Print Sermon

এই ওয়েবসাইটের উদ্দেশ্য হল ধর্ম্মোপদেশের পান্ডুলিপি এবং ধর্ম্মোপদেশের ভিডিওগুলি বিশ্বব্যাপী পালক ও মিশনারিদের বিনামূল্যে সরবরাহ করা, বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বে, যেখানে ধর্ম্মতত্ত্বমূলক সেমিনারী বা বাইবেল স্কুল থাকলেও খুব কম রয়েছে|

এই সমস্ত প্রচারের পান্ডুলিপি এবং ভিডিওগুলি এখন www.sermonsfortheworld.com ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতি মাসে 221টিরও বেশি দেশের প্রায় 1,500,000 কম্প্যুটারে যায়| শত শত লোক ইউটিউবের ভিডিওর মাধ্যমে এগুলি দেখেন, কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই তারা ইউটিউব ছেড়ে বেরিয়ে যান এবং আমাদের ওয়েবসাইটে চলে আসেন| ইউটিউব আমাদের ওয়েবসাইটে লোক এনে দেয়| প্রচারের এই পান্ডুলিপিগুলি প্রতি মাসে 38টি ভাষায় প্রায় 120,000 কম্প্যুটারে প্রচারিত হয়| প্রচারের পান্ডুলিপিগুলি গ্রন্থসত্ত্ব দ্বারা সংরক্ষিত নয়, কাজেই প্রচারকগণ আমাদের অনুমতি ছাড়াই এইগুলি ব্যবহার করতে পারেন| মুসলিম এবং হিন্দু রাষ্ট্রসমেত, সমগ্র পৃথিবীতে সুসমাচার ছড়িয়ে দেওয়ার এই মহান কাজে সাহায্য করার জন্য কিভাবে আপনি একটি মাসিক অনুদান প্রদান করতে পারেন তা জানতে অনুগ্রহ করে এখানে ক্লিক করুন|

যখনই আপনি ডঃ হেইমার্‍সকে লিখবেন সর্বদা তাকে জানাবেন যে আপনি কোন দেশে বাস করেন, অথবা তিনি আপনাকে উত্তর দিতে পারবেন না| ডঃ হেইমার্‌সের ই-মেল ঠিকানা হল rlhymersjr@sbcglobal.net |




তিনি আমাকে মহিমান্বিত করিবেন

(উদ্দীপনার ৫ম প্রচার)

HE SHALL GLORIFY ME
(SERMON NUMBER 5 ON REVIVAL)
(Bengali)

লেখক : ডঃ আর এল হাইমার্স, জে আর।
by Dr. R. L. Hymers, Jr.

২০১৪ সালের, ১৭ই অগাষ্ট, সদাপ্রভুর দিনে সন্ধ্যায় লস্ এঞ্জেলসের ব্যাপটিষ্ট ট্যাবারন্যাকল মন্ডলীতে এই ধর্ম্মোপদেশটি প্রচারিত হয়েছিল
A sermon preached at the Baptist Tabernacle of Los Angeles
Lord’s Day Evening, August 17, 2014


ডঃ মার্টিন লয়েড-জোনস উদ্দীপনার একজন মনোযোগী ছাত্র ছিলেন| তিনি উদ্দীপনার ইতিহাস সম্বন্ধে অধ্যয়ণ করেছিলেন, এবং এমনকি ১৯৩১ সালে ওয়ালসে নিজের মন্ডলীতে উদ্দীপনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন| বিখ্যাত সুসমাচার প্রচারক হায়েল হ্যেরিস (১৭১৪-১৭৭৩) এর উপরে এক বক্তৃতায় “ডক্টর” বলেন “অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথম দিকের ন্যায় আমরা পুনরায় অন্ধকার ও মৃতপ্রায় অবস্থার দিকে চলিয়া যাইতেছি|” (D. M. Lloyd-Jones, The Puritans: Their Origins and Successors, The Banner of Truth Trust, 1996 edition, p. 302)| অন্য একটি বইতে, ডঃ লয়েড-জোনস বলেছিলেন যে, “ভয়ঙ্কর ধর্ম্মভ্রষ্টতা মন্ডলীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যতে দ্রুততার সঙ্গে বিগত শতবছর ধরে [বর্তমানে ১৫০ বছর] বৃদ্ধি পাচ্ছে” (Revival, Crossway Books, 1987, page. 55)|

সেবাকাজে আমার ৫৫ বছরের অভিজ্ঞতায়, মানুষের জীবনের এবং মন্ডলীর ক্ষমতার নাটকীয় পতন আমি দেখেছি| আজকের মন্ডলীগুলি, অধিকাংশ ক্ষেত্রে, আমার যুবক সময়ের মন্ডলীগুলির তুলনায় কমই বটে – এবং পরিবর্তন কোন উত্তমের প্রতি নয়| বাস্তবিক, “আমরা আবার অন্ধকার ও মৃতপ্রায় অবস্থায় চলে যাচ্ছি|” বাস্তবিকই, আমরা “ভয়্ঙ্কর ধর্ম্মভ্রষ্টতা”র মধ্যে রয়েছি|

আমি নিশ্চিত যে এই বীভৎস অবস্থা বড় আকারে এসেছে কারণ পালকেরা ভুলে গেছেন যে একজন মানুষকে কোন জিনিষটি খ্রীষ্টবিশ্বাসীতে পরিণত করে| আমার অভিজ্ঞতায়, আমি দেখেছি যে মন পরিবর্তনের ব্যবহারিক বিষয় এবং নূতন জন্মের বিষয় খুব কম প্রচারকই জানেন, কিন্তু আজ রাত্রে আমি ঐ বিষয়ে প্রচার করতে যাচ্ছি না|

তাদের মধ্যে অনেকে যারা উদ্দীপনার বিষয়ে বলেন তারা জানেন যে আমাদের মন্ডলীকে উদ্দীপ্ত করার জন্য পবিত্র আত্মার কিছু করার প্রয়োজন আছে! কিন্তু খুব কম ব্যক্তিই সঠিকভাবে জানে যে সেটা কি কাজ যা আমাদের পবিত্র আত্মার করার প্রয়োজন| তারা জানে না যে পবিত্র আত্মার কাজের তাদের কি প্রয়োজন কারণ তারা উপলব্ধি করতে পারে না যে কি ভয়্ঙ্কর গভীর সমস্যার সম্মুখীন তারা হচ্ছে| তারা চিন্তা করে যে তাদের বেশির ভাগ লোকেরাই পরিত্রাণ পেয়েছে এবং তারা চিন্তা করে যে তারা জানে যে কিভাবে নূতন ব্যক্তিকে পরিত্রাণের অভিজ্ঞতায় পরিচালিত করতে হয়| তথাপি আমি জানি না এমন কোন মর্যাদাপূর্ণ প্রচারককে যার মধ্যে এই বিষয়ে পর্যাপ্ত পরিমান জ্ঞান আছে| এর ফলস্বরূপ, আমাদের প্রচুরসংখ্যক মন্ডলী পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছিলো, এক দেওয়াল থেকে অন্য দেওয়াল অবধি, হারানো লোকেদের দ্বারা! এই সমস্যার গভীরতম বিষয় আমরা আমাদের, আজকের ধর্ম্মভ্রষ্টতা নামের বইটিতে লিখেছি |

আজ রাত্রে আমি আমার সাধারন জ্ঞানে উদ্দীপনার সমস্যার মধ্যে যাচ্ছি না| আমার বলার কেন্দ্রবিন্দু হবে আমরা কি জন্য প্রার্থনা করবো যদি আমরা চাই যে ঈশ্বর আমাদের নিজ স্থানীয় মন্ডলীতে উদ্দীপনা পাঠান| একটা ফাঁদ যাতে আমরা পড়তে পারি যখন আমরা উদ্দীপনা সংক্রান্ত বই পড়ি এই প্রত্যাশা নিয়ে যেন সমস্ত মন্ডলীর মধ্যে - অন্তত তাদের মধ্যে একটা বড় সংখ্যায় একটা বিশাল পরিবর্তন আসে| এবং যখন আমরা দেখি যে সেরকম ঘটছে না তখন আমরা আশাহত হই|

আমাদের অবশ্যই বুঝতে হবে যে সমস্ত প্রকৃত মন পরিবর্তন হল অলৌকিক| ডঃ কেগান এবং আমি যারা প্রত্যাশা অনুযায়ী মন পরিবর্তন করেছিলেন তাদের তালিকা পরীক্ষা করেছিলাম| আমরা দেখলাম যে সেখানে প্রত্যেক মাসেই আশাপ্রদভাবে মন পরিবর্তন হচ্ছে| তার মানে, এক বছর ধরে প্রতি মাসে মন পরিবর্তনের অলৌকিক ঘটনা আমাদের মন্ডলীতে ঘটে চলেছে| আমি “সিদ্ধান্তের” বিষয় বলছি না, আমি অবশ্যই প্রকৃত মন পরিবর্তনের কথা বলছি| উদ্দীপনায় আমরা যা প্রার্থনা করি তা হল আরো বেশি মন পরিবর্তনের অলৌকিক কাজের জন্য, আর ঈশ্বর নেমে আসুন এবং খ্রীষ্টেতে অনেক লোককে পরিবর্তন করুন|

এখন, সঠিকভাবে কিসের জন্য আমাদের প্রার্থনা করা উচিৎ? আমি বিশ্বাস করি যে প্রার্থনার জন্য আমাদের মূল বিষয় হওয়া উচিৎ যে মহাশক্তিতে পবিত্র আত্মা নেমে আসুক| আমি গভীরভাবে অনুভব করি যে আমি এই বিষয়ে যা কিছু বলেছি তা অনেকেই প্রত্যাখ্যান করবে| বিংশ শতাব্দীতে পবিত্র আত্মার উপরে সেখানে খুব বেশি ভ্রান্ত শিক্ষা ছিল ফলে আমি তাদের দোষারোপ করতে পারি না| এবং তবুও পবিত্র আত্মা ব্যক্তিগত মন পরিবর্তনের উৎস, অধিকন্তু উদ্দীপনারও উৎস| বর্তমানে মন্ডলীর সদস্যরা মনে করেন যে পবিত্র আত্মার কারণেই লোকে “পরভাষায় কথা বলে,” বা সমর্থ হয় অথবা প্রভূত অর্থ উপার্জন করতে সক্ষম হয়, অথবা শারীরিকভাবে সুস্থ হয়| কিন্তু এর কোনটাই পবিত্র আত্মার কেন্দ্রীয় কাজের, বা মূল কাজের, বিষয়ে কিছুই করে না| অনুগ্রহ করে আপনার বাইবেলের যোহন ১৬:১৪ পদ খুলুন| এখানে আমরা ঈশ্বরের আত্মার কাজটিকে দেখতে পাব| যীশু বলেছেন,

“তিনি আমাকে মহিমান্বিত করিবেন” (যোহন ১৬:১৪)|

“মহিমান্বিত” এই শব্দটির গ্রীক অনুবাদের অর্থ হল “ভক্তি করা, শ্রদ্ধা করা, উচ্চকৃত করা, প্রশংসা করা” ইত্যাদি (Strong #1392)| পবিত্র আত্মার কাজ হল খ্রীষ্টকে মহিমান্বিত করা, আমাদেরকে দিয়ে খ্রীষ্টকে ভক্তি করান, খ্রীষ্টকে উচ্চকৃত করা, এবং আমাদেরকে দিয়ে তাঁকে সম্মান করানো|

যখন লোকেদের মধ্যে ভ্রান্ত মন পরিবর্তন হয়, তখন সবসময়ে তা হয় এই কারণে যে তারা নিজেরা যীশুকে প্রত্যাখ্যান করেছে বলে| যেমন ডঃ কেগান উল্লেখ করেছেন আমাদের, Today’s Apostasy বইতে,

যে সব লোকেদের ক্যাথলিক পটভুমিকা আছে তারা সাধারনত ভাবে এইভাবে যে পরিত্রাণ আসবে কাজের দ্বারা: পাপ পরিত্যাগ করার দ্বারা, মন্ডলীতে যাওয়ার দ্বারা, যীশুকে অনুসরনের দ্বারা, যীশুকে প্রেম করার দ্বারা, পাপ স্বীকার করার দ্বারা, এবং সাধারনত “সৎ হওয়ার” মাধ্যমে|

ব্যপটিষ্ট, সুসমাচার প্রচারমূলক অথবা পুনঃজাগরিত পটভূমিকার লোকেরা প্রায়ই বিশ্বাস করেন ব্যপ্তিশ্ম, আর “পাপীর প্রার্থনা”র কথা, বা মানসিকভাবে খ্রীষ্টিয় মতবাদকে, যেমন তারা সমর্থ হন “পরিত্রাণের পরিকল্পনা,” অথবা সেই “ওয়েষ্টমিনিস্টার ক্যাটেচিজ্ম” উল্লেখ করতে|

ক্যারিসমেটিক বা পেন্টাকোস্টাল পটভুমিকার লোকেরা সাধারনত অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভাবেন| “পবিত্র আত্মা” সম্বন্ধে তিনি কি চিন্তা করেন সেই বিষয়ে যদি কোন ব্যক্তির অভিজ্ঞতা থেকে থাকে, তিনি অনুভব করেন তার জীবনে ঈশ্বরের আশীর্বাদ, অথবা তিনি অনুভব করেন তার হৃদয়ে শান্তি বা আনন্দ, আর তিনি নিজে মনে করেন যে তিনি পরিত্রাণ পেয়েছেন|


অনেক সময়ে সেইরকম লোকেরা তাই মনে করে নিশ্চয়্তার অন্বেষণে অথবা অন্য ভাবনা নিয়ে আমাদের কাছে পরামর্শের জন্য আসেন, যখন সত্যি সত্যিই খ্রীষ্টকে বিশ্বাস করে তারা কখনোই পরিত্রাণ পান না (Today’s Apostasy, Hearthstone Publishing, 2001 edition, p. 141)|

এটাই একটা পথ যা প্রায়ই আমাদের মন্ডলীতে বের হয়ে আসে| যখন মন্ডলীর পালক তাদের জিজ্ঞাসা করেন সেই দিনগুলির ঘটনার কথা যেদিনে তারা পরিত্রাণ পেয়েছিলেন, তারা তখন একইরকম লম্বা “অমসৃন” গল্প বলতে শুরু করেন, প্রায়ই তারা আগে যে প্রচার শুনেছিলেন তার একটা ভাষণ ব্যক্ত করেন, এবং আরো অনেক বিশদভাবে বলেন, যা হয়তো তাদের সংবাদে সংযুক্ত হয় যে তারা পাপী| সাধারনত তারা সমগ্রভাবে একটা গল্প বলেন, সাধারনত তারা বিশদভাবে গল্পে যান, এবং তাদের পরিচালনা করে তথাকথিত মন পরিবর্তন| তখন তারা অপ্রত্যাশিতভাবে চুপ করে যান| তারা প্রায় সবসময়ই এই কথা বলে শেষ করেন যে, “এবং তখন আমি যীশুকে বিশ্বাস করিলাম,” অথবা “এবং তখন আমি যীশুর কাছে এলাম|”

তখন আমরা তাদের জিজ্ঞাসা করি যে যীশুর বিষয়ে অল্প কিছু বলুন, এবং বলুন যখন আপনি যীশুর কাছে এসেছিলেন (বা তাঁকে বিশ্বাস করেছিলেন) তখন কি ঘটেছিল| আর তখনই সময় যখন সমস্ত বিষয়্টাই পৃথকভাবে উন্মোচিত হয়ে পড়ে| তারা বেশি কিছু বলতে পারে না, এমনকি যীশুর নিজের বিষয়েও, বলতে পারে না| সুপারজিওন তার, Around the Wicket Gate বইতে, বলেছেন, “সেখানে মানুষের মধ্যে একটা জঘণ্য প্রবণতা রয়েছে যে সুসমাচারের মধ্য থেকে খ্রীষ্টের নিজস্বতাকে পরিত্যাগ করা” (Pilgrim Publications, 1992 edition, p. 24)| আমি তাদের বলছি যে আমি চাই যে তারা ক্রমাগতভাবে মন্ডলীতে আসুক এবং সুসমাচার শুনুক| আমি নিশ্চিত হতে চাই যে তাদের সাক্ষ্যের কেন্দ্রবিন্দু হোক যীশু| কোন ব্যাপার নয় যে একজনের সাক্ষ্য কতটা আকর্ষণপূর্ণ, যদি যীশুই প্রধান না হন, তবে এখনও তারা অপরিত্রাণপ্রাপ্ত!

প্রতিটি প্রকৃত মন পরিবর্তনে পবিত্র আত্মা দু’টি মূল বিষয়ে কাজ করে| প্রথম বিষয় হল যোহন ১৬:৮-৯,

“আর তিনি আসিয়া, পাপের সম্বন্ধে, ধার্ম্মিকতার সম্বন্ধে, ও বিচারের সম্বন্ধে জগতকে দোষী করিবেন: পাপের সম্বন্ধে, কেননা তাহারা আমাতে বিশ্বাস করে না” (যোহন ১৬:৮-৯)|

ঈশ্বরের আত্মার প্রথম কাজ হল পাপের চেতনা| আমাদের প্রবণতা আছে মন পরিবর্তনকে নিতান্ত সাধারন, ছোট বিষয় হিসাবে দেখা, যে একজন ব্যক্তি অস্পষ্টভাবে কয়েকটা শব্দ বলতে পারছে, অথবা নির্দ্দিষ্ট কিছু বিষয় বলতে শিখেছে| ঈশ্বর আমাদের সাহায্য করুন! আমরা পবিত্র আত্মাকে ছেড়ে দিয়েছি! আমরা ভুলে গেছি যে তিনি আমাদের হৃদয়ের গভীরে অবস্থিত পাপের সম্বন্ধে এবং ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের বিষয়ে চেতনা দেন! ডঃ লয়েড-জোনস সেই দোষী মানসিকতাকে বর্ণনা করেছেন যেন সেটা সংক্রামক ব্যাধির মত নিজের হৃদয়কে দেখা, এবং আমাদের জঘণ্য স্বভাবকে দেখা যা আমরা আদমের থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি| দোষী মানসিকতা হল আপনার আশাহীনতাকে, এবং আপনার চরম কামনাকে, সেই পবিত্র, ও ধার্ম্মিক ঈশ্বরের সামনে দেখা, যিনি তাঁর সমস্ত সত্ত্বা দিয়ে পাপকে ঘৃণা করেন (শব্দান্তরিত করা হয়েছে উদ্দীপনা, Crossway Books, 1987, p. 42 থেকে)| যারা প্রকৃতভাবে মন পরিবর্তন করে তাদের জীবনে, কম বেশি করে, এটা ঘটে থাকে| ডঃ লয়েড-জোনস বলেন, “কোন ব্যক্তি যিনি জাগরিত হয়েছেন এবং পাপের চেতনা পেয়েছেন তিনি অবশ্যই এই সমস্যার মধ্যে পড়বেন| কিভাবে তিনি মারা যাবেন এবং ঈশ্বরের সম্মুখীন হবেন?” (Assurance, Romans 5, The Banner of Truth Trust, 1971, p. 18)|

সুতরাং এক প্রকৄত মন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পবিত্র আত্মা প্রথমেই সেটা করেন| তিনি লোকেদের বিশৃঙ্খল করেন| যদি আপনি আপনার পাপপূর্ণ স্বভাবের জন্য গভীরভাবে বিশৃঙ্খলিত না হয়েছেন, তবে আপনি প্রভু যীশু খ্রীষ্ট সম্বন্ধে বেশি চিন্তা করতে পারবেন না| আপনি তাঁর কথা শুনেছেন যে তিনি ক্রুশের উপরে মৃত্যু বরণ করেছেন, কিন্তু তার গুরুত্ব আপনার কাছে খুবই কম| কেন? কারণ আপনি কখনই চেতনা পান নি “পাপের সম্বন্ধে, ধার্ম্মিকতা সম্বন্ধে, এবং বিচারের সম্বন্ধে” (যোহন ১৬:৮)| আর তবুও হারানো পাপী যেন কখনোই একমাত্র দোষ স্বীকারের উপর নির্ভর না করেন! কেবলমাত্র দোষ স্বীকার আপনাকে পরিত্রাণ দিতে পারে না!

সম্প্রতি আমি একজন যুবকের সঙ্গে কথা বলেছিলাম যিনি কয়েকদিন ধরে গভীরভাবে পাপের চেতনার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন| আমি তাকে বললাম যে তাঁর রক্তের মাধ্যমে পরিত্রাণের জন্য যীশুর কাছে যান| মনে হয় তিনি সেটা করেছেন| মনে হয় যে তিনি যীশুর কাছে এসেছেন| কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করার পর আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম বলুন তো আপনি কিভাবে পরিত্রাণ পেলেন| তিনি তার পাপ সম্বন্ধে ক্রমাগত বলে যেতে লাগলেন| সেখানে কোন প্রশ্ন ছিল না যে তিনি গভীরভাবে পাপের চেতনার মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন| কিন্তু তিনি শেষ করলেন এই বলে যে, “এবং তখন আমি যীশুর কাছে এলাম|” আমি তাকে যীশুর সম্বন্ধে আর একটু বেশি কিছু বলতে বললাম| তিনি বিস্মিতভাবে চারিদিকে চাইলেন, কিন্তু এটা খুবই স্পষ্ট হয়েছিল যে, যদিও তিনি পাপের চেতনা পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি পরিত্রাতা এবং তাঁর রক্তের মাধ্যমে শান্তির খোঁজ পান নি|

প্রায়শই লোকে আমাকে জিজ্ঞাসা করে, “কেমন করে আপনি যীশুর কাছে এলেন?” সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে, আমাদের অবশ্যই দেখতে হবে যোহন ৬:৪৪ পদটি,

“পিতা যিনি আমাকে পাঠাইয়াছেন, তিনি আকর্ষণ না করিলে কেহ আমার কাছে আসিতে পারে না” (যোহন ৬:৪৪ক)|

আপনাকে অবশ্যই পবিত্র আত্মার মাধ্যমে পিতা ঈশ্বর দ্বারা যীশুর কাছে আকর্ষিত হতে হবে| সাধারনভাবে বলা যায় যে, ঈশ্বরের আত্মা শুধুমাত্র একজন পাপীকে যীশুর কাছে আকর্ষিত করেন যখন সে পাপের চেতনার মধ্যে থাকে, এবং ক্ষমা লাভের জন্য আর্তনাদ করে| যখন পবিত্র আত্মা কোন ব্যক্তিকে যীশুর প্রতি আকর্ষণ করেন, তখন এটা প্রায়ই মনে হয় যে তারা আগে অন্ধ ছিল, এবং এখন তাদের চোখ খুলে গেছে – এবং তারা সেই সুন্দর পরিত্রাতাকে দেখতে পাচ্ছে, যিনি দুই হাত বিস্তার করে আছেন তাদের আলিঙ্গন করার জন্য! তারা জন্ নিউটনের (১৭২৫-১৮০৭) সঙ্গে গান গাইতে পারেন,

আশ্চর্য দয়া সুমধুর, উদ্ধারিলে আমায়,
ছিলাম অন্ধ পাপী আমি, চোখ খুলে দেখি তায়|
      (“Amazing Grace”).

সুতরাং, যখন আমরা উদ্দীপনার কথা বলি, তখন আমরা অবশ্যই যেন সুসমাচারের পরিভাষা অনুসারে চিন্তা করি| উদ্দীপনা এর চাইতে আর কিছুই বেশি, বা কম নয়, যে ঈশ্বরের আত্মা লোকেদের তাদের পাপের বিষয়ে চিন্তা করতে প্রস্তুত করে, আর তারপর তাঁর রক্তের মাধ্যমে পরিত্রাণের জন্য যীশুর প্রতি তাদের আকর্ষণ করে| যখন কোন এক ব্যক্তির প্রতি এটা ঘটে, যেমন আমাদের মন্ডলীতে কয়েক সপ্তাহ অন্তর ঘটছে, সেটাই হল মন পরিবর্তন, মন পরিবর্তনের অলৌকিকত্ব! জন্ ডব্লিউ. পিটারসন্ তার একটা গানের মাধ্যমে পরিষ্কার বলেছেন,

ইহা একটি অলৌকিক কাজ নক্ষত্রগুলিকে নির্দ্দিষ্ট জায়্গায় স্থাপন করা;
     ইহা একটি অলৌকিক কাজ জগতকে শূন্যে ঝুলাইয়া রাখা|
কিন্তু যখন তিনি আমার আত্মার উদ্ধার করিলেন,
     আমাকে পরিষ্কৃত ও সম্পূর্ণ করিলেন,
ইহা ভালবাসা ও অনুগ্রহের একটি অলৌকিক কাজ|
      (“It Took a Miracle” by John W. Peterson, 1921-2006).

এবং যখন মুহূর্তের মধ্যে বেশ কয়েকজন লোকের প্রতি সেই অলৌকিক কাজটি ঘটে, ধরুন স্থানীয় মন্ডলীর দশ অথবা বারোজন লোকের মধ্যে একমুহূর্তে, সেটাই উদ্দীপনা! এটা সেইরকমই সহজ! কোন একজনের মন পরিবর্তনের সময়ে যা ঘটে থাকে সেটাই উদ্দীপনার সময়ে অনেক লোকের প্রতি মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যায়| যখন পবিত্র আত্মা উদ্দীপনার শক্তি নিয়ে আসেন, তিনি সব সময়ে পৃথক নূতন জন্মপ্রাপ্ত ব্যক্তিজীবনের মধ্যে দিয়ে যীশুকে মহিমান্বিত করেন!

“তিনি আমাকে মহিমান্বিত করিবেন” (যোহন ১৬:১৪)|

আরো একবার ডঃ লয়েড-জোনসের কথা শুনুন|

         উদ্দীপনা হইল, অন্য সব কিছুর উপর, ঈশ্বরের পুত্র, যীশু খ্রীষ্টকে মহিমান্বিত করা| ইহা তাঁহাকে মান্ডলীক জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে…সেখানে তথাকথিত খ্রীষ্টবিশ্বাসীদের কোন মূল্য নাই যাহা তাঁহাকে উচ্চকৃত করিতে পারে না, এবং তাঁহার জন্য জীবন্ত হয় না, এবং তাঁহার [জন্য] সাক্ষ্য দেয় না…বিশেষতঃ তাঁহার প্রায়শ্চিত্ত, ক্রুশের উপরে তাঁহার মৃত্যু, তাঁহার ভগ্নচূর্ণ দেহ এবং তাঁহার প্রবাহিত রক্ত| পুনরায় আমি আপনার নিকট প্রকৃত ঘটনা উল্লেখ করিতেছি যাহা আপনি নিজে মিলাইয়া দেখিতে পারেন| আপনি দেখিবেন যে প্রতিটি উদ্দীপনার সময়, কোন ব্যতিক্রম ছাড়াই, খ্রীষ্টের রক্তের উপরে ভীষনভাবে জোর দেওয়া হইয়া থাকে| প্রায় সমস্ত উদ্দীপনার সময়ে যে সমস্ত গান গীত হইয়া আসিতেছে, সেগুলি সবই রক্ত বিষয়ক… ইহাই…হইতেছে খ্রীষ্ট বিশ্বাসীর মূল দৃষ্টিভঙ্গী, “তাঁহাকেই ঈশ্বর তাঁর রক্তে বিশ্বাস দ্বারা প্রায়শ্চিত্ত বলিদানরূপে প্রদর্শন করিয়াছেন” (রোমীয় ৩:২৫)…আমি উদ্দীপনার কোন আশা দেখতে পাই না যতক্ষণ পুরুষ এবং মহিলারা ক্রুশের রক্তকে অস্বীকার করেন… (Revival, ibid., pp. 47, 48, 49)|

এক স্রোত আছে শোনিতের
সেই স্রোত ইম্মানুয়েল;
ডুব দেও পাপী এ উনুয়ে,
ধৌত হবে সব পাপ;
ধৌত হবে সব পাপ|
(“There Is a Fountain” by William Cowper, 1731-1800; to the tune of
      “Ortonville,” “Majestic Sweetness Sits Enthroned”).

যে ক্রুশে গৌরব অধীশ্বর বিসর্জন করেন কলেবর
     সেই ক্রুশটি যখন করি ধ্যান বিস্ময়ে মুগ্ধ হয় এ প্রাণ,
মোর পার্থিব লভ্য মহীয়ান সকল লোষ্ট্রবৎ করি জ্ঞান,
     সব গর্বের উপর অনুক্ষণ অবজ্ঞা করি বরিষণ|

ঐ দেখ, তাঁহার শির, তাঁহার হাত, তাঁহার পায়ে কর দৃষ্টিপাত,
     তা’ হইতে প্রেম ও দুঃখচয় মিশ্রিত হইয়া পতিত হয়;
এই প্রেম ও দুঃখের বিমিশ্রন হয়েছে কি আর কদাচন,
     এরূপ অমূল্য কন্টকময় কিরীট কী কভু সজ্জিত হয়?
(“When I Survey the Wondrous Cross” by Dr. Isaac Watts, 1674-1748).

ভুল বোঝার ঝুঁকি নিয়েই, আমি অনুভব করি যে আমি অবশ্যই যেন বলি যে ক্যারিস্ম্যাটিক ও পেন্টাকোষ্টালরা ঠিক কোথা থেকে বিপথে গিয়েছে| তাদের প্রবণতা হল শুধুমাত্র পবিত্র আত্মার উপর দৃষ্টি রাখা| ক্রুশের উপরে যীশু যে মৃত্যু বরণ করেছেন সেটা তাদের কাছে মুখ্য বিষয় নয়| তারা উত্তেজিত হয় আরোগ্যতার বিষয়ে, ধূর্তময় আত্মায় ডুবে যাওয়ার বিষয়ে, চিহ্নকার্যে এবং অদ্ভূতকাজে| এটা কোন ব্যাপার নয় যে আমি যা বলছি সে বিষয়ে তারা কতখানি বিরোধিতা করছে, তারা যীশুর ক্রুশের উপরে মৃত্যু এই মূল বিষয়ের প্রতিকল্পরূপে অন্য কিছু স্থাপন করতে পারে না! পাপের চেতনা, এবং খ্রীষ্টের রক্তের মাধ্যমে পাপের ক্ষমা তাদের কাছে মূল বিষয় নয়| কিন্তু আমি অবশ্যই আরো বলি যে আমরা যারা কি না সুসমাচার প্রচারমূলক এবং বুনিয়াদি সম্প্রদায়মূলক তারাও এমন কিছু ভাল নই! আমরা ব্যস্ত থাকি বাইবেলের পদ ধরে ধরে শিক্ষা দিতে সেইসব হারানো লোকেদের যারা আমাদের মন্ডলীতে আসে ও নিজেদের খ্রীষ্ট বিশ্বাসী বলে দাবি করে| এইখানেই আমরা সকলে বিপথে গিয়েছি| খ্রীষ্টিয় সুসমাচারের কেন্দ্রবিন্দুই হল যীশু খ্রীষ্ট এবং ক্রুশের উপরে তাঁর মৃত্যু|

খ্রীষ্ট বিশ্বাসের মহান প্রচারকেরা সকলেই বলেছেন,

“কেননা আমি মনে স্থির করিয়াছিলাম তোমাদের মধ্যে আর কিছুই জানিব না, কেবল যীশু খ্রীষ্টকে, এবং তাঁহাকে ক্রুশে হত বলিয়াই জানিব” (১ম করিন্থীয় ২:২)|

আমাদের কখনই উদ্দীপনা আসবে না যতক্ষণ না পুরুষ এবং মহিলারা কেবল এইকথা বলতে পারবেন যে, “আর তখন আমি যীশুর নিকটে আসিলাম|” ঈশ্বর আমাদের সাহায্য করুন! ঈশ্বরের মেষশাবক যিনি আপনার জন্য যন্ত্রনাভোগ করলেন এবং আপনার পরিত্রাণের জন্য ক্রুশারোপিত হয়েছিলেন, তাঁর বিষয়ে যদি আপনি শুধু এইটুকুই বলতে পারেন তবে আপনি এখনও যিহোবা উইটনেস্ অথবা মুসলমানদের মতন অন্ধ! তারা, সকলেও, যীশুর কথা বলেন! কোথায় রক্ত? কোথায় সেই অনুপম প্রেম যা তাকে প্রধান বিচারালয়ে চাবুক মারার জন্য, থুতু দেওয়ার জন্য, এবং ক্রুশে পেরেক বিদ্ধ করার জন্য নিয়ে গিয়েছিল?

কোন কোন সময় আমি মনে করি যে আমি আপনাদের বিচ্যুত করেছি| কোনভাবে আমি আপনাদের শিক্ষা দিতে পারি নি যীশুকে যথেষ্ট ভালবাসতে এবং কমপক্ষে তাঁর বিষয়ে কিছু কথা বলতে| কোনভাবে আমি আপনাকে যীশুর প্রেমে নিয়ে যেতে পারি নি| আমি পারি নি আপনাকে প্রকৃতভাবে চিন্তা করাতে, এবং এই কথা বলাতে,

আমি তাঁকে ভালবাসি, কারণ তিনি আমাকে প্রথম ভালবেসেছেন,
এবং আমার ক্ষমা কালভেরি ক্রুশে ক্রয় করেছেন;
তিনি মাথায় কাঁটার মুকুট পরেছেন তাই আমি তাঁকে ভালবাসি,
যদি আমি কখনও তাঁকে ভালবেসেছি, আমার যীশু, এখনো বর্তমান|
      (“My Jesus, I Love Thee” by William Featherstone, 1842-1878).

হে, প্রিয় বন্ধুগন, আসুন পুনরায় পরের শনিবার বিকাল পাঁচটা অবধি উপবাস ও প্রার্থনা করি| আসুন উপবাস এবং প্রার্থনা করি পবিত্র আত্মার কাছে দু’টি বিষয়ের জন্য যেন পবিত্র আত্মা – পাপের চেতনা, এবং তাঁর রক্তে ধৌত করে, পাপীকে আকর্ষণের দ্বারা যীশুকে মহিমান্বিত করেন| আমেন|

(সংবাদের পরিসমাপ্তি)
ডাঃ হাইমার্সের সংবাদ আপনি প্রতি সপ্তাহে ইন্টারনেটের মাধ্যমে
www.realconversion.com এই সাইটে পড়তে পারেন। ক্লিক করুন “সংবাদের হস্তলিপি”

আপনি ডাঃ হাইমার্সকে মেইল পাঠাতে পারেন rlhymersjr@sbcglobal.net - আপনি
তাকে পত্র লিখতে পারেন P.O. Box 15308, Los Angeles, C A 90015.এই ঠিকানায়
। আপনি তাকে টেলিফোন করতে পারেন (818) 352-0452.

এই সুসমাচারের ম্যানুস্ক্রিপ্ট এর ওপর ডাঃ হাইমসের কোন কপিরাইট নেই। আপনারা
ইহা ব্যাবহার করতে পারেন ডাঃ হাইমসের অনুমতি ছাড়াই। অবশ্য, ভিডিও মেসেজ
সবই কপিরাইটের সহিত আছে এবং কেবলমাত্র তার অনুমতি নিয়েই ব্যাবহার করা যাবে।

প্রচারের আগে শাস্ত্রাংশ পাঠ করেছেন মি. আবেল প্রধুম্মে: যোহন ১৬:৭-১৪ |
প্রচারের আগে একক সংগীত পরিবেশন করেছেন মিঃ বেঞ্জামিন কিনকেড গ্রিফিত:
“There Is a Fountain” (by William Cowper, 1731-1800; to the tune of
“Ortonville,” “Majestic Sweetness Sits Enthroned”).