Print Sermon

এই ওয়েবসাইটের উদ্দেশ্য হল ধর্ম্মোপদেশের পান্ডুলিপি এবং ধর্ম্মোপদেশের ভিডিওগুলি বিশ্বব্যাপী পালক ও মিশনারিদের বিনামূল্যে সরবরাহ করা, বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বে, যেখানে ধর্ম্মতত্ত্বমূলক সেমিনারী বা বাইবেল স্কুল থাকলেও খুব কম রয়েছে|

এই সমস্ত প্রচারের পান্ডুলিপি এবং ভিডিওগুলি এখন www.sermonsfortheworld.com ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতি মাসে 221টিরও বেশি দেশের প্রায় 1,500,000 কম্প্যুটারে যায়| শত শত লোক ইউটিউবের ভিডিওর মাধ্যমে এগুলি দেখেন, কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই তারা ইউটিউব ছেড়ে বেরিয়ে যান এবং আমাদের ওয়েবসাইটে চলে আসেন| ইউটিউব আমাদের ওয়েবসাইটে লোক এনে দেয়| প্রচারের এই পান্ডুলিপিগুলি প্রতি মাসে 38টি ভাষায় প্রায় 120,000 কম্প্যুটারে প্রচারিত হয়| প্রচারের পান্ডুলিপিগুলি গ্রন্থসত্ত্ব দ্বারা সংরক্ষিত নয়, কাজেই প্রচারকগণ আমাদের অনুমতি ছাড়াই এইগুলি ব্যবহার করতে পারেন| মুসলিম এবং হিন্দু রাষ্ট্রসমেত, সমগ্র পৃথিবীতে সুসমাচার ছড়িয়ে দেওয়ার এই মহান কাজে সাহায্য করার জন্য কিভাবে আপনি একটি মাসিক অনুদান প্রদান করতে পারেন তা জানতে অনুগ্রহ করে এখানে ক্লিক করুন|

যখনই আপনি ডঃ হেইমার্‍সকে লিখবেন সর্বদা তাকে জানাবেন যে আপনি কোন দেশে বাস করেন, অথবা তিনি আপনাকে উত্তর দিতে পারবেন না| ডঃ হেইমার্‌সের ই-মেল ঠিকানা হল rlhymersjr@sbcglobal.net |




মানুষকে ঈশ্বর উদ্দীপনায় ব্যবহার করেন

(উদ্দীপনা সভার দ্বাদশ প্রচার)
THE PEOPLE GOD USES IN REVIVAL
(SERMON NUMBER 12 ON REVIVAL)
(Bengali)

লেখক : ডঃ আর এল হাইমার্স, জুনিয়র।
by Dr. R. L. Hymers, Jr.

২০১৪ সালের, ১৯শে অক্টোবর, সদাপ্রভুর একটি দিনে সন্ধ্যাবেলায় লস্ এঞ্জেলসের ব্যাপটিষ্ট ট্যাবারন্যাকল মন্ডলীতে এই ধর্ম্মোপদেশটি প্রচারিত হয়েছিল
A sermon preached at the Baptist Tabernacle of Los Angeles
Lord's Day Evening, October 19, 2014

“কিন্তু ঈশ্বর জগতীস্থ মূর্খ বিষয় সকল মনোনীত করিলেন যেন জ্ঞানবানদিগকে লজ্জা দেন; এবং ঈশ্বর জগতের দূর্ব্বল বিষয় সকল মনোনীত করিলেন যেন শক্তিমন্ত বিষয় সকলকে লজ্জা দেন” (১ম করিন্থীয় ১:২৭)|


এই পাঠ্যাংশে উদ্দীপনার বিষয়ে সবথেকে লক্ষ্যণীয় একটি বিষয় দেওয়া হয়েছে| ঈশ্বর জগতের মধ্যে থেকে বোকা ও দূর্ব্বল লোকদের মনোনীত করেছেন, যেন যারা জ্ঞানী এবং যারা সবল তাদের পরাভূত করেন ও লজ্জা দেন| যে কেউ যারা বাইবেল পড়বে তার কাছে এই বিষয়টা অবশ্যই স্পষ্ট ও প্রতীয়মান হবে| যখন খ্রীষ্ট জন্ম নিতে চলেছেন, তখন ঈশ্বর তাঁর মা হওয়ার জন্য গরিব পরিবারের এক কুমারীকে মনোনীত করলেন| যখন তিনি জন্মগ্রহণ করলেন, তখন ঈশ্বর কিছু গরিব মেষপালকদের পাঠিয়েছিলেন তাঁর আরাধনা করার জন্য| ঈশ্বর সেই শিশু খ্রীষ্টকে অভিবাদন জানানোর জন্য রাজা হেরোদকে, বা ইস্রায়েলের প্রাচীন কর্তৃত্বকারীদের পাঠান নি| পরিবর্তে ঈশ্বর পরজাতীয় দূরদেশ থেকে তিনজন জ্যোতির্বেত্তাকে পাঠিয়েছিলেন| যখন যীশু তাঁর সেবাকাজ প্রায় শুরু করতে চলেছেন, তখন ঈশ্বর তা ঘোষনা করার জন্য প্রধান যাজককে পাঠাননি| পরিবর্তে, ঈশ্বর একজন গরিব ভাববাদী, ব্যপটিষ্ট যোহনকে পাঠিয়েছিলেন| যখন যীশু বারোজন প্রেরিতকে আহ্বান করার জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন, তখন তিনি ঐ বারোজন মানুষকে স্যানহেড্রিন, বা সর্ব্বোচ্চ যিহুদী ব্যবস্থা পরিষদ থেকে মনোনীত করেননি| পরিবর্তে, তিনি আহ্বান করেছিলেন তুচ্ছ ক্ষুদ্র বারোজন মৎস্যধারীকে| আর যীশু যখন যিহুদীর বদলে একজনকে মনোনীত করতে চাইছিলেন, তখন তিনি শৌল নামে তর্ষাসের একজন খুনী ব্যক্তিকে মনোনীত করেছিলেন, যিনি নিজেকে বলতেন যে আমি সব পাপীদের মধ্যে “শ্রেষ্ঠ”, আর যে ছিল পাপীদের মধ্যে সম্ভবত জঘণ্য! খ্রীষ্টের জীবনে এটা পরিষ্কার যে

“কিন্তু ঈশ্বর জগতীস্থ মূর্খ বিষয় সকল মনোনীত করিলেন যেন জ্ঞানবানদিগকে লজ্জা দেন; এবং ঈশ্বর জগতের দূর্ব্বল বিষয় সকল মনোনীত করিলেন যেন শক্তিমন্ত বিষয় সকলকে লজ্জা দেন” (১ম করিন্থীয় ১:২৭)|

এমনকী পুরানো নিয়মেও এই মূল বিষয়টি বারে বারে প্রতীয়মান হয়েছে| ঈশ্বর কয়িনের উপরে হেবলকে মনোনীত করেছিলেন, যদিও কয়িন ছিলেন জ্যেষ্ঠ পুত্র, এবং সেইজন্য এটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ| ঈশ্বর এষৌর উপরে যাকোবকে মনোনীত করেছিলেন, যদিও এষৌ ছিলেন জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং উত্তরাধিকারী| ঈশ্বর যোষেফের এগারজন ভাইদের উপরে যোষেফকে মনোনীত করেছিলেন, যদিও তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ এবং দূর্ব্বলতম পুত্র| ঈশ্বর ফৌরানের উপরে মোশীকে মনোনীত করেছিলেন| তিনি সেই সময়ে জগতের সবচাইতে শক্তিশালী ব্যক্তির উপরে একজন মেষপালককে মনোনীত করেছিলেন| ঈশ্বর ইস্রায়েলকে মিদনীয়দের হাত থেকে উদ্ধার করার জন্য গিদিয়োনকে মনোনীত করলেন – এমনকী গিদিয়োন একথা বলা সত্ত্বেও যে, “আমার গোষ্ঠী সর্বাপেক্ষা ক্ষুদ্র...এবং আমার পিতৃকূলে আমিই সর্বকনিষ্ঠ” (বিচারকর্ত্তৃগণ ৬:১৫)| মহাযাজকের দুই পুত্রের পরিবর্তে ঈশ্বর, সত্যকারের অনাথ, ছোট্ট শমূয়েলকে মনোনীত করেছিলেন| ঈশ্বর শক্তিশালী রাজা শৌলের উপরে মেষপালক বালক দাউদকে মনোনীত করেছিলেন|

বারে বারে, খ্রীষ্টধর্ম্মের ইতিহাসের সব জায়্গা জুড়ে, এই বিবৃতি সত্য হয়ে আসছে,

“কিন্তু ঈশ্বর জগতীস্থ মূর্খ বিষয় সকল মনোনীত করিলেন যেন জ্ঞানবানদিগকে লজ্জা দেন; এবং ঈশ্বর জগতের দূর্ব্বল বিষয় সকল মনোনীত করিলেন যেন শক্তিমন্ত বিষয় সকলকে লজ্জা দেন” (১ম করিন্থীয় ১:২৭)|

পুরানো দিনের খ্রীষ্টবিশ্বাসীরা গরিব এবং নিঃসঙ্গ ছিলেন| তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন ক্রীতদাস| দশজন রোমীয় সম্রাটদের দ্বারা তারা মৃত্যু পর্যন্ত্য তাড়িত হয়েছিলেন| সেই সব সম্রাটদের (সম্ভবত নিরো ছাড়া) কাউকেই আর কেউ স্মরণ করেনা, যদিও সেই সময়ে পৃথিবীতে তারাই সবার চাইতে শক্তিশালী মানুষ ছিলেন| প্রত্যেক বছর পোপ যখন কোলসিয়ামে পূর্ণ শুক্রবারের অনুষ্ঠেয় উৎসব পালন করতেন তখন সারা জগতের লোকেরা সুড়ঙ্গের ভিতর শহীদদের স্মরণ করতেন! সেই সমস্ত ক্রীতদাস শহীদেরা প্রাচীন রোমের শক্তি ও ক্ষমতার উপর বিজয় লাভ করেছিলেন!

লুথারের বিষয়ে চিন্তা করুন| আমি চাই যে আপনি শুনুন ডঃ মার্টিন লয়েড-জোনস তার বিষয়ে কি বলেছিলেন:

এক অচেনা সাধু, মার্টিন লুথারের মধ্যে, একজন মানুষ হিসাবে কী আশা ছিল? তিনি কে ছিলেন যে দাঁড়াইয়াছিলেন সমস্ত মন্ডলীর বিরুদ্ধে, এবং…যখন বারো ও তেরো শতাব্দীর, ধারাবাহিকতা ছিল বিপরীতমুখী? মনে হয় এই একজন মানুষের পক্ষে ইহা বলা সম্পূর্ণভাবে অপ্রাসঙ্গিক যে, “আমি একাই ঠিক, এবং আপনার সকলেই ভ্রান্ত|” সেই কারনে আজও তাহার সম্বন্ধে ইহাই বলা হয়| আর তবুও, আপনি দেখুন, যে তিনি এক ব্যক্তি ছিলেন যাহার সহিত ঈশ্বরের আত্মা আচরণ করিয়াছিলেন| আর যদিও তিনি একমাত্র একজনই ব্যক্তি ছিলেন, তবুও তিনি দাঁড়াইয়াছিলেন, এবং একাই দাঁড়াইয়াছিলেন, এবং পবিত্র আত্মা তাহাকে সমাদর করিয়াছিলেন| প্রোটেষ্টান্ট পুনঃজাগরণ আসিয়াছিল, এবং ক্রমাগতভাবে চলিয়া আসিতেছে, এবং ইহা সবসময়ে একইরূপ আছে… আমি যাহা বলিতেছি তাহা হইল এই যে ঈশ্বর যখন তাঁর মন্ডলীতে ফিরিতে শুরু করেন, এবং তিনি যখন উদ্দীপনার জন্য পথ প্রস্তুত করিতেছিলেন, এইরূপেই তিনি সম্ভবত ইহা করেন| তিনি নির্দ্দিষ্ট কিছু লোকের উপর এই বোঝা অর্পণ করেন, যাহাদের তিনি পৃথকভাবে আহ্বান করিয়াছেন, যেমন ইহারা ছিল, এবং যাহারা পরস্পর একত্রে সমবেত হইয়াছিলেন, শান্তভাবে, অজ্ঞাতভাবে, এবং শোভনভাবে, কারন তাহারা এই বোঝার বিষয়ে সচেতন ছিলেন (Martyn Lloyd-Jones, M.D., Revival, Crossway Books, 1987, pp. 203, 167)|

এবং আপনি লক্ষ্য করিবেন এই সমস্ত উদ্দীপনার ইতিহাস যথাযথ এইভাবেই চলিয়া আসিতেছে| জেমস ম্যাককুইলকেন অন্য দুইজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলিতে শুরু করিলেন, এবং তাহারা সমস্ত বিষয়টি দেখিতে পাইলেন, এবং এই তিনজন সরু একগলিতে অবস্থিত ছোট্ট একটি বিদ্যালয়ের ঘরে নিঃসঙ্গভাবে একত্রিত হয়ে এই সমস্ত ঘটনা দেখিতে পাইলেন| যখন আমি নর্দান আয়ারল্যান্ডে গিয়াছিলাম তখন ইহাকে পরিদর্শন করিবার সুযোগ পাইয়াছিলাম| আমি ঐরূপ করিবার জন্য আমার যাত্রাপথের বাহিরে চলিয়া গিয়াছিলাম, কারন আমি কোন একটি স্থান ঐরূপে দেখিতে পছন্দ করি…তাহারা অনুভব করিয়াছিলেন যে ইহা প্রার্থনার জন্য আহ্বান (Lloyd-Jones, ibid., p. 165)|

আর, নিঃসন্দেহে, ১৮৫৯ সালে নর্দান আয়ারল্যান্ডে উদ্দীপনা এসেছিল যখন এই তিন ব্যক্তি পবিত্র আত্মার অবতরণের জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন| তখন ডঃ লয়েড-জোনস বলেছিলেন, “আমার বন্ধুগন, আমাকে বিশ্বাস করুন, যখন পরবর্তী উদ্দীপনা আসিবে, তখন তাহা প্রত্যেকের নিকট অতর্কিতভাবে আসিবে, আর বিশেষতঃ তাহাদের নিকট যাহারা ইহা সংগঠিত করিবার প্রয়াস করিয়া আসিতেছে| ইহা ঘটিয়াছিল এক [আধিক্যহীন, নিজগুণ জাহির না করিয়া] শোভন প্রণালীতে| পুরুষ এবং মহিলারা চুপিসারে পলাইয়াছিল, যেমন ইহারা ছিলেন, প্রার্থনা করিবার জন্য কারন তাহারা ভারাক্রান্ত ছিলেন, কারন তাহারা নিজেদের সাহায্য করিতে পারেননা, কারন তাহারা ইহা ছাড়া প্রাণবন্ত হইতে পারেন না| আর তাহারা চাহেন আরও অন্যদের সহিত যোগ দিতে, যাহারা একই বিষয় অনুভব করেন এবং যাহারা ঈশ্বরের জন্য ক্রন্দন করিতেছেন” (Lloyd-Jones, ibid., pp. 165-166)|

ডঃ লয়েড-জোনস ক্রমাগতভাবে বলে যাচ্ছিলেন যে, “তাহা হইলে আপনারা সকলেই সম্ভবত মেথডিষ্ট মতবাদের বিভিন্ন শাখার বিবরনের সহিত সুপরিচিত| উহা কিরূপে শুরু হইয়াছিল…? ইহা ঠিক একই প্রকারে শুরু হইয়াছিল, দুই ওয়েসলী ভাই, এবং হোয়াইটফিল্ড, এবং আরও অন্যান্যদের সহিত, যাহারা চার্চ অফ্ ইংল্যান্ড এর সদস্য ছিলেন…কিছু সময়ের জন্য কেহই জানিত না যে ইহা ঘটিতেছিল, কিন্তু তাহারা শুধুমাত্র সমবেত হইতেন কারন তাহারা সকলেই একই বিষয়ের দ্বারা আকর্ষিত হইয়াছিলেন” (ibid., p. 166)|

আমরা সকলেই জর্জ হোয়াইটফিল্ড এবং জন্ ও চার্লস ওয়েসলীকে জানি| কিন্তু তখন তাদের কেউ চিনতো না| তারা শুধুমাত্র সাধারন মানুষ ছিলেন যারা এঙ্গলীক্যান মন্ডলীর মৃতপ্রায় অবস্থা দেখেছিলেন, এবং যারা খ্রীষ্টের জীবন্ত অভিজ্ঞতার সঙ্গে ঈশ্বরের গৌরব দেখতে চেয়েছিলেন|

কোন একজন, আমার মনে হয় বিশপ রাইল, বলেছিলেন যে জন ওয়েসলী নিশ্চয়ই চার্চ অফ্ ইংল্যান্ড এর নেতা, ক্যান্টারবেরীর আর্চ বিশপের সঙ্গে মিলিত হয়েছিলেন| কিন্তু, স্বভাবতই, তিনি কখনও ঐ ধরনের উঁচু পদের জন্য বিবেচিত হননি| পরিবর্তে, তাকে উপহাস ও বিদ্রূপ করা হত| তাকে বলা হয়েছিল যে তিনি আর কখনও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে, যেখান থেকে তিনি স্নাতক হয়েছিলেন, প্রচার করতে পারবেন না কারন তিনি সেখানকার ছাত্র ও শিক্ষকদের বলেছিলেন যে তাদের নতুন জন্মপ্রাপ্ত হওয়ার প্রয়োজন আছে| তার নিজের মা, সুসান্না ওয়েসলী তার মন পরিবর্তনের আগে, ছেলের এই ধরনের “কৌতুহলী” – অতি গোঁড়া – প্রচার করার জন্য খুবই মর্মাহত হয়েছিলেন| তিপ্পান্ন বছর ধরে, জন ওয়েসলী ইংল্যান্ডের সর্বত্র দিনে তিনবার করে প্রচার করতেন বিশাল জনসমাবেশের সামনে যারা বাইরের খোলা মাঠে তার প্রচার শোনার জন্য জমায়েত হতেন| কিন্তু তার নিজের সম্প্রদায় এই মহান ব্যক্তিকে ক্রমাগতভাবে বিদ্রূপ ও মুখভঙ্গী করে অবজ্ঞা করে যেত| যতদিন না তিনি আশি বছরের বৃদ্ধ হন ততদিন অবধি তিনি কোনভাবেই সমাদৃত হন নি| ইতিমধ্যে, জন ওয়েসলীর সেবাকাজ চলাকালীন সময়েই, অন্য ছয়জন ব্যক্তি ক্যানটারবেরীর আর্চ বিশপের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন| নিচে ক্রমানুযায়ী তাদের নাম দেওয়া হল,

জন পট্টার (১৭৩৭-১৭৪৭)
থমাস হেরিং (১৭৪৭-১৭৫৭)
ম্যাথু হাটটন (১৭৫৭-১৭৫৮)
থমাস সিকার (১৭৫৮-১৭৬৮)
ফ্রেড্রিক কর্ণওয়ালিস (১৭৬৮-১৭৮৩)
জন মোরে (১৭৮৩-১৮০৫)|

আমার সন্দেহ যে একজন এঙ্গেলীক্যান ঐতিহাসিক ছাড়া অন্য কোন লোক উপরের ছয় জন তথাকথিত “মহান” ব্যক্তিদের মধ্যে থেকে অন্তত একজনেরও নাম বলতে পারবে| অথচ প্রায় প্রত্যেক খ্রীষ্ট বিশ্বাসী জন্ ওয়েসলীর নাম জানেন| এবং বেশিরভাগ লোকে জানেন তার ভাই, চার্লসের নাম, যার লেখা গানগুলি পৃথিবীর প্রত্যেক সম্প্রদায়ভূক্ত মন্ডলীতে গাওয়া হয়ে থাকে| কিন্তু হোয়াইটফিল্ড এবং দুই ওয়েসলী ভাই ছোট, ও অপরিচিত যুবক ছিলেন যখন ১৭৩৮ সালে নতুন বছরের শুরুতে, তারা কয়েকজনের সঙ্গে পবিত্র আত্মার অবতরণের জন্য প্রার্থনায় সমবেত হয়েছিলেন, ঠিক সেই প্রথম জাগরণের আগে যে জাগরণ সমস্ত ইংরাজী ভাষাভাষী জগতের উপর নেমে এসেছিল|

“কিন্তু ঈশ্বর জগতীস্থ মূর্খ বিষয় সকল মনোনীত করিলেন যেন জ্ঞানবানদিগকে লজ্জা দেন; এবং ঈশ্বর জগতের দূর্ব্বল বিষয় সকল মনোনীত করিলেন যেন শক্তিমন্ত বিষয় সকলকে লজ্জা দেন” (১ম করিন্থীয় ১:২৭)|

এই পদটি আরও ব্যাখ্যা করে যে কেন সবসময়ে যুবকেরাই উদ্দীপনায় নেতৃত্ব দেন| একটি মন্ডলীর যুবকেরাই হচ্ছেন সেই ব্যক্তি যারা প্রথমেই নিজেদের মধ্যে ঈশ্বরের আত্মার আন্দোলনকে উপলব্ধি করেন| আর সাধারনত সেই যুবক ব্যক্তিরাই ধার্ম্মিকতার জন্য ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত, এবং উদ্দীপনার জন্য ও সত্য ঈশ্বরের জন্য আকাঙ্খিত|

আমি প্রথম উদ্দীপনা দেখেছি চাইনীজ্ ব্যপটিষ্ট মন্ডলীতে যেটা শুরু হয়েছিল যুবকদের মধ্যে পাহাড়ে অনুষ্ঠিত এক গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পের সময়| একদিন সকালে যখন তারা ক্যাম্পে একত্রিত হয়েছিল প্রার্থনা করার জন্য তখন ঈশ্বরের আত্মা তাদের উপর এমনই শক্তিশালীরূপে পতিত হয়েছিল যে সেই উদ্দীপনা, তাদের ক্যাম্প থেকে ফিরে আসার পরও, মন্ডলীতে রবিবাসরীয় উপাসনা পর্যন্ত্য চলতে থাকে| সেই উদ্দীপনা রবিবার সারাদিন এবং রাত্রি পর্যন্ত্য চলতে থাকে| আমি এখনও স্মরণ করতে পারি সেই প্রার্থনাগুলি যা যুবকেরা করেছিল| আমি এখনও স্মরণ করতে পারি সশ্রদ্ধ ভয় এবং বিস্ময়ের অনুভূতি, অনুতাপের অশ্রু, স্বীকারোক্তি এবং প্রার্থনা, এবং ঐ সমস্ত সভায় ঈশ্বরের ঘনিষ্ঠতা|

ভার্জিনিয়ার এক ব্যপটিষ্ট মন্ডলীতে উদ্দীপনার সময় আমি দেখেছিলাম যে, তিনজন মেয়ে উঠে দাঁড়িয়েছিল ত্রয়ী হিসাবে একসাথে গান গাওয়ার জন্য| তারা পাপের চেতনায় অশ্রুজলে ভেঙ্গে পড়েছিল, এবং সম্পূর্ণ মন্ডলী সেই আবেগে পূর্ণ হয়েছিল যেমন প্রায়ই হয়ে থাকে উদ্দীপনার অভিব্যক্তিতে – “ঈশ্বর আমাদের মধ্যে নেমে এসেছিলেন|”

“স্যাক্সোনীর হার্ণহাটে অগাষ্ট মাসের ১৩ তারিখে যুবকদের মধ্যে এক উদ্দীপনা আবির্ভূত হয়েছিল|” ২৯শে অগাষ্ট “রাত্রি দশ ঘটিকা হইতে পরবর্তী সকাল এক ঘটিকা পর্যন্ত্য, একটি প্রকৃত আবেশ দৃশ্যপট হইয়া সাক্ষ্য দিয়াছিল, এইজন্য যে হার্ণহাটের সেই তিনটি মেয়ে এই [তিন] ঘন্টা ধরিয়া প্রার্থনা করিতেছিল, গান গাহিতেছিল এবং কাঁদিতেছিল| সেই একই সময়ে বালকেরা অন্যত্র এক স্থানে একাগ্র চিত্তে প্রার্থনায় নিবিষ্ট ছিলেন| ঐ সময়ে আত্মার প্রার্থনা এবং মিনতি এতো শক্তিশালী এবং ফলপ্রদরূপে সন্তানগনের উপর অবতীর্ণ হইয়াছিল যে তাহার পর্যাপ্ত বিবরণ ভাষায় প্রকাশ করা প্রায় অসম্ভব” (John Greenfield, Power From On High, World Wide Revival Prayer Movement, 1950, p. 31)|

১৯৭৩ সালের অক্টোবর মাসে বোর্নিও’র বারিও’তে এক নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রদের মধ্যে উদ্দীপনা আবির্ভূত হয়েছিল| দুইজন ছাত্র একসঙ্গে প্রার্থনা করতে শুরু করেছিল এবং ক্রমে ক্রমে সব ছাত্ররা তাদের প্রতি আকর্ষিত হয়েছিল য্তক্ষন না প্রধান শিক্ষক, যিনি প্রথম অবস্থায় আত্মার কাজের বিরোধিতা করেছিলেন, নিজে অনুতাপের মধ্যে আসেন (Shirley Lees, Drunk Before Dawn, Overseas Missionary Fellowship, 1979, pp. 185-189)|

ব্রিয়ান এইচ. এডওয়ার্ডস বলেছেন, “ইহাই হইল গুরুত্বপূর্ণ যে উদ্দীপনার সময়ে এইরূপ হইয়া থাকে…যুবক ব্যক্তি যাহারা বিশেষভাবে প্রতিদ্বন্দীতায় আহুত এবং রূপান্তরিত, এবং এমন অনেক ঘটনা রহিয়াছে যেখানে যুবকেরাই একমাত্র থাকেন যাহারা যথাযথভাবে উদ্দীপনার জন্য আন্তরিক আকাঙ্খাকারী এবং প্রার্থনাশীল, এবং তাহাদের মধ্যেই ইহা শুরু হইয়া থাকে...ইহা উদ্দীপনার একটি দৃষ্টিভঙ্গী যাহা, ভাল বিবরণ থাকা সত্ত্বেও, খুবই কম পরিমানে মনঃসংযোগ আকর্ষণ করে তাহাদের নিকট হইতে যাহারা উদ্দীপনার সাধারন ঘটনাগুলি বিশ্লেষণ করে” (Brian H. Edwards, Revival! A People Saturated With God, Evangelical Press, 1991 edition, p. 165)|

“কিন্তু ঈশ্বর জগতীস্থ মূর্খ বিষয় সকল মনোনীত করিলেন যেন জ্ঞানবানদিগকে লজ্জা দেন; এবং ঈশ্বর জগতের দূর্ব্বল বিষয় সকল মনোনীত করিলেন যেন শক্তিমন্ত বিষয় সকলকে লজ্জা দেন” (১ম করিন্থীয় ১:২৭)|

এমি কারমাইকেল ভারতবর্ষে পবিত্র আত্মার অবতরণের বিবরণ এইভাবে দেন,

ইহা অবতীর্ণ হইয়াছিল ছিল প্রাতঃকালীন সভা বন্ধ করিবার কালে| সেই একজন যিনি প্রচার করিতেছিলেন, তিনি প্রচার বন্ধ করিতে বাধ্য হইয়াছিলেন, অভ্যন্তরীন শক্তির বিষয়ে গভীর অনুভূতি অপ্রত্যাশিতভাবে সকলকে আচ্ছন্ন করিয়া ফেলিয়াছিল| এমনকী প্রার্থনা করাও অসম্ভব হইয়া পড়িয়াছিল| বিদ্যালয়ের বড় ছেলেদের মধ্য হইতে একজন প্রার্থনা করিতে চেষ্টা করিল, কিন্ত সে ভাঙ্গিয়া পড়িল [অশ্রুজলে], তাহার পর আর একজন, তাহার পর সকলে মিলিয়া, সেই বড় ছেলেটি প্রধানত সকলের প্রথমে| অতি শীঘ্রই ছোটদের মধ্য হইতেও অনেকেই মর্মভেদী ক্রন্দন শুরু করিয়া দিল এবং ক্ষমা লাভের জন্য প্রার্থনা করিতে লাগিল| ইহা মহিলাদের মধ্যেও ছড়াইয়া গেল| ইহা এতটাই চমকপ্রদ এবং বিস্ময়কর ছিল – আমি অন্য কোন শব্দ ব্যবহার করিতে পারিতেছি না – যে ইহার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা আমার নিকট হইতে চলিয়া গিয়াছে| অবিলম্বে অনেকেই মেঝের উপর পড়িল, প্রত্যেক পুরুষ ও মহিলারা, বালক এবং বালিকারা, ঈশ্বরের কাছে ক্রন্দন করিতেছিলেন, বিস্মরনশীল [অমনোযোগী] ছিলেন অন্য সকলের উপস্থিতির বিষয়ে| সেই আওয়াজ ছিল ঢেউএর ন্যায় এবং বৃক্ষের প্রবল ঝড়ো বাতাসের ন্যায়…প্রথম অবস্থায় এই আন্দোলন ছিল সম্পূর্ণভাবে মনপরিবর্তিত বালকদিগের মধ্যে, বিদ্যালয়ের ছাত্রদিগের মধ্যে, আমাদের সন্তানদিগের মধ্যে…এবং মন্ডলীর কিছু যুবক সদস্যগনের মধ্যে| সাত মাস পর তিনি বিবৃতি দিয়াছিলেন, “আমাদের প্রায় সকল [যুবক ব্যক্তিগন] সম্পূর্ণভাবে মন পরিবর্তিত” (J. Edwin Orr, Ph.D., The Flaming Tongue, Moody Press, 1973, pp. 18, 19)|

শব্দগুলি লক্ষ্য করুন, “প্রথম অবস্থায় এই আন্দোলন ছিল সম্পূর্ণভাবে মন পরিবর্তিত বালকদিগের মধ্যে, বিদ্যালয়ের ছাত্রদিগের মধ্যে...এবং মন্ডলীর কিছু যুবক সদস্যগনের মধ্যে|” প্রায় এইভাবেই একটি মন্ডলীতে উদ্দীপনা আসে – যেহেতু যুবক সদস্যরা উদ্দীপনায় পবিত্র আত্মার অবতরণের জন্য আকাঙ্খা করে| আমি এই জিনিষটা আমার নিজের চোখে তিনটি উদ্দীপনাতে প্রত্যক্ষ করেছি, যেমন লস্ এঞ্জেলসের, সানফ্রানসিস্কো অঞ্চলে এবং ভর্জিনিয়ার, ভার্জিনিয়া সমুদ্রতটে, যখন সেখানে ঈশ্বর যুবকদের উপরে তাঁর আত্মাকে প্রবল পরাক্রমে ঢেলে দিয়েছিলেন|

এখন, আজ রাত্রে এখানে আমি আমাদের যুবকদের সঙ্গে কথা বলব| আমরা আপনাদের এই প্রচারের একটা ছাপান অনুলিপি আপনার সঙ্গে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য দেব| আমি আশা করি যে পরের সপ্তাহের প্রত্যেক দিন আপনি এটা বার বার পড়ে দেখবেন| এবং আমি আশা করি যে আপনি প্রার্থনা করবেন যেন এই প্রচারের বিষয়গুলি আপনার জীবনে, এবং আমাদের মন্ডলীতে ঘটে|

আপনি হয়তো ভাবছেন, “ডঃ হাইমার্স কখনও এই সব ঘটনা আমাদের এই মন্ডলীতে ঘটতে দেবেন না|” কিন্তু আপনি ভুল ভাবছেন| আমি বিশ্বাস করি আমি উদ্দীপনার বিষয় এতটাই জানি যে আমি আত্মাকে নির্ব্বান হতে দেব না, অথবা তাঁর প্রকাশ বন্ধ হবে না, যদি ঈশ্বরের অনুগ্রহ থাকে এবং উদ্দীপনা সার্বভৌম ক্ষমতা নিয়ে আমাদের উপর অবতরণ করে! এমনকী আপনি আপনার প্রার্থনায় ভাববাদী যিশাইয়ের এই কথাগুলি সংযুক্ত করতে পারেন,

“আহা তুমি আকাশমন্ডল বিদীর্ণ করিয়া, নামিয়া আইস, পর্বতগন তোমার সাক্ষাতে কম্পিত হউক (যিশাইয় ৬৪:১)|

ডঃ চ্যান, অনুগ্রহ করে আমাদের প্রার্থনায় পরিচালিত করুন|

(সংবাদের পরিসমাপ্তি)
ডাঃ হাইমার্সের সংবাদ আপনি প্রতি সপ্তাহে ইন্টারনেটের মাধ্যমে
www.realconversion.com এই সাইটে পড়তে পারেন। ক্লিক করুন “সংবাদের হস্তলিপি”

আপনি ডাঃ হাইমার্সকে মেইল পাঠাতে পারেন rlhymersjr@sbcglobal.net - আপনি
তাকে পত্র লিখতে পারেন P.O. Box 15308, Los Angeles, C A 90015.এই ঠিকানায়
। আপনি তাকে টেলিফোন করতে পারেন (818) 352-0452.

এই সুসমাচারের ম্যানুস্ক্রিপ্ট এর ওপর ডাঃ হাইমসের কোন কপিরাইট নেই। আপনারা
ইহা ব্যাবহার করতে পারেন ডাঃ হাইমসের অনুমতি ছাড়াই। অবশ্য, ভিডিও মেসেজ
সবই কপিরাইটের সহিত আছে এবং কেবলমাত্র তার অনুমতি নিয়েই ব্যাবহার করা যাবে।

সংবাদের আগে শাস্ত্রাংশ পাঠ করেছেন মিঃ আবেল প্রধুম্মে: ১ম করিন্থীয়ান ১:২৬-৩১|
সংবাদের আগে একক সংগীত পরিবেশন করেছেন মিঃ বেঞ্জামিন কিনকেড গ্রিফিত:
“Teach Me to Pray” (by Albert S. Reitz, 1879-1966).