Print Sermon

এই ওয়েবসাইটের উদ্দেশ্য হল ধর্ম্মোপদেশের পান্ডুলিপি এবং ধর্ম্মোপদেশের ভিডিওগুলি বিশ্বব্যাপী পালক ও মিশনারিদের বিনামূল্যে সরবরাহ করা, বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বে, যেখানে ধর্ম্মতত্ত্বমূলক সেমিনারী বা বাইবেল স্কুল থাকলেও খুব কম রয়েছে|

এই সমস্ত প্রচারের পান্ডুলিপি এবং ভিডিওগুলি এখন www.sermonsfortheworld.com ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতি মাসে 221টিরও বেশি দেশের প্রায় 1,500,000 কম্প্যুটারে যায়| শত শত লোক ইউটিউবের ভিডিওর মাধ্যমে এগুলি দেখেন, কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই তারা ইউটিউব ছেড়ে বেরিয়ে যান এবং আমাদের ওয়েবসাইটে চলে আসেন| ইউটিউব আমাদের ওয়েবসাইটে লোক এনে দেয়| প্রচারের এই পান্ডুলিপিগুলি প্রতি মাসে 39টি ভাষায় প্রায় 120,000 কম্প্যুটারে প্রচারিত হয়| প্রচারের পান্ডুলিপিগুলি গ্রন্থসত্ত্ব দ্বারা সংরক্ষিত নয়, কাজেই প্রচারকগণ আমাদের অনুমতি ছাড়াই এইগুলি ব্যবহার করতে পারেন| মুসলিম এবং হিন্দু রাষ্ট্রসমেত, সমগ্র পৃথিবীতে সুসমাচার ছড়িয়ে দেওয়ার এই মহান কাজে সাহায্য করার জন্য কিভাবে আপনি একটি মাসিক অনুদান প্রদান করতে পারেন তা জানতে অনুগ্রহ করে এখানে ক্লিক করুন|

যখনই আপনি ডঃ হেইমার্‍সকে লিখবেন সর্বদা তাকে জানাবেন যে আপনি কোন দেশে বাস করেন, অথবা তিনি আপনাকে উত্তর দিতে পারবেন না| ডঃ হেইমার্‌সের ই-মেল ঠিকানা হল rlhymersjr@sbcglobal.net |




ক্রুশের সেই খ্রীষ্ট

THE CHRIST OF THE CROSS
(Bengali)

লেখকঃ ডাঃ আর.এল.হাইমার্স,জুনি.
by Dr. R. L. Hymers, Jr.

লস এঞ্জেলেসের ব্যাপটিস্ট ট্যাবারনেকেলে ২০শে অক্টোবর,২০১৩ সালে সদা প্রভুর দিনে
সকালে, এক সংবাদ প্রচারিত হয়
A sermon preached at the Baptist Tabernacle of Los Angeles
Lord’s Day Morning, October 20, 2013

“উপরন্তু,হে ভ্রাতৃগণ,তোমাদিগকে সেই সুসমচার জানাইতেছি যে সুসমাচার তোমাদের নিকট প্রচার করিয়াছি, যাহা তোমরা গ্রহণও করিয়াছ, যাহাতে তোমরা দাঁড়াইয়া আছ; আর তাহারই দ্বারা আমি তোমাদের কাছে যে কথাতে সুসমাচার প্রচার করিয়াছি তাহা যদি ধরিয়া রাখ, তবে পরিত্রাণ পাইতেছ, নচেৎ তোমরা বৃথা বিশ্বাসী হইয়াছ। ফলতঃ প্রথম স্থলে আমি তোমাদের কাছে এই শিক্ষা সমর্পণ করিয়াছি যাহা আমিও পাইয়াছি, যে শাস্ত্রানুসারে খ্রীষ্ট আমাদের পাপের জন্য মরিলেন ও কবর প্রাপ্ত হইলেন” (১ম–করিনিথিয়ান্স ১৫:১-৩).


খ্রীষ্টিয়ান সুসমাচার প্রসঙ্গে এটাই হল প্রেরিত পলের পরিষ্কার ও অল্পতথ্যের বিবৃতি। “সুসমাচার” শব্দের সাধারণ অর্থ হল “শুভ সংবাদ।” করিন্থিয় মন্ডলীকে প্রেরিত পল বলেছিলেন যে তিনি তাদের কাছে সুসমাচারের শুভবার্তা বা শুভ সংবাদ প্রচার করেছিলেন। তিনি তাদের বলেন যে তারা সুসমাচারের দ্বরাই পরিত্রাণ লাভ করেছে, আর তাহা যদি ধরে রাখ তবে পরিত্রাণ লাভ করেছ, “নচেৎ তোমরা বৃথা বিশ্বাসী হয়েছো” (১ম করিনথিয়ঃ ১৫:২)। এরপরে যে শুভ সংবাদ তিনি তাদের কাছে বলেছেন তার পুণরুক্তি করেন। সুসমাচারের তিনটি সাধারণ বিষয় রয়েছেঃ (১) “আমাদের পাপের জন্য, শাস্ত্রানুসারে খ্রীষ্ট মৃত্যুবরণ করেন।” (২) “তিনি কবরপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।” (৩) “এবং তিনি তৃতীয় দিনে, শাস্ত্রানুসারে আবার মৃত্যু থেকে জীবিত হয়ে উঠেছেন।” সেটাই হল সুসমাচার। সেতাই হল শুভবার্তা যা প্রকৃত প্রচারকেরা সময়ের ক্ষেত্রে শতাব্দীকাল যাবৎ প্রচার ও ঘোষণা করে এসেছেন। আমি যখন অভিষেক প্রাপ্ত হই, তখন আমার অভিষিক্তকরণ পত্র বলে যে আমাকে “সুসমাচার পরিচর্যা কাজের” জন্য আদেশ প্রদান করে অভিষিক্ত করা হল। এর অর্থ হল আমাকে সুসমাচার পরিচর্যা কাজের জন্য আদেশ প্রদান করে অভিষিক্ত করা হল। এর অর্থ আমাকে সুসমাচার প্রচার কার্যের জন্য প্রাথমিক ভাবে আলাদা করে রাখা হল। “সুসমাচার পরিচর্যাকরণ কার্যে” আমার মুখ্য করনীয় হল খ্রীষ্টের মৃত্যু, কবর প্রাপ্তি ও পুণরুত্থানের বিষয়ে প্রচার করা। এই জন্যই প্রতিটি প্রতিটি পালককে অভিষিক্ত করে,আদেশ প্রদান করা হয়েছে,যেন তারা এই কার্য করার জন্য নিজেদের আলাদা করে রাখে। আর তাই প্রেরিত পল বলেছেন, “আমি তোমাদিগকে সেই সুসমাচার জানাইতেছি যা আমি তোমাদের নিকটে প্রচার করিয়াছি” (১ম করিন্থিয়ান্স ১৫:১)। কিন্তু সুসমাচার প্রচার করার এই যে আহবান সেই বিষয়ে আমাকে অবশ্যই বেশ কিছু বিষয় বলতে হবে।

১. প্রথম, আজকে বহু প্রচারক সুসমাচারকে তাদের প্রচারের প্রাণকেন্দ্র করার থেকে অন্য কিছু করে থাকেন।

সেখানে এমন কেউ রয়েছে যারা রাজিনীতির বিষয় প্রচার করে। তাদের সংবাদ এমন সমস্ত বিষয় বস্তুর উপরে যা রাজনৈতিক জগতে যা ঘটছে কেবলমাত্র সেই বিষয়ে। এই প্রকার প্রচারকেরা কদাচিৎ পরিত্রাণের বিষয়ে উল্লেখ করে থাকেন কেননা তারা মনেই করেন না যে এটার কোন প্রয়োজনীয়তা আছে। তারা কেবলই রাজনৈতিক ব্যাক্তি। বহু বৎসর আগে, চাইনীজ মণ্ডলী যেখানে আমি সদস্য ছিলাম, সেখানে এক যুবক ব্যাক্তি মনে করছিল ডাঃ লীন যেন ভিয়েৎনামের যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রচার করেন। পরিশেষে সে মণ্ডলী ত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে বেশ কিছু যুবক ব্যাক্তিদেরও তার সংগে নিয়ে যায়। তারা লস এঞ্জেলেসের উপনগরী, পাসাডিনাতে অল সেন্টস এপিস্কোপাল চার্চে যোগদান করে। সেই মণ্ডলীকে নিঁখুত বলেই বিবেচনা করা হতো। সেখানের পালক, ডাঃ জর্জ রিগাস প্রায় প্রতি রবিবার দিনে অন্যান্য রাজনৈতিক বিষয় বস্তুর সংগে ভিয়েৎনাম যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রচার করতেন। কিন্তু বেশ কিছুদিন যাওয়ার পর আমাদের মন্ডলী থেকে যোগদানকারী সেই যুবকেরা কোন কিছুই নয় কিন্তু কেবল রাজনৈতিক প্রচার শুণতে শুণতে ক্লান্ত হয়ে উঠলো। পরিশেষে, তারা সেই মণ্ডলী ত্যাগ করে জগতের মধ্যে মিশে গেল। আমার জ্ঞান অনুযায়ী এই যুবকদের কেউই আর মন্ডলীতে যোগদান করে নি। আর এই একই প্রকার বিষয় আমরা যাদের তথা-কথিত “প্রথমসারির” প্রতিষ্ঠান বলে থাকি তাদের অবস্থাও ঠিক তেমন। কেবলমাত্র বাম রাজনৈতিক বিষয়ে প্রচার করেই লোকেদের ধরে রাখা যায় না। প্রথম সারির প্রায় প্রতিটি মন্ডলীই হাজার, থেকে শুরু করে লক্ষ, সদস্যদের হারিয়েছে গত কয়েক দশক ধরে, যার বৃহত্তর কারন হল তাদের প্রচার কেবলমাত্র রাজনৈতিক ও সামাজিক উদ্বেগের বিষয়ে তাই।

এরপরে সেখানে আবার এই প্রকার লোকেরাও রয়েছে যারা কেবলমাত্র মনস্তত্ত্ব বিদ্যা নিয়ে আদের প্রচারকে আলোকপাত করে। তাদের আত্ম-সাহায্যকারী সংবাদ ঠিক জোয়েল অস্টিন এবং রবার্ট শ্যুলারের মতো। তারা বাইবেলের পদ কোন কোন সময়, তুলে ধরলেও তাদের প্রায় সংখ্যক প্রচার বাইবেল কেন্দ্রিক নয়। ঠিক ওফরা উইনফ্রি এবং ডাঃ ড্রিউ’র মতো যারা টিভিতে, প্রচার করেন তাদের প্রচারের বিষয়বস্তু হল কিভাবে ভালো অনুভব ও জীবনে কৃতকার্য্য হয়ে ওঠা যায়। গত মঙ্গলবার দিনে আমি এক রোমান ক্যাথলিক সেবিকার সঙ্গে কথা বলি যিনি প্রতি রবিবার দিনে মাস সভাতে যোগদান করেন আবার সেই সংগে জোয়েল অস্টিনের টিভিরও অনুষ্ঠান দেখেন। সে ছিল এক ফিলিপিন্স সেবিকা যে কিনা সেই হাস্পাতালে কাজ করতো যেখানে একবার আমি ছোট একটা কাজের জন্য গেছিলাম। যতবার আমি তার দিকে তাকাই আমি তার মুখের উপরে এক রুষ্ট চেহারা লক্ষ্য করি। আমি বেশ কিছু কৌতুককর কথা বলি, কিন্তু তার মুখে হাসি দেখতে পাইনি। পরিশেষ আমি যখন তার ধর্ম বিষয়ে জানতে চাইলাম, তখন সে আমাকে বললো যে তিনি মাসে যোগদান করেন,আর সেই সঙ্গে জোয়েল অস্টিনের সংবাদ প্রতি রবিবার দিনে শোনেন, কেননা তিনি তার অনুষ্ঠানে শিক্ষা দেন যে কিভাবে খুশী থাকতে হয়! সেই প্রকার প্রচারকেরা লোকেদের ভালো অনুভব করতে সাহায্য করে, কিন্তু তাদের ব্যাক্তিগত জীবনে তার প্রভাব খুবই সামান্য, এবং নিশ্চিতভাবেই অনন্তকালীন আত্মার উদ্ধারের বিষয়ে খুব সামান্য বা কিছু নেই বললেই প্রচার করেন!

তৃতীয়ত, সেখানে আবার তারাও রয়েছে যারা পদ অনুযায়ী বাইবেল শিক্ষা দেয়। যেহেতু বাইবেলে অনেক বিষয় বস্তু আছে, তাই এই লোকেরা সব সময় এক জায়গা থেকে অন্য একটা জায়গাতে, লাফিয়ে চলে যায়, তাদের নিজেদের সংবাদের মধ্যে। আজকে বহু রক্ষণশীল পালক এই ভাবে প্রচার করে থাকেন। কিন্তু এটা বৃহত্তর ভাবেই নিস্ফল। এটার মধ্যে প্রায় সময়েই যথেষ্ঠ চিন্তাধারা ও মনোভাব থাকলেও ইহা লোকেদের জীবনকে পরিবর্তন করতে পারে না। আমার সহকর্মী, ডাঃ কাগান, তার মন পরিবর্তনের আগে বেশ কিছু দিন যাবত, ডাঃ জন ম্যাক আরথারের মন্ডলীতে যোগ দান করেন। ডাঃ ম্যাক আরথার অতি চিত্তাকর্ষক ব্যাখা প্রদান করেছেন, কিন্তু পরিত্রাণের অণ্বেষণ করার ক্ষেত্রে ডাঃ কাগান অনুপ্রেরণা লাভ করেন নি। সেখানে তিনি এলেও পরিশেষে অপরিত্রানপ্রাপ্ত অবস্থাতেই সেখান থেকে যেতে হয়েছিল, ন্যায্যত তার মধ্যে এক সুদৃঢ় আসক্তি ছিল খ্রীষ্টিয়ান হওইয়ার জন্য। একটি পদের সংগে অন্য পদের মণ্ডলীর স্বাভাবিক শিরোনামের যে চিন্তাধারা তার মধ্যে বাইবেল অধ্যয়নের মধ্যে ও তা নিজে থেকেই প্রিচারের একটা উদ্দেশ্য। ইহা বাইবেলের খ্রীষ্টের থেকে, বাইবেল নিজেই ইহার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ায়। এটাকে বলা হয় সানডেম্যানিয়ানিজম। এই প্রকার মন্ডলীর অনেকেই শীতল হয়ে যায়, কিন্তু স্মার্ট, পুরাতনের ন্যায় কেবল তারা ফরিশী হয়ে ওঠে।

পরিশেষে, তারাও রয়েছে যারা “আরাধনার” বিষয়ে আলোকপাত করে। এর মধ্যে অনেক মোচড় ও আঁকা বাঁকা মোড় রয়েছে। এই প্রকার নীতিবহির্গত “আরাধনার” এক চাক্ষুষ-সাক্ষী হয়েছিলেম আমি এবং পালকের এক বন্ধু, যেখানে লোকেরা সিংহের মত গর্জন করছে, একজন অন্যজনকে নখ দিয়ে আচঁড়াচ্ছে, একে অন্যের ওপরে চিৎকার দিয়ে হামাগুড়ি দিচ্ছে, এবং মেঝেতে এমন ভাবে শুয়ে পড়ছে মনে হচ্ছে যেন খাঁচার বাইরে মন্দ কিছুতে আক্রান্ত শয়তান। অন্য আরো একটা “আরধনা” সভাতে আমার স্ত্রী, বালকেরা ও আমি দেখলাম যে লোকেরা আক্ষরিক ভাবেই যেন কোন মূর্তির আরাধনা করছে ও নিজেরা মেঝের উপরে শুয়ে পড়ছে। সেখানে আমরা যেন নিজেদের পাগলা গারদে রয়েছি বলে মনে করছিলাম! অন্য আরো একটা জায়গা, যেটা ছিল খ্রীষ্টিয়ান কলেজ, আমি মেয়েদের ঠিক বেশ্যাদের ন্যায় নৃত্য করতে দেখলাম, যেখানে কোন যন্ত্রের মধ্য দিয়ে লাল ধোঁয়া বার করা হল, আর সেখানের বাদ্য যেন কানফাটা। অন্য জায়গাতে, আরো একটু অনুজ্জ্বল “আরাধনা” সভাতে এক ঘন্টা-ব্যাপী কোরাস বহুক্ষণ ধরে গাইতেই থাকলো যতক্ষণ পর্যন্ত না সমস্ত লোকেরা সম্মোহিত হয়ে পড়লেন। সেই সমস্ত সভাগুলোতে কেবলমাত্র খুব কম সময়ই ছিল প্রচার করার জন্য। এই কথা বলা অবাঞ্ছনীয়, এই মন্ডলী গুলিতে সংবাদ বা উপদেশের মধ্যে খ্রীষ্টের পূর্বপ্রভাব নেই বললেই চলে!

এবং সেই “খ্রীষ্ট” যার বিষয়ে সমস্ত সভার মধ্যে প্রায় সময়ে বলা হয়ে থাকে তা সেই প্রকৃত খ্রীষ্ট কোন ভাবেই নয়। সুসমাচারের খ্রীষ্টকে একজনের অনুভবকারী বিষয়ের মধ্যে রুপান্তরিত করা হয়েছে। তার স্থাপনাকারী বই, খ্রীষ্টবিহীন খ্রীষ্টধর্ম, ডাঃ মাইকেল হার্টন বলেন,

      যীশু খ্রীষ্টের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের সঙ্গে ব্যাক্তিগত সম্পর্কের বিষয়ে আমরা যতবেশী কথা বলি, সেখানে কেবলমাত্র নিজের বিষয় ছাড়া, বাস্তবে বেশী কিছু সম্পর্ক রয়েছে বলে মনেই হয় না...। সত্য সত্যই যীশু যেন আমার কাছে কিছু সময়ের জন্য পরিবর্তনীয় বিষয় হয়ে গিয়েছে (Michael Horton, Ph.D., Baker Books, 2008, p. 43).

সাম্প্রতিক সময়ে এক যুবক ব্যাক্তির সঙ্গে আমি সাক্ষাত করলে সে আমাকে বলে, “বাইবেল ও মণ্ডলী আমার প্রয়োজন নেই। খ্রীষ্টের সংগে আমার ব্যাক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে, আর সেটাই আমার কেবলমাত্র প্রয়োজন।” আজকালকার বহু প্রচার এইপ্রকার লোকেদেরই উৎপাদন করে, যার বিশ্বাস করে যে তাদের নিজেদের চিন্তাধারা ও আবেগই হল খ্রীষ্ট। সেটা অন্য এক প্রকার যীশু! সেটা এক ভ্রান্ত খ্রীষ্ট! এটা সেই সুসমাচার নয় যার বিষয়ে পল আমাদের পাঠ্যাংশে কথা বলেছেন! সেই প্রকার চিন্তাধারা, ও অন্যান্য ভ্রান্ত মতামত,বহু পালকের কাছ থেকে আসে যেটাকে সুসমাচারের থেকে অন্য কিছু বিষয় বস্তুকে মুখ্য কেন্দ্রবিন্দু করে তোলে। প্রেরিত পল বলেছেন “তারা আর এক যীশুকে প্রচার করেন, যাহাকে তোমরা গ্রহণ কর নাই” (২য় করিন্থিয়াস ১১:৪)। এই বিষয়ের উপরে আমি যা কিছু বলেছি তা হল “অন্য সুসমাচারের কেন্দ্রবিন্দু।” আমাদের পাঠ্যাংশে পল বলেছেন,

“ফলতঃ প্রথম স্থলে আমি তোমাদের কাছে এই শিক্ষা সমর্পণ করিয়াছি, এবং ইহা আমি আপনিও পাইয়াছি যে শাস্ত্রানুসারে খ্রীষ্ট আমাদের পাপের জন্য মরিলেন” (১ম করিন্থিয়ান্স ১৫:৩).

সেটাই হল সেই সুসমাচার!

২. দ্বিতীয়, সুসমাচারের কেন্দ্রবিন্দু হল যীশুখ্রীষ্ট।

এই পর্যন্ত যে সমস্ত প্রচারের কথা আমি উল্লেখ করেছি, সেখানে খ্রীষ্টের ক্রুশ কেন্দ্রবিন্দুর মধ্যে ছিল না-মুখ্য বিষয় নয়-খ্রীষ্টিয়ানিটির ভিত্তিও নয়। ডাঃ এ.ডবলঊ.ক্রীস ওয়েল বলেছেন,

      সংবাদের...মধ্য থেকে খ্রীষ্টের মৃত্যুকে সরিয়ে নিলে সেখানে আর কিছুই থাকে না। সেই প্রচারকের কাছে “সুসমাচারের,” বিষয়টা আর অধিকারের মধ্যে থাকে না, যা হল আমাদের পাপের ক্ষমা দানকারী প্রচার... এই সবের মধ্যে কোনটা... খ্রীষ্টিয়ানিটির ধরন কি তাহলে নুতন নিয়মের খ্রীষ্টিয়ানিটি? সন্দেহাতীত ভাবেই ইহা হল ক্রুশের খ্রিষ্টিয়ানিটি। (W. A. Criswell, Ph.D., In Defense of the Faith, Zondervan Publishing House, 1967, p. 67).

প্রেরিত পল বলেছেন,

“আমাদের প্রভু যীশু খ্রীষ্টের ক্রুশ ছাড়া, আমি যে আর কোন বিষয়ে শ্লাঘা করি তাহা দূরে থাকুক” (গালাটিয়ান্স ৬:১৪).

“খ্রীষ্ট আমাদের পাপের জন্য মৃত্যুবরন করেছেন।” সেটাই ছিল পলের প্রচারের মুখ্য বিষয়। প্রসঙ্গত, তিনি করিন্থিয় মন্ডলীকে বলেন, “কেননা আমি মনে স্থির করিয়াছিলাম তোমাদের মধ্যে আর কিছুই জানিব না, কেবল যীশু খ্রীষ্টকে, এবং তাঁহাকে ক্রুশে হত বলিয়াই জানিব”(১ম করিনথিয়ান্স ২:২)। ইহা যদি বাইবেলের খ্রীষ্টিয়ানিটি হয়, তবে ইহা হবে ক্রুশের খ্রীষ্টিয়ানিটি। মহান স্পারজিউন, যাকে বলা হয় “প্রচারের রাজপুত্র,” বলেন,“সুসমাচারের প্রাণকেন্দ্র হল উদ্ধার বা পরিত্রাণ, এবং পরিত্রাণের যে নির্যাস তা হল ক্রুশের উপরে খ্রীষ্টের বিকল্প বলিদান।”

আজকে অনেক মন্ডলীতে ঘুঘু পাখীর প্রতীক ব্যবহার করা হয় তাদের বিশ্বাসকে উপস্থাপন করার জন্য। আমার কাছে সেটা হল ভুল। ঘুঘু পাখী উপস্থাপন করে পবিত্র আত্মাকে। কিন্তু সুসমচারের মধ্যে যে সংবাদ সেখানে ত্রিত্ব ঈশ্বরের মধ্যে পবিত্র আত্মা মুখ্য ব্যাক্তিত্ত্ব নয়। যোহান লিখিত সুসমাচারের ষোল অধ্যায়ে যীশু বলেছেন সেই পবিত্র আত্মা “তার নিজের বিষয়ে কথা বলে না” (যোহান ১৬:১৩)। আবার, যীশু বলেন, “তা আমাকে গৌরবাণ্বিত করে” (যোহান ১৬:১৪)। পবিত্র আত্মার কাজ এমন নয় যেন তিনি নিজের প্রতি আকর্ষন করেন, বরং খ্রীষ্টের নামের গৌরব করে। অতএব কোন একটি মণ্ডলী যার মুখ্য সংবাদ পবিত্র আত্মার উপরে আলোকপাত করে সেটা প্রকৃতভাবে বাইবেল ভিত্তিক মন্ডলী নয়। প্রেরিত পল বলেছেন আমাদের পরিচর্যা কার্যে খ্রীষ্টকে অবশ্যই প্রাধান্য পেতে হবে আর তা এমন কি আমাদের সমস্ত প্রচারেও। তিনি বলেছেন যে খ্রীষ্ট

“...তিনিই দেহের মস্তক,অর্থাৎ মন্ডলীরঃ তিনিই আদি, মৃতগণের মধ্য হইতে প্রথম জাত; যেন সর্ববিষয়ে তিনি অগ্রগণ্য হোন [যেন সমস্ত কিছুতে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ত্ব বিরাজ করে]। কেননা ইহা খুশি করে পরম পিতাকে যেন সমস্ত পূর্ণতা তাঁহাতেই বাস করে... তাঁহার ক্রুশের রক্ত দ্বারা শান্তি স্থাপনা করা যায়” (কলোনিয়াস ১:১৮-২০).

আমরা পাপের ক্ষমা, এবং ঈশ্বরের শান্তি আমরা লাভ করেছি, “ক্রুশের রক্তের মধ্য দিয়ে”-আর তা সম্ভব কেবলমাত্র খ্রীষ্টের ক্রুশের রক্ত দ্বারা !

আপনি কি যীশুর কাছে শুদ্ধতার শক্তি লাভ করতে এসেছেন?
আপনি কি সেই মেষের রক্তে ধৌত ?
এই মুহুর্তে আপনি কি তাঁর অনুগ্রহে নির্ভর করছেন?
আপনি কি সেই মেষের রক্তে ধৌত ?
আপনি কি সেই রক্তে ধৌত, আত্মা ধৌতকারী মেষের রক্তে ধৌত?
আপনার বস্ত্র লি দাগ বিহীন ? তারা কি তুষারের ন্যায় সাদা ?
আপনি কি সেই মেষের রক্তের ধৌত ?
   (“Are You Washed in the Blood?” by Elisha A. Hoffman, 1839-1929).

ওহ! অমূল্য এই স্রোত
যা আমাকে করে বরফের ন্যায় শুভ্রঃ
অন্য আর কোন ধারা আমি জানি না
কেবল মাত্র যীশুর রক্ত।
   (“Nothing But the Blood” by Robert Lowry, 1826-1899).

“ফলতঃ প্রথম স্থলে আমি তোমাদের কাছে এই শিক্ষা সমর্পন করিয়াছি এবং ইহা আমিও পাইয়াছি, আর তাই খ্রীষ্ট আমাদের পাপের জন্য মরিলেন...” (১ম করিনথিয়ান্স ১৫:৩).

ডাঃ ক্রিসওয়েল বলেছেন,

      “সর্বপ্রথমেই” এই কথা বলার অর্থ কি ? তাঁর যে নির্দেশ তা যেভাবে গুরুত্ব আরোপ করে সেটা সময়ের ক্ষেত্রে কিছু করার নেই... ক্রুশের উপরে খ্রীষ্টের মৃত্যু (পাপীদের বদলে) দ্বারা আমাদের পাপের বৈকল্পনীয় তত্ত্বগত শিক্ষা যে ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে সেটাই হল অনুগ্রহের মূল কেন্দ্রীয় নীতি, ও সুসমাচারের প্রাণ কেন্দ্র। আর অন্য কোন সত্যতা এতটা উচ্চমানে আর দাঁড়াতে পারে না...পবিত্র শাস্ত্রাংশের তত্ত্বগত সমস্ত শিক্ষাই ক্রুশের প্রতি পরিচালিত করে।
      কোন একটা সময়ে সমালোচকেরা চার্লস হ্যাডন স্পারজিউনকে বলেছিলেন,“আপনার সমস্ত উপদেশ শুণতে একই রকমের লাগে,” যার প্রতি বিশ্ব-খ্যাত লণ্ডনের প্রচারক উত্তর দেন,“হ্যাঁ, আমি আমার প্রসঙ্গকে বাইবেলের যে কোন অংশ থেকে নিই আর (সরাসরিভাবে) ক্রুশের সঙ্গে সারিবদ্ধ করে তুলি।” বলিদান ছাড়া সেখানে কোন ক্ষমা নেই; রক্তসেচন ব্যতিরেকে পাপের মোচন হয় না; ঋণ শোধ করা ছাড়া সেখানে কোন পুণর্মিলন নেই...
      খ্রীষ্টের বলিকৃত মৃত্যুর বিষয়ে প্রচার হল নুতন নিয়মের স্বতন্ত্র, ও নতুন টেস্টামেন্টের সিদ্ধান্তনীয় তত্ত্ব। ইহা অন্যান্য ধর্ম থেকে আমাদের বিশ্বাসকে পার্থক্য করে দেয়। খ্রীষ্টিয়ান সংবাদ স্বতন্ত্র ভাবেই উদ্ধারের একটা বিষয়। ইহার ভিত্তিমূলক উদ্দেশ্য হল মানুষকে বন্ধনের হাত থেকে এবং পাপের দণ্ড থেকে উদ্ধার করা... ইহা হল সর্বপ্রথম সর্বোপরি উদ্ধারের সুসমাচারের বিষয়, সুসমাচারের এক ঘোষণা যেখানে ঈশ্বর খ্রীষ্টের জন্য আমাদের ক্ষমা প্রদান করেছেন (W. A. Criswell, Ph.D., In Defense of the Faith, ibid,. pp. 68-70).

৩. তৃতীয়ত, ক্রুশের খ্রীষ্ট আমাদের পাপ থেকে উদ্ধার করেছেন।

মুসলমানেরাও যীশুতে বিশ্বাস করে-একদিক দিয়ে। তারা তাকে “ইসা” বলে ডাকেন। এমন কি কোরাণও বলে তিনি কুমারীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছেন। ইহা আবার এই কথাও বলে যে তিনি স্বর্গে গিয়েছেন। বেশ কিছু নির্বোধ লোক মনে করে সেটাই যথেষ্ঠ। কিন্তু মুসলমান বিশ্বে বহুশত যুবক ব্যাক্তি “ইসা” থেকে কোরাণের যীশুর দিকে থেকে ফিরেছেন। অতীতে যে কোন সময়ের থেকে তাদের মধ্যে অনেকেই আজকে বাইবেলের যীশুর প্রতি ফিরছেন। খ্রীষ্টিয়ানিটির যীশুর প্রতি নির্ভর করার প্রতি তারা প্রায় সবসময়েই তাড়না ও দুঃখভোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তারা কেন দুঃখভোগ করে, যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যায়, আমাদের যীশুর উপরে নির্ভর করার জন্য? আমি আপনাকে বলবো কেন! কোরাণের যীশু আমাদের পাপের মূল্য মিটিয়ে দেবার জন্য ক্রুশের উপরে মৃত্যুদণ্ড ভোগ করেনি-সেই কারণে! কোরাণ বলে যে আমাদের পরিত্রাণ দেওয়ার জন্য তিনি ক্রুশে মৃত্যুবরণ করেন নি! কিন্তু কি ভাবে তাদের পাপের ক্ষমা লাভ করতে হয় কোরাণ তা তাদের বলে না। ইহা তাদের বলে থাকে যেন ভালো কাজ করে, নিয়মের বাধ্য থাকে, কিন্তু কি ভাবে ক্ষমা করতে হয় এবং ঈশ্বরের সন্তান হিসাবে গ্রহণ যোগ্যতা প্রাপ্ত হতে হয় ইহা সেই কথা তাদের বলে না। কোরাণ তাদের বলে না এইজন্য কেননা, যীশু যে ক্রুশেতে মৃত্যুবরণ করেছেন এই কথা কোরাণ অস্বীকার করে! আমাদের যীশুতে বিশ্বাস করার জন্য তারা প্রচণ্ড তাড়না ভোগ করে কেননা কেবলমাত্র তিনি একাই ঈশ্বরের শান্তি তাদের প্রদান করে থাকেন,“কেননা তিনি ক্রুশের রক্ত দ্বারা সন্ধি করেছেন” (কোলসিয় ১:২০)।

ক্রুশের খ্রীষ্টের প্রতি নির্ভর করার জনয আপনি কি তাড়নার মধ্য দিয়ে যাবেন? “[সেই] ক্রুশের রক্ত দ্বারা” ঈশ্বরের সঙ্গে শান্তি লাভ করার প্রতি আপনি কি জীবনের ঝুঁকি নেবেন? তারা নিয়েছেন। প্রতিদিনেই তারা তা করে। ক্রুশের উপর থেকে আপনাকে পরিত্রাণ দেওয়ার প্রতি খ্রীষ্টের রক্তের মাধ্যমে আপনার পাপের ক্ষমা লাভ করার জন্য আপনি কি মুসলমানদের অগ্নিময় ঘৃণার মধ্য দিয়ে যাবেন? তারা গিয়েছেন। তারা প্রতিদিনই তা করে।

বেশ কিছুদিন আগে প্যাস্টর ওয়ার্মব্রান্ডের ম্যাগাজিনে ইন্দোনেশিয়ার এক যুবতী মহিলার মুখ দেখি। তিনি যখন যীশুর উপরে নির্ভর করেন তখন তারা তার মুখের উপরে এ্যাসিড ছুঁড়ে দেয়। তার মুখের আকৃতি এখন বীভৎস, যা প্রায় বর্ণনা করা যায় না। কিন্তু তিনি হাসছিলেন। তারা বলে যে তিনি সবসময়েই হাসছিলেন। তিনি অনুভব করেন ক্রুশের খ্রীষ্টকে লাভ করার প্রতি ইহা অত্যন্ত মূল্যবান! কেন ? কেননা,

“শাস্ত্রানুসারে আমাদের পাপের জন্য খ্রীষ্ট মৃত্যুবরণ করেন”

      (১ম করিন্থিয়ান্স ১৫:৩).

আমার পাপ-ওহ,গৌরবময় চিন্তার সেই পরমানন্দ,
আমার পাপ, কোন অংশমাত্র নয়, কিন্তু সম্পূর্ণ ভাবে-
ক্রুশের পেরেক বিদ্ধ হয়েছে আর আমি তা বহন করি না,
প্রভুর প্রশংসা, প্রভুর প্রংশসা কর হে আমার প্রাণ!
   (“It Is Well With My Soul” by H. G. Spafford, 1828-1888).

হ্যাঁ, খ্রীষ্ট স্বর্গে উন্নত হয়েছেন। কিন্তু কোরাণ তা বলে! যদি ক্রুশ ছাড়া যীশু স্বর্গে ফিরে গিয়েছেন-তবে আপনার পরিত্রাণ নেই। অতি অবশ্যই ক্রুশ আপনার জীবনে থাকতে হবে! কেননা কেবলমাত্র ক্রুশেই যীশু আপনার পাপের জন্য যে দণ্ড তা মিটিয়ে দিয়েছেন। ক্রুশ ছাড়া পাপের বেতন নেই, এবং ঈশ্বরের শক্তিও তার নেই। কেবলমাত্র ক্রুশের খ্রীষ্টই আপনাকে পাপ থেকে উদ্ধার দিতে পারেন! আপনাকে সমস্ত পাপ থেকে পরিশুদ্ধ করার জন্য কেবলমাত্র ক্রুশের খ্রীষ্টই তাঁর পবিত্র রক্ত প্রদান করেছেন। হ্যাঁ,

“শাস্ত্রানুসারে আমাদের পাপের জন্য খ্রীষ্ট মৃত্যুবরণ করেন”
      (১ম করিন্থিয়ান্স ১৫:৩).

বহু লক্ষাধিক শহীদ এবং পবিত্র সাধুবর্গ বলেছেন, “ক্রুশের খ্রীষ্টের জন্যই আমি নিজেকে প্রদান করবো! ক্রুশের খ্রীষ্টের জন্য আমি আমার হাত ও পা’কেও প্রদান করবো! আমি আমার শরীরকেও ক্রুশের খ্রীষ্টের জন্য বনের হিংস্র পশুদের প্রদান করবো! ক্রুশের খ্রীষ্টের জন্য আমি আমার সমুদয় জীবন খ্রীষ্টকে দেব!”

নৃশংস আন্দোলিত লৌহের সম্মুখীন তার হয়,
সিংহের রক্তাত্ত্ব কেশরের সম্মুখীন;
মৃত্যু অনুভবের প্রতি তারা ঘাড়কে নত করেঃ
কারা তাদের ঘটনা প্রবাহকে অনুসরণ করেন?
   (“The Son of God Goes Forth to War” by Reginald Heber, 1783-1826).

তারা বলেছেন ক্রুশের উপরে খ্রীষ্টের দ্বারা তাদের পাপের ক্ষমা লাভ ও পরিষ্কৃত হওয়াটা সব থেকে বেশী মূল্যবান।

আপনি কি খ্রীষ্টকে গ্রহণ করবেন ? আপনি কি এই মুহুর্তে তাঁর উপরে নির্ভর করবেন, আজকের এই সকালে ? ডাঃ ওয়াটসের সঙ্গে আপনি কি বলবেন, “এখানে, প্রভু,আমি নিজেকে প্রদান করছি, আর এটাই আমি করতে পারি?” আপনি বলেন, “আমি নিজেকে ক্রুশের খ্রীষ্টের কাছে প্রদান করার জন্য প্রস্তুত, যিনি আমার পাপ থেকে উদ্ধার করার জন্য মৃত্যু বরণ করেছেন।” যদি তাই মনে হয় তবে আপনার চেয়ার ত্যাগ করে পিছনে অডিটরিয়ামের দিকে অগ্রসর হন। ডাঃ কাগান আপনাকে আরো একটি ঘরে নিয়ে যাবেন যেখানে আপনি আপনার পাপ থেকে উদ্ধার করার জন্য মৃত্যুবরণ করেছেন। তাই এখনি অডিটরিয়ামের পিছনের দিকে যান। ডাঃ চ্যান, অনুগ্রহ করে প্রার্থনা করুন যেন কোন একজন আজকের সকালে ক্রুশের উপরে খ্রীষ্টের প্রতি নির্ভর করে। আমেন।

(সংবাদের পরিসমাপ্তি)
ডাঃ হাইমার্সের সংবাদ আপনি প্রতি সপ্তাহে ইন্টারনেটের মাধ্যমে
www.realconversion.com এই সাইটে পড়তে পারেন। ক্লিক করুন “সংবাদের হস্তলিপি”

আপনি ডাঃ হাইমার্সকে মেইল পাঠাতে পারেন rlhymersjr@sbcglobal.net - আপনি
তাকে পত্র লিখতে পারেন P.O. Box 15308, Los Angeles, C A 90015.এই ঠিকানায়
। আপনি তাকে টেলিফোন করতে পারেন (818) 352-0452.

এই সুসমাচারের ম্যানুস্ক্রিপ্ট এর ওপর ডাঃ হাইমসের কোন কপিরাইট নেই। আপনারা
ইহা ব্যাবহার করতে পারেন ডাঃ হাইমসের অনুমতি ছাড়াই। অবশ্য, ভিডিও মেসেজ
সবই কপিরাইটের সহিত আছে এবং কেবলমাত্র তার অনুমতি নিয়েই ব্যাবহার করা যাবে।

সংবাদের আগে শাস্ত্রের যে অংশ পাঠ করা হয়েছে, তা করেছেন মিঃ আবেল প্রধম্মেঃ ১ম করিনথিয়ান্স ১৫:১-৪.
সংবাদের আগে একক সংগীত গেয়েছেন মিঃ বেঞ্জামিন কিন গেইড গ্রীফিথঃ
“The Old Rugged Cross” (by George Bennard, 1873-1958).


খসড়া চিত্র

ক্রুশের সেই খ্রীষ্ট

THE CHRIST OF THE CROSS

লেখকঃ ডাঃ আর.এল.হাইমার্স,জুনি.
by Dr. R. L. Hymers, Jr.

“উপরন্তু,হে ভ্রাতৃগণ,তোমাদিগকে সেই সুসমচার জানাইতেছি যে সুসমাচার তোমাদের নিকট প্রচার করিয়াছি, যাহা তোমরা গ্রহণও করিয়াছ, যাহাতে তোমরা দাঁড়াইয়া আছ; আর তাহারই দ্বারা আমি তোমাদের কাছে যে কথাতে সুসমাচার প্রচার করিয়াছি তাহা যদি ধরিয়া রাখ, তবে পরিত্রাণ পাইতেছ, নচেৎ তোমরা বৃথা বিশ্বাসী হইয়াছ। ফলতঃ প্রথম স্থলে আমি তোমাদের কাছে এই শিক্ষা সমর্পণ করিয়াছি যাহা আমিও পাইয়াছি, যে শাস্ত্রানুসারে খ্রীষ্ট আমাদের পাপের জন্য মরিলেন ও কবর প্রাপ্ত হইলেন” (১ম–করিনিথিয়ান্স ১৫:১-৩).

১.  প্রথম, আজকে বহু প্রচারক সুসমাচারকে তাদের প্রচারের প্রাণকেন্দ্র করার
থেকে অন্য কিছু করে থাকেন, ২য় করিনথিয়ান্স ১১:৪.

২.  দ্বিতীয়, সুসমাচারের কেন্দ্রবিন্দু হল যীশু খ্রীষ্ট, গালাটিয়ান্স ৬:১৪;
১ম করিনথিয়ান্স ২:২; জন ১৬:১৩,১৪; কলোসিয়ান্স ১:১৮-২০.

৩.  তৃতীয়ত, ক্রুশের খ্রীষ্ট আমাদের পাপ থেকে উদ্ধার করেছেন, কলোসিয়ান্স ১:২০.