ও পাপ তাঁর কাছে স্বীকার করুন| আসুন এবং আপনাকে ক্ষমা করার জন্য যীশুর কাছে যাচ্ঞা করুন, এবং তাঁর প্রতি আপনার আনুগত্য পুনর্নবীকরণ করুন| যখন আমরা সবাই একসাথে দাঁড়িয়ে আছি, আপনি এখানে আসুন এবং নতজানু হন, এবং প্রার্থনা করুন| যে সময়ে মিঃ গ্রিফিত নম্রভাবে সেই গানটি গাইছেন, তখন আপনি আসুন|

আসুক, তোমার প্রতিটি আশীর্ব্বাদের উৎস,
   আমার হৃদয়ের ঐক্য তোমার অনুগ্রহের গান;
করুণার স্রোত, কখন বন্ধ হয় না,
   উচ্চস্বর প্রসংশা গানের জন্য তাঁর আহ্বান|
আমাকে শেখাও কিছু সুশ্রাব্য গীত,
   উর্দ্ধের জ্বলন্ত জিহ্বার দ্বারা গাও;
পর্বত প্রসংশা করুক - আমি এর উপরে স্থির আছি -
   পাহাড় প্রমাণ তোমার মুক্তির প্রেম|

এখানে আমি আমার এবেনেজার উঠিয়েছি,
   এখানে তোমার সাহায্যে আমি আসি;
আর আমার আশা, তোমার উত্তম আনন্দে,
   নিশ্চিতভাবে গৃহে পৌঁছানো|
যখন আমি অপরিচিত যীশু আমার অন্বেষণ করেন,
   ঈশ্বরের আশ্রয় থেকে পথভ্রষ্ট;
তিনি, আমাকে বিপদ থেকে মুক্ত করেন,
   তাঁর বহুমূল্য রক্ত মধ্যস্থলে স্থাপন করেছেন|

হে অনুগ্রহ তুমি কত ঋণী
   প্রত্যহ আমি অস্বচ্ছন্দ হই!
তোমার ধার্ম্মিকতা, পায়ের বেড়ীর ন্যায়,
   তুমি আমার পথভ্রষ্ট হৃদয় বাঁধ|
প্রভু, আমি মনে করি, ইহা বিপথে আসক্ত,
   আসক্ত ছাড়া ঈশ্বর আমি ভালবাসি;
এই আমার হৃদয়, গ্রহণ কর এবং মুদ্রাঙ্ক কর;
   তোমার প্রাঙ্গনের উর্দ্ধে ইহা মুদ্রাঙ্ক কর|


যদি এই প্রচার আপনাকে আশীর্বাদ দান করেছে তাহলে ডঃ হাইমার্স আপনার কাছ থেকে কিছু শুনতে চান| যখন আপনি ডঃ হাইমার্সকে চিঠি লিখবেন তখন অবশ্যই তাকে জানাবেন যে কোন দেশ থেকে আপনি তাকে লিখছেন নয়ত তিনি আপনার ই-মেলের জবাব দিতে সক্ষম হবেন না| যদি এই প্রচার আপনাকে আশীর্বাদ দান করেছে তবে ডঃ হাইমার্সকে একট ই-মেল পাঠান এবং তাকে সেইকথা জানান, কিন্তু কোন দেশ থেকে আপনি লিখছেন চিঠিতে সেটা অবশ্যই অন্তর্ভূক্ত করবেন| ডঃ হাইমার্সের ই-মেল ঠিকানা হল rlhymersjr@sbcglobal.net (এখানে ক্লিক করুন) | আপনি যে কোন ভাষায় ডঃ হাইমার্সকে চিঠি লিখতে পারেন, কিন্তু যদি পারেন তো ইংরাজিতেই লিখুন| যদি আপনি ডঃ হাইমার্সকে ডাক-ব্যবস্থার মাধ্যমে চিঠি পাঠাতে চান, তবে তার ঠিকানা হল P.O. Box 15308, Los Angeles, CA 90015 | আপনি তাকে (818)352-0452 নম্বরে ফোন করতে পারেন|

(সংবাদের পরিসমাপ্তি)
ডঃ হাইমার্সের সংবাদ আপনি প্রতি সপ্তাহে ইন্টারনেটে www.sermonsfortheworld.com ওয়েবসাইটে গিয়ে পড়তে পারেন| ক্লিক করুন “প্রচার পান্ডুলিপি|”

আপনি ডাঃ হাইমার্সকে মেইল পাঠাতে পারেন rlhymersjr@sbcglobal.net - আপনি
তাকে পত্র লিখতে পারেন P.O. Box 15308, Los Angeles, C A 90015.এই ঠিকানায়
। আপনি তাকে টেলিফোন করতে পারেন (818) 352-0452.

এই সুসমাচারের ম্যানুস্ক্রিপ্ট এর ওপর ডাঃ হাইমসের কোন কপিরাইট নেই। আপনারা
ইহা ব্যাবহার করতে পারেন ডাঃ হাইমসের অনুমতি ছাড়াই। অবশ্য, ভিডিও মেসেজ
সবই কপিরাইটের সহিত আছে এবং কেবলমাত্র তার অনুমতি নিয়েই ব্যাবহার করা যাবে।

সংবাদের আগে শাস্ত্রাংশ পাঠ করেছেন মিঃ আবেল প্রুধোম্মে: যাকোব 4:1-10 |
সংবাদের আগে একক সংগীত পরিবেশন করেছেন মিঃ বেঞ্জামিন কিনকেড গ্রিফিত:
“Come, Thou Fount” (Robert Robinson, 1735-1790) |