Print Sermon

এই ওয়েবসাইটের উদ্দেশ্য হল ধর্ম্মোপদেশের পান্ডুলিপি এবং ধর্ম্মোপদেশের ভিডিওগুলি বিশ্বব্যাপী পালক ও মিশনারিদের বিনামূল্যে সরবরাহ করা, বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বে, যেখানে ধর্ম্মতত্ত্বমূলক সেমিনারী বা বাইবেল স্কুল থাকলেও খুব কম রয়েছে|

এই সমস্ত প্রচারের পান্ডুলিপি এবং ভিডিওগুলি এখন www.sermonsfortheworld.com ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতি মাসে 221টিরও বেশি দেশের প্রায় 1,500,000 কম্প্যুটারে যায়| শত শত লোক ইউটিউবের ভিডিওর মাধ্যমে এগুলি দেখেন, কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই তারা ইউটিউব ছেড়ে বেরিয়ে যান এবং আমাদের ওয়েবসাইটে চলে আসেন| ইউটিউব আমাদের ওয়েবসাইটে লোক এনে দেয়| প্রচারের এই পান্ডুলিপিগুলি প্রতি মাসে 38টি ভাষায় প্রায় 120,000 কম্প্যুটারে প্রচারিত হয়| প্রচারের পান্ডুলিপিগুলি গ্রন্থসত্ত্ব দ্বারা সংরক্ষিত নয়, কাজেই প্রচারকগণ আমাদের অনুমতি ছাড়াই এইগুলি ব্যবহার করতে পারেন| মুসলিম এবং হিন্দু রাষ্ট্রসমেত, সমগ্র পৃথিবীতে সুসমাচার ছড়িয়ে দেওয়ার এই মহান কাজে সাহায্য করার জন্য কিভাবে আপনি একটি মাসিক অনুদান প্রদান করতে পারেন তা জানতে অনুগ্রহ করে এখানে ক্লিক করুন|

যখনই আপনি ডঃ হেইমার্‍সকে লিখবেন সর্বদা তাকে জানাবেন যে আপনি কোন দেশে বাস করেন, অথবা তিনি আপনাকে উত্তর দিতে পারবেন না| ডঃ হেইমার্‌সের ই-মেল ঠিকানা হল rlhymersjr@sbcglobal.net |




তিনটি উদ্যান সেই কাহিনী জানায়

THREE GARDENS TELL THE STORY
(Bengali)

লেখক : ডঃ আর এল হাইমার্স, জে আর।
By Dr. R. L. Hymers, Jr.

২০১৪ সালের, ৬ই এপ্রিল, সন্ধ্যাকালে সদাপ্রভুর একটি দিনে লস এঞ্জেলসের ব্যাপটিষ্ট ট্যাবারন্যাকলে এক সংবাদ প্রচারিত হয়েছিল
A sermon preached at the Baptist Tabernacle of Los Angeles
Lord’s Day Evening, April 6, 2014

“কেননা মনুষ্য দ্বারা যখন মৃত্যু আসিয়াছে, তখন আবার মনুষ্য দ্বারাই মৃতদের পুনরুত্থান আসিয়াছে| কেননা আদমে যেমন সকলে মরে, তেমনই আবার খ্রীষ্টেই সকলে জীবনপ্রাপ্ত হইবে” (১ম করিন্থীয় ১৫:২১-২২)|


শারিরীক এবং আত্মিক মৃত্যু আদমের দ্বারাই উপস্থিত হয়েছে| আদমের পাপের কারনেই সকল মনুষ্য পাপী হিসাবে জন্মগ্রহণ করেছে| আমরা সকলেই পাপস্বভাব নিয়ে জন্মেছি| কিন্তু খ্রীষ্টের ধার্মিকতার জন্য সকলে যারা তাঁর দ্বারা উদ্ধার লাভ করেছে তারাও ধার্মিক গনিত হয়েছে আর অনন্ত জীবন গ্রহণ করেছে| পঁয়তাল্লিশ পদের মধ্যে আমরা প্রথম আদম ও শেষ আদমের বিষয়ে পড়ি| প্রথম আদম পাপ ও মৃত্যু নিয়ে এসেছে মনুষ্যজাতির প্রতি তাদের পাপ কার্য দ্বারা| শেষ আদম, যীশু খ্রীষ্ট, সেই মনুষ্যজাতির প্রতি পরিত্রাণ ও জীবন নিয়ে এনেছেন যারা তাঁর উপরে মন পরিবর্তন করে তাঁর উপরে নির্ভর করেছে| সেই তিনটি উদ্যানের মধ্যে পাপ ও তার প্রতিবিধান চিত্রিত হয়েছে, যা হল পাপ ও উদ্ধারের এক এক ধরন| এই তিনটি উদ্যানের বাইরে গিয়ে পাপ ও পরিত্রাণের প্রতি পরিষ্কার ও এর থেকে ভালো চিত্রের বিষয়ে আমি চিন্তা করতে পারি না|

১. প্রথম, আসুন কিছু সময় আমরা এদন উদ্যানের বিষয়ে চিন্তা করি ।

বাইবেল শিক্ষা দেয় যে ঈশ্বরই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন| বাইবেল শিক্ষা দেয় যে সেখানে বাস্তবে প্রকৃত এক মনুষ্য ছিল যাকে ঈশ্বর এদন উদ্যানে রেখেছিলেন| “আর সদাপ্রভু ঈশ্বর এদনের পূর্বদিকে এক উদ্যান প্রস্তুত করিলেন; এবং সেই স্থানে আপনার নির্মিত সেই মনুষ্যকে রাখিলেন” (আদিপুস্তক ২:৮)| এই মনুষ্যকে রাখা হয়েছিল যেন এই জগতের উপর আধিপত্য করে, এবং সেই উদ্যানকে সুরক্ষিত রাখে| তাকে আজ্ঞা করা হয়েছিল যেন তারা উদ্যানের বৃক্ষ থেকে সদসদ জ্ঞানদায়ক যে ফল আছে তা ভক্ষণ বা ভোজন না করে|

“কিন্তু সদসদ জ্ঞানদায়ক যে বৃক্ষ, তাহার ফল ভোজন করিও না: কেননা যে দিন তাহার ফল খাইবে সেই দিন মরিবেই মরিবে” (আদিপুস্তক ২:১৭)|

কিন্তু শয়তান সেই উদ্যানের মধ্যে প্রবেশ করে মানুষকে পরীক্ষা করে যেন তারা নিষিদ্ধ ফলটি ভোজন করে| সেই ফলটি খাবার ফলে মনুষ্য জাতির উপর অভিশাপ নেমে আসে| এই কারনে সেই মানুষ ও তার স্ত্রীকে সেই উদ্যান থেকে বার করে দেওয়া হয়| সেই কাজের দ্বারা সারা পৃথিবীর অবস্থাও অভিশাপের মধ্যে পতিত হয়| ঈশ্বরকে উপেক্ষা করে আদমের মহাপাপের ফলে তাদের সেই কাজের দ্বারা পৃথিবীর অবস্থাও অভিশাপের মধ্যে পড়ে| এই মৃত্যু আদম থেকে সমুদয় মনুষ্য জাতির প্রতি প্রতিফলিত হয়| এটা প্রকাশমান হয়েছিল আত্মিক মৃত্যুর দ্বারা, ঈশ্বর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, এবং সত্যের প্রতি অন্ধ হয়ে যাওয়া, আর সেই সঙ্গে শারীরিকভাবে মৃত্যুবরন করা| ডাঃ মার্টিন লয়েড-জোন্স বলেছেন,

মনুষ্য জাতির সমুদয় কাহিনী সংক্ষিপ্ত করা যেতে পারে আদমের দ্বারা যা ঘটেছিল কেবল তারই দ্বারা…সেই সমস্ত দূর্গতি ও অসুখী অবস্থা, নৈতিকতার দিক দিয়ে ভেঙ্গে পড়া, চুরি করা, ডাকাতি, হত্যা, বিবাহ বিচ্ছেদ, বিচ্ছিন্নাবস্থা, এই সমস্ত কিছু| কেন ইহা এইভাবে হলো? আর কেনই বা ইহা সব সময়েই সেই মতো হয়ে রয়েছে? ইতিহাসের বইগুলো আমাদের বলে যে এই সমস্ত বিষয়গুলো সব সময়েই সেই বিষয়ের ভাবধারা হয়ে এসেছে| এটা সব সময়ে যেমনটি ছিল আজকের জগৎও তাদের থেকে আলাদা নয়| কিন্তু কেন এগুলো এই প্রকার? এখানে প্রেরিত পৌল সেই প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন [রোমীয় ৫:১২-২১]| তিনি বলেন যে এর সমস্ত পরিনাম আদম থেকে, আদম যা কিছু করেছে তার সমস্ত কিছুই এখানে একত্রিত করা হয়েছে, আর তার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককেও সংযুক্ত করা হয়েছে (Martyn Lloyd-Jones, M.D., Romans – Exposition of Chapter Five, The Banner of Truth Trust, 2003, p. 178)|

বাইবেল ইহাকে খুবই সরল করে দেয়,

“অতএব যেমন এক মনুষ্য দ্বারা পাপ, ও পাপ দ্বারা মৃত্যু জগতে প্রবেশ করিল; আর এই প্রকারে মৃত্যু সমুদয় মনুষ্যের কাছে উপস্থিত হইল, কেননা সকলেই পাপ করিল” (রোমীয় ৫:১২)|

যে মৃত্যু আমাদের পূর্বপুরুষদের দ্বারা ছায়া বিস্তার করেছিল তার সঙ্গে ছিল শত্রুতা, বা বিদ্বেষীভাব এবং ঈশ্বরের বিরুদ্ধে তিক্ততা,

“কেননা মাংসের [অরূপান্তরিত] ভাব ঈশ্বরের প্রতি শত্রুতা” (রোমীয় ৮:৭)|

বাইবেলের সত্যতার প্রতি আদমের মৃত্যু দ্বারা আমাদের মানবীয় মনকেও অন্ধ করে দিয়েছে,

“কিন্তু প্রানিক মনুষ্য ঈশ্বরের আত্মার বিষয়গুলো গ্রহণ করে না: কেননা তাহার কাছে সেই সকল মূর্খতা: আর সেই সকল সে জানিতে পারেনা, কারন তাহা আত্মিকভাবে বিচারিত হয়” (১ম করিন্থীয় ২:১৪)|

সংস্কার সাধনকারী বাইবেল অধ্যয়নের আত্মা বলে,

সংস্কার সাধনকারী ধর্মতত্ব প্রচন্ডভাবে নির্ভর করেছে আদমের পাপের ঐতিহাসিক বাস্তবতার প্রতি…আদমকে প্রকৃতভাবেই ধার্মিকতার দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছিল কিন্তু সে দুর্নীতি ও দন্ডাজ্ঞার মধ্যে পতিত হল…পতনের যে বর্ণনা তা মানবীয় বিকৃতির প্রমাণস্বরূপ এক ঐতিহাসিক বর্ণনা ও সেই সঙ্গে সেই স্বভাবের যে দুর্নীতিপরায়্ণ ভাব রয়েছে তা তুলে ধরে (Spirit of the Reformation Study Bible, Zondervan Publishing House, 2003, p. 14)|

সুতরাং ঈশ্বরের প্রতি আদমের যে পাপ, অন্ধত্ব, এবং মনুষ্যজাতির বিদ্রোহের বিপথগামীতার যে বীভৎস দুর্নীতির স্পর্ধা তা এদন উদ্যানে, ইতিহাসের শুরুতেই উল্লেখিত হয়েছে| এদন উদ্যান হল এমন একটা জায়্গা যেখানে পাপ প্রবেশ করে মনুষ্যজাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে| ইহাকে আমরা বলতে পারি “মৃত্যুর উদ্যান”|

আজকের রাত্রে আপনাদের মধ্যে কয়েকজন রূপান্তরিত বা কনভার্ট হওয়া নিয়ে দ্বন্দের মধ্যে রয়েছেন| আপনি বলতে চাইছেন যে খ্রীষ্টের উপরে আপনি নির্ভর করতে চান, কিন্তু মনে হচ্ছে আপনি সেটা করার প্রতি সমর্থ নয়| আপনার সঙ্গে বিষয়্টা কিসের? আপনি আদমের পাপের দ্বারা অন্ধ হয়ে রয়েছেন্, আপনি বংশপরম্পরার মধ্যে সেটাই বয়ে নিয়ে আসছেন, আর যেটা আপনার মনকে বিষাক্ত করে তুলেছে! বাইবেল বলে যে আপনি “পাপে মৃত” (ইফিষীয় ২:৫)| আপনি খ্রীষ্টীয়ান হওয়ার বিষয়্টাকে শিখতে পারেন না কেননা আপনি মৃত্যুর বিষে বিষাক্ত! মানবীয় দিক দিয়ে আপনার প্রতি কোন আশা আর নেই কেননা আপনার রক্ত বহনকারী শিরা ও উপশিরাতে পাপের কালো পিত্ত অধিষ্ঠান করছে, ক্যানসার সদৃশ ভাইরাস যা আপনার রক্তে সেই এদন উদ্যান থেকেই এসেছে – তা হল মৃত্যুর উদ্যান!

আহা! বীভৎস বিকৃতিকর, পাপ,
কি অভিশাপই না তুমি অন্তরের মধ্যে এনেছ!
তোমার দ্বারা সমস্ত সৃষ্টি আর্তনাদ করে,
তুমিই সমস্ত দুর্গতির কারণ!
তুমিই মানুষকে দুর্দশাগ্রস্থ করে বিনষ্ট করেছ
সেই তখন থেকে যখন জগতের পত্তন হয়েছে|
   (“Much We Talk of Jesus’ Blood” by Joseph Hart, 1712-1768).

২. দ্বিতীয়, আসুন আমরা গেৎশিমানি উদ্যান নিয়ে চিন্তা করি ।

যীশু তাঁর শিষ্যদের সঙ্গে নিস্তারপর্বের ভোজ খান| তারা যখন ভোজ শেষ করে তখন রাত্রি প্রায় অনেকটাই| তারা গান গাইতে গাইতে বাইরে চলে যান| তারা অলিভ পর্বতের পাশেই অলিভ কুঞ্জবন পর্যন্ত যীশুর অনুসরন করে| সেই জায়গার নাম হল গেৎশিমানী উদ্যান| যীশু সেই উদ্যানের মুখেই তাঁর আট জন শিষ্যকে ছেড়ে যান| সঙ্গে করে তিনি পিতর, যাকোব এবং যোহনকে নিয়ে সেই উদ্যানের গভীর অন্ধকার স্থানে প্রবেশ করেন| এখন তিনি প্রচন্ড মর্মপীড়ার মধ্যে “যন্ত্রনাদায়ক অবস্থায় বিস্ময়াভিভূত” – “প্রচন্ড যন্ত্রনা” – “প্রচন্ডভাবেই মৃত্যু পর্যন্ত দুঃখাত্ত” (মার্ক ১৪:৩৩,৩৪) – তিনি “অত্যন্তভাবে বিস্ময়াপন্ন ও মৃত্যু পর্যন্ত উৎকন্ঠিত” (NASV)| এরপর তিনি প্রার্থনা করেন, “পিতা, যদি তোমার ইচ্ছা হয়, তবে এই পানপাত্র আমাথেকে দূর কর” (লূক ২২:৪২)| “এই পানপাত্রে” কি ছিল? প্রায় বাইবেল ব্যাখ্যাকারীরা বলেন পরের দিনে ক্রুশের উপরে তাঁর মৃত্যুবরণের ইহা ছিল অভিসম্বন্ধ মাত্র| কিন্তু সেই দর্শন ইব্রীয় ১২:২ পদকে বিসদৃশ করে তোলে, যা আমাদের বলে যে “যীশু আপনার সম্মুখস্থ আনন্দের নিমিত্ত ক্রুশ সহ্য করিলেন, অপমান তুচ্ছ করিলেন”|

স্পারজান জিজ্ঞাসা করেন, “গেৎশিমানীতে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ মর্মপীড়ার কারনটা কি ছিল?” তিনি বলেছেন ইহা শারিরীক বেদনা থেকে আসেনি| তিনি বলেন ইহা উপহাসের এবং পরের দিনের ক্রুশারাপনের যে ভয় তা থেকেও আসেনি| তিনি নির্দেশ করেন যে বহু আত্মোৎসর্গী বা শহীদ তাদের মৃত্যু আনন্দের সঙ্গেই বরণ করেছেন| তিনি বলেছেন, “আমাদের প্রভু নিশ্চিতভাবেই এই নিকৃষ্টতম [শহীদের] কথা চিন্তা করেন নি, ইহা এমনও নয় যেখানে তারা এতটা সাহসী সেখানে তিনি এইভাবে এতটা শিউরে উঠবেন”| তিনি এটাও বলেন যে খ্রীষ্টের মর্মবেদনা শয়্তানের আক্রমনের দ্বারাও উপস্থিত হয়নি| তিনি বলেন যে উদ্যানের মধ্যে খ্রীষ্টের মর্মবেদনার প্রকৃত যে যুক্তি তা এই প্রকার: “তাঁহাকে চূর্ণ করিতে সদাপ্রভুরই মনোরথ ছিল; তিনি তাঁহাকে যাতনাগ্রস্থ করিলেন: তাঁহার প্রাণ যখন দোষার্থক বলি উৎসর্গ করিবে” (যিশাইয় ৫৩:১০)| “সদাপ্রভু আমাদের সকলের অপরাধ তাঁর উপরে বর্তাইয়াছেন” (যিশাইয় ৫৩:৬)|

ডাঃ আর. সি. এইচ. লিনস্কি বলেছেন, “গেৎশিমানীর যে মর্মবেদনা তা সবসময়েই আমাদের কাছে সম্পূর্ণভাবে এক রহস্য হয়ে থাকবে…সারা বিশ্বের পাপের বিষয়্টা, বস্তুত, তাঁর সমুদয় জীবনে যীশুর দ্বারাই পরিগ্রহণ করা হয়েছে, কিন্তু এখানে গেৎশিমানীতে সেই পরম মুহূর্তের যে অবস্থা তা এখন উপস্থিত” (R. C. H. Lenski, Ph.D., The Interpretation of St. Luke’s Gospel, Augsburg Publishing House, 1946, p. 1074)|

আমি বিশ্বাস করি গেৎশিমানী উদ্যানে যীশু আমাদের পাপসকল তাঁর উপরে ধারন করেছেন| আর ইহা তাঁকে প্রায় শেষ করে ফেলেছিল - কেননা “সদাপ্রভু আমাদের সকলের অপরাধ তাঁহার উপরে বর্তাইয়াছেন”| আমদের পাপের দ্বারা তিনি ভিতর ও বাহির উভয় দিক দিয়েই চূর্ণ বিচূর্ণ হলেন,

“আর তাঁর ঘর্ম যেন রক্তের ঘণীভূত বড় বড় ফোঁটা হইয়া ভূমিতে পড়িতে লাগিল” (লূক ২২:৪৪)|

তিনি গেৎশিমানী থেকে ক্রুশ পর্যন্ত আমাদের পাপকে নিজের উপরে নিলেন, আর তাদের জন্য পরের দিনে প্রায়শ্চিত্ত ও ক্রুশারাপিত হলেন|

অপেক্ষা করুন! এটা মরমনের মতবাদ নয়! আপনাদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো জানেন যে যেখানে মরমনেরা শিক্ষা দেন যে সেই রক্ত যা তিনি গেৎশিমানীতে ঝরিয়েছেন তা আমাদের ক্ষমা করে| ব্রুস ম্যাককন্কি, একজন মরমনেরই ধর্মতত্ত্ববিদ, বলেন, “ক্ষমা এখন আমাদের প্রাপ্য কেননা খ্রীষ্ট সেই প্রভু গেৎশিমানীতে রক্তের ফোঁটা ঝরিয়েছেন” (Bruce R. McConkie, The Promised Messiah, Deseret Book Company, 1978, p. 337)| কিন্তু আমি যা বলেছি তা এটা নয়! আমি বলেছি যে আমি বিশ্বাস করি যীশু আমাদের পাপসকল গেৎশিমানী উদ্যান থেকে ক্রুশ পর্যন্ত নিজের উপরে নিলেন, আর তাদের জন্য সেখানেই তিনি নিজে প্রায়শ্চিত্ত করলেন| সেটাই হল সুসমাচারের প্রথম মুহূর্ত, “শাস্ত্র অনুসারে খ্রীষ্ট আমাদের পাপের জন্য মরিলেন” (১ম করিন্থীয় ১৫:৩)| বাইবেল বলে যে খ্রীষ্ট “তাঁহার ক্রুশের রক্ত দ্বারা সন্ধি করিয়াছেন” (কলসীয় ১:২০) – ইহা উদ্যানের ঘর্মাক্ত রক্তের দ্বারা নয়! আমাদের পরিত্রাণ উপস্থিত হয় খ্রীষ্টের রক্তের দ্বারা যা তিনি ক্রুশের উপরে ঝরিয়েছেন, ইহা এমন নয় যে যখন তিনি তাঁর আঙ্গুল কেটেছেন তখন তাঁর আঙ্গুলের রক্তের দ্বারাও নয় - আর এমনকি যে রক্ত তিনি উদ্যানে ঝরিয়েছেন তার দ্বারাও নয়| কেবলমাত্র সেই রক্ত যা তিনি ক্রুশের উপরে ঝরিয়েছেন সেটাই আমাদের সমস্ত পাপ থেকে ধৌত করতে পারে! এইভাবে, স্পারজানের মতো ও সংস্কারসাধনকারী ধর্মতত্ত্ববিদ ডাঃ জে. অলিভার বাসওয়েল, এবং ডাঃ জন আর. রাইসের মতো, আমার অবস্থানও ঠিক| গেৎশিমানীর বিষয়ে ডাঃ রাইস এবং ডাঃ বাসওয়েল যা লিখেছেন তা পড়ার জন্য এখানে ক্লিক্ করুন| উদ্ধৃতিগুলি আমার সংবাদেও রয়েছে, “গেৎশিমানীর আতঙ্ক”|

আকস্মিক যুগপতে ইহাই কি এক সমকালীন বিষয় যে মানুষের পাপ আরম্ভ হয় এক উদ্যানে, আর খ্রীষ্ট আমাদের পাপ সকল নিজের উপরে ধারন করলেন অন্য এক উদ্যানে? হতে পারে ইহা তাই - তথাপি মহান স্পারজান ইহার বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন| তিনি বলেন,

ঠিক উদ্যানের মতোই আমরা কি ইহা কল্পনা করি না, আদমের আত্মপরিতৃপ্তি যেমন আমাদের সর্বনাশ করে দিয়েছে, সুতরাং অপর একটি উদ্যানে দ্বিতীয় আদমের মর্মবেদনা কি আমাদের পুনরুদ্ধার করেনি? গেৎশিমানী সরবরাহ করে সেই অসুস্থতার ঔষধ যা অনুসরণ করেছিল এদন উদ্যানে নিষিদ্ধ ফলের দ্বারা (C. H. Spurgeon, “The Agony in Gethsemane,” The Metropolitan Tabernacle Pulpit, volume XX, Pilgrim Publications, 1971, p. 589)|

কিন্তু এটাই আমাদের তৃতীয় উদ্যানে নিয়ে আনে, আর এই তিনটি মিলে একত্রে মনুষ্যজাতির পতনকে চিত্রিত করে এবং সেই সঙ্গে খ্রীষ্ট যীশুর দ্বারা ইহার পুনরুদ্ধার হয়।

৩. তৃতীয়, আসুন সেই উদ্যানের কথা চিন্তা করে সমাপ্ত করি যার মধ্যে ধারণ করা হয়েছিল পরিত্রাতার কবর ।

“তখন তাহারা যীশুর দেহ লইয়া, যিহুদীদের কবর দিবার রীতি অনুযায়ী, ঐ সুগন্ধী দ্রব্যের সহিত মসীনা কাপড় দিয়া বাঁধিলেন| আর যে স্থানে তাঁহাকে ক্রুশে দেওয়া হয় সেইস্থানে এক উদ্যান ছিল; সেই উদ্যানের মধ্যে এমন এক নূতন কবর ছিল, যাহার মধ্যে কাহাকেও কখন রাখা হয় নাই| অতএব ঐ দিন যিহুদীদের আয়োজন দিন বলিয়া তাঁহারা সেই কবর মধ্যে যীশুকে রাখিলেন; কেননা সেই কবর নিকটেই ছিল” (যোহন ১৯:৪০-৪২)|

ঠিক কালভেরীর কাছেই একটি উদ্যানে যীশুর সেই দেহ একটা কবরের মধ্যে রাখা হয়েছিল, যেখানে তাঁকে ক্রুশারাপিত করা হয়েছিল| একটি বড় পাথরের চাঙর নিয়ে তারা সেই কবরের মুখটাকে বন্ধ করেছিল, আর তা রোমীয়দের দ্বারা মোহরাঙ্কিত করে দিয়েছিল| সারা রাত্রি পাহারা দেওয়ার জন্য তারা প্রহরী নিয়োগ করে দিল|

রবিবার অতি প্রত্যুষে ম্যাগদলিনী মরিয়ম ও অন্য এক মরিয়ম সুগন্ধী তেল নিয়ে সেই উদ্যানে আসেন, যেন তারা তা শরীরে লাগিয়ে দিতে পারে| তারা যখন সেইদিকে অগ্রসর হচ্ছেন তখন প্রচন্ড ভূমিকম্প হলো| আর এক স্বর্গদূত নেমে এসে সেই কবর থেকে পাথরের চাঙরটাকে সরিয়ে দিলেন| স্বর্গদূত সেই মহিলাদের বললেন,

“তোমরা ভয় করিও না: কেননা আমি জানি, তোমরা ক্রুশারাপিত যীশুর অন্বেষণ করিতেছ| তিনি এখানে নেই: কেননা তিনি যেমন বলেছিলেন, সেইভাবেই তিনি জীবিত হয়েছেন” (মথি ২৮:৫-৬)|

এই কথা তারা যখন শিষ্যদের বলতে যাচ্ছিলেন, যীশু তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন| “তখনই তাহারা নিকটে আসিয়া তাঁহার চরণ ধরিল, ও তাঁহাকে প্রণাম করিল” (মথি ২৮,৯)| তাদের তিনি বললেন তারা যেন শিষ্যদের কাছে এইকথা বলে|

মৃত্যু থেকে যীশুর পুনরুত্থান খ্রীষ্টীয় শিক্ষার দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের এক বিশেষ বিষয়| আমাদের পাপের মূল্য স্বরূপ তাঁর মৃত্যু, এবং শারীরিকভাবে পুনরুত্থান আমাদের যে জীবন দিয়েছে সেটাই হল সুসমাচারের দুটি অংশ| “সুসমাচার” শব্দের অর্থ “শুভ সংবাদ”| “আমাদের ধার্মিক গণনা করার জন্য” শারীরিকভাবে মৃত্যু থেকে যীশুর পুনরুত্থানের বিষয়টি জানাই হল শুভ সংবাদ (রোমীয় ৪:২৫)| বিশ্বাসে যারা তাঁর সঙ্গে একত্রিকৃত হয়েছেন তাদের জন্য মৃত্যু থেকে তাঁর পুনরুত্থান এক নূতন জীবন এবং ধার্মিকতার সৃষ্টি করেছে| যারা তাঁর কাছে এসেছেন যীশু তাদের পাপ এবং পাপের অভিশাপ, এবং অনন্তকালীন দন্ডাজ্ঞা থেকে পরিত্রাণ দিয়েছেন|

“প্রথম মনুষ্য আদম সজীব প্রাণী হইল; শেষ আদম [খ্রীষ্ট] এক [জীবনদায়ক] আত্মা হইলেন” (১ম করিন্থীয় ১৫:৪৫)|

ঈশ্বরের প্রতি তার অবাধ্যতার ফলে প্রথম আদম পাপ ও মৃত্যুর দ্বারা মনুষ্যজাতিকে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন| শেষ আদম, খ্রীষ্ট, সেই পাপ এবং অভিশাপকে ক্ষমা করে আমাদের জীবন প্রদান করেন| স্পারজান ইহাকে এইভাবে উল্লেখ করেছেন, “আমরা কি এই ধারনা পোষণ করি না যে আদম যেমন সেই উদ্যানের মধ্যে পাপের দ্বারা [পাপ] আমাদের ধ্বংস করেছিল, ঠিক সেইভাবে অন্য একটি উদ্যানে পুত্র সেই [শেষ] আদম আমাদের পুনরুদ্ধার করেছেন (ibid)| আর খ্রীষ্ট, সেই শেষ আদম, তৃতীয় উদ্যানে মৃত্যু থেকে জীবিত হয়েছেন - উদ্যানের সেই কবর থেকে|

“কেননা মনুষ্য দ্বারা যখন মৃত্যু আসিয়াছে, তখন আবার মনুষ্য দ্বারাই মৃতদের পুনরুত্থান আসিয়াছে| কেননা আদমে যেমন সকলে মরে, তেমনই আবার খ্রীষ্টেই সকলে জীবনপ্রাপ্ত হইবে” (১ম করিন্থীয় ১৫:২১-২২)|

সেখানেই পাপ ও পরিত্রাণের এক মতবাদের পর্যালোচনা আপনার মধ্যে হয়েছে, যা আমাদের কাছে ঐ তিনটি উদ্যানের আকারে তুলে ধরা হয়েছে – পাপের উদ্যান, দুঃখ ভোগের উদ্যান, এবং নূতন জীবন দান করার জন্য উদ্যান!

এটাই হল এক সুন্দর এবং সত্য ধর্মতত্ত্ব| কিন্তু আপনার সঙ্গে ইহার করণীয় কি? আপনি যদি নূতন জন্মপ্রাপ্ত নন তবে করণীয় কিছুই নেই| আপনি জন্মাবেন এবং মরবেন, আর নরকে চলে যাবেন| বাইবেল থেকে যে শব্দগুলো আমি আপনাকে দিয়েছি তা আপনাকে একটা আস্তানা তৈরী করে দেবে, আপনাকে নিদারূণ যন্ত্রণা দেবে, আর আপনি চিরকাল সেই যন্ত্রণা ভোগ করবেন| আমি প্রার্থনা করি যেন ইহা আপনার প্রতি না ঘটে| আপনি যদি নিজেকে যীশুর প্রতি সমর্পণ করে হৃদয়ে তাকে বিশ্বাস করেন, তবে ইহা আপনার প্রতি ঘটবে না|

তিনি যখন স্বর্গ থেকে নেমে এসে দুঃখভোগ করলেন, আপনাকে পাপ থেকে উদ্ধার করার জন্য রক্তাক্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলেন তখন একবার চিন্তা করুন যীশু আপনার জন্য কি করেছেন| আপনি কি নিজের বিষয়ে চিন্তা করা বন্ধ করে কেবলমাত্র তাঁর বিষয়ে চিন্তা করবেন? আপনি কি নিজেকে পরীক্ষা করা বন্ধ রেখে নিজে থেকে যীশুর প্রতি তাকাবেন? আপনি কি নিজের আবেগ এবং নিজের মনের উপর নির্ভর না করে তাঁর উপরে নির্ভর করবেন? পুরাতন গানে এইভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, “পরিত্রাতার প্রতি তাকানোর জন্য সেখানে এক জ্যোতি রয়েছে”|

হে আমার মন, তুমি কি উদ্বিগ্ন এবং সমস্যাগ্রস্থ?
অন্ধকারের মধ্যে কি কোন আলো দেখা যাচ্ছে না?
পরিত্রাতার প্রতি তাকালে সেখানে এক জ্যোতি রয়েছে,
আর জীবন হল প্রাচুর্য্যময় এবং স্বাধীন!
আপনার চক্ষু যীশুর প্রতি নির্দেশিত হোক,
তাঁর সুন্দর মুখের প্রতি সম্পূর্ণভাবে দৃষ্টিপাত করুন;
আর তাহলেই আপনি [আপনার ভয় ও সন্দেহ] অদ্ভুতভাবে অনুজ্জ্বল হয়ে উঠবেন,
তাঁর প্রতাপান্বিত গৌরব ও অনুগ্রহের জ্যোতিতে|
(“Turn Your Eyes Upon Jesus” by Helen H. Lemmel, 1863-1961;
      altered by Dr. Hymers).

আপনি যদি খ্রীষ্টের দ্বারা উদ্ধারলাভ করার প্রতি আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চান, তবে এখনি নিজের আসন ত্যাগ করে এই অডিটোরিয়ামের পিছনে চলে যান| ডাঃ কাগন আপনাকে একটি কক্ষে নিয়ে যাবেন যেখানে আমরা প্রার্থনা ও কথা বলতে পারি| ডাঃ চান, অনুগ্রহ করে প্রার্থনা করুন যেন কোন একজন যীশুর প্রতি দৃষ্টিপাত করে আজ রাত্রে পরিত্রাণ লাভ করতে পারে| আমেন|

(সংবাদের পরিসমাপ্তি)
ডাঃ হাইমার্সের সংবাদ আপনি প্রতি সপ্তাহে ইন্টারনেটের মাধ্যমে
www.realconversion.com এই সাইটে পড়তে পারেন। ক্লিক করুন “সংবাদের হস্তলিপি”

আপনি ডাঃ হাইমার্সকে মেইল পাঠাতে পারেন rlhymersjr@sbcglobal.net - আপনি
তাকে পত্র লিখতে পারেন P.O. Box 15308, Los Angeles, C A 90015.এই ঠিকানায়
। আপনি তাকে টেলিফোন করতে পারেন (818) 352-0452.

এই সুসমাচারের ম্যানুস্ক্রিপ্ট এর ওপর ডাঃ হাইমসের কোন কপিরাইট নেই। আপনারা
ইহা ব্যাবহার করতে পারেন ডাঃ হাইমসের অনুমতি ছাড়াই। অবশ্য, ভিডিও মেসেজ
সবই কপিরাইটের সহিত আছে এবং কেবলমাত্র তার অনুমতি নিয়েই ব্যাবহার করা যাবে।

সংবাদের আগে শাস্ত্রাংশ পাঠ করেছেন মি. আবেল প্রধুম্মে: লূক ২২:৩৯-৪৪ |
সংবাদের আগে একক সংগীত পরিবেশন করেছেন মি. বেঞ্জামিন কিনকেড গ্রিফিত:
( “Turn Your Eyes Upon Jesus” by Helen H. Lemmel, 1863-1961; altered by the Pastor ).


খসড়া চিত্র

তিনটি উদ্যান সেই কাহিনী জানায়

THREE GARDENS TELL THE STORY

লেখক : ডঃ আর এল হাইমার্স, জে আর।

“কেননা মনুষ্য দ্বারা যখন মৃত্যু আসিয়াছে, তখন আবার মনুষ্য দ্বারাই মৃতদের পুনরুত্থান আসিয়াছে| কেননা আদমে যেমন সকলে মরে, তেমনই আবার খ্রীষ্টেই সকলে জীবনপ্রাপ্ত হইবে” (১ম করিন্থীয় ১৫:২১-২২)|

১. প্রথম, আসুন কিছু সময় আমরা এদন উদ্যানের বিষয়ে চিন্তা করি,
আদিপুস্তক ২:৮,১৭; রোমীয় ৫:১২;৮:৭; ১ম করিন্থীয় ২:১৪; ইফিষীয় ২:৫ |

২. দ্বিতীয়, আসুন আমরা গেৎশিমানি উদ্যান নিয়ে চিন্তা করি,
মার্ক ১৪:৩৩,৩৪; লূক ২২:৪২; ইব্রীয় ১২:২; যিশাইয় ৫৩:১০,৬; লূক ২২:৪৪;
১ম করিন্থীয় ১৫:৩; কলষীয় ১:২০ |

৩. তৃতীয়, আসুন সেই উদ্যানের কথা চিন্তা করে সমাপ্ত করি যার মধ্যে ধারণ করা হয়েছিল পরিত্রাতার কবর, যোহান ১৯:৪০-৪২; মথি ২৮:৫-৬,৯; রোমীয় ৪:২৫;
১ম করিন্থীয় ১৫:৪৫ |