Print Sermon

এই সমস্ত প্রচারের পান্ডুলিপি এবং ভিডিওগুলি এখন প্রতি মাসে 215টিরও বেশি দেশের প্রায় 116,000 কম্প্যুটারে www.sermonsfortheworld.com ওয়েবসাইটে পাঠানো হয়| আরও শত শত লোক ইউ টিউবের ভিডিওর মাধ্যমে এগুলি দেখেন, কিন্তু খুব শীঘ্রই তারা ইউটিউব ছেড়ে বেরিয়ে যান, কারণ প্রত্যেকটি ভিডিও প্রচার তাদেরকে আমাদের ওয়েবসাইটের দিকে পরিচালিত করে| ইউটিউব আমাদের ওয়েব সাইটে লোক এনে দেয়| প্রচারের এই পান্ডুলিপিগুলি প্রতি মাসে 34টি ভাষায় প্রচারিত হয় হাজার হাজার লোকের কাছে| প্রচারের এই সব পান্ডুলিপিগুলি গ্রন্থসত্ত্ব দ্বারা সংরক্ষিত নয়, কাজেই প্রচারকগণ আমাদের অনুমতি ছাড়াই এইগুলি ব্যবহার করতে পারেন| মুসলিম এবং হিন্দু রাষ্ট্রসমেত, সমগ্র পৃথিবীতে সুসমাচার ছড়িয়ে দেওয়ার এই মহান কাজে সাহায্য করার জন্য কিভাবে আপনি একটি মাসিক অনুদান প্রদান করতে পারেন তা জানতে অনুগ্রহ করে এখানে ক্লিক করুন|

যখন আপনি ডঃ হেইমার্সকে লিখবেন সর্বদা তাকে জানাবেন যে আপনি কোন দেশে বাস করেন, অথবা তিনি আপনাকে উত্তর দিতে পারবেন না| ডঃ হেইমার্সের ই-মেল ঠিকানা হল rlhymersjr@sbcglobal.net |




পরিত্রাতার চোখে জল

THE TEARS OF THE SAVIOUR
(Bengali)

লেখক : ডঃ আর. এল. হাইমার্স, জুনিয়র।
by Dr. R. L. Hymers, Jr.

২০১৫ সালের, ৪ঠা অক্টোবর, সদাপ্রভুর দিনের সকালবেলায় লস্ এঞ্জেল্সের
ব্যাপটিষ্ট ট্যাবারন্যাক্ল মন্ডলীতে এই ধর্ম্মোপদেশটি প্রচারিত হয়েছিল
A sermon preached at the Baptist Tabernacle of Los Angeles
Lord's Day Morning, October 4, 2015

“তিনি অবজ্ঞাত ও মনুষ্যদের ত্যাজ্য; ব্যাথার পাত্র, ও যাতনা পরিচিত হইলেন: লোকে যাহা হইতে মুখ আচ্ছাদন করে; তাহার ন্যায় তিনি অবজ্ঞাত হইলেন, আর আমরা তাঁহাকে মান্য করি নাই” (যিশাইয় ৫৩:৩)|


সম্প্রতি আমি একটি ভিডিও দেখেছি যাতে একজন প্রচারক তার মন্ডলীর বাইরে দাঁড়িয়ে একদল পাপী লোকদের বিদ্রুপ করছেন| তিনি ক্রমাগত তাদের তিরষ্কার করে চলেছিলেন এই বলে যে, “আপনারা নরকে যাচ্ছেন!” “আপনারা চিরকাল নরকের অগ্নিশিখায় জ্বলবেন!” আমি ভিডিও বন্ধ করে দিয়েছিলাম এবং নিজের মধ্যে প্রকৃতই অসুস্থ বোধ করেছিলাম| সেখানে সেই প্রচারকের কাছে একটাও সহানুভূতিসূচক বাক্য ছিল না, ছিল না একটাও বিষাদপূর্ণ শব্দ সেই সব হারানো এবং বিভ্রান্ত লোকেদের প্রতি যাদের সামনে তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন, হারানো জগতের জন্য যীশুর ভালবাসা সম্পর্কে কোন কথার কোন উল্লেখ ছিল না|

আমি এমন একটিও নজির দেখতে পাই না যেখানে যীশু হারানো জনতার মধ্যে এই ধরনের প্রচার করেছিলেন| হ্যাঁ, তিনি রূঢ় শব্দ ব্যবহার করতেন| হ্যাঁ, তিনি লোকদের বলতেন যে তারা নরকে যেতে বসেছে| কিন্তু তিনি সেই শব্দগুলি তার সময়ের ধর্ম্মীয় শিক্ষক এবং ফরিশি – ও ভ্রান্ত ধর্ম্মীয় নেতাদের জন্য সঞ্চিত করে রেখেছিলেন| আমি শুনেছি মরমোন, ক্যাথলিক, মুসলমান, বিপথগামীদের, এবং এমনকী ক্যাম্পাসের কলেজ ছাত্রদের প্রতি প্রচারকদের উপহাস এবং চিৎকার| কিন্তু আমি যত বেশি বুড়ো হচ্ছি, তত বেশি করে ভাবছি তাদের প্রচারের বিষয়গুলিকে যা খ্রীষ্টের উদাহরণ অনুসরণ করে না| যত বয়স বাড়ছে ততই বেশি করে ভাবছি যে যীশু তাঁর তীব্রতম তিরষ্কার আমাদের সময়ের ধর্ম্মীয় নেতাদের জন্য রেখে দিতেন| তাদের জন্য, যেমন ফরিশিরা, যারা সুসমাচারের চাইতে ধর্ম্মীয় বিষয়ের প্রচার বেশি করেন, যারা সেমিনারীতে ফ্যুলারের মতন বাইবেলকে আক্রমন করে, যারা অর্থের জন্য প্রচার করে, যারা স্বাবলম্বন মনস্তত্ত্বের বিষয়ে প্রচার করে, যারা “এর নাম কর এবং একে দাবি কর” এইরকম মতবাদের প্রচার করে, যারা শীঘ্র ধনী হওয়ার সাফল্য অর্জন করার প্রচার করে, এবং তাদের জন্য যারা তথাকথিত “পাপীর প্রার্থনা”র শব্দগুলি মুখে উচ্চারণ করার মাধ্যমে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য প্রচার করে| হ্যাঁ! আমি মনে করি, আজকে যদি যীশু এখানে থাকতেন, তিনি হয়ত প্রচার করতেন, “তোমরা নরকে যেতে চলেছ|” কিন্তু বেশির ভাগ সেই ধরনের প্রচার তিনি সংরক্ষণ করে রাখতেন আমাদের সময়কার প্রচারক এবং ভ্রান্ত শিক্ষকদের জন্য! – সেই লোকদের জন্য যারা তাদের রবিবারের সান্ধ্যকালীন সভা বন্ধ করে দিয়েছে, এবং তাদের যুবকদের রবিবারের রাত্রে সহভাগিতার জায়গায় না রেখে ছেড়ে দিয়েছে, তাদের জন্য যারা পদের পর পদ নীরস বাইবেল অধ্যয়ণ করার প্রচার করে, তাদের উদ্দেশ্যে যারা ধার্মিক-কিন্ত-হারানো মানুষ যারা কেবল রবিবারের সকালে আসেন, তাদের জন্য যারা মন্ডলীতে রক সঙ্গীত নিয়ে আসে – এবং তাদের মন্ডলী থেকে - সুসমাচারমূলক প্রচার দূরে সরিয়ে দেয়, তাদের জন্য যারা বলে যে যীশুর রক্ত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং হারানো পুরুষ ও মহিলাদের তাদের পাপ থেকে শুচি করার জন্য সেই রক্ত আর উপলভ্য নয়! আমি মনে করি খ্রীষ্ট তাদের মন্দিরের মধ্যে, টাকার মেজ উজাড় করে দেবেন, এবং তাদের বলেন,

“কিন্তু হা অধ্যাপক এবং ফরীশীগণ, কপটীরা, ধিক্ তোমাদিগকে! কারণ তোমরা মনুষ্যদের সন্মুখে স্বর্গরাজ্য রুদ্ধ করিয়া থাক: আপনারাও তাহাতে প্রবেশ কর না, এবং যাহারা প্রবেশ করিতে আইসে তাহাদিগকে প্রবেশ করিতে দেও না” (মথি ২৩:১৩)|

“কিন্তু হা অধ্যাপক এবং ফরীশীগণ, কপটীরা, ধিক্ তোমাদিগকে! কারণ তোমরা পানপাত্র ও ভোজনপাত্র বাহিরে পরিষ্কার করিয়া থাক, কিন্তু সেগুলির ভিতরে দৌরাত্ম্য ও অন্যায় ভরা” (মথি ২৩:২৫)|

“কিন্তু হা অধ্যাপক এবং ফরীশীগণ, কপটীরা, ধিক্ তোমাদিগকে! কারণ তোমরা চূণকাম করা কবরের তুল্য, তাহা বাহিরে দেখিতে সুন্দর বটে, কিন্তু ভিতরে মরা মানুষের অস্থি, ও সর্ব্বপ্রকার অশুচিতা ভরা” (মথি ২৩:২৭)|

“সর্পেরা, কালসর্পের বংশেরা, তোমরা কেমন করিয়া বিচারে নরকদন্ড এড়াইবে?” (মথি ২৩:৩৩)|

হ্যাঁ, আমি মনে করি খ্রীষ্ট আমাদের দিনে এবং আমাদের সময়কালে ভ্রান্ত প্রচারক এবং ভ্রান্ত শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে এই ধরনের প্রচার করবেন!

কিন্তু তিনি কখনও পাপী জনতাদের সামনে এই ধরনের প্রচার করেন নি যারা তাঁর কাছে তা শুনতে আসতো| তাদের কাছে তিনি ছিলেন “একজন দুর্দশা পরিচিত, এবং দুঃখের মানুষ|” তিনি কূয়োর কাছে মহিলার সঙ্গে শান্ত স্বরে কথা বলেছিলেন, যদিও সেই মহিলা পাঁচবার বিয়ে করেছিলেন, এবং তাঁর সঙ্গে দেখা হওয়ার সময়েও সেই মহিলা ব্যভিচারীর জীবন অতিবাহিত করে চলেছিলেন| তিনি তাদের প্রতি শান্ত স্বরে কথা বলতেন যারা রোগগ্রস্ত এবং মৃত্যুপথযাত্রী ছিলেন, “এবং যত লোক স্পর্শ করিল [তাঁর বস্ত্র] সকলে সুস্থ হইল” (মথি ১৪:৩৬)| ব্যভিচারী ক্রিয়াতে আনিত মহিলাকে তিনি শান্ত স্বরে বলেছিলেন, “আমিও তোমাকে দোষী করি না: যাও, এমন অবধি আর পাপ করিও না” (যোহন ৮:১১)| ক্রুশের উপরে, তাঁর পাশের দস্যুর উদ্দেশ্যে তিনি বলেছিলেন, “অদ্যই তুমি পরমদেশে আমার সহিত উপস্থিত হইবে” (লূক ২৩:৪৩)| পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিকে তিনি বলেছিলেন, “বৎস, সাহস কর; তোমার পাপ ক্ষমা হইল” (মথি ৯:২)| তাঁর পদদ্বয় চুম্বন করেছিল যে পাপী মহিলা, তাকে তিনি বলেছিলেন, “তোমার পাপসকল ক্ষমা হইয়াছে” (লূক ৭:৪৮)|

যীশু কী কখনও হেসেছিলেন? তিনি হয়ত হেসেছিলেন, কিন্তু সেটা বাইবেলের কোথাও লিপিবদ্ধ হয়নি| শাস্ত্রের পাতায় পাতায় আমাদের বলা হয়েছে যে তিনি ছিলেন “ব্যাথার পাত্র, এবং যাতনা পরিচিত” (যিশাইয় ৫৩:৩)| এবং শাস্ত্রের পাতায় আমাদের তিনবার বলা হয়েছে যে তিনি কেঁদেছিলেন, এবং আমাদের পাঠ্যাংশে আমরা দেখি যে এটা ছিল তার ব্যক্তিত্বের অংশ – আর খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ| এটা কল্পনা করা খুব শক্ত যে আবেগহীন বুদ্ধ কাঁদছেন – চিন্তা করা অসম্ভব যে অনুভূতিশূন্য রোমান দেবতাগণ, অথবা ইসলাম ধর্মের শীতল রক্তের আল্লাহ, অশ্রুবর্ষণ করছেন| যীশুর চোখের জল আমাদের দেখাচ্ছে দুঃখক্লিষ্ট মানবজাতির প্রতি তাঁর হৃদয়ের সমবেদনাকে|

আপনাদের মধ্যে অধিকাংশ লোকই জানেন যে উইনস্টন চার্চিলের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা আছে| কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ইংল্যান্ড তাকে যেরকমভাবে জেনেছিল সেভাবে হয়তো আপনারা তাকে জানেন না|

St. Paul's Cathedral
বোমাবর্ষণের সময়ে, সেন্ট পল ক্যাথিড্রাল, লন্ডন|

ইউসুফ কার্সের অঙ্কিত প্রতিমূর্তিতে আপনি হয়তো তার অনমনীয় মুখমন্ডল দেখেছেন| কিন্তু সেই দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে লন্ডন শহরকে যখন হিটলারের বোমার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত এবং পুড়িয়ে ঝলসে দেওয়া হচ্ছিল, তখন ইংরেজরা প্রায়ই তাকে অন্য এক রূপে দেখতে পেতেন| গোটা রাত বোমাবর্ষণের পরদিন সকালে তারা দেখতে পেতেন, তাদের ঘরের ধংসস্তূপের মধ্যে দিয়ে দুই গাল বেয়ে নেমে আসা চোখের জল নিয়ে তিনি ধীরে ধীরে হেঁটে যাচ্ছেন|

Sir Winston Churchill
লন্ডনে বোমাবর্ষনের সময়ে চার্চিল|

একটা ধংসপ্রাপ্ত বাড়ির সামনে তিনি দাঁড়ালেন যেখানে প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশু মিলিয়ে চল্লিশজন গতকাল রাত্রে বোমার আঘাতে মারা গিয়েছে| চার্চিল নিজের চোখ মুছছেন দেখে কিছু লোক তার চারিদিকে ভীড় করে দাঁড়িয়ে পড়েছিল| ভীড়ের মধ্যে থেকে চিৎকার উঠেছিল যে, “আমরা ভেবেছিলাম আপনি আসবেন!” একজন বৃদ্ধা মহিলা কেঁদে উঠলেন, “আপনারা দেখুন, তিনি সত্যিই খেয়াল রাখেন, তিনি কাঁদছেন|” এরপরে সেই ভীড়ের মধ্যে থেকে আর একটি কান্নার আওয়াজ শোনা গেল, “আমরা এটা সহ্য করতে পারি! আপনি হিটলারকে বলুন, আমরা এইসব সহ্য করতে পারি!” হিটলার তার বোমার আঘাতে হয়তো তাদের ঘর এবং তাদের শহর ভেঙ্গে দিতে পারেন, কিন্তু শুধুমাত্র তাদের আত্মা ধ্বংস করলে তবেই তিনি তাদের পরাজিত করতে পারতেন| এটা বলা হয় যে তার নিজের লোকদের জন্য চার্চিলের চোখের জল বর্ষন অন্য যে কোন কিছুর চাইতে বেশি কাজ করেছিল নাৎসিদের যুদ্ধ যন্ত্রের ক্ষমতাকে অতিক্রম করে যেতে| তিনি তখন কাঁদতেন, যখন দেখতেন যে লোকেরা ধ্বংসপ্রাপ্ত রাস্তাতে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে তাদের ক্যানারির জন্য বীজ কেনার অপেক্ষা করছে| তিনি তখন কাঁদতেন যখন দেখতেন মৃতদের এবং মৃতপ্রায় শিশুদের দেহগুলি ইঁট পাথরের স্তূপের উপর পড়ে রয়েছে| তিনি কখনও ভয় পেয়ে কাঁদতেন না, কিন্তু সবসময়ে কাঁদতেন তার দেশের মানুষের কষ্টভোগ দেখে|

না, চার্চিল তাত্ত্বিকভাবে খ্রীষ্ট বিশ্বাসী ছিলেন না| কিন্তু তিনি খ্রীষ্ট বিশ্বাসীদের মতন করে সেই আবেগের অনুভূতি প্রাপ্তির শিক্ষা পেয়েছিলেন মিসেস এভারেষ্ট, নাম্নী তার এক পুরানো আয়ার কাছ থেকে| চার্চিলের মৃত্যুর দিন পর্যন্ত্য সেই মহিলার ছবি চার্চিলের বিছানার পাশে টাঙ্গানো ছিল| সেইজন্য, তার খ্রীষ্ট বিশ্বাসীদের মতন আবেগ ছিল, আমাদের সময়ে যে সব নেতাদের কথা আমি ভাবতে পারি তাদের সকলের চাইতে বেশি| এটা কল্পনা করা অসম্ভব যে আয়াতুল্লা আলি খোমেইনি, বা ভ্লাদিমির পুতিন, বা বারাক ওবামা তাদের দেশের লোকদের কষ্টভোগের কারণে নিজেরা আবেগের বশে কাঁদছেন| অনুকম্পা হল একজন খ্রীষ্ট বিশ্বাসীর নৈতিক উৎকর্ষ – যা সেই “ব্যাথার মানুষ, এবং যাতনা পরিচিত” (যিশাইয় ৫৩:৩) যীশুর দ্বারা প্রথম শতাব্দীর শীতল রোমান জগতে শিক্ষা দেওয়া হয়েছিল|

“ব্যাথার মানুষ,” কী এক নাম,
   ঈশ্বর পুত্র হিসাবে যিনি এসেছেন,
ধ্বংসিত পাপীর পুনঃদাবীর জন্য!
   হালেল্লুইয়া, কি এক পরিত্রাতা!
(“Hallelujah, What a Saviour!” by Philip P. Bliss, 1838-1876)|

শাস্ত্রে তিনবার আমাদের বলা হয়েছে যে যীশু কেঁদেছিলেন|

১| প্রথমত, যীশু নগরটির জন্য রোদন করলেন |

তিনি একদিন সকালে গাধার পিঠে চেপে যিরুশালেম নগরীতে এসেছিলেন| এক বিশাল জনতা তাঁকে অনুসরণ করে চিৎকার করে উঠেছিল, “হোশান্না দায়ুদ সন্তান: ধন্য যিনি প্রভুর নামে আসিতেছেন; উর্দ্ধলোকে হোশান্না” (মথি ২১:৯)| একে বলা হয় খেজুর রবিবারে যীশুর “বিজয়োল্লাসে প্রবেশ|”

The Triumphal Entry
“খেজুর রবিবারে” যীশুর বিজয়োল্লাসে প্রবেশ|

কিন্তু আমাদের মাঝে মধ্যেই বলা হয়েছিল যে সেই দিনটি কিভাবে শেষ হয়েছিল,

“পরে যখন তিনি নিকটে আসিলেন, তখন নগরটি দেখিয়া, তাহার জন্য রোদন করিলেন” (লূক ১৯:৪১)|

আমার যাদের কথা শোনা ছিল সেই তিনজন বিখ্যাত প্রচারকদের মধ্যে ডঃ ডব্লিউ. এ. ক্রিস্ওয়েল ছিলেন একজন| প্রায় ষাট বছর ধরে তিনি টেক্সাসের, ডালাসে প্রথম ব্যাপটিষ্ট মন্ডলীর পালক ছিলেন| তার একটি প্রচারে, ডঃ ক্রিস্ওয়েল একজন প্রচারকের সম্পর্কে বলেছিলেন যিনি সম্প্রতি একটি বড় শহরের এক মন্ডলীতে পালক হিসাবে গিয়েছিলেন|

      “যখন তাহার প্রচারের সময় উপস্থিত হইত তিনি সেস্থানে থাকিতেন না| একজন ডিকনকে বলা হইত তাহাকে খুঁজিয়া আনিবার জন্য| যখন ডিকন তাহাকে খুঁজিয়া পাইল প্রচারক তখন তাহার দপ্তরে, জানালার সন্মুখে দাঁড়াইয়া, এলোমেলো শহরের বিশাল বস্তি এলাকার দিকে তাকাইয়া ছিলেন| পালক যখন বাহিরে তাকাইয়া বস্তির বাড়িগুলি দেখিতেছিলেন, তখন তিনি রোদন করিতেছিলেন| ডিকন তাহার প্রতি বলিলেন, ‘মহাশয়, লোকেরা অপেক্ষা করিতেছে এবং আপনার প্রচারের সময় উপস্থিত|’ পালক প্রতিউত্তরে বলিলেন, ‘আমি শুধুমাত্র লোকেদের দুঃখ এবং চরম দুর্দশা এবং ভগ্নহৃদয় এবং আশাহীনতার মধ্যে আবদ্ধ হয়ে গেছি| শুধু দেখ| শুধু দেখ’ – সেইসঙ্গে তিনি শহরের দিকে নির্দেশ করিলেন| ডিকন উত্তর দিলেন, ‘হ্যা, মহাশয়, আমি জানি| কিন্তু আপনি শীঘ্রই ইহা দেখিতে অভ্যস্ত হইয়া পড়িবেন| আপনার প্রচারের সময় উপস্থিত হইয়াছে’”

এবং তারপরে ডঃ ক্রিস্ওয়েল বলেছিলেন,

“সেই কারণে আমি আমাকে ভয় করি, এই মন্ডলীর মধ্যে, সকল মন্ডলীর মধ্যে| আমরা ইহাতে অভ্যস্ত হইয়া পড়ি| লোকেরা হারাইয়া যাইতেছে – ইহার কী হইবে? তাহাদের কোন আশা নাই – ইহার কী হইবে? এবং শেষ অবধি আমরা ইহাতে অভ্যস্ত হইয়া পড়িতেছি – এবং পাশ কাটাইয়া চলিয়া যাইতেছি| এই বিষয়ে আমরা খ্রীষ্ট হইতে পৃথক| ‘এবং যখন তিনি নিকটে আসিলেন, তখন নগরটি দেখিয়া, তাহার জন্য রোদন করিলেন|’” (W. A. Criswell, Ph.D., The Compassionate Christ, Crescendo Book Publications, 1976, p. 58)|

সেই দিন যখন যীশু জৈতুন পর্বতের উপরে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং যিরুশালেম নগরের দিকে দেখছিলেন, তখন কে ভেবেছিল যে ঠিক চল্লিশ বছর পরে এটা শেষ হয়ে যাবে? কে ভেবেছিল যে মাত্র এক প্রজন্ম পরেই রোমীয় বাহিনীর সেনাপতি টাইটাস হাতুড়ির আঘাতে তোরন এবং প্রাচীরগুলি ধূলিসাৎ করে ফেলবে, এবং ঈশ্বরের মন্দিরে আগুন লাগিয়ে দেবে? সেই পবিত্র মন্দিরের চারিদিকে থাকা পাথরের প্রাচীরের একটুখানি অংশ ব্যতীত আর কোন কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না| “তোমার গৃহ তোমার জন্য জনশূন্য ছাড়িবে|” আর তিনি কেঁদেছিলেন| যীশু শহরের হারানো লোকদের জন্য কেঁদেছিলেন|

কেউ কেউ বলেন, “কিন্তু পালক, আমরা কী করতে পারি?” আমরা সব লোককে উদ্ধার করতে পারি না| আমরা এমনকী লোকদের অধিকাংশকেই উদ্ধার করতে পারি না| কিন্তু আমরা লোকদের মধ্যে কয়েকজনকে উদ্ধার করতে পারি| বুধবার এবং বৃহস্পতিবারের রাত্রের সুসমাচার প্রচার সভায় আপনি আসতে পারেন| আপনি শনিবারের রাত্রের সুসমাচার প্রচার সভায় আসতে পারেন! আপনি যেতে পারেন এবং রবিবারের বিকালে তাদের পেতে পারেন! আপনি এইসব করতে পারেন! আবর্জনা এবং ধোঁয়া এবং রক্ত এবং মৃত্যু দিয়ে কোন একদিন আমাদের শহরের রাস্তাগুলি ভর্তি হয়ে যাবে| কোন এক দিন কাউকে উদ্ধার করার পক্ষে খুব দেরী হয়ে যাবে| এখন, এই মুহূর্তে, ক্রুশের সেনা এবং মেষপালকের অনুসরণকারী হয়ে এগিয়ে যান| এখনই হলো সময় দরিদ্রকে সাহায্য করার, হারানো পাপীদের খ্রীষ্টকে দেখিয়ে দেওয়ার, ক্ষমা পাওয়ার, এবং আশা পাওয়ার! “পরে যখন তিনি নিকটে আসিলেন, তখন নগরটি দেখিয়া, তাহার জন্য রোদন করিলেন|”

২| দ্বিতীয়ত, যীশু সহানুভূতিতে রোদন করিলেন |

তিনি তাঁর শিষ্যদের বলেছিলেন, “আমাদের বন্ধু লাসার…মৃত” (যোহন ১১:১১, ১৪)| তিনি বলেছিলেন, “আমি তাহাকে জাগাইতে যাইতেছি” – তার অর্থ, মৃত্যু থেকে তাকে পুনরুত্থিত করতে যাচ্ছি| আর সেই কারণে তারা বেথনীতে, লাসারের বাড়িতে গিয়েছিলেন| পরজাতিরা একটা “কবরখানা”র সম্পর্কে বলত| কিন্তু খ্রীষ্ট বিশ্বাসীরা একটি “সমাধিক্ষেত্র”র কথা বলছে – যা হচ্ছে একটা গ্রীক শব্দ যার অর্থ হলো একটি নিদ্রা দেওয়ার স্থান, যেখানে আমরা মৃতদের রেখে থাকি যতক্ষণ না যীশু তাদের জাগিয়ে তোলার জন্য আসেন| এটা ছিল সেইরকম যা যীশু লাসারের জন্যে করতে গিয়েছিলেন| কিন্তু তিনি তাঁর দেবত্ব এবং তাঁর ক্ষমতা দেখানোর জন্য সেই আশ্চর্য্য কাজ করানোর প্রতি চার দিন অপেক্ষা করেছিলেন, যাতে তারা তাঁর উপরে বিশ্বাস অর্জন করতে পারে|

এখন যীশু লাসারের সমাধিক্ষেত্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন| মরিয়ম, লাসারের সেই বোন, যীশুর সঙ্গে মিলিত হচ্ছেন যেহেতু তিনি কাছে চলে এসেছেন|

“যীশু যখন দেখিলেন তিনি রোদন করিতেছেন, ও তাঁহার সঙ্গে সঙ্গে যে যিহূদীরা আসিয়াছিল তাহারাও রোদন করিতেছে, তখন আত্মাতে উত্তেজিত হইয়া উঠিলেন, ও উদ্বিগ্ন হইলেন” (যোহন ১১:৩৩)|

মূল গ্রীক ভাষায় এর অর্থ হলো যে যীশু সম্পূর্ণভাবে ভেঙ্গে পড়েছিলেন, তাঁর হৃদয় উত্তোলিত হচ্ছিল, বিলাপ করছিল, মনে ঝড় বইছিলো, তিনি হাঁপিয়ে উঠছিলেন (ĕmbrimaŏmai) - গভীরভাবে উত্তেজিত হয়েছিলেন, ঝড়ের সমুদ্রের মতন উত্ত্যক্ত হয়েছিলেন, গভীরভাবে বিক্ষুব্ধ, সমস্যায় অতি জর্জরিত (tarassō) ছিলেন| যখন আপনার খুব নিকট আত্মীয় মারা যান তখন আপনি কি কখনও সেইরকম অনুভব করেছেন? আমি করেছি| আমি ভেঙ্গে পড়েছিলাম এবং বিলাপ করেছিলাম, এবং মুমুর্ষু হয়ে পড়েছিলাম এবং খাবি খাচ্ছিলাম| আমি গভীরভাবে উত্তেজিত হয়েছিলাম, ফুটন্ত জলের মতন উত্ত্যক্ত হয়েছিলাম, গভীরভাবে আন্দোলিত হয়েছিলাম| সেই চরম যন্ত্রনা এবং দুঃখদায়ক অবস্থা আমি আমার জীবনে কেবল কয়েকবার অনুভব করেছিলাম – কিন্তু সেগুলোই যথেষ্ট ছিল যীশু যা ভোগ করেছিলেন সেটা আমাকে বোঝাতে| আমি সেটা অনুভব করেছিলাম যখন আমার প্রিয় ঠাকুমা, মম ফ্লাওয়ার্স, মারা যান| আমি সেইরকম অনুভব করেছিলাম যখন উদারপন্থী সাউদার্ণ ব্যাপটিষ্ট মন্ডলীতে আমার জীবন আবদ্ধ ছিল| আমি সেইরকম অনুভব করেছিলাম যখন আমার মা, সিসিলিয়া, মারা গিয়েছিলেন| এটা ভুল নয়| যীশু আমাদের দেখিয়ে দিচ্ছেন, তাঁর যাতনার দ্বারা, যে কোন কোন সময়ে দুঃখ অনুভব করাটাও আমাদের পক্ষে কোন পাপকাজ নয়| তিনি মরিয়ম, এবং মার্থা, এবং লাসারের বন্ধুদের দুঃখের দ্বারা প্রবল আবেগে তাড়িত হয়েছিলেন, যারা সকলেই তাঁর মৃত্যুর কারণে কেঁদেছিলেন|

যীশু জানেন যে তিনি কয়েক মিনিট পরেই লাসারকে মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত করবেন| কিন্তু মৃত্যুর ঘটনা এবং দুঃখ, যা মৃত্যু বহন করে আনে তার দ্বারা তিনি ভেঙ্গে পড়েছেন এবং নিদারুন যন্ত্রনাক্লিষ্ট হয়েছেন| আর এরপর, দুটি পদ পরেই, যোহনের একাদশ অধ্যায়ে, আমাদের সমগ্র বাইবেলের মধ্যেকার সংক্ষিপ্ততম পদটি দেওয়া হয়েছে| তাঁর নিদারুন যন্ত্রনা এবং ফোঁপানির মধ্যে থেকে, যীশু বলেছেন, “তাহাকে কোথায় রাখিয়াছ? তাহার তাঁহাকে কহিলেন, প্রভু, আসিয়া দেখুন|” তারপরেই সেই সংক্ষিপ্ততম পদ,

“যীশু কাঁদিলেন” (যোহন ১১:৩৫)|

তিনি মরিয়ম এবং মার্থার মর্মযন্ত্রনা অংশভাগ করে নিয়েছিলেন, কারণ তিনি তাদের ভাই লাসারকেও ভালবাসতেন| এবং যীশু আমাদের মর্মবেদনাও অংশভাগ করেন। আপনাদের প্রজন্মের যুবক লোকদের জন্য আমি করুণা অনুভব করি| খুব বেশি সংখ্যক মন্ডলীতে তারা আর পুরানো গানগুলি গায় না – সেই গান যার বার্তা হৃদয় স্পর্শ করতো এবং আত্মার আরাম প্রদান করতো| আজকের বাচ্চারা সেগুলি চেনে না, এবং সেইজন্যে তাদের কষ্টের সময়ে তারা সেগুলির প্রতি ফিরে আসতে পারে না| কিন্তু পুরানো গানগুলি ছিল এমন একরকমের গান যা আমার আত্মাকে অন্ধকারের মধ্যে বহন করে নিয়ে গিয়েছে|

যীশু মোদের কেমন বন্ধু,
   বহেন পাপ ও তাপের ভার!
মনের কথা ঈশ্বর জানেন
   বলিলে হয় সুখ অপার…
হেন এমন বন্ধু কোথায়,
   মোদের দুঃখের ভাগী হয়?
যীশু জানেন মোদের দশা,
   ধর তাকে প্রার্থনায়|
(“What a Friend We Have in Jesus” by Joseph Scriven, 1819-1886) |

“যীশু কাঁদিলেন” (যোহন ১১:৩৫)|

যীশুর বহুমূল্য চোখের জল| যীশুর করুণা| যীশুর সমবেদনার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিন|

ডঃ হেনরি এম. ম্যাকগোয়ান তার পরিবারের সঙ্গে আমাকেও প্রথমবার একটি ব্যাপটিষ্ট মন্ডলীতে নিয়ে গিয়েছিলেন যখন আমি বালক ছিলাম| তিনি একবার আমাকে বলেছিলেন যে আমি তার নিজের ছেলের মতন| আমার পরিবারসহ আমি টেক্সাসের, ভারননে অনেকবার গেছি তাকে দেখার জন্য| সেইরকমের একটি সাক্ষাতে তিনি একবার আমাকে একটি অমিত্রাক্ষর ছন্দের ছোট কবিতা উপহার দিয়েছিলেন যা অনেক কিছু ব্যাখ্যা করে| মেরী স্টিভেনসন নামের একটি ছোট মেয়ে কবিতাটি লিখেছিল যখন তার বয়্স ছিল মাত্র ১৪ বছর:

এক রাত্রে আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম|
যেন সমুদ্রসৈকতে আমার প্রভুর সাথে হেঁটে চলেছি|
অন্ধকার আকাশ থেকে আমার জীবনের দৃশ্যপটে আলোর ঝলক পড়ছিল|
প্রতিটি দৃশ্যপটে, আমি লক্ষ্য করেছিলাম বালুর উপরে দুই জোড়া পদচিহ্ন,
একটি আমার এবং একটি প্রভুর|

পরে আমার জীবনের শেষ দৃশ্যপট আমার সামনে আলোর ঝলক দিয়েছিল,
আমি পায়ের ছাপগুলির দিকে পিছন ফিরে তাকিয়েছিলাম|
আমি সেটা দেখলাম আমার জীবন পথের বহু স্থানে,
বিশেষ করে খুব গভীর এবং দুঃখের সময়ে,
সেখানে ছিল শুধু একজোড়া পদচিহ্ন|

এটা আমাকে অস্থির করেছিল, তাই আমি প্রভুকে প্রশ্ন করেছিলাম|
“প্রভু, তুমি একবার বলেছিলে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি তোমাকে অনুসরণ করবে,
তুমি আমার সঙ্গে সমস্ত পথ হাঁটবে|
কিন্তু আমি দেখি আমার জীবনের সবচেয়ে দুঃখদায়ক ও গভীর অস্থিরতার দিনে,
সেখানে আছে শুধু একজোড়া পায়ের ছাপ|
আমি বুঝিনা কেন, যখন আমার তোমাকে বেশি প্রয়োজন, তুমি আমাকে ছেড়েছ|”

তিনি ফিসফিস করে বলেন, “আমার প্রিয় সন্তান, আমি তোমাকে প্রেম করি আর আমি তোমাকে ছাড়িব না|
তোমার বিচার আর পরীক্ষার মধ্যে, কখনও না, চিরকাল|
যখন তুমি দেখেছ শুধু একজোড়া পদচিহ্ন,
সেটা ছিল সেই সময় যখন আমি তোমাকে বহন করছিলাম|”
      (“Footprints in the Sand” by Mary Stevenson, 1922-1999; written in 1936) |

যীশু আমাদের – হারানো, আশাহীন শহরের জন্য কাঁদেন| যীশু আমাদের সমবেদনায় রোদন করেন – যখন আমরা দুঃখের সময়ের মধ্যে দিয়ে যাই|

৩| তৃতীয়ত, যীশু আমাদের জন্য রোদন করেন যখন তিনি আমাদের পাপের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করেন |

ইব্রীয় ৫:৭ পদে বলা হচ্ছে,

“ইনি মাংসে প্রবাসকালে, প্রবল আর্ত্তনাদ ও অশ্রুপাত সহকারে তাঁহারই নিকটে প্রার্থনা ও বিনতী উৎসর্গ করিয়াছিলেন যিনি মৃত্যু হইতে তাঁহাকে রক্ষা করিতে সমর্থ, এবং আপন ভক্তি প্রযুক্ত উত্তর পাইলেন” (ইব্রীয় ৫:৭)|

এই হলেন যীশু, ক্রুশারোপনের আগের রাত্রে, গেৎসিমানী উদ্যানে ক্রন্দনরত| ডঃ ক্রিস্ওয়েল বলেছিলেন,

গেৎসিমানীর বাগানে প্রবল আর্ত্তনাদের অর্থ কী? যখন তিনি নিদারুণ যন্ত্রনায় দুঃখভোগ করেছিলেন যার ফলে প্রার্থনায় তাঁর “ঘর্ম যেন রক্তের ঘনিভূত বড় বড় ফোঁটা হইয়া ভূমিতে পড়িতে লাগিল” (লূক ২২:৪৪)…ভাববাদি যিশাইয় বলেছিলেন, “ঈশ্বর তাঁহার আত্মাকে পাপের উৎসর্গের জন্য প্রস্তুত করিয়াছিলেন|” যিশাইয় বলেছিলেন, “ঈশ্বর তাঁহার আত্মার প্রসব যন্ত্রণাকে দেখেছিলেন এবং সন্তুষ্ট হয়েছিলেন|” কোনভাবে, এই রহস্য যার মধ্যে আমরা প্রবেশ করতে পারি না, ঈশ্বর আমাদের জন্য তাঁকে পাপে পরিনত করিয়েছিলেন| এবং জগতের সমস্ত পাপের ভার এবং বোঝা বহন করতে তিনি প্রবল কান্না এবং চোখের জলসহ আর্ত্তনাদ করেছিলেন, “পিতঃ, যদি তোমার অভিমত হয়, আমা হইতে এই পানপাত্র দূর কর|” (ibid., p. 60)|

চোখে অনেক জল নিয়ে যীশু কেঁদেছিলেন, ঈশ্বর যেন তাঁর জীবনকে গেৎসিমানীতে নিষ্কৃতি দেন, যাতে তিনি পরের দিন সকালে আমাদের সব পাপ তাঁর দেহে নিয়ে ক্রুশের উপরে বহন করার জন্য বেঁচে থাকতে পারেন| এবং ক্রুশের উপরে তিনি ক্রন্দন করেছিলেন, “ইহা সমাপ্ত হইল” (যোহন ১৯:৩০) – আর তিনি তাঁর মাথা নত করলেন এবং মারা গেলেন| প্রবল কান্না এবং অশ্রুজলের সঙ্গে, তাকে ক্রুশের উপরে পেরেকবিদ্ধ করা হল আমাদের পাপের সম্পূর্ণ দেনা শোধ করার জন্য|

কালভেরী পর্বতে, একটি ভয়ঙ্কর প্রভাত,
   খ্রীষ্ট আমার পরিত্রাতা, শ্রান্ত এবং জীর্ণ বস্ত্র পরিহিত হাঁটছেন;
ক্রুশের উপরে পাপীর মৃত্যুর সন্মুখীন হইতে,
   অনন্তকালীন পতন হইতে তিনি আমাদের উদ্ধার করবেন|
ধন্য পরিত্রাতা! বহুমূল্য পরিত্রাতা!
   মনে হয় এমন আমি তাঁহাকে কালভেরীর বৃক্ষে দেখিয়াছি;
আঘাতপ্রাপ্ত এবং রক্তক্ষরণরত, পাপীর জন্য বিনতিরত –
   অন্ধ এবং অমনোযোগী – আমার জন্য মৃত্যু বরণ করছেন!
(“Blessed Redeemer” by Avis Burgeson Christiansen, 1895-1985)|

আমি আপনাকে বলছি যীশুতে বিশ্বাস স্থাপন করতে, যিনি অনেক চোখের জল ফেলেছেন, এবং ক্রুশের উপরে তাঁর রক্ত ঢেলেছেন আপনাকে পাপ এবং বিচার থেকে রক্ষা করতে| তিনি এখন স্বর্গে বাস করছেন, ঈশ্বরের ডানপাশে অবস্থান করছেন| সরল বিশ্বাস নিয়ে তাঁর কাছে আসুন এবং তাঁর উপর বিশ্বাস স্থাপন করুন| তাঁর বহুমূল্য রক্ত আপনাকে সমস্ত পাপ থেকে শুচি করবে – এবং আপনাকে অনন্তজীবন দান করবে| আমেন| ডঃ চান, অনুগ্রহ করে আমাদের প্রার্থনায় পরিচালিত করুন|


যদি এই প্রচার আপনাকে আশীর্বাদ দান করেছে তাহলে ডঃ হাইমার্স আপনার কাছ থেকে কিছু শুনতে চান| যখন আপনি ডঃ হাইমার্সকে চিঠি লিখবেন তখন অবশ্যই তাকে জানাবেন যে কোন দেশ থেকে আপনি তাকে লিখছেন নয়ত তিনি আপনার ই-মেলের জবাব দিতে সক্ষম হবেন না| যদি এই প্রচার আপনাকে আশীর্বাদ দান করেছে তবে ডঃ হাইমার্সকে একট ই-মেল পাঠান এবং তাকে সেইকথা জানান, কিন্তু কোন দেশ থেকে আপনি লিখছেন চিঠিতে সেটা অবশ্যই অন্তর্ভূক্ত করবেন| ডঃ হাইমার্সের ই-মেল ঠিকানা হল rlhymersjr@sbcglobal.net (এখানে ক্লিক করুন) | আপনি যে কোন ভাষায় ডঃ হাইমার্সকে চিঠি লিখতে পারেন, কিন্তু যদি পারেন তো ইংরাজিতেই লিখুন| যদি আপনি ডঃ হাইমার্সকে ডাক-ব্যবস্থার মাধ্যমে চিঠি পাঠাতে চান, তবে তার ঠিকানা হল P.O. Box 15308, Los Angeles, CA 90015 | আপনি তাকে (818)352-0452 নম্বরে ফোন করতে পারেন|

(সংবাদের পরিসমাপ্তি)
ডঃ হাইমার্সের সংবাদ আপনি প্রতি সপ্তাহে ইন্টারনেটে www.sermonsfortheworld.com ওয়েবসাইটে গিয়ে পড়তে পারেন| ক্লিক করুন “প্রচার পান্ডুলিপি|”

আপনি ডাঃ হাইমার্সকে মেইল পাঠাতে পারেন rlhymersjr@sbcglobal.net - আপনি
তাকে পত্র লিখতে পারেন P.O. Box 15308, Los Angeles, C A 90015.এই ঠিকানায়
। আপনি তাকে টেলিফোন করতে পারেন (818) 352-0452.

এই সুসমাচারের ম্যানুস্ক্রিপ্ট এর ওপর ডাঃ হাইমসের কোন কপিরাইট নেই। আপনারা
ইহা ব্যাবহার করতে পারেন ডাঃ হাইমসের অনুমতি ছাড়াই। অবশ্য, ভিডিও মেসেজ
সবই কপিরাইটের সহিত আছে এবং কেবলমাত্র তার অনুমতি নিয়েই ব্যাবহার করা যাবে।

সংবাদের আগে শাস্ত্রাংশ পাঠ করেছেন মিঃ আবেল প্রুধোম্মে: লূক ২২:৩৯-৪৪ |
সংবাদের আগে একক সংগীত পরিবেশন করেছেন মিঃ বেঞ্জামিন কিনকেড গ্রিফিত:
         “Blessed Redeemer” (by Avis Burgeson Christiansen, 1895-1985) |


খসড়া চিত্র

পরিত্রাতার চোখে জল

THE TEARS OF THE SAVIOUR

লেখক : ডঃ আর এল হাইমার্স, জুনিয়র।

“তিনি অবজ্ঞাত ও মনুষ্যদের ত্যাজ্য; ব্যাথার পাত্র, ও যাতনা পরিচিত হইলেন: লোকে যাহা হইতে মুখ আচ্ছাদন করে; তাহার ন্যায় তিনি অবজ্ঞাত হইলেন, আর আমরা তাঁহাকে মান্য করি নাই” (যিশাইয় ৫৩:৩)|

(মথি ২৩:১৩, ২৫, ২৭, ৩৩; ১৪:৩৬; যোহন ৮:১১;
লূক ২৩:৪৩; মথি ৯:২; লূক ৭:৪৮)

১| প্রথমত, যীশু নগরটির জন্য রোদন করিলেন, মথি ২১:৯; লূক ১৯:৪১ |

২| দ্বিতীয়ত, যীশু সহানুভূতিতে রোদন করিলেন, যোহন ১১:১১, ১৪, ৩৩, ৩৫ |

৩| তৃতীয়ত, যীশু আমাদের জন্য রোদন করেন যখন তিনি আমাদের পাপের জন্য প্রায়শ্চিত্ত করেন, ইব্রীয় ৫:৭; লূক ২২:৪৪; যোহন ১৯:৩০ |