Print Sermon

এই ওয়েবসাইটের উদ্দেশ্য হল ধর্ম্মোপদেশের পান্ডুলিপি এবং ধর্ম্মোপদেশের ভিডিওগুলি বিশ্বব্যাপী পালক ও মিশনারিদের বিনামূল্যে সরবরাহ করা, বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বে, যেখানে ধর্ম্মতত্ত্বমূলক সেমিনারী বা বাইবেল স্কুল থাকলেও খুব কম রয়েছে|

এই সমস্ত প্রচারের পান্ডুলিপি এবং ভিডিওগুলি এখন www.sermonsfortheworld.com ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতি মাসে 221টিরও বেশি দেশের প্রায় 1,500,000 কম্প্যুটারে যায়| শত শত লোক ইউটিউবের ভিডিওর মাধ্যমে এগুলি দেখেন, কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই তারা ইউটিউব ছেড়ে বেরিয়ে যান এবং আমাদের ওয়েবসাইটে চলে আসেন| ইউটিউব আমাদের ওয়েবসাইটে লোক এনে দেয়| প্রচারের এই পান্ডুলিপিগুলি প্রতি মাসে 39টি ভাষায় প্রায় 120,000 কম্প্যুটারে প্রচারিত হয়| প্রচারের পান্ডুলিপিগুলি গ্রন্থসত্ত্ব দ্বারা সংরক্ষিত নয়, কাজেই প্রচারকগণ আমাদের অনুমতি ছাড়াই এইগুলি ব্যবহার করতে পারেন| মুসলিম এবং হিন্দু রাষ্ট্রসমেত, সমগ্র পৃথিবীতে সুসমাচার ছড়িয়ে দেওয়ার এই মহান কাজে সাহায্য করার জন্য কিভাবে আপনি একটি মাসিক অনুদান প্রদান করতে পারেন তা জানতে অনুগ্রহ করে এখানে ক্লিক করুন|

যখনই আপনি ডঃ হেইমার্‍সকে লিখবেন সর্বদা তাকে জানাবেন যে আপনি কোন দেশে বাস করেন, অথবা তিনি আপনাকে উত্তর দিতে পারবেন না| ডঃ হেইমার্‌সের ই-মেল ঠিকানা হল rlhymersjr@sbcglobal.net |




নিজের ক্রুশ বহন করুন

TAKE UP YOUR CROSS
(Bengali)

লেখকঃ ডাঃ আর.এল.হাইমার্স,জুনি.
by Dr. R. L. Hymers, Jr.

১৫-ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ সালে, লস এঞ্জেলেসের ব্যাপটিস্ট ট্যাবারনেকেলে সদাপ্রভুর দিনে
সান্ধ্যকালীন মুহুর্তে, এক সংবাদ প্রচারিত হয়েছিল
A sermon preached at the Baptist Tabernacle of Los Angeles
Lord’s Day Evening, September 15, 2013

“পরে তিনি আপন শিষ্যগণের সহিত লোকসমূহকেও ডাকিলেন, তিনি তাহাদের কহিলেন, কেহ যদি আমার পশ্চাতে আসিতে ইচ্ছা করে, সে আপনাকে অস্বীকার করুক, আপন ক্রুশ তুলিয়া লউক, এবং আমার পশ্চাৎগামী হউক” (মার্ক ৮:৩৪).


এই নির্দেশ তিনটি সুসমাচারের সবকটাতেই উল্লেখিত হয়েছে-যথা ম্যাথুজ, মার্ক, এবং লিউক। বেশ কিছু বাইবেল শিক্ষক বলে থাকে এটা কেবলমাত্রই পরিপক্ক খ্রীষ্টিয়ানদের জন্য। কিন্তু তিনটি সুসমাচারের প্রত্যেকটিই সুনির্দিষ্ট ভাবে আমাদের বলে থাকে যে এটা সকলের জন্যই। ম্যাথুজ সুসমাচারে আমরা পড়ি, “কেহ যদি আমার পশ্চাতে আসিতে ইচ্ছা করে, তবে সে আপনাকে অস্বীকার করুক, আপন ক্রুশ তুলিয়া লউক, এবং আমার পশ্চাৎগামী হউক”(ম্যাথুজ ১৬:২৪)। সুতরাং, ম্যাথুজ সুসমাচারের মধ্যে নিজেকে অস্বীকার এবং ক্রুশ বহন করা “যে কোন ব্যাক্তির জন্য।” বাস্তবে “ব্যাক্তি” বলে যে শব্দ সেখানে রয়েছে তা ইংরাজীতে KJV অনুবাদে ইটালীকস নির্দেশে সূচিত হয়েছে। আধুনিক অনুবাদে ইহার উল্লেখ রয়েছে “যে কেহ” হতে পারে “অন্য যে কেউ,” আর ইহা ঠিক NKJV অনুবাদের মতোই। অতএব যে কেহ খ্রীষ্টের অনুগামী হতে চায় তা তাদের সকলকেই এই পদটি ইঙ্গিত প্রদান করে। আমাদের পাঠ্যাংশে মার্ক লিখিত সুসমাচারে আমাদের বলা হয়েছে যীশু “সাধারণ জনসমূহকে ডাকলেন,” শিষ্যদের সঙ্গে, এবং বললেন, “যে কেহ (যে কেউ) আমার অনুসরণ করতে চায়, তাহারা নিজেকে অস্বীকার করুক, নিজের ক্রুশ তুলিয়া লউক, আর আমায় অনুসরণ করুক।” তাই, আবার, এই ডাক ছিল সকলের জন্য,এবং সাথে সাথে তা ছিল তাঁর বারোজন শিষ্যের জন্যও। লিউক ৯:২৩ পদে, আমরা পড়ি, “তিনি তাহাদের সকলকে কহিলেন,যদি কোন ব্যাক্তি...।” অতএব এই তিনটি সুসমাচারের সব কটাতেই এটা পরিষ্কার যে যীশু প্রত্যেকেই শর্তরুপে ক্রুশ বহন করার জন্য আহবান জানান, আর তা কেবল তাঁর শুধু বারোজন শিষ্যদের জন্যই নয়। ইহা খুবই পরিষ্কার যীশু যখন সকলের সাথে কথা বলেন তখন তিনি জানান, “কেহ যদি আমার পশ্চাতে আসিতে ইচ্ছা করে, সে নিজেকে অস্বীকার করুক, নিজের ক্রুশ তুলিয়া লউক, এবং আমার পশ্চাৎগামী হউক” (মার্ক ৮:৩৪)। এখানে দুটি বিষয় রয়েছে যা আমাদের পাঠ্যাংশ থেকে বহিত হয়।

১. প্রথম, আধুনিক এ্যান্টিনময়ানস অস্বীকার করেন যে এই বিষয়টা প্রকৃত রুপান্তরবাদে ঘটতে পারে বলে।

গত রবিবার দিনে রাত্রির ভাষণে আমি এ্যান্টিমনিয়ানিজমের ওপর একটা সংবাদ প্রচার করেছিলাম। আমি রিফর্মেশান স্টাডি বাইবেল থেকে উদ্ধৃত করেছিলাম, যেখানে বলা হছে, “এ্যান্টিমনিয়ানিজম সেই সমস্ত দর্শনগুলোকে অস্বীকার করে যে ঈশ্বরের বিধান সরাসরি ভাবেই খ্রীষ্টিয় জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে বলে... তারা এমন সমস্ত ভ্রান্ত নিষ্পত্তিতে উত্তীর্ণ হয় যেখানে তাদের আচরণের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না, তারা সেই সমস্ত বিষয়েই বিশ্বাস করতে থাকে যেগুলিতে তারা জড়িত... তাই খ্রীষ্টের মধ্যে থেকে একই সঙ্গে পাপের প্রতি আলিঙ্গন জানানোটা সম্ভবপর নয়”(পৃ.১৮৩১)। এরপরে আমি উদ্ধৃত করি ডাঃ এ.ডাব্লুউ.টোজারের বিষয়, যিনি বলেন,

        আমাদের ইভ্যাঞ্জলিক্যাল খ্রিষ্টিয়ান পরিধির মধ্যে এক লক্ষ্যণীয় ধর্মবিদ্বেষীতা বিদ্যমান-তারা বহুলভাবেই সেই ধারণাকে স্বীকৃতি প্রদান করে যে আমরা মানুষেরা আমরা খ্রীষ্টকে গ্রহণ করার মনোনয়ন নিতে পারি কেননা পরিত্রাতা রুপে তাঁকে আমাদের প্রয়োজন আর তারপরে যতদূর পর্যন্ত আমরা চাইবো তাঁর প্রতি প্রভু হিসাবে আমাদের বাধ্যতার মুলতুবি করতে পারি!...
        কি মর্মান্তিক ঘটনা কেননা আমরা আমাদের এই দিনে সুসমাচারের আবেদনকে এমনভাবে শুণি যা এই ভাবে এসে উপস্থিত হয়ঃ “যীশুর কাছে আসুন! আপনাকে অন্য কারো বাধ্য হতে হবে না। আপনাকে কোন কিছুই পরিবর্তন করতে হবে না। এর জন্য আপনাকে কোন কিছুই জলাঞ্জলি দিতে হবে না-কেবলমাত্র তাঁর কাছ এসে তাঁকে পরিত্রাতা রুপে বিশ্বাস করুন!”
        সুতরাং এই ভাবেই তারা পরিত্রাতার কাছে এসে তাঁকে বিশ্বাস করে। পরবর্তী সময়ে, কোন সভা বা মহাসভাতে, তারা পুণরায় একটা আবেদন শোণেঃ “এখন তাঁকে আমরা পরিত্রাতা হিসাবে গ্রহণ করেছি, কিন্তু তাঁকে প্রভু হিসাবে গ্রহণ আপনার কেমন লাগবে?”
        এই প্রকার যে ঘটনা আমরা প্রতিটি জায়গাতে শুণি তা আমাদের ঠিক করে না। কোন পুরুষ ও মহিলার কাছে বিভক্তি পূর্ণ খ্রীষ্টকে বিশ্বাস করানোর আর্জি হল এক ভ্রান্ত শিক্ষা কেননা কেউই খ্রীষ্টের অর্দ্ধেকভাগ গ্রহণ করতে পারে না...যখন কোন ব্যাক্তি যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাস করে তখন তাকে যীশুখ্রীষ্টের সম্পূর্ণ সত্ত্বায় বিশ্বাস করতে হবে- কোন সংরক্ষণ করা চলবে না! এই বিষয়ে আমি সন্তোষ প্রকাশ করি যখন আমরা যীশুর প্রতি কেবল ঐশ্বরিক সেবক হিসাবে দেখি আর কেবলমাত্র তখনই তাঁর কাছে আসি যখন আমরা পাপে অসুস্থ হয়ে পড়ি, এবং তাঁর সাহায্যের পরে, আমরা তাঁকে বলে থাকি,“বিদায়”-আর তারপরেই নিজেদের পথে চলি...
        আমরা তাঁর কাছে আসি না সেই ব্যাক্তি হিসাবে, যিনি তার বাড়ির জন্য আসবাবপত্র কিনেছেন, আর এইভাবে ঘোষণা করেছেনঃ “আমি এই টেবিলটা নেব কিন্তু কেদারার প্রয়োজন আমার নেই”- ইহাকে বিভক্ত করে নিচ্ছেন! না, মহাশয়! ইহা হয় খ্রীষ্টের সমস্তটাই নতুবা খ্রীষ্টের কিছুই নয়!
        আমার মনে হয় যেন খ্রীষ্টের সমস্তটাই এই জগতের কাছে পুণরায় প্রচার করার দরকার আছে-এমন এক খ্রীষ্টের যার আমাদের ক্ষমার প্রয়োজন নেই, এমন এক খ্রীষ্ট যাকে বিভক্ত করা যাবে না, এমন এক খ্রীষ্ট যিনি হয় সমস্ত কিছুর প্রভু হয়ে উঠবেন অথবা যিনি কোন মতেই প্রভু হবেন না!
        আমি আপনাদের সতর্ক করে দিচ্ছি-আপনি প্রভুর কাছ থেকে এই ভাবে কোন সাহায্য লাভ করতে পারেন না যিনি আপনাকে কেবল উদ্ধার করবেন আর আদেশ প্রদান করবেন না! তিনি তাঁর দায়িত্বভারকে বিভক্ত করবেন না। আপনি অর্দ্ধ-খ্রীষ্টে বিশ্বাস করতে পারেন না। তিনি যা আমরা তাঁকে সেই ভাবেই গ্রহণ করি-অবিভক্তকারী পরিত্রাতা ও প্রভু যিনি হলেন রাজাদের রাজা ও প্রভুদের প্রভু! তিনি এমন কোন ব্যাক্তি নয় যে যদি তিনি আমাদের উদ্ধার করেন ও আমাদের আহবান জানান এবং চিহ্নিত করেন কোন বোধশক্তি ছাড়াই যে তিনি আমাদের পরিচালিত ও আমাদের জীবনকে নিয়ন্ত্রিত করতে পারেন বলে...
        সেটা কি কোন দিন সম্ভবপর যে আমরা এমন ভাবে মনে করতে পারি যে যীশুখ্রীষ্ট আমাদের বাধ্যতা আশা করেন না বা আমরা আমরা তাঁর কাছে ঋণী নই? যে মুহুর্ত থেকে আমরা তাঁর প্রতি পরিত্রাণ লাভ করার জন্য চিৎকার জানিয়েছি, সেই মুহুর্ত থেকেই প্রতি সেকেন্ডেই তাঁর প্রতি বাধ্য থাকার জন্য আমরা ঋণী আর যদি [আপনি] সেই বাধ্যতা তাঁর প্রতি প্রকাশ না করেন, তবে আমার আশ্চর্য্য হওয়ার যুক্তি রয়েছে সত্য সত্যই [আপনি] পরিত্রাণ লাভ করেছেন কি না!
        আমি এমন বিষয় দেখি ও শুণি যে খ্রীষ্টিয়ান লোকেরা যে কাজ করে সেই সম্বন্ধে এমন কোন বিষয়ের কথা শুণি আর তাদের প্রতি লক্ষ্য রাখি... তখন আমিও এমন প্রশ্ন করে থাকি যে তারা সত্য সত্যই রুপান্তরিত হয়েছে কি না...
        তাই আমি বিশ্বাস করি শুরু থেকেই ইহা হল ভ্রান্ত শিক্ষার পরিণাম। তারা মনে করে প্রভু যেন এক হাসপাতালের মতো আর যীশু হলেন এমন এক ব্যাক্তি যিনি দীন হীন পাপীদের অসুবিধা থেকে রক্ষা করবেন যারা সমস্যার মধ্যে রয়েছেন! “প্রভু,আমাকে অসুবিধার হাত থেকে রক্ষা কর,” তারা এই ভাবে পীড়াপিড়ি করে যাতে, “আমি আমার নিজের পথেই চলতে পারি!”
        সেটা তো খারাপ শিক্ষা...ইহা আত্ম- প্রবঞ্চনায় পূর্ণ। তাই আসুন আমরা প্রভু যীশুকে দেখি, অতি উন্নত, পবিত্র, মুকুট পরিহিত, রাজাদের রাজা এবং প্রভুদের প্রভু, যেখানে তাঁর পরিত্রাণ প্রাপ্ত প্রতিটি লোকের কাছ থেকে সম্পূর্ণ বাধ্যতা ও আদেশ করার পরিশুদ্ধ অধিকার রয়েছে!...(A. W. Tozer, D.D., I Call It Heresy!, Christian Publications, 1974 edition, pp. 9-21).

প্রকৃত এক রুপান্তরকরণ ব্যাক্তির প্রয়োজন যেন আপনি অনুতাপ করে যীশুখ্রীষ্টের উপরে নির্ভর করেন। এর অর্থ হল আপনি যখন প্রকৃত ভাবে তাঁর প্রতি নির্ভর করেন তখন আপনার জীবন এক ভিন্ন ভাবধারায় এক ভিন্ন পথে পরিচালিত হয়। প্রেরিত পল এই মথা যখন বলেন তখন তিনি তা পরিষ্কার করে দিয়ে বলেন,

“ফলতঃ কেহ যদি খ্রীষ্টে থাকে, তবে নুতন সৃষ্টি হইলঃ পুরাতন বিষয়গুলি অতীত হইয়াছে; দেখ, সেগুলি নতুন হইয়া উঠিয়াছে” (২-য় করিনথিয়ানস ৫:১৭).

কেবল মাত্র প্রভু যীশু খ্রীষ্টে বিশ্বাস স্থাপনের দ্বারা এক হারানো ব্যাক্তি অনুগ্রহের মধ্য দিয়ে, জীবনের এক নতুন নির্দেশে পরিচালিত হয়!

“কেননা অনুগ্রহেই বিশ্বাস দ্বারা তোমরা পরিত্রাণ পাইয়াছ; ইহা তোমাদের দ্বারা হয় নাইঃ ঈশ্বরেরই দানঃ তাহা কার্যের ফল নয়, যেন কোন ব্যাক্তি শ্লাঘা না করে। কারণ আমরা তাঁহারই রচনা, খ্রীষ্ট যীশুতে বিবিধ সৎক্রিয়ার নিমিত্ত সৃষ্ট, যেগুলি ঈশ্বর পূর্বে প্রস্তুত করিয়াছিলেন যেন আমরা সেই পথে চলি” (এফেসিয়ানস ২:৮-১০).

“খ্রীষ্ট যীশুতে বিবিধ সৎক্রিয়ার নিমিত্ত সৃষ্ট”-যারা যীশুকে বিশ্বাস করে সেই সকলের কাছে সেটা খুবই সরল ও স্বচ্ছ, কেননা যীশু বলেছেন, “তোমরা যদি আমাকে প্রেম কর, তবে আমার আজ্ঞা সকল পালন করিবে”(যোহান১৪:১৫)। আবার, যীশু বলেছেন, “যে আমাকে প্রেম করে সে আমার বাক্য সকল পালন করে”(যোহান ১৪:২৪)। প্রেরিত পল যখন করিন্থিয় মন্ডলীকে তাদের এ্যান্টিনমিয়ানিজম বা ভ্রান্ত শিক্ষার বিষয়ে ধমক দেন, তিনি বলেন, “কেননা ঈশ্বরের রাজ্য কথায় নয়, কিন্তু পরাক্রমে”(১-ম কিরিন্থিয় ৪:২০)। যীশুকে প্রেম করার বিষয়ে আমরা যে বাক্য বলি তা যদি অনুগ্রহের শক্তিসহ না হয় যা একজনের জীবনকে পরিবর্তন করে। এ্যান্টিনমিয়ানিজম বা ভ্রান্ত ধর্ম হল যারা “ভক্তির অবয়বধারী লোক, কিন্তু তারা শক্তিকে অস্বীকার করে”(২-য় টিমোথিয় ৩:৫)। আর এই ভাবেই, তারা “তত্ত্বজ্ঞান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না, কখনও সত্যের জ্ঞান কখনও হয় না” (২-য় টিমোথিয় ৩:৭)।আর সত্যতার বিষয়ে যীশু আমাদের এই পাঠ্যাংশে বলেন,

“কেহ যদি আমার পশ্চাতে আসিতে ইচ্ছা করে, সে আপনাকে অস্বীকার করুক, আপন ক্রুশ তুলিয়া লউক,এবং আমার পশ্চাৎগামী হউক” (মার্ক ৮:৩৪).

২. দ্বিতীয়, যারা প্রকৃতই রুপান্তরিত তাদের সেই বিষয়ে বিশ্বাস করার প্রতি কোন সমস্যা নেই।

আর তথাপি একজন স্বাভাবিক মানুষ যিনি রুপান্তরিত ব্যাক্তি নন, তার কাছে এই কথা সম্পুর্ণ ভাবেই লুক্কায়িত।

“কিন্তু প্রাণী মনুষ্য ঈশ্বরের আত্মার বিষয়গুলি গ্রহণ করে নাঃ কেননা তাহার কাছে সে সকল মুর্খতাঃ আর সে সকল সে জানিতে পারে না,কেননা তা আত্মিক বিষয় উদ্ভুত” (১-ম কিন্থিয়ানস ২:১৪).

ইহা শয়তানের দ্বারা তাদের কাছে লুক্কায়িত থাকে,“এই জগতের দেব,” বলে অভিহিত করা হয়

“কিন্তু আমাদের সুসমাচার যদি আবৃত থাকে, তবে যাহারা বিনাশ পাইতেছে তাহাদেরই কাছে আবৃত থাকেঃ তাহাদের মধ্যে এই যুগের দেব অবিশ্বাসীদের মন অন্ধ করিয়াছে, যেন ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি যে খ্রীষ্ট, তাঁহার গৌরবের সুসমচার, দীপ্তি তাহাদের প্রতি উদয় না হয়”(২-য় করিন্থিয়ান্স ৪:৩-৪).

সুসমাচারকে প্রেরিত পলের দ্বারা বর্ণনা করা হয়েছিল,

“ফলত প্রথম স্থলে আমি তোমাদের কাছে এই শিক্ষা সমর্পণ করিয়াছি এবং ইহা আপনিও পাইয়াছেন, যে শাস্ত্রানুসারে খ্রীষ্ট আমাদের পাপের জন্য মরিলেন; ও কবরপ্রাপ্ত হইলেন, আর শাস্ত্রানুসারে তিনি তৃতীয় দিবসে উত্থাপিত হইয়াছেন” (১-ম করিন্থিয়ানস ১৫:৩-৪).

কিন্তু সুসমাচার কি ভাবে আপনাকে উদ্ধার করছে ও আপনার জীবনকে রক্ষা করছে ?

আপনি যখন খ্রীষ্ট নির্ভর করেন, তখন ক্রুশের উপরে তাঁর মৃত্যু আপনার পাপের প্রায়শ্চিত্ত সাধন করেছে। আপনি যখন খ্রীষ্টে নির্ভর করেন, তখন তাঁর পুণরুত্থানের শক্তি আপনাকে আপনার জীবনের এক নুতন দিশা প্রদান করেছে। পুণরায়, আমি এফেসিয়ানস ২:৮-১০-র প্রতি আবেদন জানাই,

“কেননা অনুগ্রহেই বিশ্বাস দ্বারা তোমরা পরিত্রাণ পাইয়াছ;এবং ইহা তোমাদের হইতে হয় নাইঃ ঈশ্বরেরই দানঃ তাহা কর্মের নয়, যেন কেহ শ্লাঘা না করে। কারণ আমরা তাঁহারই রচনা, খ্রীষ্ট যীশুতে বিবিধ সৎক্রিয়ার নিমিত্ত সৃষ্ট, সেগুলি ঈশ্বর পূর্বে প্রস্তুত করিয়া ছিলেন যেন আমরা সেই পথে চলি” (এফেসিয়ানস ২:৮-১০).

অনুগ্রহের দ্বারা যীশুতে বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে আমরা পরিত্রাণ লাভ করেছি। আমরা যখন পরিত্রাণ লাভ করেছি তখন, আমরা “খ্রীষ্ট যীশুতে সমস্ত সৎক্রিয়ার [নিমিত্ত] সৃষ্টি হয়েছি, যা ঈশ্বর [আগে থেকেই প্রস্তুত করেছেন], যেন আমরা তাঁর মধ্যে গমনা গমন করি” (এফেসিয়ানস ২:১০)। কেবল মাত্র যীশুতে বিশ্বাস করাটাই ঈশ্বরের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলে। খ্রীষ্ট বিশ্বাস করার মধ্য দিয়েই নুতন জন্মের আগমণ হয়। কিন্তু নুতন জন্ম এক নুতন জীবনের উৎপাদন করে থাকে, ও আমার মধ্যে এক নুতন নির্দেশ নিরুপণ করে। পরিশুদ্ধতা নয়। ইহার আগমণ হয় পবিত্রকরণ প্রক্রিয়ার দ্বারা। কিন্তু এক নুতন নির্দেশ জীবনের এক নুতন রাস্তা–এক নতুন জীবন পদ্ধতি-খ্রীষ্টকে মান্য করা ও বাধ্য হওয়ার এক নতুন ইচ্ছাশক্তি! আর এই ভাবেই আমাদের পাঠ্যাংশটি আসে,

“কেহ যদি আমার পশ্চাতে আসিতে ইচ্ছা করে, সে আপনাকে অস্বীকার করুক, আপন ক্রুশ তুলিয়া লউক, এবং আমার অনুগামী হউক” (মার্ক ৮:৩৪).

জেগে ওঠা, বিশেষ করে নতুন জন্ম, হৃদয়ের মধ্যে এমন এক ইচ্ছার উদ্ভব করে যেন খ্রীষ্টের আজ্ঞা সকলের বাধ্য হই! সেখানে যদি নতুন জন্ম নেই, তবে যীশুর প্রতি বাধ্য হওয়ার কোন ইচ্ছাই সেখানে থাকবে না। কিন্তু ঈশ্বরের আত্মা যখন তাঁর কাজটা করেন, তখন সেই ব্যক্তি যিনি উর্দ্ধ হইতে জন্মগ্রহণ করেছেন তিনি পিছনে তলিয়ে যাবেন না ও খ্রীষ্টের আদেশ সকলকে প্রত্যাখ্যান করবেন না,

“কেহ যদি আমার পশ্চাতে আসিতে ইচ্ছা করে, সে আপনাকে অস্বীকার করুক, আপন ক্রুশ তুলিয়া লউক, এবং আমার অনুগামী হউক” (মার্ক ৮:৩৪).

যদিও ডিট্রিখ বনহয়ফার (১৯০৬-১৯৪৫) অনুপ্রেরণার বিষয়ে এক অকুণ্ঠ সহযোগীতা করেন, আর ঈশ্বর তার কাছে এই সত্যতার বিষয়টি আলোকিত করেন। তিনি এই সত্যতাকে বুঝে উঠতে পারেন, যাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছে যাদের মধ্যে অনুপ্রেরণার উল্লেখযোগ্য দর্শন থাকলেও তা এড়িয়ে গিয়েছে। বনহয়ফার ছিলেন লুথারেনের এক যুবক পালক যিনি হিটলারের বিরুদ্ধে কথা বলতেন, এবং জার্মানি মৈত্রী সংগঠনের হাতে পতিত হওয়ার আগে নাজীদের দ্বারা ফাঁসি কাষ্ঠে মৃত্যু বরণ করেন। তখন তার বয়স ছিল কেবল মাত্র ৩৯ বৎসর। তার সর্বোত্তম বইএর মধ্যে, “শিষ্যত্বের মূল্য,” নামক বইয়েতে বনহয়ফার বলেন, “খ্রীষ্ট যখন কোন ব্যাক্তিকে আহবান করেন, তখন তিনি তাকে তাঁর কাছ এসে মৃত্যুবরণের জন্য আহবান জানান। ইহা হয়তো সেই প্রথম শিষ্যের ন্যায় মৃত্যু যাকে বাড়ি পরিত্যাগ করেও তাকে তাঁর জন্য কার্য করিতে হয়, অথবা ইহা হয়তো লুথারের মতো মৃত্যু, যাকে তার সন্ন্যাসের আশ্রম ত্যাগ করে এই জগতের মধ্যে যেতে হয়েছিল। কিন্তু প্রত্যেকবার ইহা হল সেই প্রকারেরই মৃত্যু...প্রসঙ্গত যীশুর প্রত্যেকটি আদেশই মৃত্যুর জন্য আমাদের আহবান জানায়, আমাদের সমস্ত আচার আচরণে এবং প্রবল আকাঙ্খায়... প্রত্যেক দিন আমরা প্রতি নিয়ত যে সমস্ত পরীক্ষার সম্মুখীন হই, আর প্রত্যেক দিনে এক নতুন নতুন ভাবে যীশুর জন্য আমাদের দুঃখ ভোগ করি। আমাদের দৈনন্দীন [যুদ্ধক্ষেত্রে] যে আঘাত ও ক্ষত [আমরা] পাই তা হল যীশুর জন্য জীবন যাপন করে আমাদের প্রভুর ক্রুশের প্রতি অংশ গ্রহণ করা...অতএব এই দুঃখভোগ করাটাই হল প্রকৃত শিষ্যত্বের এক বিশেষ পরিচয়। একজন শিষ্য তার প্রভুর উপরে নয়। খ্রীষ্টের অনুসারী হওয়ার অর্থ হল নিদারূণ যন্ত্রণাভোগ, আর দুঃখভোগ এইজন্য কেননা আমাদের দুঃখভোগ করতে হবে। আর সেই কারণেই প্রকৃত মণ্ডলীর এক চিহ্ন হিসাবে লুথার দুঃখভোগকে স্বীকার করে নেন, আর তাই অসবার্গের স্বীকারোক্তির জন্য একটি স্মারকলিপি এই প্রস্তুতির জন্য গ্রাহ্য হয় যা নিরুপণ করে যে মণ্ডলী হল এমন এক সম্প্রদায় ‘যারা সুসমাচারের জন্য অত্যাচারিত ও হত।’ আমরা যদি আমাদের ক্রুশ বহনে অস্বীকার করি এবং কষ্টভোগের বশীভূত এবং মানুষের হাতে প্রত্যাখিত না হই তা হলে খ্রীষ্টের সঙ্গে সহভাগীতা ও তাঁকে অনুসরণ করা থেকে [ক্ষান্ত] হয়ে পড়ি... প্রাচীন খ্রীষ্টিয়ান শহীদদের মধ্যে এমন বহু প্রমাণ রয়েছে যা দেখায় যে তাদের এই নশ্বর দুঃখভোগের মুহুর্তে কি ভাবে খ্রীষ্ট তার নিজের লোকেদের রুপান্তর সাধন করে তাঁর উপস্থিতির অকথ্যনীয় নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন। তাঁর নামের জন্য তারা যে জঘন্যতম আঘাত ও যন্ত্রণা তারা সহ্য করে, তা তাঁর সংগেই সহভাগীতা করার এক সম্পূর্ণ আনন্দ ও পরমসুখের অংশী হন। ক্রুশ বহন প্রমান করে যে দুঃখভোগের হাত থেকে বিজয় লাভ করার একমাত্র পন্থা। যে সমস্ত ব্যাক্তি খ্রীষ্টকে অনুসরণ করে, তাদের সকলের জন্য এটা বাস্তব কেননা তাঁর প্রতিও এটা বাস্তব ছিল... প্রতিটি খ্রিষ্টিয়ানের প্রতিই এই ক্রুশ পতিত হয়ে রয়েছে। খ্রীষ্টিয়ান হিসাবে প্রথম যে দুঃখভোগ তা প্রত্যেক ব্যাক্তিকেই অনুভব করতে হবে আর সেটাই হল এই জগতে নিজেকে সংশ্লিষ্ট করার প্রতি উচ্ছ্বাসময় আহবান। ইহা হল পুরাতন মনুষ্যে মৃত্যু লাভ করা আর সেটাই হল খ্রিষ্টের মুখোমুখি হওয়ার এক পরিণাম। আমরা যখন [শিষ্য হওয়ার অনুগামী হই] নিজেদের খ্রীষ্টের প্রতি সমর্পনরে তাঁর মৃত্যুর উদ্দেশ্যে সংযুক্ত হই-তখন আমরা আমাদের জীবনকে মৃত্যুর জন্যই উৎসর্গ করি। আর এই ভাবেই ইহার সূচনা হয়; ক্রুশ... খ্রীষ্টের সঙ্গে আমাদের যে আদান প্রদান তার সর্ব প্রথম সাক্ষাৎকার তা থেকেই শুরু হয়। খ্রীষ্ট যখন কোন ব্যাক্তিকে আহবান করেন, তখন তাকে তিনি তাঁর সঙ্গে মৃত্যুবরণের জন্যই আহবান জানান” (Dietrich Bonhoeffer, The Cost of Discipleship, Collier Books, 1963 paperback edition, pp. 99-101).

প্যাস্টর রিচার্ড ওয়ার্মব্রান্ডকে (১৯০৯-২০০১) আমি জানতাম। তার ফটোগ্রাফ আমাদের মন্ডলীতে রয়েছে আর তার স্ত্রী আমাদের বালকের হাতকে ধরে রয়েছেন, আমরা যখন তাদের জন্য প্রার্থনা করে তাদের খ্রীষ্টের প্রতি উৎসর্গ করলাম। এই প্রকার বহু মহান খ্রীষ্টিয়ানদের আমি জানি। চাইনিজ মন্ডলীতে, আমার পালক টিমোথী লীন, তিনিও এক মহান পালক যার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ করার সুযোগ হয়েছে। ব্যাক্তিগত ভাবে আমি ডাঃ ক্রিষ্টোফার কাগানকেও জানি যার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎকার করার সু্যোগ হয়েছে। প্যাস্টর হারমান ওটেন হলেন ঈশ্বরের সাক্ষাতে এক পবিত্র সাধু। প্রায় ৫০ বৎসরেরও বেশী সময় ধরে উদারমনা আক্রমণের হাত থেকে তিনি বাইবেলকে বাঁচান, আর তা তাকে এক বিরাট দুঃখভোগের কারণ করে তোলে, এবং মিশৌরী সিনাদে, লুথেরাণ সম্প্রদায়ের বহু বন্ধুদের তাকে হারাতে হয়। সেই প্রকার ব্যাক্তিতে আমি বিস্মিত হয়ে পড়ি-যদিও তিনি যা কিছু বলেছেন তাতে সম্মতি প্রকাশ না করলেও আমি তাতে অভিভূত। কিন্তু প্যস্টর ওয়ার্মব্রান্ড ছিলেন,সব থেকে,এক মহান খ্রীষ্টিয়ান যার সঙ্গে আমার কখনও পরিচয় হয়েছিল।

রিচার্ড ওয়ার্মব্রান্ড ছিলেন এক লুথারেন পালক যিনি রোমানিয়াতে প্রায় চোদ্দ বৎসর সাম্যবাদীদের কারাকক্ষে জীবন যাপন করেন। এর মধ্যে তাকে সম্পূর্ণ ২-বৎসর একাকী কারারুদ্ধ অবস্থায় থাকতে হয়, যেখানে তিনি সূর্যের আলো দেখতে পান নি, এবং সেই সংগে মানুষের কোন স্বরও শোণেননি। তাকে মারা হয়, মাদকাসক্ত নেশাগ্রস্থ করা হয়, এবং মধ্যযুগীয় সাংঘাতিক যতনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তার শরীরে বারংবার প্রহারের ফলে দেহ ক্ষত বিক্ষত হয়ে পড়ে। তার গলা ও শরীরের পেছনে লাল আগুনের শিখা দিয়ে ক্ষোত করে ফেলা হয়। তিনি যখন আমাদের এই মণ্ডলীতে প্রচার করার জন্য আসেন তখন তিনি সোজা হয়ে দাঁড়াতেও অসুবিধা বোধ করতেন, কেননা প্রচণ্ড শারিরীক যাতনার দ্বারা তার পায়ের পাতা বিকৃত হয়ে পড়ে। তার যে বই, ঈশ্বরের গর্তের মধ্যে, তিনি বলেন, “একটি বিশেষ ব্লকে লাউডস্পীকারে দিনের পর দিন আমি শুণতাম।

খ্রীষ্টিয়ানিটি মৃত।
খ্রীষ্টিয়ানিটি মৃত।
খ্রীষ্টিয়ানিটি মৃত।

আর সেই সমস্ত মাসগুলোতে তারা আমাদের যা বলেছিলেন কোন একটা সময়ে আমি বিশ্বাস করলাম। খ্রীষ্টিয়ানিটি মৃত। বাইবেল আগে থেকেই ভীষণ ভাবে স্বধর্ম ত্যাগের বিষয়ে ভবিষ্যবাণী করে, আর আমি বিশ্বাস করি যে ইহার আগমন হয়ে গিয়েছে। এরপরে আমি ম্যাগডালেন মরিয়মের কথা চিন্তা করি, আর হয়তো এই চিন্তাধারার বিষয়ে, সব থেকে বেশী করে যা, আমাকে সাহায্য করে যেন মগজ ধোলাইয়ের সব থেকে খারাপ জায়গাতেও আত্মাকে-মৃত করে দেওয়ার বিষ থেকে নিজেকে উদ্ধার করি। আমার মনে হয়েছে তিনি কতোটাই না খ্রীষ্টের প্রতি বিশ্বস্তা ছিলেন আর তা এমনকি তিনি যখন ক্রুশের উপরে চিৎকার করে বলছেন, ‘আমার ঈশ্বর, কেন তুমি আমাকে পরিত্যাগ করিয়াছ ?’ আর তিনি যখন মৃত অবস্থায় কবরে ছিলেন, তখন সেখানে তার কাছ থেকেই তিনি কাঁদছিলেন এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না তিনি পুণরুত্থিত হন সেখানেই অপেক্ষায় ছিলেন। সুতরাং পরিশেষে আমি যখন বিশ্বাস করলাম যে খ্রীষ্টিয়ানিটি মৃত, তখন আমি বললাম, ‘মৃত হলেও, আমি ইহা বিশ্বাস করিব, আর আমি সেই কবরের পাশেই কাঁদতে থাকবো যতক্ষণ পর্যন্ত না উনি পুণরায় পুণরুত্থিত না হন, আর নিশ্চিত ভাবেই ইহা তাই হবে।”’ (Richard Wurmbrand, Th.D., In God’s Underground, Living Sacrifice Books, 2004, pp. 263, 264).

এরপরে আমাকে আর খুব বেশী একটা যীশুর জন্য দুঃখভোগ করতে হয় নি। কিন্তু গত দু বৎসর কাল যাবত উদারমনা বাইবেল ব্যাপটিস্ট সেমিনারীতে যা স্যানফ্রাসসিস্কোর কাছেই সেখানে আমার জন্য সময়টা ছিল অত্যন্ত কঠিন। আবেগের দিক দিয়ে অনুভব করছিলাম আমি যেন গ্যেৎশিমানিতে রয়েছি। আমার বন্ধুরা যখন আমার আছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল তখন আমি একাকী অনুভব করলাম, আর দুজন অধ্যাপক আমাকে বললেন আমি যদি বাইবেল ও খ্রীষ্টের প্রতিরোধ এইভাবে করতে থাকি তবে সাউদার্ন মন্ডলীতে পালকত্বের জন্য আমাকে কোন সময়েই কোন উপলক্ষ্যে ডাকা হবে না। ধর্ম উপদেশ প্রদানকারী শিক্ষক, ডাঃ গ্রীন, আমাকে বললেন, “তুমি একজন ভালো প্রচারক। কিন্তু যে সমস্ত খ্যাতি এখানে পাচ্ছ তা সমস্যা উৎপন্ন করার মতো। আর তুমি যদি কোন মন্ডলীর পালক হয়ে কাজ করতে চাও, তবে এখনই তোমার সেগুলিকে বন্ধ করা দরকার।” সেটা হবে এমনি যেন আপনাকে কলেজের কোন একজন বলছেন যে, “আমি যদি বাইবেলের বিষয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলাটা বন্ধ না করি তবে আমি কোন কাজ পাবো না।”

আমি আমার ডরমিটারীর ঘরটায় ফিরে গেলাম। আমি আমার জ্যাকেটটা পরে বাইরে এসে লম্বা হাঁটা দিলাম। স্মুদ্রের শীতল বাতাস আমার শরীরে শিহরণ জাগাতে থাকলো। ক্রমাগত ভাবে আমি অধ্যাপকের সেই কথাগুলো নিয়ে চিন্তা করতে থাকলাম, “তুমি এক খারাপ খ্যাতি লাভ করছো। তুমি কোন মতেই এই মণ্ডলীতে কাজ পাবে না। বাইবেলের প্রতিরোধ করা বন্ধ কর।” আমার হাঁটার অর্দ্ধেক-পথে, আমি নিজেকে বললাম, “গোল্লায় যাক! কি হবে তাতে কিছু য়ায় আসে না আমি যীশু ও তাঁর বাক্যের জন্য লড়তে থাকবো। মণ্ডলী পাওয়া না পাওয়া গোল্লায় যাক!” আমি জানতাম আমি বিষয়টা অন্য ভাবে বলতে পারতাম, কিন্তু সেই দিনে অমার্জিত ভাবেই, আমি সেটাই বলেছিলাম নিজের জন্য! ডাঃ জন রাওলিংস (১৯১৪-২০১৩) হয়তো সেটাই বলেছিলেন! লুথার (১৪৮৩-১৫৪৬) হয়তো সেটাই বলেছিলেন! প্রেরিত পলও বলেছিলেন, “বাস্তবিক আমি সকল কিছু হারানোর ক্ষতি স্বীকার করেছি, আর তা আমি গোবরের ন্যায় মনে করি, হয়তো এই ভাবেই আমি তাঁকে জিতে নিতে পারবো”(ফিলিপিয় ৩:৮)। জোর করে কোন একটি চিন্তা ধারা উপস্থাপন করার জন্য অন্য কোন পথ সেখানে থাকে না। “যাই হোক না কেন! যে কোন কিছুর মূল্যে খ্রীষ্ট এবং তাঁর বাক্যের প্রতি কথা বলা থেকে আমি বিরত থাকবো না!” আমি এই সমস্ত বিষয় গুলো ক্ষতি বলে গণ্য করি “কিন্তু ডাং, যেন আমি খ্রীষ্টকে লাভ করতে পারি!”

কার কাছে হেরে যাবেন বলে আপনি ভীত ? কি পরিত্যাগ করতে আপনি ভয় পাচ্ছেন ? নিজেকে অস্বীকার করতে কি আপনাকে ভয় দেখাচ্ছে, আর নিজের ক্রুশ তুলে নিয়ে, খ্রীষ্টের অনুসরণ করতে কি ভয় লাগছে ? এই ভয় সব সময় আমাদের দমিয়ে রাখে। আপনি কি সেই সমস্ত ভয়গুলিকে “গোবর,” বলে গণ্য করবেন আর যে কোন ভাবে খ্রীষ্টের কাছে আসবেন? আপনি যদি তা করেন তবে, ঈশ্বরের সামনে এক বিশেষ ব্যাক্তি হয়ে উঠবেন!

প্রাচীন মণ্ডলীতে যারা খ্রীষ্টের জন্য মৃত্যু বরণ করেছেন তাদের “শহীদ” বলা হয়। কিন্তু ওয়ার্মব্রান্ডের মতো লোকেরা, যিনি মৃত্যুবরণ না করলেও চরম ভাবে দুঃখভোগ করেছেন তাদের বলা হয় “স্বীকারকারী।” প্যাস্টর ওয়ার্মব্রান্ড ছিলেন এক স্বীকারকারী ব্যাক্তি। তিনি নিজেকে অস্বীকার করেন, নিজের ক্রুশকে তুলে নেনও যীশুর কাছে আসেন, যদিও এর জন্য তাকে বিরাট দুঃখভোগ করতে হয়। আপনি কি তা করবেন? আপনি কি সমস্ত কিছু এই ভাবেই গণনা করবেন “সমস্ত কিছু মলবৎ গণ্য করে [আপনি] যেন খ্রীষ্টকে লাভ করতে পারেন”? আপনি কি নিজেকে অস্বীকার করবেন, ও আপনার নিজের ক্রুশ তুলে নিয়ে, যীশুর কাছে আসবেন ? আপনি কি সেই ভাবে বলবেন, সেই শব্দ সকল ডাঃ আর. রাইসের গানে স্বরে,

যীশু,আমি নিজে আমার ক্রুশ নিয়েছি, সব কিছু ত্যাগ করে তোমায় অনুসরণ করছি;
নিঃসম্বল, ঘৃণ্য, পরিত্যাক্ত, তবুও, এখন থেকে, তুমিই হবে আমার সবঃ
আমাতে আশক্ত সমস্ত উচ্চাশা বিসর্জন করেছি, যা কিছু আমি চেয়েছি, আশা করেছি, জেনেছি;
তথাপি কতো মহৎই না আমার অবস্থা, ঈশ্বর ও স্বর্গ এখন পর্যন্ত আমার।

ইহা আপনার গানের পাতায় আট নম্বর গান। অনুগ্রহ করে উঠে দাঁড়িয়ে ইহা গান।

যীশু,আমি নিজে আমার ক্রুশ নিয়েছি, সব কিছু ত্যাগ করে তোমায় অনুসরণ করছি;
নিঃসম্বল, ঘৃণ্য, পরিত্যাক্ত, তবুও, এখন থেকে, তুমিই হবে আমার সবঃ
আমাতে আশক্ত সমস্ত উচ্চাশা বিসর্জন করেছি, যা কিছু আমি চেয়েছি, আশা করেছি, জেনেছি;
তথাপি কতো মহৎই না আমার অবস্থা, ঈশ্বর ও স্বর্গ এখন পর্যন্ত আমার।

এই জগত আমাকে নিঃসম্বল ও পরিত্যাগ করুক কেননা,তারা আমার পরিত্রাতাকেও, পরিত্যাগ করেছে;
মানুষের হৃদয় ও দৃষ্টি আমাকে প্রবঞ্চিত করেছে; তুমি সেই মতো হওনি, মানুষের মতো, অসত্য;
এবং, তুমি যখন আমার উপর সদয় হয়েছ, ঈশ্বরের জ্ঞান, প্রেম, পরাক্রম,
তখন আমার শত্রুরা তা ঘৃণা করতে পারে, বন্ধুরা হয়তো পরিহার করতে পারে; তোমার মুখ দেখাও, আর সব কিছু হয় ঊজ্জ্বল।

মানুষ আমায় সমস্যা ও উদ্বিগ্নের মধ্যে রাখে, ‘এইভাবেই তা আমাকে তোমার বক্ষপানে এগিয়ে নিয়ে চলে;
জীবনের পরীক্ষা আমার উপর যতই কঠিন হোক না কেন, স্বর্গ আমাকে এক মিষ্ট বিশ্রাম আনিয়া দিবে।
কোন মনস্তাপ আমার ক্ষতি করবে না, তোমার প্রেম যখন আমাকে দিয়েছ;
যেখানে তোমার সাথে এই আনন্দ নির্মল হয়ে ওঠে, তখন পুরানো কোন আনন্দ আমার জন্য সুন্দর হতে পারে না।
      (“Jesus, I My Cross Have Taken” by Henry F. Lyte, 1793-1847).

খ্রীষ্টিয়ান, হয়ে ওঠার বিষয়ে আপনি যদি আমাদের সাথে কথা বলতে চান তবে অনুগ্রহ করে আপনার জায়গা ছেড়ে এখনই পিছনের অডিটরিয়ামের দিকে চলে যান। ডাঃ কাগান আপনাদের প্রার্থনার জন্য একটি নীরব স্থানে নিয়ে যাবেন। ডাঃ চ্যান অনুগ্রহ করে এমন কারো জন্য প্রার্থনা করুন যারা পরিত্রাণের জন্য প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

সংবাদের পরিসমাপ্তি
ডাঃ হাইমার্সের সংবাদ আপনি প্রতি সপ্তাহে ইন্টারনেটের মাধ্যমে
www.realconversion.com এই সাইটে পড়তে পারেন। ক্লিক করুন “সংবাদের হস্তলিপি”

অথবা আপনি ডাঃ হাইমার্সকে মেইল পাঠাতে পারেন rlhymersjr@sbcglobal.net
অথবা আপনি তাকে পত্র লিখতে পারেনঃ পোস্ট বক্স ১৫৩০৮, লস এঞ্জেলেস, সিএ ৯০০০১৫,
এই ঠিকানায় অথবা আপনি তাকে টেলিফোন করতে পারেন (৮১৮)৩৫২-০৪৫২

সংবাদের আগে শাস্ত্রের যে অংশ পাঠ করা হয়েছে, তা করেছেন মিঃ আবেল প্রধম্মে মার্ক ৮:৩৪-৩৮.
সংবাদের আগে একক সংগীত গেয়েছেন মিঃ বেঞ্জামিন কিন গেইড গ্রীফিথঃ
“Jesus, I My Cross Have Taken” (by Henry F. Lyte, 1793-1847).


খসড়া চিত্র

নিজের ক্রুশ বহন করুন

TAKE UP YOUR CROSS

লেখকঃ ডাঃ আর.এল.হাইমার্স,জুনি.
by Dr. R. L. Hymers, Jr.

“পরে তিনি আপন শিষ্যগণের সহিত লোকসমূহকেও ডাকিলেন, তিনি তাহাদের কহিলেন, কেহ যদি আমার পশ্চাতে আসিতে ইচ্ছা করে, সে আপনাকে অস্বীকার করুক, আপন ক্রুশ তুলিয়া লউক, এবং আমার পশ্চাৎগামী হউক” (মার্ক ৮:৩৪).

(ম্যাথুজ ১৬:২৪; লিউক ৯:২৩)

১. প্রথম, আধুনিক এ্যান্টিনময়ানস অস্বীকার করেন যে এই বিষয়টা প্রকৃত
রুপান্তরবাদে ঘটতে পারে বলে, এফেসিয়ানস ২:৮-১৯; যোহান ১৪:১৫,২৪; ১ম করিনথিয়ানস ৪:২০; ২য় টিমোথী ৩:৫,৭.

২. দ্বিতীয়, যারা প্রকৃতই রুপান্তরিত তাদের সেই বিষয়ে বিশ্বাস করার প্রতি কোন
সমস্যা নেই, ২য় করিনথিয়ানস ৫:১৭; ১ম করিনথিয়ানস ২:১৪; ২য় করিনথিয়ান্স ৪:৩-৪; ১ম করিন্থিয়ান্স ১৫:৩-৪; এফেসিয়ানস ২:৮-১০; ফিলিপিয়ানস ৩:৮.