Print Sermon

এই সমস্ত প্রচারের পান্ডুলিপি এবং ভিডিওগুলি এখন প্রতি মাসে 215টিরও বেশি দেশের প্রায় 116,000 কম্প্যুটারে www.sermonsfortheworld.com ওয়েবসাইটে পাঠানো হয়| আরও শত শত লোক ইউ টিউবের ভিডিওর মাধ্যমে এগুলি দেখেন, কিন্তু খুব শীঘ্রই তারা ইউটিউব ছেড়ে বেরিয়ে যান, কারণ প্রত্যেকটি ভিডিও প্রচার তাদেরকে আমাদের ওয়েবসাইটের দিকে পরিচালিত করে| ইউটিউব আমাদের ওয়েব সাইটে লোক এনে দেয়| প্রচারের এই পান্ডুলিপিগুলি প্রতি মাসে 34টি ভাষায় প্রচারিত হয় হাজার হাজার লোকের কাছে| প্রচারের এই সব পান্ডুলিপিগুলি গ্রন্থসত্ত্ব দ্বারা সংরক্ষিত নয়, কাজেই প্রচারকগণ আমাদের অনুমতি ছাড়াই এইগুলি ব্যবহার করতে পারেন| মুসলিম এবং হিন্দু রাষ্ট্রসমেত, সমগ্র পৃথিবীতে সুসমাচার ছড়িয়ে দেওয়ার এই মহান কাজে সাহায্য করার জন্য কিভাবে আপনি একটি মাসিক অনুদান প্রদান করতে পারেন তা জানতে অনুগ্রহ করে এখানে ক্লিক করুন|

যখন আপনি ডঃ হেইমার্সকে লিখবেন সর্বদা তাকে জানাবেন যে আপনি কোন দেশে বাস করেন, অথবা তিনি আপনাকে উত্তর দিতে পারবেন না| ডঃ হেইমার্সের ই-মেল ঠিকানা হল rlhymersjr@sbcglobal.net |




আলেক্সামিনোস এবং তাহার ঈশ্বর

ALEXAMENOS AND HIS GOD
(Bengali)

লেখক : ডঃ আর. এল. হাইমার্স, জুনিয়র।
By Dr. R. L. Hymers, Jr.

২০১৫ সালের, ৭ই জুন, প্রভুর দিনের সকালবেলায় লস্ এঞ্জেল্সের
ব্যাপটিষ্ট ট্যাবারন্যাকল মন্ডলীতে এই ধর্ম্মোপদেশটি প্রচারিত হয়েছিল
A sermon preached at the Baptist Tabernacle of Los Angeles
Lord’s Day Morning, June 7, 2015

“যে ব্যক্তি শ্লাঘা করে, সে প্রভুতেই শ্লাঘা করুক”
(১ম করিন্থীয় ১:৩১)|


প্রথম করিন্থীয়ের প্রথম দুটি অধ্যায় থেকে আমরা কী শিক্ষা পেতে পারি? সবচেয়ে আগ্রহদ্দীপক বিষয়গুলির মধ্যে একটি হল এই যে আদি খ্রীষ্ট বিশ্বাসীদের বিষয়ে আমরা কী শিক্ষা পাচ্ছি| তারা কতটা খ্রীষ্ট-কেন্দ্রিক ছিলেন সেটা লক্ষ্য না করে আপনি এই অধ্যায় দুইটি পাঠ করতে পারেন না| যারা চিন্তা করেছিলেন যে তারা বিজ্ঞ তারা খ্রীষ্টকে অস্বীকার করেছিলেন, “কারণ সেই ক্রুশের কথা যাহারা বিনাশ পাইতেছে তাহাদের কাছে মূর্খতা; কিন্তু পরিত্রাণ পাইতেছি যে আমরা আমাদের কাছে তাহা ঈশ্বরের পরাক্রমস্বরূপ” (১:১৮)| “কিন্তু আমরা ক্রুশে হত খ্রীষ্টকে প্রচার করি” (১:২৩)| “খ্রীষ্ট ঈশ্বরেরই পরাক্রম, ও ঈশ্বরেরই জ্ঞানস্বরূপ” (১:২৪)| “তাঁহা হইতে তোমরা খ্রীষ্ট যীশুতে আছ, যিনি হইয়াছেন আমাদের জন্য ঈশ্বর হইতে জ্ঞান, ধার্ম্মিকতা, ও পবিত্রতা, এবং মুক্তি” (১:৩০)| “কেননা আমি মনে স্থির করিয়াছিলাম তোমাদের মধ্যে আর কিছুই জানিব না, কেবল যীশু খ্রীষ্টকে, এবং তাঁহাকে ক্রুশে হত বলিয়াই জানিব” (২:২)| ডঃ জে ভারন্ন ম্যাক্গী বলেছেন,

পৌল দার্শনিক তত্ত্বমূলক আলোচনায় প্রবেশ করেন নাই…সহজভাবে তিনি ঠিক খ্রীষ্টের ক্রুশের প্রচারেই স্থির ছিলেন| তিনি ক্রুশে হত এক পরিত্রাতার বিষয়ে প্রচার করিয়াছিলেন| ইহাই হইতেছে সেই ধরনের সেবাকার্য্য যাহা বর্তমানে এতটাই প্রচন্ডভাবে প্রয়োজন (J. Vernon McGee, Th.D., Thru the Bible, volume 5, Thomas Nelson Publishers, 1983, p. 13; note on I Corinthians 2:2)|

“যে ব্যক্তি শ্লাঘা করে, সে প্রভুতেই শ্লাঘা করুক” (১ম করিন্থীয় ১:৩১)|

গ্রীক ভাষায় অনুবাদিত শব্দ “মহিমা”র অর্থ হল “দম্ভ করা” – অতি প্রশংসা করা, কোন বিষয়ের জন্য গর্বিত হওয়া| প্রেরিত আমাদের বলছেন খ্রীষ্টের বিষয়ে অতি প্রশংসা করতে – খ্রীষ্টের জন্য গর্বিত হতে – খ্রীষ্টের বিষয়ে দম্ভ প্রকাশ করতে – আমাদের “প্রভুতেই শ্লাঘা” করতে| আদি খ্রীষ্ট বিশ্বাসীরা খ্রীষ্টের বিষয়ে এত বেশি আলোচনা করতেন যে খ্রীষ্ট অবিশ্বাসীরা বলেছিলেন যে তারা এক মৃত যিহুদীর আরাধনা করেছেন! ডঃ মাইকেল গ্রীন বলেছেন যে, “রোমের পেলেটাইন পর্বতের উপরে স্থিত সাম্রাজ্যবাদীগণের শিবিরের বালক ভৃত্যবর্গের বাসস্থানে [খ্রীষ্টের বিষয়ে বলিবার] এই দৃঢ় সঙ্কল্পের বিষয়ে একটি মর্মস্পর্শী উদাহরন পাওয়া গিয়াছে| এস্থানে তৃতীয় শতাব্দীর খুবই গোড়ার দিকের একটি চিত্র দেখান হইয়াছে, হস্ত দ্বারা [একটি শিশুর দ্বারা] অঙ্কিত চিত্র, যাহাতে দেখা যাইতেছে যে একটি বালক তাহার একটি হস্ত উপরের দিকে উঠাইয়া, আরাধনার ভঙ্গীতে দাঁড়াইয়া আছে| তাহার আরাধনার বস্তু হইতেছে ক্রুশের উপরে অবস্থিত, গর্দভের মুখমন্ডলবিশিষ্ট একটি মানুষের মূর্তির চিত্র| উহার নীচে যেমন তেমন করিয়া ইহা লিপিবদ্ধ আছে, ‘আলেক্সামিনোস তাহার ঈশ্বরের আরাধনা করিতেছে|’ পরিষ্কারভাবে বোঝা যাইতেছে যে বালক ভৃত্যদের মধ্যে একজন ছিলেন খ্রীষ্ট বিশ্বাসী, এবং তিনি ইহার জন্য লজ্জিত ছিলেন না| ঐভাবে দাঁড়াইয়া থাকিবার জন্য তাহার সমগোত্রীয় লোকেরা বিদ্বেষপূর্ণভাবে তাহাকে উপহাস বা বিদ্রুপ করিয়াছিল| কিন্তু তিনি কুন্ঠিত [লজ্জিত] ছিলেন না…অন্য একটি আলাদা হস্তাক্ষর [বলিতেছে] ‘আলেক্সমিনোস হইতেছে বিশ্বস্থ|’ সম্ভবত ইহা ছিল সেই নিষ্ঠুর ব্যঙ্গচিত্রের প্রতি তাহার নিজস্ব জবাব| আমি মনে করি ইহা ঐরূপ ছিল” (Michael Green, D.D., Evangelism in the Early Church, William B. Eerdmans Publishing Company, 1970, pp. 174, 175)|

আমি মূল অঙ্কন থেকে সরাসরি সেই দেওয়াল চিত্রের একটা অংশ নকল করেছি| এটা হল দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষভাগে প্রাচীন রোমের পেলেটাইন পর্বতে অবস্থিত বালক ভৃত্যদের বাসস্থানের একটি ঘরের দেওয়ালে খোদাইকৃত সেই অঙ্কনের, একটি হুবহু প্রতিচ্ছবি|

Alexamenos and his God

যখন আমি এই প্রাচীন ব্যঙ্গচিত্রটির দিকে চেয়ে দেখতাম তখন আমার দুই চোখে জল চলে আসত| সেখানে একটি ১০ অথবা ১২ বছর বয়সের বালক যীশুর জন্যে দাঁড়িয়ে আছে! এবং অন্য আর একটি মন্দ ধরনের ছেলে সেই বালকের একটা ছবি এঁকেছে – গাধার মাথাওয়ালা যীশুর আরাধনারত অবস্থায়! আমি চিন্তা করলাম, “আলেক্সামিনোসের মতন এক বালকের জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই!” এরা ছিলেন সেই ধরনের ছেলে মেয়ে যারা খ্রীষ্টের বাণী রোম সাম্রাজ্যের সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়েছিলেন! আলেক্সামিনোস, আমি স্বর্গে তোমার সঙ্গে মিলিত হওয়ার অপেক্ষায় থাকলাম! আমি প্রার্থনা করি যে আমাদের মন্ডলীতে আমরা আলেক্সামিনোসের মতন নবীন ব্যক্তিদের পাব – সেই যুবক যুবতীদের পাব যারা ঈশ্বর-পরিত্যক্ত এই প্রজন্মের দ্বারা যতই বিদ্রুপিত বা হাস্যাস্পদ হোক না কেন – তবুও খ্রীষ্টের জন্যে দম্ভ প্রকাশ করবেন!

কোনরকম বিচার ছাড়াই ডুগার পরিবারকে দোষারোপ এবং জনগনের রায়ে হত্যা করা হয়েছিল| সেই পরিবারে উনিশটি ছেলেমেয়ে ছিল| বার বছর আগে সেই পরিবারের ছেলেদের মধ্যের একজন যথাযথ নয় এমনভাবে নিজের দুই বোনকে স্পর্শ করেছিল| তার পিতা মাতা ছেলেটিকে পুলিশের কাছে নিয়ে গেছিলেন| সেই ছেলেটির বয়স তখন ছিল মাত্র ১৫ বছর, সেই কারণে এই সংক্রান্ত নথিপত্র বন্ধ করা হয়েছিল| মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে এই ছোট্ট আরকানসাস শহরের এক অসার মস্তিষ্কবিশিষ্ট পুলিশ প্রধান সেই বন্ধ নথিটি খুলেছিলেন এবং বিষয়টিকে সংবাদ মাধ্যমের সামনে প্রকাশ করে দিয়েছিলেন| তারা ডুগার পরিবারের বসত-বাড়িটিকে “আতঙ্কের গৃহ” নাম দিয়ে, সেই পরিবারের সকলকে ক্রুশে হত্যা করেছিল| তারা এইরকম কাজ করেছিল কেন? কারণ ডুগাররা সপরিবারে একটি ব্যাপটিষ্ট মন্ডলীর সদস্য ছিলেন – কারণ তারা খ্রীষ্ট বিশ্বাসী ছিলেন!!! পরিবারের দুই বোন ফক্স সংবাদ মাধ্যমের কাছে গিয়েছিলেন কারন তারা জানতেন যে সেটাই ছিল একমাত্র জায়গা যেখানে গেলে হয়ত কোন একজন তাদের প্রতি ভাল ব্যবহার করবে| এই যুবতী মহিলারা ফক্স সংবাদ মাধ্যমের কাছে গিয়েছিলেন তাদের পিতামাতার পক্ষ সমর্থন করার জন্যে| তখন আমি দেখেছিলাম হুপি গোল্ডবার্গের ভয়ঙ্কর, দানবিক মুখ তাদের প্রতি তীক্ষ্ণ চিৎকার করছিল| “ইহার মধ্যে ঈশ্বরকে আনিয়ো না!” “খ্রীষ্ট বিশ্বাসীদের ধর! তাহাদের ধর! তাহাদের ধর!” – যখন প্রাচীন রোম শহরে তারা খ্রীষ্ট বিশ্বাসী ছোট মেয়েদের সিংহদের দ্বারা ছিঁড়ে খাওয়ার জন্যে মল্লভূমির মধ্যে ছুঁড়ে ফেলে দিত সেইদিন থেকে আজ পর্যন্ত কোন কিছুরই কোন পরিবর্তন হয়নি! হুপি গোল্ডবার্গ দেখতে ছিলেন নিরো অথবা ক্যালিগুলার মতন! “খ্রীষ্ট বিশ্বাসীদের হত্যা কর! তাহাদের ধর! তাহাদের ধর! তাহাদের ধর!” ঈশ্বর আমাদের সাহায্য করুন – সংবাদ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণকারী এইরকম লোকেদের সঙ্গ থেকে! আজকের এই সমস্ত নিষ্ঠুর ও অশুভ দিনগুলিতে, এখানে উপস্থিত প্রত্যেক যুবক ব্যক্তিদের সম্পর্কে এইরকম বলা হোক, “আলেক্সামিনোস হইতেছে বিশ্বস্থ|”

“যে ব্যক্তি শ্লাঘা করে, সে প্রভুতেই শ্লাঘা করুক” (১ম করিন্থীয় ১:৩১)|

কোন মরণশীল তাঁহার সহিত তুলনা করিতে পারে না,
   মনুষ্য পুত্রের মধ্যে;
সমস্ত সুন্দরের মধ্যে তিনিই সুন্দরতম,
   যাহা স্বর্গীয় নিশানা পূর্ণ করে,
যাহা স্বর্গীয় নিশানা পূর্ণ করে|

তাঁহার প্রতি আমি দিয়াছি আমার জীবন, আমার শ্বাস,
   এবং আমার সমস্ত আনন্দ সহ যাহা কিছু আছে;
তিনি আমাকে দিয়াছেন মৃত্যুর উপরে বিজয়,
   এবং তিনি আমাকে কবর হইতে উদ্ধার করিয়াছেন,
এবং তিনি আমাকে কবর হইতে উদ্ধার করিয়াছেন!
            (“Majestic Sweetness Sits Enthroned” by Samuel Stennett, 1727-1795) |

আপনার কাছে থাকতে পারে সেই সাম্য ও প্রগতিবাদী মাধ্যম! আপনার কাছে হুপি গোল্ডবার্গ, এবং সম্পূর্ণ সংষ্কারমুক্ত, ঈশ্বরে-ঘৃণাকারী, হলিউডের লোকজন থাকতে পারে! আপনি নিজের কাছে তাদের পেতে পারেন! উৎসর্গ করার মতন কোন কিছুই তাদের কাছে নেই! কিছুই নেই! কিছুই নেই! কিছুই নেই! – “আলেক্সামিনোস হইতেছে বিশ্বস্থ!” “আলেক্সামিনোস হইতেছে বিশ্বস্থ!” “আলেক্সামিনোস হইতেছে বিশ্বস্থ!” সেটাই হোক, প্রিয় ঈশ্বর! সেটাই হোক!

“যে ব্যক্তি শ্লাঘা করে, সে প্রভুতেই শ্লাঘা করুক” (১ম করিন্থীয় ১:৩১)|

আমাদের চিত্ত বিনোদন করা হবে এইজন্যে আমরা মন্ডলীতে আসি না| লা ভেগাসের নৈশক্লাবের কলাকুশলীদের গাওয়া গানের মত করে “আরাধনা দল” গান করছে সেটা শোনবার জন্যেও আমরা আসি না| আমরা কোন ঠাট্টা-তামাশা শোনার জন্য, অথবা আত্ম-উৎকর্ষ সাধনের বিষয়ে কোন গল্প শোনার জন্যে আসি না| আমরা জিমি ফেলোনের কাছে এর চাইতে আরও ভাল তামাশা শুনতে পারি| রিডার’স ডাইজেষ্ট বইয়ের মধ্যে আমরা অনেক আত্ম-উৎকর্ষ সাধনমূলক গল্প পড়তে পারি| মন্ডলীতে আমরা “খ্রীষ্ট বিশ্বাসী” রক সঙ্গীতের দ্বারা বিমোহিত হওয়ার জন্যে আসি না| এই সবই হল অন্তঃসারশূণ্য| এইসব আমাদের হৃদয় স্পর্শ করে না| আমাদের মুখে কাঠের গুঁড়ার স্বাদ সমেত এটা আমাদেরকে ছেড়ে দেয়| এই সবই হল অসার, শূণ্যময়, কিছু সময়ের অপচয়!

আমি এবং আমার স্ত্রী সান ডিয়াগোর কাছে, অরেঞ্জ প্রদেশের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এক বিশাল মন্ডলীতে শনিবারের সান্ধ্য উপাসনায় গিয়েছিলাম| সেখানে কানে তালা ধরানো গানবাজনা হচ্ছিল| সেগুলো ছিল সন্মোহক| সেগুলো একেবারে হুবহু রক সঙ্গীত ছিল| চরম পরিনতিতে সেই সঙ্গীত হুড়মুড় শব্দ করে শেষ হয়েছিল| এটা সমস্ত কিছুকে অতিক্রম করে গিয়েছিল যা আমি কখনও শুনিনি, অন্য কোন জায়্গায়|

এরপরে সেখানে উপস্থিত লোকেরা বেড়িয়ে গিয়েছিলেন| তাদের দেখতে লাগছিল হতবুদ্ধি, স্তম্ভিত, ডাকিনী বিদ্যার প্রয়োগে প্রাণ ফিরে পাওয়া “জীবন্মৃত অবস্থার রাত্রি” থেকে ফিরে আসা পা টেনে টেনে চলা মানুষদের মতন| তারা কেউ হাসছিলেন না| কেউ কোন কথা বলছিলেন না| কেউই কাউকে অভিবাদন জানাচ্ছিলেন না| তারা সবাই একা একাই মন্ডলীতে এসেছিলেন – নিজেদের চিত্ত বিনোদনের জন্য| এবং তারা একা একাই বেড়িয়ে চলে গিয়েছিলেন| ডঃ ডেভিড ওয়েলস বলেছেন, “একাকীত্ব হইতেছে একটি আধুনিক সংক্রামক মহামারী| ইহা হইল সংযোগহীন হইয়া পড়িবার, শিকড় গাড়িয়া বসিতে না পারিবার, বিশেষ কোন কিছুতে নহে কিন্তু সাধারনভাবে কোন কিছুতেই একাত্মতা অনুভব না করিবার এক মহারোগ| ইহা হইতেছে একলা হইয়া যাইবার, অলক্ষিত অবস্থায় বাস করিবার, একটি কৌতূহলহীন গতানুগতিক বা উদাসীন জগতের দ্বারা বাহিত হইবার যন্ত্রণা” (David F. Wells, Ph.D., The Courage to be Protestant, Eerdmans, 2008, p. 33)|

ডঃ ওয়েলস হলেন একজন বিখ্যাত ঈশ্বরতত্ত্ববিদ, এবং তিনি একেবারে ঠিক বলছেন| “একাকীত্ব হইতেছে একটি আধুনিক সংক্রামক মহামারী”| কিন্তু সেই বিশাল মন্ডলীটির কাছে একাকীত্বের কোন উত্তর ছিল না| তাদের কাছে সর্বসাকুল্যে ছিল একটা রক ব্যান্ড – এবং প্রত্যেকেই একাকী হুমড়ি খেয়ে পড়ত – যেমন তারা ডজার স্টেডিয়ামে কোন খেলার পরে করত! এর উত্তর কী? উত্তর হল একটা মন্ডলী যা স্বয়ং যীশু খ্রীষ্টকে কেন্দ্র করে আছে| রক গীতবাদ্য নয় - খ্রীষ্টই হল উত্তর| একাকী লোকদের, বিশাল ভীড় নয় - খ্রীষ্টই হলেন এর উত্তর! এই আধুনিক বিশালাকায় মন্ডলীগুলির কাছে উৎসর্গ করার মতন কিছুই নেই! কিছুই নেই! কিছুই নেই! কিছুই নেই! কেবলমাত্র খ্রীষ্ট-কেন্দ্রিক, খ্রীষ্ট-ঘোষণাকারী, খ্রীষ্ট-শ্রদ্ধাকারী মন্ডলীর কাছেই উত্তর আছে! সেই উত্তর যে কোন সময়ে এবং সর্বদা স্বয়ং যীশু খ্রীষ্টের মধ্যে আছে| দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষভাগে বসবাস করত যে নবীন বালকটি সে এটা জানত| এটাই হল কারণ যে “আলেক্সামিনোস তাহার ঈশ্বরের আরাধনা করিতেছে!” সেটাই হল কারণ যে “আলেক্সামিনোস হইতেছে বিশ্বস্থ!”

“যে ব্যক্তি শ্লাঘা করে, সে প্রভুতেই শ্লাঘা করুক” (১ম করিন্থীয় ১:৩১)|

পরিত্রাণের বিষয়ে কী হবে? কিভাবে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে সেই বিষয়ে আপনি কী সেই “মহান” প্রচারকদের কথা বলতে শুনেছেন? হে ঈশ্বর, আমি তাদের এটা ছাড়া বাকি সমস্ত বিষয়ে কথা বলতে শুনছি! তারা পবিত্র আত্মার বিষয়ে কথা বলে| কিভাবে ভাল অনুভূতি লাভ করা যায় সেই বিষয়ে তারা কথা বলে| কিভাবে সাফল্য লাভ করা যায় সেই বিষয়ে তারা কথা বলে| যোষেফ প্রিন্স নামে একজন লোক আছেন যিনি এমনকী অনুগ্রহের বিষয়েও কথা বলে থাকেন| কিন্তু কিভাবে পরিত্রাণ পাওয়া যায় সেই বিষয়ে কে কথা বলেন? আমি সেটা শুনতে পাচ্ছি না! ক্রুশের বিষয়ে কে কথা বলেন? আমি তা শুনতে পাই না! রক্তের বিষয়ে কে কথা বলেন? আমি সেটাও শুনতে পাই না! যীশুর উপরে সম্পূর্ণ প্রচার কে করেন? আমি সেটা শুনি না!

কয়েকদিন আগে কিউবা থেকে একজন হতভাগ্য লোক আমাকে একটা ইমেল করেছেন| প্রায় ২০০টিরও বেশি দেশে, ৩২টি ভাষায় - এই প্রচার বিশ্বের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়ে থাকে| সেই কারণেই কিউবাবাসী এই নবীন যুবক পত্রটি লিখতে পেরেছেন| তিনি বলেছেন যে তিনি খ্রীষ্টের কাছে নিজেকে সমর্পণ করেছিলেন এবং ব্যাপ্তিস্ম নিয়েছিলেন| কিন্তু সেইসময়ে তার বন্ধুদের মধ্যে একজন তাকে মনোনয়নের বিষয়ে বলেছিল| তিনি লিখেছেন যে এই ঘটনা তাকে বিব্রত করে তুলেছিল| তিনি বলেছেন যে মনোনয়নের বিষয়ে সেই শোনাটা তাকে বাধ্য করেছিল নিজের পরিত্রাণকে সন্দেহ করতে| আমি এটা বুঝতে পারছি না! আমার কাছে মনে হচ্ছে যেন আপনাকে পরিত্রাণের বিষয়ে আরও বেশি করে নিশ্চিত করে দেয়াটাই হল মনোনয়নের কর্তব্য| এটা আপনার উপরে নির্ভর করছে না| এটা একমাত্র খ্রীষ্টের উপরেই নির্ভর করছে! আমেন! কিন্তু তিনি পল ওয়াশার দেখা এবং জন্ ম্যাকআর্থারের বই পড়া শুরু করেছিলেন| এছাড়া তিনি রে কমফোর্টের, “Hell’s Best Kept Secret” নামের প্রচারটিও পড়েছিলেন| তারপরে তিনি ক্যালভিন মতবাদের উপরে কয়েকটি ভিডিও দেখেছিলেন যাকে বলা হয়, “আশ্চর্য্য অনুগ্রহ|” এর সবগুলিই তাকে বিভ্রান্ত করে দিয়েছিল| সেইজন্যে তিনি আমাদেরকে চিঠি লিখেছিলেন এবং তাতে বলেছিলেন, “আমি বিশ্বাস করি যে আপনাকে আমার প্রয়োজন আছে ব্যবস্থা বিষয়ক বই, আর চিন্তা করিবার এবং পাপের চেতনা পাইবার নিমিত্ত প্রস্তুতি লইবার বিষয়ে সুপারিশ করিবার জন্যে|” তিনি বলেছেন, “ব্যবস্থার গভীরতার বিষয়টি আমার বুঝিবার প্রয়োজন আছে|” কিভাবে তাকে আমি উত্তর দিয়েছিলাম সেটা এখানে দেওয়া হল,

লক্ষ করুন যে আপনি কখনও একবারের জন্যেও খ্রীষ্টের নাম উচ্চারন করেন নাই! একবারের জন্যেও যীশুর নামের উল্লেখ না করিয়া, ক্রুশের উপরে তাঁহার কার্য্যের, অথবা তাঁহার পাপ-মোচনকারী রক্তের উল্লেখ না করিয়া আপনি আমাকে চেতনা এবং ব্যবস্থার বিষয়ে দীর্ঘ ইমেল করিয়াছেন! ইহা হইতেছে অতি আধুনিক ক্যালভিন মতবাদের একটি ফাঁদ| লক্ষ করুন যে আপনি ঘন্টার পর ঘন্টা ধরিয়া পল ওয়াশার এবং জন্ ম্যাকআর্থারের লেখা পড়িতে পারেন এবং যীশু খ্রীষ্টের বিষয়ে চিন্তা করিয়া বাহির হইবার পরিবর্তে, ব্যবস্থার বিষয়ে চিন্তা করিয়া বাহির হন! এই কারণেই ওয়াশার, ম্যাকআর্থার এবং রে কমফোর্ট প্রভৃতি মানুষের বিষয়ে আমার অভিযোগ আছে| তাহারা সুসমাচারের তুলনায় ব্যবস্থার বিষয়ে অধিকতর উত্তম প্রচারক! (আমার প্রচার পড়ার জন্যে এখানে ক্লিক করুন “An Even More Shocking Youth Message! – My Answer to Paul Washer!” )|

এর পরে আমি তাকে আমার দুইটি প্রচার পাঠিয়েছিলাম: “যীশু খ্রীষ্ট স্বয়ং” এবং “আপনি খৄষ্টের বিষয়ে কী চিন্তা করেন? ” তার যা প্রয়োজন ছিল সেটা হল – যীশু খ্রীষ্ট স্বয়ং! এবং আপনার যা প্রয়োজন সেটাও হচ্ছে – যীশু খ্রীষ্ট স্বয়ং!

“যে ব্যক্তি শ্লাঘা করে, সে প্রভুতেই শ্লাঘা করুক” (১ম করিন্থীয় ১:৩১)|

কোন মরণশীল তাঁহার সহিত তুলনা করিতে পারে না,
     মনুষ্য পুত্রের মধ্যে;
সমস্ত সুন্দরের মধ্যে তিনিই সুন্দরতম,
     যাহা স্বর্গীয় নিশানা পূর্ণ করে,
যাহা স্বর্গীয় নিশানা পূর্ণ করে|

চরম দূর্দশায় তিনি আমাকে ডুবিতে দেখিয়াছিলেন,
     এবং আমার মুক্তির জন্যে উড়িয়া গিয়াছিলেন;
আমার জন্যে তিনি বহন করিয়াছিলেন সেই লজ্জাজনক ক্রুশ,
     এবং আমার সমস্ত দুঃখ তিনি বহন করিয়াছিলেন,
এবং আমার সমস্ত দুঃখ তিনি বহন করিয়াছিলেন|

অদ্যবধি আমি তাঁহার দানশীলতা গ্রহণ করিতেছি
     ঐশ্বরিক ভালবাসার এইরূপ প্রমাণ,
দিবার জন্যে আমার কী সহস্র হৃদয় ছিল,
     প্রভু, তাহারা সকলে অবশ্যই তোমার হইবে|
প্রভু, তাহারা সকলে অবশ্যই তোমার হইবে|

যীশুর কাছে আসা খুবই সহজ| প্রাচীন রোম শহরের সেই নবীন বালকটি যীশুর কাছে এসেছিল – এবং সেইজন্যে আপনিও পারবেন!

আলেক্সামিনোস তার ঈশ্বরের আরাধনা করছেন! তার ঈশ্বরকে একটি ক্রুশের উপরে পেরেকবিদ্ধ করা হয়েছে, আলেক্সামিনোসের পাপের দেনা শোধ করার জন্য তিনি দুঃখভোগ করছেন|

রবার্ট হাইমার্স তার ঈশ্বরের আরাধনা করছেন! তার ঈশ্বরকে একটি ক্রুশের উপরে পেরেকবিদ্ধ করা হয়েছে, রবার্ট হাইমার্সের পাপের দেনা শোধ করার জন্য তিনি দুঃখভোগ করছেন|

আলেক্সামিনোস তার ঈশ্বরের আরাধনা করে! তার ঈশ্বর হলেন নাজারথের যীশু| আলেক্সামিনোসের পাপের দেনা, এবং আপনাদের পাপের দেনা শোধ করার জন্য, তার ঈশ্বর ক্রুশের উপরে মৃত্যুবরণ করতে স্বর্গ থেকে নেমে এসেছিলেন| তার ঈশ্বর হলেন যীশু, যিনি মাংসিকভাবে, স্বশরীরে মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হয়েছিলেন, এবং এখন স্বর্গে আছেন – পিতার দক্ষিণে আছেন|

আলেক্সামিনোস তার ঈশ্বরের আরাধনা করে| জগৎ বলছে যে তার ঈশ্বরের মাথাটি হল একটি গাধার মাথা! যীশুর আরাধনা করার জন্যে সমস্ত জগৎ আলেক্সামিনোসকে বিদ্রুপ ও উপহাস করছে| কিন্তু তিনি অন্য একটি দেওয়ালে লিখছেন, “আলেক্সামিনোস হইতেছে বিশ্বস্থ|” তিনি কেন বিশ্বস্থ? কারণ তার ঈশ্বর, যীশু, বলেছিলেন, “আমা দিয়া না আসিলে, কেহ পিতার নিকটে আইসে না” (যোহন ১৪:৬)|

আলেক্সামিনোস তার ঈশ্বরের আরাধনা করে| এবং সমস্ত রোম সাম্রাজ্য ধ্বংস হয় ও তার পতন ঘটে| এবং সমস্ত প্রতিমা বিচ্যূত হয়| সমস্ত রাজকীয়তা অদৃশ্য হয়ে যায়| এবং কলোসিয়াম বা রোমের উপবৃত্তাকার এম্ফিথিয়েটার ও প্রাচীন এথেনা দেবীর মন্দিরের ধ্বংসস্তূপের উপরে যীশু উদিত হন|

“যে ব্যক্তি শ্লাঘা করে, সে প্রভুতেই শ্লাঘা করুক”(১ম করিন্থীয় ১:৩১)|

আলেক্সামিনোস তার ঈশ্বরের আরাধনা করে| আর বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণী বলছে তরঙ্গসকল গর্জন করে, এবং পৃথিবী টলটলায়মান হয়, চন্দ্র রক্তে পরিণত হয়, এবং ঘরবাড়ি এবং পাহাড় ও পর্বতসকল ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে ভূপতিত হয়| পৃথিবীর রাজ্যগুলি অদৃশ্য হয়ে যায়| আর লোকেরা ভয়ে পাহাড়ের গর্তগুলির ভিতরে লুকিয়ে পড়ে| এবং তারা সকলেই ছিল ভ্রান্ত| এবং সেই বালক ছিল সঠিক| “আলেক্সামিনোস হইতেছে বিশ্বস্থ|” আপনি কী তার ঈশ্বরকে বিশ্বাস করবেন? আপনি কী যীশুতে বিশ্বাস স্থাপন করবেন, এবং তাঁর বহুমূল্য রক্তের দ্বারা আপনার কৃত সমস্ত পাপ থেকে শুচি হবেন? আমি প্রার্থনা করছি যে আপনি হবেন| তাঁর নামে, আমেন|

যদি এই প্রচার আপনাকে আশীর্বাদ দান করেছে তবে অনুগ্রহ করে ডঃ হাইমার্সকে একট ই-মেল পাঠান এবং তাকে বলুন – www.realconversion.com (এখানে ক্লিক করুন)| আপনি যে কোন ভাষায় ডঃ হাইমার্সকে চিঠি লিখতে পারেন, কিন্তু যদি পারেন তো ইংরাজিতেই লিখুন|

(সংবাদের পরিসমাপ্তি)
ডাঃ হাইমার্সের সংবাদ আপনি প্রতি সপ্তাহে ইন্টারনেটের মাধ্যমে
www.realconversion.com এই সাইটে পড়তে পারেন। ক্লিক করুন “সংবাদের হস্তলিপি”

আপনি ডাঃ হাইমার্সকে মেইল পাঠাতে পারেন rlhymersjr@sbcglobal.net - আপনি
তাকে পত্র লিখতে পারেন P.O. Box 15308, Los Angeles, C A 90015.এই ঠিকানায়
। আপনি তাকে টেলিফোন করতে পারেন (818) 352-0452.

এই সুসমাচারের ম্যানুস্ক্রিপ্ট এর ওপর ডাঃ হাইমসের কোন কপিরাইট নেই। আপনারা
ইহা ব্যাবহার করতে পারেন ডাঃ হাইমসের অনুমতি ছাড়াই। অবশ্য, ভিডিও মেসেজ
সবই কপিরাইটের সহিত আছে এবং কেবলমাত্র তার অনুমতি নিয়েই ব্যাবহার করা যাবে।

সংবাদের আগে শাস্ত্রাংশ পাঠ করেছেন মিঃ আবেল প্রধুম্মে: ১ম করিন্থীয় ১:২৬-৩১ |
সংবাদের আগে একক সংগীত পরিবেশন করেছেন মিঃ বেঞ্জামিন কিনকেড গ্রিফিত: