Print Sermon

এই সমস্ত প্রচারের পান্ডুলিপি এবং ভিডিওগুলি এখন প্রতি মাসে 215টিরও বেশি দেশের প্রায় 116,000 কম্প্যুটারে www.sermonsfortheworld.com ওয়েবসাইটে পাঠানো হয়| আরও শত শত লোক ইউ টিউবের ভিডিওর মাধ্যমে এগুলি দেখেন, কিন্তু খুব শীঘ্রই তারা ইউটিউব ছেড়ে বেরিয়ে যান, কারণ প্রত্যেকটি ভিডিও প্রচার তাদেরকে আমাদের ওয়েবসাইটের দিকে পরিচালিত করে| ইউটিউব আমাদের ওয়েব সাইটে লোক এনে দেয়| প্রচারের এই পান্ডুলিপিগুলি প্রতি মাসে 34টি ভাষায় প্রচারিত হয় হাজার হাজার লোকের কাছে| প্রচারের এই সব পান্ডুলিপিগুলি গ্রন্থসত্ত্ব দ্বারা সংরক্ষিত নয়, কাজেই প্রচারকগণ আমাদের অনুমতি ছাড়াই এইগুলি ব্যবহার করতে পারেন| মুসলিম এবং হিন্দু রাষ্ট্রসমেত, সমগ্র পৃথিবীতে সুসমাচার ছড়িয়ে দেওয়ার এই মহান কাজে সাহায্য করার জন্য কিভাবে আপনি একটি মাসিক অনুদান প্রদান করতে পারেন তা জানতে অনুগ্রহ করে এখানে ক্লিক করুন|

যখন আপনি ডঃ হেইমার্সকে লিখবেন সর্বদা তাকে জানাবেন যে আপনি কোন দেশে বাস করেন, অথবা তিনি আপনাকে উত্তর দিতে পারবেন না| ডঃ হেইমার্সের ই-মেল ঠিকানা হল rlhymersjr@sbcglobal.net |




বড়দিনের ছুটির উন্মত্ততা!

CHRISTMAS HOLIDAY MADNESS!
(Bengali)

লেখক : ডঃ আর এল হাইমার্স, জুনিয়র।
By Dr. R. L. Hymers, Jr.

২০১৪ সালের, ৩০শে নভেম্বর, সদাপ্রভুর একটি দিনে সকালবেলায় লস্ এঞ্জেলসের ব্যাপটিষ্ট ট্যাবারন্যাকল মন্ডলীতে এই ধর্ম্মোপদেশটি প্রচারিত হয়েছিল
A sermon preached at the Baptist Tabernacle of Los Angeles
Lord's Day Morning, Novemmber 30, 2014

“মনুষ্য সন্তানদের অন্তঃকরণ দুষ্টতায় পরিপূর্ণ, এবং যাবজ্জীবন ক্ষিপ্ততা তাহাদের হৃদয়মধ্যে থাকে, পরে তাহারা মৃতদের নিকটে যায়” (উপদেশক ৯:৩)|


রাজা শলোমন উপদেশক লিখেছিলেন| তার জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার বিষয় এতে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে| তিনি সব কিছু চেষ্টা করেছিলেন এটা দেখার জন্য যে তার জীবনে কোন জিনিষটি পরিতৃপ্তি নিয়ে আসবে| তিনি জ্ঞানলাভের চেষ্টা করেছিলেন| তিনি কামনাতৃপ্তির চেষ্টা করেছিলেন| তিনি ধন-সম্পত্তি অর্জনের চেষ্টা করেছিলেন| তিনি ঈশ্বরের অস্তিত্ত্বের জন্য চেষ্টা করেছিলেন| তিনি খ্যাতি লাভ করার চেষ্টা করেছিলেন| তিনি ধার্ম্মিকতার জন্য চেষ্টা করেছিলেন| শেষ অবধি তিনি এই সিদ্ধান্তে আসেন যে “সকলই অসার ও বায়ুভক্ষণ মাত্র” (উপদেশক ১:১৪; ২:১১, ১৭)| তিনি সবকিছু দেখেছিলেন, এবং সবকিছু চেষ্টা করেছিলেন, আর শেষে তার কাছে এই সবই মনে হয়েছিল অর্থহীন এবং ফাঁকা| এটাই তাকে, প্রেরিত যোহনের সঙ্গে, এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পরিচালিত করেছিল যে “এই জগৎ, এবং তাহার অভিলাষ বহিয়া যাইতেছে” (১ম যোহন ২:১৭)|

উপদেশক ৯:৩ পদ হল খুবই হতাশাপূর্ণ একটি পাঠ্যাংশ| এটা মানবজাতির অতি নাতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গীর উপস্থাপনা করে| তবুও আমি বিশ্বাস করি রাজা শলোমন যথাযথোভাবে সঠিক ছিলেন| তিনি এই পাঠ্যাংশের উপর তিনটি বিবৃতি দিয়েছিলেন যেগুলি খুব সত্যি, এবং বাইবেলের বাকি অংশের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ|

“মনুষ্য সন্তানদের অন্তঃকরণ দুষ্টতায় পরিপূর্ণ, এবং যাবজ্জীবন ক্ষিপ্ততা তাহাদের হৃদয়মধ্যে থাকে, পরে তাহারা মৃতদের নিকটে যায়” (উপদেশক ৯:৩)|

১| প্রথম, রাজা শলোমন বলেন, “মনুষ্য সন্তানদের অন্তঃকরণ দুষ্টতায় পরিপূর্ণ|”

অন্য একটি পদে তিনি এই তথ্যকে পরিষ্কার করে ব্যাখ্যা করেন, যেখানে তিনি বলেছেন,

“এমন ধার্ম্মিক লোক পৃথিবীতে নাই, যিনি সৎকর্ম্ম করেন, এবং পাপ করেন না” (উপদেশক ৭:২০)|

“মনুষ্য সন্তানদের অন্তঃকরণ দুষ্টতায় পরিপূর্ণ|” আজকের দিনে বেশির ভাগ মানুষ যে এটা বিশ্বাস করে তা নয়| বার বার আমরা শুনি যে লোকেরা বলছেন, “আমি বিশ্বাস করি যে মানুষ মূলতঃ ভাল|” কিন্তু সেই দৃষ্টিভঙ্গী যুক্তি বা শাস্ত্রের দ্বারা সমর্থিত নয়! যুক্তি আমাদের দেখায় যে মানুষ “দুষ্টতায় পরিপূর্ণ”! খবরের কাগজ পড়ুন| টেলিভিশনের খবরের দিকে নজর করুন| আমরা দেখছি খুব বেশি মাত্রায় খারাপ আর অল্প মাত্রায় ভাল আচরণ| এমনকী যেটাকে “ভাল” বলে মনে করা হচ্ছে দেখা যাচ্ছে সেটাও চূড়ান্তভাবে আসছে স্বার্থপরতা অথবা গর্ব থেকে, আর সেইজন্যই সেটা হচ্ছে নৈতিকতার দিক থেকে মন্দ! বারে বারে যুক্তি আমাদের দেখাচ্ছে শলোমনের বাক্যের সেই সত্যতা যে, “মনুষ্য সন্তানদের অন্তঃকরণ দুষ্টতায় পরিপূর্ণ|”

এরপর শাস্ত্রাংশ পড়ুন| বাইবেলের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত অবধি মানুষের পাপের প্রকৃতি, এবং তার নৈতিক বিচ্যূতির কথা আমাদের বলা হয়েছে| মহাপ্লাবনের আগে,

“আর সদাপ্রভু দেখিলেন যে পৃথিবীতে মনুষ্যের দুষ্টতা বড়, এবং তাহার অন্তঃকরণের চিন্তার সমস্ত কল্পনা নিরন্তর কেবল মন্দ” (আদিপুস্তক ৬:৫)|

মহান সুসমাচার প্রচারক জন্ ওয়েস্লী (১৭০৩-১৭৯১), তার বিখ্যাত “আদি পাপ” ধর্ম্মোপদেশে বলেছেন যে, মহাপ্লাবনের আগে মানুষেরা যেমন ছিলেন বর্তমানেও সেইরকমই আছেন| জন্ ওয়েস্লী বলেছেন,

ইহা্র [মহাপ্লাবনের] সহস্রাধিকের অধিক বৎসরের পূর্বে ঈশ্বর দাউদ দ্বারা ঘোষনা করিয়াছিলেন, “[তাহারা সকলেই বিকার প্রাপ্ত হইয়াছে: এমন কেহই নাই যিনি সৎকর্ম্ম করিয়াছেন, না, একজনও নাই,” গীতসংহিতা ১৪:৩; রোমীয় ৩:১০]| এবং এই সমস্ত বহন করাই ভাববাদীদের সাক্ষ্য…সুতরাং যিশাইয় [বলেন,] “সমুদয় মস্তক ব্যাথিত হইয়াছে, এবং সমুদয় হৃদয় দুর্বল হইয়াছে| পায়ের তালু হইতে এমনকী মস্তক অবধি কোন স্থানে স্বাস্থ্য নাই; কেবল আঘাত, এবং প্রহারের চিহ্ন, এবং নূতন ক্ষত” [যিশাইয় ১:৫-৬]| সকল প্রেরিতবর্গ দ্বারা এই একই বিবরণ দেওয়া হইয়াছে| এই সকল হইতে আমরা শিক্ষা লইতে পারি, মনুষ্যের প্রকৃতিদত্ত অবস্থা সম্বন্ধে… যে “তাহার অন্ত:করণের চিন্তাগুলির প্রত্যেকটির কল্পনা” এখনও মন্দ, “শুধুই মন্দ,” এবং উহা “ক্রমাগত বলিতেছে” (John Wesley, M.A., “Original Sin,” The Works of John Wesley, Baker Book House, 1979 reprint, volume VI, pp. 57, 58)|

ভাববাদী যিরমিয় বলেন,

“অন্তঃকরণ সর্ব্বাপেক্ষা বঞ্চক, এবং তাহার রোগ অপ্রতিকার্য: কে তাহা জানিতে পারে?” (যিরমীয় ১৭:৯)|

সেইজন্য, আমরা দেখি যে বাইবেল, একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত অবধি, শলোমনের এই বিবৃতিকে সমর্থন করছে, “মনুষ্য সন্তানদের অন্তঃকরণ দুষ্টতায় পরিপূর্ণ|” আর আমরা এই বিবৃতি দৃঢ়ভাবে প্রতিপন্ন হতে দেখছি প্রত্যেকদিন খবরের কাগজে আর টেলিভিশনের পর্দায়| “মনুষ্য সন্তানদের অন্তঃকরণ দুষ্টতায় পরিপূর্ণ|”

২| দ্বিতীয়, রাজা শলোমন বলেন, “যাবজ্জীবন ক্ষিপ্ততা তাহাদের হৃদয় মধ্যে থাকে|”

“মনুষ্য সন্তানদের অন্তঃকরণ দুষ্টতায় পরিপূর্ণ, এবং যাবজ্জীবন ক্ষিপ্ততা তাহাদের হৃদয়মধ্যে থাকে, পরে তাহারা মৃতদের নিকটে যায়” উপদেশক ৯:৩)|

ইব্রীয় শব্দের অনুবাদে “ক্ষিপ্ততা” এসেছে একটি মূল শব্দ থেকে যার মানে হল “বোকা” (Strong, #1984)| প্রকৃত শব্দটি হল “হাউলেলাহ” এবং এর অর্থ হল “ক্ষিপ্ততা” (Strong, #1947)| ক্ষিপ্ততা, প্রলাপ, বিক্ষেপ, সাময়িক উন্মাদনাগ্রস্ত, উন্মত্ত – এ’সবই হল প্রতিকৃতি! “তাহারা যখন বাঁচিয়া আছেন ক্ষিপ্ততা তাহাদের অন্তরে রহিয়াছে|” স্ট্রং’এর কনকর্ড্যান্স আমাদের বলছে যে মূল ইব্রীয় শব্দের অর্থ হল “প্রদর্শন করান, বোকা বনে যাওয়া, বিখ্যাত করা, রাগ করা|” ম্যাথুও হ্যানরি সেই লোকেদের বলেছেন “…বর্তমানে মানুষেরা উন্মত্ত, এবং সমস্ত আনন্দের সহিত তাহারা মনে করিতেছেন ইহা আশীর্ব্বাদিত কিন্তু…ইহা বিক্ষিপ্তচিত্ত [বিকৃত মস্তিষ্ক] মানুষের স্বপ্ন ও কল্পনাগুলির সদৃশ” (Matthew Henry’s Commentary on the Whole Bible, Hendrickson Publishers, 1996 reprint, volume 3, p. 849; উপদেশক ৯:৩ পদের টীকা)|

মানুষের মনের ভিতরের উন্মত্ততা বিভিন্ন আকারের প্রতিমূর্তির আরাধনায় প্রসারিত হয়েছে| ভাববাদী যিরমিয় বলেছেন, “লোকেরা আপন আপন বিভীষিকাগণের বিষয়ে উন্মত্ত” (যিরমিয় ৫০:৩৮) – “এবং যাবজ্জীবন ক্ষিপ্ততা তাহাদের হৃদয় মধ্যে রহিয়াছে” (উপদেশক ৯:৩)| আমাদের সময়েও লোকেরা “তাহাদের প্রতিমায় উন্মত্ত” – যেমন অশ্লীল রচন চিত্রের প্রতিমা, জড়বাদত্ব, পাপপূর্ণ কামনা, এবং “কৌতুকচ্ছল” মহান মূর্ত্তি ইত্যাদি|

“ছুটির দিন” হল বছরের এমনই একটা সময় যখন মানুষের অন্তরের উন্মত্ত প্রবল উত্তেজনা খোলাখুলিভাবে প্রদর্শিত হয়ে থাকে| বড়দিন এবং নতুন বছরে মানুষের অন্তরের উন্মাদনা আগ্নেয়্গিরির বিস্ফোরনের মতন উদ্গত হয়! ডঃ এ. ডব্লিউ. টোজার (১৮৯৭-১৯৬৩) বলেছেন,

এক ধরনের উন্মত্ততা জনসাধারনকে আকর্ষন করিতে থাকে, এবং ইহার পর সেইটি শুরু হয়… প্রত্যেকের মধ্যে প্রবল উত্তেজনাময় এক প্রচেষ্টা যাহাতে যিনি যে স্থানে রহিয়াছেন তাহার তুলনায় অন্য কোন স্থানে আপনাকে পাইতে সচেষ্ট হন| কেহই থামিয়া গিয়া কাহাকেও জিজ্ঞাসা করে না যে ইহা কি হইতেছে, কিন্তু কার্যতঃ সকলেই যাহারা হাসপাতালে নাই বা সংশোধনাগারে নাই তাহারা বাদে সমস্ত মানুষ সকল স্থান হইতে যে কোন স্থানে প্রেরণা-তাড়িত দলবদ্ধ ক্রিয়ায় যোগদান করেন এবং ফিরিয়া আসেন| এক অপ্রতিরোধ্য আকর্ষক শক্তি আমাদিগের অধিকাংশকেই তুলিয়া ধরে সেইমতন ঠিক যেইমত করিয়া শষ্যের ধূলাকে বায়ু ধরিয়া রাখে, এবং পাক খাওয়ায় ও চরকির ন্যায় আমাদিগকে হতবুদ্ধি ও বিপদসংকুল করিয়া তোলে… (A. W. Tozer, D.D., “Midsummer Madness,” in God Tells the Man Who Cares, Christian Publications, 1970 edition, p. 127). ডঃ টোজারের বিষয়ে পড়ার জন্য এখানে ক্লিক্ করুন|

পঞ্চাশ বছর আগে ড: টোজার “উত্তরায়নন্তের উন্মত্ততা”র বিষয়ে যা বলেছেন, সেটা বর্তমানেও সমানভাবে প্রযোজ্য, যদি আরও বেশি না হয়, বসন্ত আর শীতকালের “ছুটির” উন্মত্ততার দিনগুলিতে! লোকেরা বড়দিন ও নতুন বছরে, সাময়িক “উন্মাদনাগ্রস্ত প্রচেষ্টায়” মেতে ওঠে “মজা” পাওয়ার জন্য এবং “যিনি যেখানে আছেন তার তুলনায় অন্য কোন জায়্গায় চলে যান” ধন্যবাদ জানাতে| ধন্যবাদ দেওয়ার জন্য হাজারেরও বেশি লোক বিমানবন্দরে আটকে পড়েন, পূর্বে ফিরে যাওয়া, বা পশ্চিমে ফিরে আসার চেষ্টা করতে থাকেন, মাত্র কয়েকঘন্টার তথাকথিত সেই “মজা” পাওয়ার জন্য| তাদের মধ্যে কেউই ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দেওয়ার জন্য মন্ডলীতে যাওয়ার বিষয়ে ভাবে না!

এই “ছুটির দিনের উন্মত্ততা” শুরু হয় খ্রীষ্টিয় উৎসব উপলক্ষ্যে| এক যুবতী মহিলা যিনি বেশ কয়েকবার এই মন্ডলীতে এসেছেন একদিন বললেন যে খ্রীষ্ট উৎসবের পোষাক “পরিধান” করার জন্য তাকে মন্ডলীতে অনুপস্থিত থাকতে হয়েছিল| খ্রীষ্ট উৎসবের জন্য নির্দ্দিষ্ট পোষাক পরা শুরু করার জন্য তাকে রবিবারের সকাল ১০টা ৩০ মিনিটের মন্ডলীর প্রচারে অনুপস্থিত থাকতে হয়েছিল! শেষ অবধি, খ্রীষ্ট উৎসবের অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল দুপুর দু’টার সময়, আর তার আগে সেই মহিলার বেশ কয়েক ঘন্টা সময় লেগেছিল একটা ডাইনির মতন পোষাক বা পরীর মতন পোষাক – বা রক্তচোষকের পোষাক – বা অন্য কোন কিছুর পোষাক পরিধান করতে! এটা উন্মত্ততা ছাড়া আর কি – ছুটির দিনের উন্মত্ততা? “তাহারা তাহাদের বিভীষিকাগণের বিষয়ে উন্মত্ত” (যিরমিয় ৫০:৩৮)| “যাবজ্জীবন ক্ষিপ্ততা তাহাদের হৃদয় মধ্যে থাকে” (উপদেশক ৯:৩)|

আর এটা আরও বেশি করে খারাপ হতে থাকবে! উন্মত্ত প্রবল উত্তেজনাময় “ছুটির দিনগুলি”তে, লোকেরা প্রবাহিত হবে, যেমন ডঃ টোজার একে বলেছেন, একটি “সাধারন প্রেরণা-তাড়িত দলবদ্ধ কাজ”… “যেস্থানে [তাহারা] আছে সেইস্থান হইতে অন্যত্র যাইতে সচেষ্ট|” বেশির ভাগ লোকেরাই বাড়িতে থাকার এবং বড়দিনে বা নতুন বছরে মন্ডলীতে আসার কথা বিবেচনা করে না! “একটি দুর্নিবার আকস্মিক শক্তি বায়ু যেরূপে ধূলিকণা ধরিয়া রাখে সেইরূপে [তাহাদের] তুলিয়া লয়” – এবং ক্ষিপ্ত ব্যক্তির মতন তাদের সজোরে যে কোন স্থানে নিক্ষেপ করে যাতে তাদের কন্ঠনালী অসুস্থ হয়ে পড়ে এক আমেরিকান প্রতিমার উন্মত্ত অন্বেষণে – যার নাম হল “কৌতুকপূর্ণ মজা|”

১৯৪০ সালে আমি যখন এক বালক ছিলাম তখন লোকেরা বাড়িতে থাকত এবং “ছুটির দিনে” মন্ডলীতে যেত| কিন্তু বর্তমানে লোকেদের দেখা যাচ্ছে যে তারা ধন্যবাদ দানের জন্য, বড়দিনে ও নতুন বছরের “পাগলামি”তে যাচ্ছে| “তাহাদের অন্তরে…সেই উন্মত্ততা” তাদের বাড়ি ও মন্ডলী থেকে এক উন্মাদনাগ্রস্ত প্রচেষ্টায় তাদের পরিচালনা করে “কৌতুকপূর্ণ মজা” নামের সেই মহান প্রতিমার সামনে নতজানু হতে| আপনি প্রত্যাশা করতে পারেন না যে একজন উগ্র উন্মত্ত মানুষ বড়দিন এবং নতুন বছরে মন্ডলীতে থাকবে, পারেন কী? আধুনিক মানুষের কৌতুক-উন্মত্ত মনের এই বিশেষ রকমের ধারণা হল অপরাধমূলক|

একজন “আইনসংক্রান্ত” অত্যাচারী হিসাবে আমি আক্রান্ত হয়ে আসছি – এবং আরও খারাপ হচ্ছি – যুবকদের এই কথা বলার জন্য যে “ছুটির দিনে” তারা যেন মন্ডলীতে থাকে| কিন্তু আমি পশ্চাদপসরন করছি না! খ্রীষ্ট বলেন,

“ধন্য তোমরা, যখন লোকে মনুষ্যপুত্রের নিমিত্ত, তোমাদিগকে দ্বেষ করে, আর যখন তোমাদিগকে পৃথক করিয়া দেয়, ও নিন্দা করে, এবং তোমাদিগের নাম মন্দ বলিয়া দূর করিয়া দেয়| সেইদিন আনন্দ করিও, ও নৃত্য করিও: কেননা, দেখ, স্বর্গে তোমাদিগের পুরষ্কার প্রচুর: কেননা তাহাদের পিতৃপুরুষেরা ভাববাদীগণের প্রতি তাহাই করিত” (লূক ৬:২২-২৩)|

আমি আশা করি যে প্রত্যেক প্রচারকের “ছুটির দিনের উন্মত্ততার” বিরুদ্ধে কথা বলার মত সাহস থাকা উচিৎ যেমন ডঃ এ. ডব্লিউ. টোজার করেছিলেন! “ছুটির দিনগুলির” জড়বাদ, মদোন্মত্ততা এবং নীতিভ্রষ্টতার বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য প্রচারকদের কাছে এটাই কি সেই সঠিক সময় নয়? এটাই কি প্রচারকদের কাছে ঠিক সময় নয় যে ডঃ টোজার যেমন করেছিলেন তেমনিভাবে নির্ভয়ে খোলাখুলি কথা বলার? এই “মৃত্যু নৃত্যের” উন্মাদনার প্রকোপ থেকে আমাদের লোকদের উদ্ধার করতে ডঃ টোজারের মতন ভাববাদীমূলক কন্ঠস্বরের প্র্য়োজন – যেহেতু আমাদের অর্থনীতির অচল অবস্থা, এবং সংস্কৃতি বিভাজিত হচ্ছে – এবং আমাদের লোকেরা তুচ্ছাতিতুচ্ছ বস্তুর জন্য, প্র্মোদভ্রমণের জন্য, এবং “আনন্দোৎসব”, আর খেলাধূলা, এবং মাদকদ্রব্যের জন্য ক্রন্দনরত – যেহেতু আমেরিকা প্রাচীন রোম সাম্রাজ্যের মতন ভেঙ্গে পড়ছে!

লা ভেগাস যাত্রা নিপাত যাক! সান ফ্রানসিস্কো – এবং সান দিয়াগো ভ্রমণ নিপাত যাক! সদোম ও ঘমোরা, “এবং ইহাদের ন্যায় নগর সকল” (যিহুদা ৭), এগুলি এমন কোন জায়্গা নয় যে সেখানে বড়দিন, বা নতুন বছরে ছুটে যেতে হবে! “ছুটির দিনের” উন্মত্ততাকে এড়িয়ে চলুন! মন্ডলীতে থাকুন, ঈশ্বরের লোকেদের সঙ্গে থাকুন, এবং মহান “আনন্দোৎসবের” প্রতিমার আরাধনার বদলে, খ্রীষ্ট আরাধনা করুন| বাইবেল বলছে,

“প্রভু বলিতেছেন, তাহাদের মধ্য হইতে বাহির হইয়া আইস, ও পৃথক হও” (২য় করিন্থীয় ৬:১৭)|

“ছুটির দিনের” উন্মত্ততাতে আসা থেকে নিবৃত্ত হোন! নিবৃত্ত হোন! নিবৃত্ত হোন! এবং বড়দিন ও নতুন বছরের প্রারম্ভে আমাদের সঙ্গে মন্ডলীতে থাকুন! কিন্তু সেখানে আমাদের পাঠ্যাংশে একটি সর্বশেষ উপবাক্য আছে|

৩| তৃতীয়, রাজা শলোমন বলেন, “পরে তাহারা মৃতদের নিকটে যায়|”

অনুগ্রহ করে উঠে দাঁড়ান এবং উপদেশক ৯:৩ পদটি উচ্চস্বরে পাঠ করুন|

“মনুষ্য সন্তানদের অন্তঃকরণ দুষ্টতায় পরিপূর্ণ, এবং যাবজ্জীবন ক্ষিপ্ততা তাহাদের হৃদয়মধ্যে থাকে, পরে তাহারা মৃতদের নিকটে যায়” (উপদেশক ৯:৩)|

আপনারা বসতে পারেন| “পরে তাহারা মৃতদের নিকটে যায়|”

মৃত্যু! এটাই হল সেই যা জীবনের উন্মত্ততার পরে আসে| মৃত্যু! “আনন্দোৎসবের” শয়্তানিক প্রতিমার পিছনে দৌড়ানোর মধ্য দিয়ে কেউ মৃত্যুর সেই কঠিন, ও শীতল বাস্তবতাকে এড়াতে পারে না| না, কবরের ভিতরে কোনআনন্দোৎসবহবে না! পাতালে কোনআনন্দোৎসবহবে না! বাইবেল বলছে,

“ধনবানও…মরিল, এবং কবরপ্রাপ্ত হইল; আর পাতালে যাতনার মধ্যে, সে চক্ষু তুলিল” (লূক ১৬:২২-২৩)|

যীশু বলেছেন, “ইহারা অনন্ত দন্ডে প্রবেশ করিবে” (মথি ২৫:৪৬)|

“মনুষ্য সন্তানদের অন্তঃকরণ দুষ্টতায় পরিপূর্ণ, এবং যাবজ্জীবন ক্ষিপ্ততা তাহাদের হৃদয়মধ্যে থাকে, পরে তাহারা মৃতদের নিকটে যায়” (উপদেশক ৯:৩)|

ডঃ জন্ গিল এই পদের বিষয়ে বলেন, যখন তিনি বলেছিলেন,

শেষ পর্যন্ত তাহাদের জীবনের সমস্ত উন্মত্ততায়, তাহারা মরিবে এবং মৃত অবস্থায় চলিয়া যাইবে…তাহারা নরকে নামিয়া যাইবে (John Gill, D.D., An Exposition of the Old Testament, The Baptist Standard Bearer, 1989 reprint, volume IV, p. 607; উপদেশক ৯:৩ পদের উপর মন্তব্য)|

কামাভিলাষের পিছনে ধাওয়া করা জীবনের সবচেয়ে গুরুত্ব্পূর্ণ বিষয় নয়| শেষ বিচারে ঈশ্বরের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য আপনি যদি অপ্রস্তুত অবস্থায় মারা যান, তবে বর্তমানের “আনন্দ গ্রহণ”এর কোন অর্থই অনন্তকালে কিছু নেই| আপনাকে নিশ্চয়ই আপনার পাপের জন্য চেতনা অনুভব করতে হবে| আপনি অবশ্যই পাপ থেকে মুখ ফিরিয়ে খ্রীষ্টের প্রতি ঘুরে দাঁড়ান| আপনাকে অবশ্যই খ্রীষ্টের কাছে নিয়ে আসা হয়েছে তাঁর অনুগ্রহের দ্বারা, এবং তাঁর অনন্তকালীন রক্তের দ্বারা আপনার সমস্ত পাপ ধৌত করা হয়েছে! যীশু বলেছেন, “তোমার নতুন জন্ম হওয়া আবশ্যক” (যোহন ৩:৭)|

শলোমন যখন উপদেশক লিখেছিলেন তখন তিনি খুব বৃদ্ধ ছিলেন| বাবা যেমনভাবে তার ছেলেকে উপদেশ দেন তেমনভাবেই তিনি কথা বলেছিলেন| আমি নিজে এই পৃথিবীতে প্রায় ৭৪ বছর ধরে বেঁচে আছি| আজ সকালে আমি একজন বৃদ্ধ কাকা হিসাবে আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি| আমি চাই আপনি আপনার খ্রীষ্টিয় জীবনে সাফল্য নিয়ে আসুন, এবং আমি আশা করছি যে আপনারা আমার কথা শুনবেন| উপদেশকের শেষপ্রান্তে এসে শলোমন বলেছেন, “তুমি যৌবনকালে আপন সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ কর” (উপদেশক ১২:১)| যৌবন হল অনন্তকালের বিষয়ে চিন্তা করার জন্য প্রকৃত সময়| আমি আশা করি যে আপনারা, সব যুবকেরা আমার কথা শুনবেন, কারণ শলোমনের মতন আমিও জীবনের প্রায় ৭৪টি বছর দেখেছি| আমি জানি যে খ্রীষ্টিয় অন্বেষণ আপনার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এবং এখনই অনন্তকালের চিন্তা করুন, যখন আপনি যুবক অবস্থায় আছেন| এই প্রচারের ঠিক আগে মিঃ গ্রিফিত যে গানটি গেয়েছিলেন তার কথাগুলি শুনুন|

কোথায় আপনি অনন্তকাল কাটাবেন? এই প্রশ্ন আপনার ও আমার কাছে আসে;
চূড়ান্ত উত্তর কী হবে? কোথা্য় আপনি অনন্তকাল কাটাবেন?
অনন্তকাল! অনন্তকাল! কোথায় আপনি অনন্তকাল কাটাবেন?
          (“Where Will You Spend Eternity?” by Elisha A. Hoffman, 1839-1929)|

অনন্ত জীবন সম্বন্ধে গভীর চিন্তা “ছুটির দিনের উন্মত্ততা”য় আত্মা-নিগ্রহকারী বিভ্রান্তির জন্য আপনার নরক দন্ড ভোগ করা থেকে আপনাকে মুক্তি দিতে পারে| রক্ষাকর্তা যীশু খ্রীষ্টের বিষয়ে গভীর চিন্তা আপনাকে পাপ থেকে জাগ্রত করতে পারে, এবং তাঁর মধ্যে দিয়ে পরিত্রাণ লাভের দিকে আপনাকে চালিত করতে পারে| আপনার পাপের দেনা শোধ করার জন্য তিনি ক্রুশের উপরে মৃত্যু বরণ করেছেন| আপনাকে অনন্তজীবন দেওয়ার জন্য তিনি মৃত্যু থেকে পুনরুত্থিত হয়েছেন| খ্রীষ্টের বিষয়ে আন্তরিক হোন! বড়দিনের মহাভোজে, বড়দিনের প্রারম্ভে এবং সেইসঙ্গে নতুন বছরের প্রাক্কালে এইখানে, এই মন্ডলীতে থাকার জন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা করুন! ঈশ্বর আপনাকে আশির্ব্বাদ করুন! আমেন| ডঃ চ্যান, অনুগ্রহ করে আমাদের প্রার্থনায় পরিচালনা করুন|

(সংবাদের পরিসমাপ্তি)
ডাঃ হাইমার্সের সংবাদ আপনি প্রতি সপ্তাহে ইন্টারনেটের মাধ্যমে
www.realconversion.com এই সাইটে পড়তে পারেন। ক্লিক করুন “সংবাদের হস্তলিপি”

আপনি ডাঃ হাইমার্সকে মেইল পাঠাতে পারেন rlhymersjr@sbcglobal.net - আপনি
তাকে পত্র লিখতে পারেন P.O. Box 15308, Los Angeles, C A 90015.এই ঠিকানায়
। আপনি তাকে টেলিফোন করতে পারেন (818) 352-0452.

এই সুসমাচারের ম্যানুস্ক্রিপ্ট এর ওপর ডাঃ হাইমসের কোন কপিরাইট নেই। আপনারা
ইহা ব্যাবহার করতে পারেন ডাঃ হাইমসের অনুমতি ছাড়াই। অবশ্য, ভিডিও মেসেজ
সবই কপিরাইটের সহিত আছে এবং কেবলমাত্র তার অনুমতি নিয়েই ব্যাবহার করা যাবে।

সংবাদের আগে শাস্ত্রাংশ পাঠ করেছেন মিঃ আবেল প্রধুম্মে: লূক ১৬:১৯-২৬ |
      সংবাদের আগে একক সংগীত পরিবেশন করেছেন মিঃ বেঞ্জামিন কিনকেড গ্রিফিত:
      “Where Will You Spend Eternity?” (by Elisha A. Hoffman, 1839-1929).


খসড়া চিত্র

বড়দিনের ছুটির উন্মত্ততা!

লেখক : ডঃ আর এল হাইমার্স, জুনিয়র।

“মনুষ্য সন্তানদের অন্তঃকরণ দুষ্টতায় পরিপূর্ণ, এবং যাবজ্জীবন ক্ষিপ্ততা তাহাদের হৃদয়মধ্যে থাকে, পরে তাহারা মৃতদের নিকটে যায়” (উপদেশক ৯:৩)|

(উপদেশক ১:১৪; ২:১১, ১৭; ১ম যোহন ২:১৭)

১| প্রথম, রাজা শলোমন বলেন, “মনুষ্য সন্তানদের অন্তঃকরণ দুষ্টতায় পরিপূর্ণ,”
উপদেশক ৭:২০; আদিপুস্তক ৬:৫; গীতসংহিতা ১৪:৩; রোমীয় ৩:১০;
যিশাইয় ১:৫-৬; যিরমিয় ১৭:৯ |

২| দ্বিতীয়, রাজা শলোমন বলেন, “যাবজ্জীবন ক্ষিপ্ততা তাহাদের হৃদয় মধ্যে
থাকে,” যিরমিয় ৫০:৩৮; লূক ৬:২২-২৩; যিহুদা ৭;
২য় করিন্থীয় ৬:১৭ |

৩| তৃতীয়, রাজা শলোমন বলেন, “পরে তাহারা মৃতদের নিকটে যায়,”
লূক ১৬:২২-২৩; মথি ২৫:৪৬; যোহন ৩:৭; উপদেশক ১২:১ |